হৃদয়ের অনুভূতি পর্ব -০৮

#হৃদয়ের_অনুভূতি
#পর্বঃ০৮
#লেখকঃআয়ান_আহম্মেদ_শুভ

আয়ান রোজাকে কিছু বলার আগেই আয়ানকে অবাক করে দিয়ে পিছন থেকে রাজ এসে আয়ানকে বলল…..

— আয়ান কোনো সিংক্রিয়েট করিস না প্লিজ….

— আমি কোনো ঝামেলা করবো না রাজ!?…. এই মেয়েটার জন্য আমি সব হারিয়ে ফেলেছি। আমি নিজের চরিত্রের উপর রেপিস্টের স্টাম্প লাগিয়েছি। নেহার চোখে ধর্ষক হয়েছি। আমার নেসাকে আমি কষ্ট দিয়েছি এই মেয়েটার জন্য। আর আমি ওকে কিচ্ছু বলবো না?…….

— আয়ান নেহা ওর কথা বিশ্বাস করেছে কারন তোর থেকেও বেশি বিশ্বাস নেহা রোজাকে করেছে। যদি নেহা তোকে বিশ্বাস করতো তবে তোর কাছে সবটা শেয়ার করতো।

— নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে অন্যের পরিস্থিতি যাচাই করা যায় না রাজ….

আয়ানের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। একটা মিথ্যা আয়ানের থেকে তার প্রিয়জনকে ছিনিয়ে নিয়েছে। কথাটা ভাবতেই আয়ানের বুকটা দুমরে মুচড়ে উঠলো। রোজা আয়ানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে দুহাত জোর করে বলতে লাগলো………

— আয়ান আমি তা করেছি তার ক্ষমা হয় না। তবুও বলছি আমায় ক্ষমা করে দাও তুমি……

* আয়ান নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে হনহন করে চলে গেলো পার্টি হল থেকে।
আয়ান গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে রাজের কথা গুলো কল্পনা করতে লাগলো। সত্যিই তো নেহা আমায় সবটা বলে দিতে পারতো। তবে ও বলেনি। নিরবে সব কিছু সহ্য করেছে ও। আচ্ছা আমি কি এতোই খারাপ যে আমার সাথে সব কথা শেয়ার করা যেতো না। আয়ান ড্রাইভ করতে থাকলো। বাড়ির সামনে এসে আয়ান গাড়ি পার্ক করে নিজের রুমে চলে এলো। ব্লেজারটা সোফার উপরে ফেলে ব্যল্কনিতে দাঁড়িয়ে ড্রিংক করছে সে। আয়ানের চোখ জোড়া থেকে বেরিয়ে আসছে হৃদয় ভাঙা অশ্রু। আয়ান আকাশ পানে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল……

— ঠকিয়েছিস নেহা। আমাকে তুই খুব বাজে ভাবে হারিয়ে দিলি। যে অপরাধ আমি করিনি। তুই আমায় সেই অপরাধের শাস্তি দিলি। কি দোষ ছিল আমার? আমায় বলতে পারতিস তো তুই!…. কিছু না বলে দিনের পর দিন আমাকে পাগলের মত অবহেলা করে গেলি। আমাকে মানুষ থেকে একটা পাথরের মূর্তি বানিয়ে দিলি। আমার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিলি। আমার সব অভিযোগে তুই………

✒️ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর নেহা খাবার টেবিলে বসে আছে। রাতের ডিনার করে একটু বিশ্রাম নিবে সে। আজ দুপুরে পর থেকে নেহার শরীর খুব একটা ভালো না। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। নেহা নিজেই খাবার নিয়ে খেতে লাগলো। হঠাৎ করে নেহার প্রচন্ড বমি বমি ভাব হতে লাগলো। নেহা খাবার টেবিল থেকে উঠে দৌড়ে চলে যায় বেসিং এর দিকে। পেট চেপে ধরে বমি করতে লাগলো নেহা। মিস্টার সিয়াম সাহেব বিষয়টা লক্ষ করলেন এবং তার স্ত্রী মানে নেহার মাকে নেহার কাছে পাঠালেন। নেহা এখনও বমি করছে। নেহার চোখ মুখ ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। নেহাকে উদ্দেশ্য করে তার মা বলল……

— তুই ঠিক আছিস তো নেহা!?…..

— হ্যাঁ, মা আমি ঠিক আছি। কিন্তু কেনো জনি প্রচুর পরিমাণে উইক লাগছে আমার।

— বলিস কি?…. নেহা আমার মনে ভয় হচ্ছে। তুই আবার……..

— থামো মা। তুমি যা ভাবছো তা নাও হতে পারে।

* নেহা ফ্রেশ হয়ে নিলো। নেহা নিজের রুমে ফিরে এসে ভাবতে লাগলো মা এর ভাবনা যদি সত্যিই হয় তা হলে কি হবে?….. এই সমাজ আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলবে!…. বলুক তাতে আমার কি?…. নেহা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চিন্তা করতে লাগলো আয়ানের কথা। কিছু সময় পর নেহা একটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট নিয়ে পরিক্ষা করে নিতে চায় সত্যিই কি সে প্রেগন্যান্ট কি না……

✒️ নেহা প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতেই ভিশন অবাক হয়ে যায়। সত্যি নেহা প্রেগন্যান্ট। নেহার গর্ভে আয়ানের সন্তান। একজন নারীর কাছে এই খবরটা সুখের হলেও নেহার বুঝতে পারছে না যে তার এখন কি করা উচিৎ?…. এই খবর শুনে সে খুশি হবে, নাকি সে কষ্ট পাবে? একজন মেয়ে যার স্বামী নেই। অথচ তার গর্ভে এক শিশু বড় হচ্ছে এটা আমাদের সমাজের জন্য জঘন্য একটা বিষয়। নেহার প্রেগন্যান্সির রিপোর্টা তার পরিবার জানতে পারে। নেহার মা এই খবর শুনে ভিশন রকম রেগে যায়। নেহার মা নেহাকে বলল………

— নেহা এই রিপোর্ট কি সত্যিই!…..

— হ্যাঁ, সত্যিই।

— তুই কি নিজের মানসম্মানের কথা একটা বার ও চিন্তা করবি না?…. তোর সম্মান না থাকলেও আমাদের যথেষ্ট সম্মান আছে।

— কি বলতে চাও তুমি?… সোজাসাপ্টা বলতে পারো।

— এই অবৈধ বাচ্চাটাকে নষ্ট করে ফেল। তার এই সমাজে কোনো মূল্য নেই। তার এই দুনিয়ার আলো দেখার কোনো অধিকার নেই।

কথাটা নেহার কানে আসতেই তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। একজন মায়ের কাছে এই কথাটা শোনা সত্যি কষ্ট কর। একজন মা কখনও তার সন্তানকে হারাতে চায় না। নেহা চোখের জল মুছে তচ্ছিল্যকর হাসি দিয়ে তার মাকে বলল……..

— নষ্ট করে ফেলবো মা?…. আচ্ছা ওর কি অপরাধ সেটা আমায় বলো?….. অপরাধ করলে আমি করেছি। আয়ান করেছে। কিন্তু এই বাচ্চাটা তো কোনো অপরাধ করেনি। তবে কেনো আমি ওকে পৃথিবীর আলো দেখতে দিবো না? কেনো আমি এই বাচ্চাটাকে নিজ হাতে হত্যা করবো? ঐ সৃষ্টিকর্তা কি আমার এই পাপকে ক্ষমা করবে কখনও?…… না মা আমি এই পাপ করতে পারবো না। আমি এই সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাই। এই সন্তানের মা হয়ে বাকিটা………..

* নেহাকে থামিয়ে দিলো তার মা। উনি বললেন……

— কোন পরিচয়ে তুই তোর সন্তানকে বড় করবি? এই সন্তানের বাবার পরিচয় এই সমাজের কাছে প্রকাশ করতে পারবি তুই?…..

— কেনো পারবো না মা?….. ওর পরিচয় আমার পরিচয়। ও আমার সন্তান। দশ মাস আমি ওকে গর্ভে ধারণ করেছি। প্রসবের যন্ত্রনা আমি সহ্য করেছি। ও আমার সন্তান আর কোনো পরিচয় ওর প্রয়োজন নেই।

— নেহা বাস্তবতা এতোটা সহজ না…..

— অতোটা কঠিন ও না মা।

— আর কি বলবো তোকে? যা ভালো বুঝিস তাই কর তুই…….

— হ্যাঁ, জীবনটা আমার আর এই জীবনের লড়াইটাও আমার একার……

* নেহার উপর অভিমান করে তার মা চলে গেলো। নেহা চোখের জল মুছে ফেলল। একজন নারী এই সময়ে তার প্রিয়জনকে কাছে চায়। তার মা হয়ে ওঠার খবরটা তার স্বামীকে সবার প্রথমে বলতে চায়। তার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে চায় এই বিষয়টা। কিন্তু কিছু অপ্রতাশিত সত্যির কারনে আজ নেহা তা করতে পারছে না। নেহা প্রকাশ করতে পারছে না তার হৃদয়ে জমে থাকা সেই সুন্দরতম অনুভূতি…..। আনমনে নেহা আয়ানের সাথে কাটানো বিশেষ মুহূর্তের কথা গুলো মনে করতে লাগলো। গল্পটা একটু ভিন্ন হতে পারতো। যদি আয়ান তাকে ছেড়ে অন্য কোথাও না যেতো……….

✒️ আয়ান অতিরিক্ত নেশা করে পরে আছে নিজের রুমে। চোখ জোড়া লাল। বার বার নেহার কথা মনে পরছে তার। নেহা কেনো আমায় বুঝতে পারলো না!…… পুরো রাত জুড়ে আয়ানের হৃদয়ে চলতে মাথাকলো এই অসহ্য রক্তক্ষরণ। প্রিয় মানুষের দেয়া আঘাত গুলো সত্যিই সহ্য করার মতো না। আর তা যদি হয় কোনো অপরাধ না করে। তবে সেই আঘাতের সিমা থাকে না।।………….

* ভোরের আলো ফুটেছে। আয়ানের চোখের উপর পরছে সূর্যের প্রথম কিরণ। আলো পরতেই আয়ানের চোখ মুখ কুচিয়ে গেলো। আয়ান নিজের মুখটা আড়াল করে আবারও ঘুমিয়ে পরলো। ঘন্টা খানেক পর আয়ানের ঘুম ভেঙ্গে যায় ফোনের রিংটোনের আওয়াজে । আয়ান ঘুম ঘুম চোখে ফোনের স্ক্রিনে তাকালো। একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এসেছে। আয়ান ফোনটা পিক করলো না। কারন সব সময় এই সব কল আয়ান এড়িয়ে চলে। ফোনটা বিছানায় ফেলে আয়ান উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে আয়ান আবারও দেখতে পেলো সেই একি নাম্বার থেকে আবারও কল আসছে। আয়ান একটু অবাক হয়ে গেলো। কে হতে পারে?…. নেহা নয় তো!….. নিজের মনের মধ্যে ভাবলো আয়ান। আয়ান কলটা তারাতাড়ি পিক করলো……..

— হ্যালো…….

— আপনি কি আয়ান চৌধুরী বলছেন?…..

— জ্বি আমি আয়ান চৌধুরী বলছি।

— আপনাকে এখনি সিটি হসপিটালে আসুন…

— কিন্তু কেনো?…..

— আসলেই বুঝতে পারবেন।

* কলটা কাট হয়ে গেলো। আয়ান ফোনটা রেখে ভাবতে লাগলো হসপিটালে কে এডমিট হলো? আর আমার নাম্বারে কেনো কল আসলো?……

✒️ আয়ান রেডি হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে। আয়ানের মনে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আয়ান ভিশন দ্রুত পৌঁছে যায় হসপিটালে। হসপিটালে গিয়ে
রিশিপসনে আয়ান জ্বিগাসা করলো……

— এই নাম্বার থেকে সকালে আমাকে কর করা হয়েছে। আপনি কি আমায় বলতে পারেন নাম্বারটা কি এখানকার কিনা?

— ইয়েস স্যার। আমি দেখছি….

রিশিপসন থেকে জানানো হলো এটা তাদের নাম্বার। আর তারাই আমাকে কল করেছে। গতকাল রাতে একজন পেশেন্ট তাদের এখানে এডমিট হয়েছে আর তার ফোন থেকেই আমার নাম্বারটা তারা পায় আর কল করে। আমাকে ওয়ার্ড বয় দেখিয়ে দিলো পেশেন্টের কেবিনটা। আমি ভিশন কৌতুহল নিয়ে তার পিছন পিছন যাই। কেবিনে ঢুকতেই আমি চমকে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম কেবিনে…………………

#চলবে………………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here