হৃদয়ের সম্পর্ক পর্ব ৯

#হৃদয়ের_সম্পর্ক (পর্ব ০৯)
#গল্পের_পাখি (শেফা)
·
·
·
আচ্ছা এরা বাবা আর ছেলে মিলে কি আমাকে পাগলা গারদে পাঠানোর জন্য উঠে পরে লেগেছে ? হালকা রাগ লাগলো কথা টা শুনে। পিছুন ঘুরে তাকাতেই আমার সব রাগ হাওয়া হয়ে গেল। আয়াত ওর দুই আঙ্গুল দিয়ে চিমটি দিয়ে প্যান্ট টা একটু খানি ধরে আছে। আর মুখটা কুঁচকে অন্য হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে আছে। আমি আর আমার হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। হাসতে হাসতে ওর কাছে গিয়ে দু’গালে চুমু খেলাম। মাথার চুল গুলো এলোমেলো করে দিয়ে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলাম।
.
.
দুই দিন পর,,,
.
আয়াত এখন বেশ সুস্থ। তাই আমি মনে করলাম আমার এখানে রাতে থাকাটা অনোর্থক। তাছাড়া বাড়ির সবাই এটুকু সময় তো ওর খেয়াল রাখতেই পারে। আম্মুও বাড়িতে একা। এ জন্য আজ আমি সকালে খাবার টেবিলে বললাম যে, “আমি বাসায় ফিরে যেতে চাই। আর আমার আম্মুও একা আছে বাসায়। আমি যেভাবে আগে কাজ করতাম সেভাবেই সকাল আট টা থেকে শুরু করে রাতে আয়াতকে ঘুম পাড়িয়ে চলে যাবো।”
.
কথাটা শুনে বাড়ি সুদ্ধ মানুষের মাথায় মনে হলো বজ্রপাত পরেছে, তারা সবাই এমন রিয়েক্ট করলো। সবাই বাঁধা দিতে থাকলো। কিন্তু আমি আমার কথার নড়চড় করতে নারাজ। অবশেষে ঠিক হলো আজ রাতটা এবং কাল সারা দিন থেকে, রাতে আরিয়ান আমাকে দিয়ে আসবে। তারপর থেকে আগের নিয়মে কাজ করবো। এতে আমি একটু খুশি হলেও সবার মন ভিষন খারাপ। আয়াতের চোখ থেকে রীতিমত টপ টপ করে পানি পরছে। যা আমার মনকে দূর্বল করে দিচ্ছে। কিন্তু আমাকে কোঠর হতে হবে। তাই আমি ওকে বোঝাতে লাগলাম।
.
এদিকে আরিয়ান আমার যাওয়ার কথা শুনে খুব স্বাভাবিক ভাবে অনুমতি দিয়ে দিলো। কিন্তু ওর ঐ চোখ গুলো আমাকে গোলকধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে। একভাব তার শান্ত শীতল চাহনি নিক্ষেপ করার মানে টা কি,,, ও কি এটা বলতে চাইছে যে, তোমাকে বাড়িতে যেতে দিচ্ছি তার মানে এই নয় যে তুমি মুক্ত, তুমি স্বাধীন। আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আয়াতকে খাওয়াতে লাগলাম।
.
কোনো রকম দিনটা পার হলো। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে ফাহাদের কথা খুব মনে পরছিলো। তাই রাত আট টার দিকেই আয়াতকে খাওয়ায়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। তারপর ওজু করে নামাজে বসলাম। আল্লাহর কাছে খুব কাঁদলাম। আর ফাহাদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য অনেক দোয়া করলাম। আল্লাহ যেন ওকে জান্নাত নসিব করে। মোনাজাতের সময় মনে হলো একটা মানব ছায়া রুমের কাছ থেকে চলে গেল। নামাজ শেষে আয়াতের রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে দাড়ালাম। গ্রীলের খাঁজে হাত রেখে মাথা টাও রাখলাম। চোখ বন্ধ করে ভাবছিলাম ঐ সোনালী দিন গুলোর কথা।
.
ফাহাদ যখন আমার প্রেমে পরেছিলো তখন কেবল আমি ষোল বছরের কিশোরী। আর সে একুশ বছরের যুবক। আর আমাদের যখন এক্সিডেন্ট হয়েছিলো তখন আমার বয়স উনিশ এবং ওর চব্বিশ। ঐ তিনটা বছরে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন গুলো কেটেছিলো। তারপর চারটা বছর পার হয়ে গেল। সময়ের হিসাব গুলো যখন আমি মিলাতে ব্যস্ত তখন আরিয়ানে কন্ঠ শুনতে পেলাম। সে এসে আমার পাশে দাড়িয়ে বললো,
— পাখি তোমার মন খারাপ। (শান্ত গলায়)
— নাহ্। (আপাপত আমার দূর্বলতা কাউকে জানাতে চাই না।)
— কাউকে মনে পরছে ?
.
ওর কথায় আমি বিষ্ময় নিয়ে ওর দিকে তাকালাম। ও কিভাবে জানলো যে আমার ফাহাদকে মনে পরছে ! আমি বললাম,
— আপনার কেন মনে হলো যে আমার কাউকে মনে পড়ছে ?
ও আমার কথার উত্তর না দিয়ে বললো,
— তুমি যাকে ভাবছো সে হয়তো আজ অনেক ভালো আছে।
.
আমি মনে মনে বললাম, “আপনার কথা যেন সত্যি হয়।”
কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম দুজনায়। তারপর আরিয়ান বললো,
— অনেক রাত হয়েছে পাখি। ঘুমিয়ে পরো।
— হুম্ ঠিক আছে।
— শুভরাত্রি আমার শুদ্ধতম পবিত্র ভালোবাসা।
.
তারপর ও চলে গেল। আর আমি শুয়ে শুয়ে ওর শেষের কথাটা আওড়াতে লাগলাম। যেন আমি বাক্যটা মুখস্থ করতে চাইছি।
.
তারপরের দিন রাতে আমাকে আমার বাসায় দিয়ে আসলো আরিয়ান। গাড়ির মধ্যে কিছুই বললাম না আমি আর না আরিয়ান। বাড়িতে ঢুকার আগে শুধু বললো, ” কাল আবার দেখা হবে।”
.
বাসায় ঢুকে আম্মু আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমারও ভালো লাগছিলো নিজের ঘরে এসে।
আম্মুকে জানালাম আয়াত ভালো আছে। আম্মু বললো আয়াতকে যেন আমি আমাদের বাসায় এনে আম্মুর সাথে দেখা করায়।
.
পরের দিন আয়াতদের বাড়িতে গেলাম। আমার যা কাজ তা করলাম। বেলা এগারো টার দিকে আন্টিকে বললাম,
—“আন্টি আমার একটু শপিং করতে যাওয়ার দরকার ছিলো, আমি কি আয়াতকে নিয়ে যেতে পারি ?”
— হ্যা মা নিয়ে যাও। কোনো সমস্যা নায়। তুমি ওকে নিয়ে যাবা এটা আবার জিজ্ঞাসা করা লাগে ? তুমি তো ওর মা-ই।
.
আমি আয়াতকে নিয়ে মার্কেট এ আসলাম। আয়াত খুব আনন্দ করছিলো। ওকে চকলেট কিনে দিলাম। তারপর ওকে কোলে নিয়ে আমার দরকারি জিনিসপত্র কিনতে থাকলাম। তারপর ভাবলাম দুপুর হতে অনেক সময় বাকি। আয়াতকে নিয়ে আম্মুর সাথে দেখা করায় আনবো,,, আয়াত কে বলতেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল।
.
.
আমি বাসায় ঢুকেই অবাক হয়ে গেলাম। কারন আমার বাসায় এসে দেখি বাইরের রুমে, আরিয়ান, আংকেল আর আন্টি বসে আছে। আর আমার আম্মু ওদের নাস্তা দিয়ে খোশগল্পে মেতে আছে। আমাকে দেখেই আমার আম্মু খুব খুশি হয়ে গেল। কিন্তু আন্টিকে দেখলাম মনে হচ্ছে সে ভয় পাচ্ছে। আর আরিয়ান সে তো খুব শান্ত হয়ে আমাকে দেখতে ব্যস্ত। আয়াত পাপায় পাপায় করতে করতে আরিয়ানের কাছে দৌড় দিলো।
.
তারপর আম্মু আমাকে যা বললো, তা শুনে যেন আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো,,,,
·
·
·
চলবে………………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here