শুধু তুই ৩ পর্ব -৩৭+৩৮

#শুধু তুই ৩
#পর্বঃ৩৭
#Tanisha Sultana

হাতে দুটো কফির মগ নিয়ে রুমে আসে আদি। নিধির পাশে কম্বলের মধ্যে পা ঢুকিয়ে বসে। আদির পায়ের সাথে নিধির পায়ের ছোঁয়া লাগতেই কারেন্টের শক খায় নিধি। প্রচন্ড ঠান্ডা আদির পা। নিধি তারাহুরো করে নিজের পা সরিয়ে নেয়।
“আপনার পা মারাক্তক ঠান্ডা।
নিধি কাঁদো কাঁদো ফেস করে বলে।
আদি আবার নিজের পা নিধির পায়ের সাথে লাগিয়ে দেয়।
” তোমার পা যদি ঠান্ডা হতো তাহলে আমি নিজ দায়িত্বে তোমার পা গরম করার ব্যবস্থা করতাম তো তুমি কেনো সরিয়ে নিচ্ছো? ভালো না বাসো। এতোটুকুও ঠান্ডা তো সয্য করতেই পারো।
ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে আদি।
নিধির সামনে কফির মগটা ধরে।
“খাও ভালো লাগবে।
নিধি কফির মগটা হাতে নেয়। ভীষণ ঠান্ডা লাগছে। মনে হচ্ছে পায়ে বরফ দেওয়া।
” আমাকে ভালোবাসা বোঝানো হচ্ছে তো? আমিও বুঝাবো। বরফ দিয়ে গোছল করে জড়িয়ে ধরবো। তারপর দেখবে ভালোবাসা কি? লাটসাহেব একটা
নিধি ভেংচি কেটে বলে।

“ভেংচি দিলা কেনো?
আদি ভ্রু কুচকে বলে।
পায়ে পা লাগিয়েছি বলে?
” নাহ নাহ এখনো ভালোবাসলেন না বলে। হেসে বলে নিধি।
“আচ্ছা?
” হুমমম। কবে যে ভালোবাসবেন আল্লাহ জানে
আফসোসের সুরে বলে নিধি।
“কেনো তুমি জানো না? বাঁকা হেসে বলে আদি।
” আমি কি করে জানবো? আপনি তো একটা নিরামিষ। নিরামিষদের মনের খবর জানা বড় দায়।
“তাই?
” হুমম তাই তো
একটু নিধির দিকে এগিয়ে যায় আদি।
“আমি নিরামিষ?
আরও একটু এগিয়ে বলে আদি।
“কেনো কোনো ডাউট আছে?
নিধি ভাব দেখিয়ে বলে।
আদি আরও এগিয়ে যায় নিধির দিকে। নিধি এবার ভরকে যায়। আদি নিধির হাত থেকে কফির মগটা নিয়ে টেবিলে রাখে। কোলের ওপর থেকে বই নিয়ে পাশে নামিয়ে রাখে। নিধি চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে।
আদি এবার আরও একটু এগিয়ে যায়। নিধি ঢোক গিলে পেছতে থাকে।
” কককি করছেন?
কিছুটা ভরকে গিয়ে বলে নিধি।
আদি এক ধাক্কায় নিধিকে ফেলে দেয়। বালিশে গিয়ে মাথা ঠেকে নিধির। আদি আর নিধির মধ্যে দুরুত্ব খুব কম।
“ইসসসসসসস আমি যে নিরামিষ না সেটাই প্রুফ করছি।
ফিসফিসিয়ে বলে আদি।
নিধির কান গরম হয়ে যায়। হার্টবিট বাড়তে থাকে। অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। এমনটা আগে কখনো হয় নি। এ কেমন অনুভূতি? এই অনুভূতির সাথে নিধি পরিচিত নয়।
” এএভা
নিধি থেমে থেমে কিছু বলতে যায়। আদি নিধির নাকে চুমু খায়। নিধির কথা থেকে যায়। গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। চোখের পাতা কাঁপছে। চোখ বন্ধ করে আছে। চোখ খোলার সাহস নেই নিধির। চেনা আদি কেই কেমন অন্য রকম লাগছে। যে আদির সামনে থাকতে ভীষণ ভালো লাগে। সেই আদির সামনে থেকেই পালাতে ইচ্ছে করছে।
“তুমি চাও আমি তোমার সাথে থাকি। খুব কাছাকাছি পাশাপাশি
ফিসফিসিয়ে বলা আদির কথা গুলো নিধির হার্ট বিট বাড়িয়ে দিচ্ছে। লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। বিছানার চাদর খামছে ধরে আছে।

আপনি প্লিজ একটু দুরে যান কথাটা খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে কিন্তু পারছে না। গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে কেউ একজন গলার স্বর ধরে রেখেছে। ঠোঁট দুটো শুকিয়ে গেছে। জীভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় নিধি।
” চাও না?
আবার পাল্টা প্রশ্ন করে আদি। কেঁপে ওঠে নিধি। হুম চায় মাএ দুইটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারছে না নিধি। অস্বস্তি হচ্ছে।
“আমি আগে চায় তাম না কিন্তু এখন
বলতে বলতে থেমে যায় আদি। একটু মৃদু হাসে।
নিধি জানতে ইচ্ছে করছে এখন কি? থেমে গেলেন কেনো? কিন্তু নিধি তো মুখে কুলুপ দিয়েছে। কথা বলতে পারবে না৷ তাই আর প্রশ্নটা করা হয় না। আর জানাও হয় না।
আদি নিজের ঠান্ডা হাত দুটো নিধির নিধির গালে আর পেটে দেয়। নিধি ছিটকে ওঠে। তারাহুরো করে চোখ খুলে ফেলে। আদি আগে থেকেই নিধির চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলো তাই নিধি চোখ খুলতেই দুজন চোখাচোখি হয়ে যায়। সাথে সাথে নিধি চোখ নামিয়ে নেয়। পূনরায় চোখ জোড়া বন্ধ করে ফেলে।
ঠোঁটে ঠোঁট চিপে থাকে।
আগে কতো নিজে ইচ্ছেয় আদির কাছে গিয়েছে। আদিও তো ছুঁয়েছে কিন্তু এমন অনুভূতি তো আগে হয় নি। কেনো? তবে কি এটা ভালোবাসার ছোঁয়া তাই?

” তুমি হয়ত বা জানো না তুমি একটা জাদুকর। নিজের মায়া জালে যে কাউকে বেশ করতে পারবে।
আদি নিধির কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে।
আদি নিশ্বাস নিধির চোখে মুখে আচঁড়ে পড়ছে।
আদি মুখ তুলে নিধির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিধি গোলাপি রাঙা কাঁপা কাঁপা ঠোঁট দুটো খুব করে টানছে আদিকে।
আজ আর কোনো দোটানা আদিকে বা আদির অনুভূতিকে বাঁধা দিতে পারছে না। চোখ বন্ধ করলে নিধির মুখ টা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পারছে না।
সব চিন্তা ভাবনা দোটানা ঝেড়ে ফেলে নিধির ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয় আদি। নিধি থমকে যায়। এমনটা কখনোই ভাবে নিধি।

“আদি আদি কোথায় তুমি
জোরে জোরে ডাকতে ডাকতে রুমে ঢুকে তোহা।
আদি ছিটকে দুরে যায় নিধির থেকে। কম্বল সরিয়ে বসে পড়ে। রীতিমতো ঘামছে। ভীষণ নার্ভাস হয়ে গেছে। এখন বলবে কি? নিধি তো লজ্জায় লাল টমেটো হয়ে গেছে। আদির প্রথম স্পর্শ। চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।
তোহা রুমে ঢুকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে লজ্জা শরম ভুলে। এটা দেখবে স্বপ্নেও ভাবে নি। তোহা ভাবতো আদি নিধিকে পছন্দি করে না। কিন্তু এখন ওদের মিল তো বলে দিচ্ছে এরা আর পাঁচটা কাপলদের মতো ভালোবাসা নিয়ে সুখে আছে।

আদি তারাহুরো করে ঠোঁট মুছে নেয়। অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। মাথা চুলকে নেয়।
” ততুমি কিছু বলবে?
আদির কথা শুনে নিধি ফট করে চোখ খুলে। তোহার ডাক নিধির কানে পৌছায় নি। নিধি উঠে বসে তোহাকে দেখে কম্বল দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলে।
তোহার চোখ দুটো টলমল করছে।
“ফুপি ডাকছিলো
বলে আদির দিকে এক পলক তাকিয়ে যেতে নেয়।
” তোহা শুনো
আদি বলে। তোহা দাঁড়িয়ে যায়। আদি উঠে তোহার পিছে গিয়ে দাঁড়ায়।
“বিবাহিত কাপলদের রুমে ঢুকতে গেলে প্রথমে নক করতে হয়। জানতে না নিশ্চয়? এখন বলে দিলাম মনে রেখো কেমন?
মিষ্টি করে হেসে বলে আদি।
তোহার টলমল করা চোখ থেকে টুপ করে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে।
” সরি
বলেই হনহনিয়ে চলে যায়।
তোহা যেতেই আদি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।

“সেই দিন তো দশ সেকেন্ডও হয়েছিলো না তাই আজ পুরো এক মিনিট। তুমি চাইলে আরও
নিধি বালিশ ছুঁড়ে মারে। আদি কেচ্ছা ধরে। নিধি কম্বলের মধ্যে থেকেই লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে।
আদি ফিক করে হেসে ফেলে।
” কফি তো খাওয়া হলো না। চলো ব্রেকফাস্ট করবো। দেন ইভাদের বাসায় যাবো।
নিধির কোনো সারাশব্দ নেই। আদি বুঝে গেছে ও এখান থেকে না সরা পর্যন্ত নিধি আর কম্বল থেকে মুখ তুলবে না। মেয়েটা যে এতো লজ্জাবতী না আদি আজ বুঝতে পারলো। অবশ্য আজকেই প্রথম মেয়েটাকে মন থেকে চুমু খেয়েছে ও।
“দশ মিনিট দিলাম।
বলে আদি বেড়িয়ে যায়।
আদি বেরিয়ে গেলেই নিধি লাফ দিয়ে খাট থেকে নামে। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ঠোঁটটা লাল হয়ে গেছে। নিধি মুচকি হেসে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে।
” এবার আর বেবি আসতে বেশি দেরি নেই। মনে মনে বলে নিধি।

নিধি আজকে জিসানের সাথে পেছনের ছিটে বসেছে। আদির সামনে যেতেই ওই ঘটনার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে আর ও লজ্জায় নুয়িয়ে যাচ্ছে। তাই জিসানের সাথে পেছনের ছিটে বসেছে। আদি ডাইভ করছে। ভীষণ রেগে আছে নিধির ওপর। আদির পাশের ছিটে বসেছে তোহা। তোহার মনটা ভালো নেই। জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
নিধি আজকে হলুদ শাড়ি পড়েছে চারপোয়া করে। সাথে কাঁচা ফুলের গহনা। সকাল সকাল জিসানের সাথে গিয়ে পার্লার থেকে সেজে এসেছে। এটা জানতো না আদি। গাড়িতে এসেই দেখলো নিধিকে।

আদি লুকিন গ্লাসে বারবার নিধিকে দেখছে। চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়েছে মেয়েটার থেকে। কিন্তু এই মেয়েটা খালি পালাই পালাই করছে আজ। এরকম করবে জানলে চুমুই দিতো না। বিরক্ত লাগছে। একবার সামনে পাই ঠাটিয়ে একটা চর মারবো। বড্ড সাহস বেরে গেছে।
#শুধু তুই ৩
#পর্বঃ৩৮
#Tanisha Sultana

বিয়ে বাড়ির হট্টগোলের মধ্যে ইভার পাশে এক কোনে বসে আছে নিধি। সবার মধ্যে থেকেও নেই। মনের মধ্যে আদির করা অদ্ভুত কর্মকান্ডের কথা মনে পড়ছে আর না চাইলেও মুচকি হেসে ফেলছে। সবাই একে একে ইভাকে হলুদ লাগাচ্ছে। আর পাশে নিধি বসে আছে৷ আদি এসেও ইভাকে হলুদ লাগিয়ে গেছে। নিধি দিকে তাকিয়ে ছিলো। নিধি মুখ তুলে তাকায় নি আদির দিকে। মানুষটাকে বড্ড লজ্জা লাগছে।

হলুদের পর্ব শেষ হলেই নিধি স্টেজ থেকে নেমে যায়। এক কোনে গিয়ে দাঁড়ায়। আজ আর কোথাও সৌরভকে দেখে নি নিধি। হয়ত কোনো কাজে বিজি।
দুজন মহিলা নিধির দিকে এগিয়ে আসে।
“তোমার নাম কি?
নিধির চিবুক ধরে বলে একটা মহিলা।
নিধি কিছুটা ঘাবড়ে যায়। চেনা নেই জানা নেই হঠাৎ করে মহিলাটা এসে বললো
” নিধিরা নিধি। হতদম্ভ করে বলে নিধি।
“বাবার নাম কি?
তোমার বাবা কি করে?
বাসা কোথায়?
কোন ক্লাসে পড়ো?
ভাবি দেখেন তো আমার ছেলের সাথে মানাবে না কি? পাশের মহিলাটাকে বলে।
নিধি বেআক্কল বনে যায়। এতোগুলো প্রশ্ন। কোনটা ছেড়ে কোনটার উওর দেবে? হাত দিয়ে শাড়ির আচলে গিট লাগাচ্ছে নিধি। একটা ঢোক গিলে। মহিলা দুটো পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করছে। সুন্দর করে খোপা করা চুল গুলো খুলে দেখছে৷ নিধি পারছেও না এখানে থাকতে আর যেতেও পারছে না। বিরক্ত লাগছে।
” তোমার বাবার নাম্বারটা দাও তো মামনি?
মহিলাটি আবার বলে ওঠে।
নিধি কিছুটা চমকে ওঠে। এখন কি বলবে ভাবছে? মহিলাটি যে তার ছেলের বিয়ের জন্য নিধিকে পছন্দ করেছে এটা নিধি বুঝতে পেরেছে

“আন্টি ওর বিয়ে হয়ে গেছে।
পেছন থেকে আদি বলে। নিধি যেনো প্রাণ ফিরে পায়। বুকে হাত দিয়ে নিশ্বাস ফেলে। মহিলা দুটো ভেবাচেকা খেয়ে আদির দিকে তাকায়।
” আমার বউ ও। ছয় মাস আগেই আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।
হেঁটে নিধির পাশে এসে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে।
“এতো ছোট মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে?
মহিলাটি বলে ওঠে।
” আপনিও তো এতো ছোট মেয়েকে আপনার ছেলের জন্য পছন্দ করেছেন
আসলে কি হয়েছে বলেন তো আজকালকার ছোট ছোট মেয়েরাই পাকনা বেশি৷ স্কুলে নিকনিক করো বেড়ায় শেষমেশ বাধ্য হয়ে বাবা মা বিয়ে দিয়ে দেয়।
নিধিও সেই রকম। তাই তো ধরে বেঁধে আমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।
নিধিকে ঠেস মেরে বলে আদি।
নিধি কটমট চোখে তাকায় আদির দিকে।
মহিলা দুটো একবার নিধির দিকে তাকিয়ে চলে যায়।
নিধি কোমরে হাত দিয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় আদির দিকে।
“আমি নিকনিক করতাম? এতো বড় কথা বললেন আমাকে? আমি কখনোই নিকনিক করতাম না। খুব ভালো মেয়ে আমি। ভীষণ ভালো মেয়ে।
নিধি চেঁচিয়ে বলে। আদি দুই হাত কানে গুঁজে নেয়। তা দেখে নিধি আরও রেগে যায়।
” বুঝেছি তো
নতুন পাইছেন তো তাই এখন আমাকে ভালো লাগছে না। আমার ধুত ধরছেন। আমার কথা শুনবেন না বলে কারনেও আঙুল দিয়েছেন। জানি তো আমি। মানুষ নতুন কাউকে পেলে পুরনো মানুষটাকে ভুলে যায়।
অভিমানের সুরে বলে নিধি।
“হুমমম
আদি কানে আঙুল দিয়েই বলে।
আদির মুখে হুমম শুনে নিধি আরও হ্মেপে যায়। তরতর করে রাগ বাড়ছে।
” কি বললি তুই?
দ্বীগুন জোরে চেঁচিয়ে বলে নিধি। আদি চমকে কান থেকে হাত সরিয়ে তাকায়৷ একটু আগে নিধি কি বলেছে স্বর্ণ করতেই দাঁত দিয়ে জীভ কাটে।
“ইয়ে মানে
আদি ইনিয়ে বিনিয়ে কিছু বলতে যায় নিধি আদির পায়ে পারা দেয়।
” নেক্সট টাইম এই রকম কথা বললে না খুন করে জেলে বসে থাকবো বলে দিলাম।
বলেই নিধি হনহনিয়ে চলে যায়।
আদি মুচকি হাসে।
আদি ভয় পাচ্ছে পিচ্চি মেয়েটাকে। পিচ্চি মেয়েটার রাগ আদিকে ভয় পাওয়াচ্ছ। মেয়েটার হাতে খুন হওয়ার ভয় নয়৷ মেয়েটার কাছে বকা খাওয়ার ভয়। মিষ্টি মিষ্টি ঝগড়া লাগার ভয়। মেয়েটার নাক গুলানোর ভয়। কেঁদেও মেকাপ নষ্ট করার ভয়। ছোট ছোট দুষ্টুমি আদি আগে কখনো করতো না। ছোট থেকেই খুব ভদ্র আর কথা কম বলা আদির স্বভাব। জুঁইয়ের সাথে সম্পর্ক থাকা কালিনও কখনো আদি এরকম দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া করে নি। এটা আদির পছন্দ না। কিন্তু নিধি নামের এই পিচ্চি মেয়েটা যেদিন থেকে আদির জীবনে এসেছে সব কিছু পাল্টে দিয়েছে আদিকে ঝগড়া করতে শিখিয়েছে। হাসতে শিখিয়েছে। অভিমান করতে শিখিয়েছে। অভিযোগ পুশে রাখতে শিখিয়েছে। প্রেমে পড়তে শিখিয়েছে। ভালোবাসতে শিখিয়েছে। বড্ড রীনি আদি মেয়েটার কাছে।

এই মেয়েটা দুরে চলে গেলে আদি বাঁচবে না। থাকতে পারবে না। মরেই যাবে। এই মেয়েটা আদি আগলে রাখবে। সারাজীবন আগলে রাখবে। মনের মধ্যে পুশের রাখা যত ইচ্ছে স্বপ্ন আছে সব এই মেয়েটাকে দিয়ে পূরণ করবে। পৃথিবীর সব সুখ এনে দেবে নিধি নামের পিচ্চি মেয়েটার পায়ের কাছে।

এসব ভেবে মুচকি হাসে আদি।
নিধি দৌড়ে গাড়িতে চলে গেছে। বিয়ে বাড়িতে প্রচুর মানুষ কেউ ওকে কাঁদতে দেখলে নানান কথা জিজ্ঞেস করবে। যেগুলোর উওর দেওয়া কঠিন। তাই নিধি নিরবে কাঁদার জন্য গাড়িতে চলে গেছে। আদির “হুমমম” শব্দটা নিধিকে কাঁদাচ্ছে।

আদি জিসানকে তোহাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে বলে ইভার সাথে কথা বলে নেয়। যে ওরা চলে যাচ্ছে। ইভার মা খাবার প্যাক করে আদির হাতে ধরিয়ে দেয়। আদি আর না করে না। বিরিয়ানি নিধির ভীষণ পছন্দ। বিরিয়ানি দেখে যদি মহারানীর রাগ ভাঙে। তাই নিয়ে নেয়।

আদি খাবারের প্যাক গাড়ির পেছনের ছিটে রেখে নিধির পাশে বসে। গালে হাত দিয়ে নিধির কান্না দেখছে। কান্না করার মতো তো আদি কিছু বলে নি। তবুও মেয়েটা কাঁদছে। আদি জানতো এখন নিধি কাঁদবে। এই মেয়েটা কখন কি করবে বা করতে পারে তার সবটা আদি মুখস্থ।
এখন আদি শান্তনা দিতে গেলে আরও দ্বীগুন জোরে কাঁদবে।
তবুও আদি গলা ঝেড়ে নেয় কিছু বলার জন্য।
“কাঁদছো কেনো? কেউ কিছু বলেছে? কে বলেছে? কি বলেছে? কেনো বলেছে? তার নামটা একটা বলো? দেখো আমি কি করবি? মেরে তক্তা বানিয়ে দেবো আমার বউকে কথা শোনায় কতো বড় সাহস। জাস্ট নামটা বলো? যদি এতো এতো মানুষের মধ্যে তাকে খুঁজতে আমার কষ্ট হবে তবুও তাকে আমি খুঁজে বের করবো।
হাতা গুটাইতে গুটাইতে বলে আদি।
নিধি ভেজা চোখ দুটো দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে আদির দিকে তাকায়। কিন্তু কিছু বলে না।
নিধির শান্ত চাহনি দেখে আদি হতাশায় পড়ে যায়। নিজেকে নিজেই বকতে থাকে। কেনো যে ” হুমমম” বলতে গেলো।

নিধি আদিকে অবাক করে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আদির বুকে মাথা রাখে। আদি পরম যত্নে নিধির মাথায় হাত বুলায়।
“সরি আমি মজা করে বলেছিলাম।আর কখনো এমন বলবো না৷ এবারের মতো সরি। পরেরবার এমন কিছু করলে আমাকে খুন করে তুমি জেলে গিয়ে বসে থেকো৷ কেমন?
আদি মুচকি হেসে বলে। নিধিও হাসে কিন্তু সেটা আদির আড়ালে। আদিকে তো একটা শাস্তি দিতেই হয়।

নিধি আদির শার্টে নাক মুছে নিজের ছিটে এসে বসে তৃপ্তির হাসি হাসে।
আদি শার্টের দিকে একবার তাকাচ্ছে তো একবার নিধির দিকে।
” এটা কি করলে তুমি? ইয়াক ঘৃন্না করছে। এভাবে আমি বাসায় যাবো কি করে?
নাক সিটকে বলে আদি।
নিধি আদির শার্টের দিকে তাকাতে ওরও বমি পাশ। নাক সিটকে চোখ ফিরিয়ে নেয়।
আদির রাগ উঠে যায়।
“তোমাকে তো আমি
বলেই তুই হাত তুলে নিধির দিকে এগিয়ে যায়।
” আল্লাহ বাঁচাও
নিধি চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে বলে।

চলবে
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here