I’m Mafia lover পর্ব -৩৯+৪০

#i_m_mafia_lover
#part_39
#sabiha_kh

পরের দিন,,,,

ইমা ,ইসমা, ইশান সকাল সকাল একসাথে স্কুলে চলে যায় ক্যাম্পিং যাওয়ার উদ্দেশ্যে।।। ইশান স্কুলে এসেই কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।।। ইসমার ম্যাডাম ইসমা ইমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে ইসমাকে বাসে উঠতে বলে ইমা ইসমাকে নিয়ে বাসে উঠতে গেলে ম্যাডাম ইমাকে বাধা দেই ।

– মিস ইমা আপনি ইসমার সাথে যেতে পারবেন না।। মানে এই বাসে উঠতে পারবেন না ।।

ইমা – কেনো ???(একটু বিস্মিত হয়ে)

– এই বাসে শুধু স্টুডেন্টরা যাবে।। যেহুতু আপনি মিস্টার ঈশানের গেস্ট হয়ে যাচ্ছেন সেহূতু আপনি আমাদেরও গেস্ট ।। তাই আপনি আমাদের সাথে টিচারদের বাসে যাবেন ।।

ইমা – ok।।।

– ইসমা উঠে পরো যাও ।। ইসমা গিয়ে বাসে উঠতেই নিয়া ইসমাকে ডাক দেই ।

নিয়া – ইসমা আমার কাছে আসো।। তোমার জন্য জায়গা রেখেছি । (ইসমা খুশি হয় এবং নিয়ার কাছে গিয়ে বসে)

এদিকে ম্যাডাম ইমাকে নিয়ে গিয়ে টিচারদের বাসে তুলে দেয় ইমা এদিক ওদিক দেখে এবং মনে মনে ইশান কে খুঁজতে থাকে।। এমন সময় ইমার পাশে এসে একজন স্যার বসে।। ইমা চমকে স্যারের দিকে তাই।।

– hello । আপনি ঈশানের গেস্ট right!!

ইমা – জী কিন্তু আপনি??

– আমি “জেন” । এই স্কুলের টিচার ।। আপনার মেয়ের নাম ইসমা তাই না!!

ইমা – জী।। (মুচকি হেসে)

জেন- হম আপনার মেয়ে টা খুব ভালো। আমার মেয়ে ইসমার সাথে পড়ে ও মাঝে মাঝেই ইসমার কথা বলে ।।

ইমা – ও আচ্ছা।।। (হেসে)

জেন – আপনার হাসবেন্ড কি করে ??

ইমা কথাটা শুনে একটু দ্বিধার মধ্যে পড়ে যায়।। কি বলবে বুঝতে পারেনা তাই চুপ করে থাকে।।

জেন ইমার চুপ করে থাকা দেখে বললো – it’s ok আমি বুঝেছি।।। আমার ওয়াইফ ও নেই । তিন বছর আগে আমাকে আমার মেয়েকে রেখে অন্য ছেলের সাথে চলে গেছে।। তারপর থেকে মেয়েকে একাই মানুষ করছি।।। তবে সমস্যা কি জানেন মেয়েটাকে অত টা সময় দিতে পারিনা। আসলে আমি তো ছেলে মানুষ কাজে তো আমাকে বাইরে থাকতেই হবে।।

ইমা – হম সেটাই। তবে সন্তানকে দেখে রাখতে একটা মায় ভালো পারে।।

জেন – হম ঠিক বলেছেন।। আমি চেয়েছিলাম বিয়ে করতে কিন্তু ভালো মেয়ে পায়নি।। যে আমার মেয়ে কে নিজের মেয়ে মনে করবে এমন মানুষ পায়নি এখনও।।

ইমা – আপনার মেয়ের নাম কি??

জেন – জেসি।। মেয়েটা মাঝে মাঝে নিজেকে খুব একা মনে করে।। (দীর্ঘ একটা শ্বাস ছেড়ে বললো )

ইমা – হম আমি বুঝি।। একটা সন্তানের বাবা মা দুজনারই দরকার পড়ে।। ( ইমার ২ বছর আগের কথা মনে পড়ে।। ইসমা ইশানকে কতটা মিস করতো)

এদিকে ইশান ইমার কাছে বসবে জন্য তাড়াহুড়া করে আসে।।। বাসের ভিতরে ঢুকেই দেখে ইমা জেনের সাথে বসে গল্প করছে।। ইশান মনে কষ্ট পাই এবং রাগ করে অন্য এক সিটে বসে পড়ে । ইশান মনে মনে বলে –

ইশান – মিস ইমা এটা ঠিক করলো না।। উনি আমার সাথে না বসে অন্য একজনের সাথে বসলো।। মনে থাকবে আমার।।।

এদিকে ইমা জেনের সাথে কথা বলছে ঠিকি এবং এদিক ওদিক ও দেখছে ইশান আসছে কিনা ।

ইমা একটু মন খারাপ করে মনে মনে বললো –

ইমা – কেমন মানুষ আমি কোথায় বসলাম না বসলাম একবার দেখতেও আসলো না।।।

এমন সময় বাস ছেড়ে দেই ।। ইমা যেনো আর সিটে বসে থাকতে পারছে না।। গাড়ির জানালা দিয়ে এদিক ওদিক দেখছে ।। জেন ইমাকে এমন বিচলিত হতে দেখে বললো –

জেন – মিস ইমা আপনি কি ইশান কে খুঁজছেন???

ইমা জেনের দিকে তাকিয়ে বললো – জী উনাকেই খুঁজছি।।

জেন – চিন্তা করবেন না। হয়তো বাচ্চাদের বাসে উঠেছে।। বাচ্চাদেরও তো কন্ট্রোল করতে হবে তাই না।।।( মুচকি হেসে)

ইমা মন খারাপ করে – ও আচ্ছা।।।

বলে বসতে যাবে সেই সময় ইমার চোখ বাসের সামনের তিন সিট আগে যায় দেখে ইশান একজন মেয়ের সাথে বসে আছে মেয়েটা একটু ঈশানের গায়ের সাথে ঘেসে বসে আছে।। ইমা দেখে রেগে গেলো এবং নিজের রাগটা দমিয়ে বসে পড়লো নিজের সিটে।।।

ইমা মনে মনে বললো – আমি এইখানে তার অপেক্ষা করছি আর সে অন্য মেয়ের সাথে বসছে । শয়তান একটা।।দেখে নিব তোকে ইশানের বাচ্চা।। ( রেগে)

এদিকে,,,,, ঈশানের পাশে বসে থাকা মেয়েটার নাম লিলি।। লিলি ও একজন মিউজিক টিচার।। লিলি ঈশানকে পছন্দ করে ।। কিন্তু ইশান লিলিকে একজন ভালো বন্ধু হিসেবেই দেখে । লিলি ইশান কে নিজের মনের কথা বলেনি তবে লিলির কাজে কর্মে ইশান একটু একটু বুঝতে পাড়ে। কিন্তু ইশান কিছু বলে না ।।

Time skip

বাস তিন ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়েছে।। জেন পুরা রাস্তা ইমার সাথে গল্প করতে করতে এসেছে ইমা বিরক্ত হলেও কি করবে চুপ চাপ শুনেছে ।। বাস এক জাগায় এসে থামে এবং সবাইকে হালকা হওয়ার সুযোগ দেই।।

জেন- মিস ইমা আমি একটু পর আসছি। (বলে জেন চলে গেলো।)

ইমা মাথা ধরে বিরক্তি সুরে বলল – উফফ মাথাটা ব্যাথা হয়ে গেলো।। (ইমার হঠাৎ ঈশানের কথা মনে পড়ে যায়।। ইমা চমকে উঠে বলে ।।) দেখি তো ইশান আছে নাকি !!

ইমা উঠে দাড়াই দেখে ইশান নিজের সিটে নেই।। ইমা মন খারাপ করে আবার বসেপরে
।।
ইমা – নিশ্চয় ওই মেয়ের সাথে বের হয়েছে।। ভালো লাগে না ।। কি ভেবেছিলাম আর কি হচ্ছে। ধুর,,,!!!( মন খারাপ করে)

ইমা পানির বোতল নিয়ে বাস থেকে নেমে একটু দূরে গিয়ে মুখ চোখ ধুতে লাগে। এদিকে ইশান ফ্রেস হয়ে তারাতারি বাসে উঠে ইমার কাছে বসবে বলে। ইশান দেখে ইমা তার সিটে বসে নেই।

ইশান – গেলো কোথায়?? (চিন্তিত হয়ে)
ইশান বাস থেকে নামতেই দেখে ইমা একটু দূরে দাঁড়িয়ে মুখ ধুচ্ছে।।। ইশান ইমাকে দেখে সস্থি অনুভব করলো। ইশান গিয়ে বাসের গায়ে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে ইমাকে অপলক দৃষ্টিতে দেখতে লাগে।।। এমন সময় লিলি এসে ঈশানের সামনে দাঁড়ায় । ইশান চমকে লিলির দিকে তাকাই।

লিলি – কি করছ এখানে ,,গাড়িতে উঠি চলো।

ইশান – হম যাব তো তুমি যাও আমি আসছি।

বলতেই দেখে ইমা তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।। লিলি ঈশানের তাকিয়ে থাকা দেখে সেও তাই ।।

লিলি – এটা তো তোমার গেস্ট তাই না ইশান।। মিস ইমা আপনি এই বাসে উঠেছেন?? (ইমা কোনো কথা বলেনা লিলির দিকে তাকিয়ে থাকে) ও sorry আমার পরিচয় দিই নি। আমি লিলি স্কুলের মিউজিক টিচার এবং ঈশানের ভালো বন্ধু।।

ইমা – পরিচয় হয়ে ভালো লাগলো মিস লিলি।। (হেসে)

লিলি – আমারও ।।। মিস ইমা আপনি কোথায় বসেছেন??

ইমা -। আপনাদের ৩ সিট পিছনে!!

ইশান মনে মনে বললো – মিস ইমা সেটাও দেখেছে।।। আল্লাহই জানে মনে মনে কি ভাবছে আমাকে নিয়ে।।।

লিলি – এটা কিন্তু ঠিক হয়নি । ইশান তুমি তোমার গেস্ট কে সাথে নিয়ে বসবে না!! বেচারি একা একা বসেছে!!

ইশান – কে বলেছে মিস ইমা একা বসেছে উনার সাথে তো জেন বসেছিল।।

ইমা ঈশানের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে মনে মনে বললো –
ইমা – কেমন শয়তান!! মিস্টার জেন আমার কাছে বসেছে সেটা দেখেছে। টাও একবার এগিয়ে এসে বলেনি মিস ইমা আপনি ঠিকাছেন!! সবই বুঝতে পারছি।। স্মৃতি যদি থাকতো না এতক্ষন তোর মাথার চুল গুলো ছিঁড়ে ফেলতাম শয়তান ছেলে । আমাকে ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে বসা বের করে দিতাম।।

লিলি – ইশান এটা একদম ঠিক হয়নি ।।

বলতেই ইমা বললো – মিস লিলি বাদ দিন ইশান স্যার তার ফ্রেন্ডের কাছে বসবে এটাই স্বাভাবিক।। আমি তো আর কেউ না উনার শুধু প্রতিবেশী মাত্র।। এখানে আর আমার কি বলার আছে বলুন।।।

লিলি ঈশানের হাতের বাজু ধরে হেসে বললো – ঠিকি বলেছেন ইশান আমি ভালো বন্ধু।।
( ইমা লিলির কান্ড দেখে শুধু রেগেই যাচ্ছে।।
ইশান হেসে আসতে করে লিলির হাত সরিয়ে দিতেই ইমা গিয়ে বাসে উঠে পড়লো।।।

ইমা – অসহ্য লাগছে।। না আসলেই হতো।। (রেগে মনে মনে বলে নিজের সিটে গিয়ে বসলো)

এদিকে ইশান লিলি কে বললো – লিলি আমি এই অর্ধেক পথ মিস ইমার সাথে যেতে চাই।। বুঝয় তো উনি আমার গেস্ট।।

লিলি – ঠিকাছে । যাও।।( মুখ ভার করে )

ইশান তারাতারি বাসে উঠে দেখে ইমা বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখছে ।ইশান গিয়ে ইমার পাশে বসতেই ইমা ঈশানের দিকে তাকাই ।

ইশান – hi!!( হেসে)

ইমা – আপনি এখানে কেনো স্যার !! জান আপনি আপনার ফ্রেন্ডের কাছে গিয়ে বসুন।। (একটু গম্ভীর সুরে)

ইশান – কেনো যাবো দেখুন রাগ কিন্তু আমার করার কথা !!

ইমা – তাই বুঝি। আমি আপনার গেস্ট হয়ে যাচ্ছি আপনি আমাকে একবারও এসে দেখলেন ও না আমি ঠিকমত বসেছি কিনা।। নিজেরটাই বুঝলেন।।

ইশান – ও তাই না আমি যে দেখলাম আপনি জেনের সাথে গল্প করেছেন। সেটা কিছু না।।

ইমা – ও গল্প করাটাই দেখলেন আপনি একবার এগিয়ে আসতেন দেখতেন আমি কি করতাম সেটাও তো করেন নি।।

ইশান – হম বুঝেছি আমারই দোষ। Ok sorry এখানে বসতে পারি!! (ইমা মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকাই)

এমন সময় জেন এসে বলে – না ওখানে আমি বসেছি ।

ইমা জেনের দিকে তাকিয়ে ঈশানের হাত ধরে টান দিয়ে সিটে বসিয়ে দেই এবং বলে –

ইমা – মিস্টার জেন sorry আসলে ইশান স্যার আমাকে নিয়ে খুব চিন্তা করছিলো।। তাই আমিই বললাম চিন্তা করতে হবে না আপনি এখানেই বসুন।। ( হেসে)

জেন – ও আচ্ছা । ঠিকাছে আমি অন্য জাগায় বসছি।। (বলে জেন চলে গেলো । ইশান ইমার দিকেই তাকিয়ে আছে । ইমা জোরে শ্বাস ছেড়ে বললো –

ইমা – বেচে গেছি ।। (হেসে) (বলে ঈশানের দিকে তাকাই দেখে ইশান তার দিকে তাকিয়ে আছে।। ইমার বুকের ভিতর ধুক করে উঠে ) কি হয়েছে ??

ইশান মুচকি হেসে বলল – না কিছু না ।।( বলে অন্যদিক তাকালো।। )

ইমা মুখ ঘুরিয়ে মুখ চিপে চিপে হাসে এবং ধীর সুরে বলল –

ইমা – এই ছেলেটা কেনো যে এ ভাবে তাকাই!!!ওর এমন তাকানো দেখলেই আমার বুকের মধ্যে কেমন যেন হয়।। (লজ্জা মাখা হাসি নিয়ে)

কিছুক্ষন পর বাস ছেড়ে দিল।।

ইশান ইমার দিকে তাকাই দেখে ইমা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।।

ইশান মাথা নিচু করে ছোট্ট হাসি দিয়ে বলে –

ইশান – আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি!!

ইমা ঈশানের দিকে তাকাই – হম বলুন !!

ইশান – আমি লিলির বন্ধু আর আপনার শুধু প্রতিবেশী।!আর কেউ না??? (ইমা ঈশানের কথা শুনে ঈশান কে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করে কিন্তু পরে না।। )

ইমা – আর কি আপনি তো শুধু আমার প্রতিবেশীই তো।।।

ইশান – আমি প্রতিবেশী হয়ে থাকতে চায়না।। (ইমা ঈশানের কথা শুনে একটু অবাক হয় ) মানে আমরা কি বন্ধু হতে পারি না।।

ইমা ঈশানের কথা শুনে খুশি হয় । তবে ঈশানকে সেটা বুঝতে দেই না ।

ইশান – মিস ইমা প্লিজ!!!

ইমা – ঠিকাছে স্যার। (মুচকি হেসে)

ইশান একটু মন খারাপ করে বললো- না ঠিক নেই আপনি আমাকে যদি স্যার বলে ডাকেন তাহলে আর বন্ধুত্ত্ব করবো না । আপনি আমার নাম ধরেই ডাকলে আমার ভালো লাগবে। ।

ইমা – ঠিকাছে ।। তাহলে আপনি আমাকে মিস ইমা না শুধু ইমা বলবেন। ( হেসে)

ইশান – ঠিকাছে। (হেসে) গান শুনবেন ??

ইমা – হম শুনা যায়।

ইশান হেডফোনের একটা ইমাকে দিলো আরেকটা নিজের কানে লাগালো।। দুজন একসাথে গান শুনতে লাগে।। ইমার সেই কলেজের জীবনের কথা মনে পড়ে এমনি দুজন একসাথে বসে এক হেডফোন দিয়ে কতো গান শুনেছে। ।

১ ঘণ্টা পর,,,,,,,

ইশানের হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়।। ইশান নড়ে বসতে যাবে খেয়াল করে ইমা তার হাতের বাজুতে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমাচ্ছে। ইশান অপলক দৃষ্টিতে ইমার মায়াবী চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকে ঈশানের মনে যেন ইমার প্রতি ফিলিংসটা আরো বেড়ে যাচ্ছে।।

ইশান – এত মায়া কেনো আপনার চেহারায় !! আপনাকে যত দেখি ততই মুগ্ধ হই।।মাঝে মাঝে মনে হয় আপনি আমার সব চেয়ে আপন।।। আমি যদি আপনার হাসবেন্ড হতাম ইসমা যদি আমার মেয়ে হতো আমি কোনো দিনও আপনাদের ছেড়ে যেতাম না। । (মনে মনে বললো )

এমন সময় বাস থেমে যায়।। ইশান দেখে তারা তাদের গন্তব্যে চলে এসেছে ।। ইমার ঘুম ভেঙে যায়।। মাথা তুলতেই দেখে সে ঈশানের হাতের সাথে মাথা ঠেকিয়ে ছিল।।। ইমা ঈশানের দিকে তাকাই দেখে ইশান তার দিকে তাকিয়ে আছে।

ইমা – sorry আসলে,,,, .
বলতেই ইশান বললো – it’s ok ।। দেখুন আমরা চলে এসেছি সবাই বাস থেকে নামছে চলুন আমরাও নামি।

ইমা – ok চলুন।।।( হেসে)

ইশান ইমা বাস থেকে নামলো।।

ইমা – ইশান ইসমা গাড়ি থেকে নেমেছে কি??

ইশান – চিন্তা করবেন না ইমা।। সব বাচ্চাদের গাইড করার জন্য স্যার ম্যাডাম আছে।।। যাওয়ার দিন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া দেওয়া হয়েছে বাচ্চাদের গাইড করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ।।। চলুন যাওয়া যাক ।। (মুচকি হেসে)

ইমা ইশান সবার সাথে ভিতরে চলে গেলো।।। ক্যাম্পিং এর দায়িত্বে যেই স্যার রয়েছে তিনি সবাইকে থাকার জন্য ক্যাম্প তৈরি করতে বলে।। স্যার ম্যাডামদের স্টুডেন্ট দের সাহায্য করতে বললো ।।। সবাই মিলে অনেক গুলো ক্যাম্প তৈরি করে।। প্রায় বিকাল হয়ে আসে । সবাই ক্লান্ত।।। তবে বাচ্চাদের যেনো আনন্দ শেষ হচ্ছে না।।। সবাই ঠিক করল কে কার সাথে থাকবে ।।অন্য দিকে রান্নাবান্না চলছে।। কেও বিশ্রাম করছে কেও গল্প করছে।। সবাই কোনো কোনো কাজে ব্যাস্ত।। ইমা দেখে ইশান তার কোলিক দের সাথে কথা বলছে ।।ইমা ইসমার কাছে যাই দেখে ইসমা তার ফ্রেন্ডদের সাথে মজা করছে।। ইমা ইসমাকে আর না ডেকে চলে যায় এবং গিয়ে ছোট্ট এক লেকের ধারে বসে।। কি সুন্দর পরিবেশ। পানিতে সূর্যের আলো পড়ছে। পানি চমক দিচ্ছে।। এমন সময় ইশান আসে।।।

ইশান – একা একা এখানে !!

ইমা পিছনে ঘুরে তাকাই দেখে ইশান।

ইমা – এমনি বসে আছি।। আপনার কাজ শেষ !!!

ইশান – হম শেষ।। দেখেছেন ইসমা কতো আনন্দ করছে!!

ইমা – হম দেখলাম।। ইমা বিকালের লাল সূর্যের দিকে তাকিয়ে বললো – এই সময় টা আমার খুব ভালো লাগে।
সূর্যটা একদম লাল এই সময়ের পরিবেশটা আমার মনটাকে একদম শান্ত করে দেই।

ইশান – আপনার মনে অনেক কষ্ট তাই না!!

ইমা – হম অনেক কষ্ট।। ভালোবাসার মানুষটা এতো কাছে আছে তবুও তার সাথে অপরিচিত মানুষের মত কথা বলতে হচ্ছে এটাই আমার মনে সবচেয়ে বড় কষ্ট ঈশান।।( মনে মনে বললো )

ঈশান – ইমা কি এত ভাবছেন???

ইমা – না কিছু না।।। (হেসে)

ইশান – কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি ??

ইমা – হম বলুন ??

ইশান -আপনার হাসবেন্ড ফিরে আসবে ???

ইমা – আসবে ওকে আসতেই হবে ।। ও আমাকে এত সহজে ভুলতে পারে না।। আমি ওকে ভুলতে দিবো না।।।

ইশান ইমার কথা শুনে মনটা খারাপ যায়।। ইশান আর কোনো কথা বলে না উঠে চলে যায় । ইমা ঈশানের এমন উঠে যাওয়া দেখে বুঝতে পারে নিশ্চয়ই ঈশানের মনে কিছু চলছে।।

এদিকে ইশান যেতে যেতে মনে মনে বললো

ইশান – আমি কি কোনো ভুল করেছি! ঠিকই তো আজ নাহয় কাল যদি উনার হাসবেন্ড ফিরে আসে তাহলে তো আমি মনে কষ্ট পাবো।। কেনো আমি ইমার প্রতি এতো দুর্বল হচ্ছি।। কেনো ???
#i_m_mafia_lover
#part_40
#sabiha_kh
গল্প দিতে দেরি করলাম তবে বড় করে দিয়েছি 😊

রাত ৮ টা,,,,

স্যার জোরে বললো – সবার দৃষ্টিআকর্ষণ করছি ।। ( সব স্টুডেন্টরা টিচাররা স্যারের দিকে তাকাই) ক্যাম্পিং এ আমরা শুধু কিছু শিখতে আসিনি !!! আমরা মজা করতেও এসেছি ।।।। এই ক্যাম্পিং কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে নাচ গান তো সাথে আছেই।।।

রেন বলে উঠলো – স্যার শুধু স্টুডেন্টদের জন্য নাকি আমাদের টিচারদের ও জন্য রয়েছে।

স্যার রেনের কথা শুনে হেসে বললো – সবার জন্য!!! সবার জন্য!!! চিন্তা নাই।। (সবাই হাত তালি দিল।।।) এখন কয়েকটা খেলা হবে।। সেটার আয়জন ও করা হয়েছে।

সব স্টুডেন্টরা জোরে বললো – কি খেলা স্যার!!!

স্যার – সাধারণ খেলা সবাই পারবে। প্রথম বিস্কুট খেলা, দ্বিতীয় মার্বেল খেলা, তৃতীয় চেয়ার খেলা হবে।। তো স্টুডেন্ট তোমরা কে কে খেলছ আলাদা দাড়াও এবং দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যাও।।

স্যারের কথা মত যারা যারা খেলবে তারা আলাদা দাঁড়ালো এবং দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে গেল।। ইমা ঈশানের দুজনারই চোখ ইসমার দিকে।।। তারা দেখে ইসমা খেলতে যায় নি বরং দূরে দাড়িয়ে দেখছে।।। ইমা ইসমার কাছে যাওয়ার আগেই ইশান ইসমার কাছে যাই।। ইমা দেখে খুশি হয় । ইশান ইসমাকে কি বুঝলো ইসমা হাসতে হাসতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলে গেলো ।।

ইমা দেখে মনে মনে বললো – ইশান সব ভুলে গেলে কী হবে ও জানে সন্তান কি ভাবে সামলাতে হয়।। সত্যি ইশান একজন ভালো বাবা।।। (মুচকি হেসে)

প্রথম বিস্কুট খেলা শুরু হয়। প্রথম গ্রুপ খেলে সেখানে ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড বের হয় ।তারপর দ্বিতীয় গ্রুপ খেলে সেখানে ফাস্ট সেকেন্ড থার্ড বের হয় দ্বিতীয় গ্রুপে ইসমা ছিল। ইসমা থার্ড হয়।। তারপর প্রথম গ্রুপ এবং দ্বিতীয় গ্রুপের ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড মিলে আবার বিস্কুট খেলা হয় সেখানে ইসমা চতুর্থ হয়।।তাই ইসমার মন টা খারাপ হয়ে যায়।

ইমা ইসমার মন খারাপ দেখে এগিয়ে আসে।।

ইমা ইসমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল – মন খারাপ করা যাবে না জিততে হলে ভয় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে লড়াই করতে হয় ।। আরো দুইটা খেলা আছে। (বলতেই ইজমা বললো -)

ইসমা – না আম্মু আর খেলবো না।।

এদিকে ইশান ইমা ইসমাকেই দেখছে এমন সময় একজন ম্যাডাম ঈশানের কাছে এসে একটু রাগান্বিত সুরে বলল-

– ঈশান এগুলো কি হচ্ছে বলতো!! তোমার গেস্ট মানে ইসমার আম্মু কেন ইসমার কাছে যাচ্ছে!! দেখো এইটা বাচ্চাদের ক্যাম্পিং এখানে গার্জেনরা এলাউড না তবুও তুমি প্রিন্সিপালকে স্যার কি বুঝিয়েছো প্রিন্সিপাল স্যার রাজি হয়ে গেলেন ভালো কথা।।। কিন্তু এখানে অন্যান্য বাচ্চারা আছে। ওরা এটা দেখে মনে কষ্ট পেতে পারে ইসমার আম্মু আসলো তাদের আম্মু আসতে পারলোনা!! এটাতে তাদের মনে কি আঘাত পড়বে না বলো তো ???।।

ইশান – I am so sorry ম্যাডাম। আমি দেখছি চিন্তা করবেন না । (ইশান ইমার ইসমার কাছে আসে) ইমা !!! (ইমা ঘুরে ঈশানের দিকে তাকাই) একটু কথা বলতে পারি??

ইমা – হম বলুন!!

ইশান – একটু এদিকে চলুন।প্লিজ।।

ইমা – ok চলুন।। ইসমা তুমি কিন্তু খেলবে ওকে। (বলে ইমা ঈশানের সাথে চলে গেলো।।)

ইশান – ইমা আপনি কি করছেন??

ইমা – কি করছি?? (একটু অবাক হয়ে)

ইশান – ইমা আমি আপনাকে বলেছিলাম এইটা বাচ্চাদের ক্যাম্পিং এখানে গার্জেনরা এলাউড না।।। তার পরেও আমি আপনাকে গেস্ট হিসেবে নিয়ে এসেছি কারণ আপনি আমাকে বলেছেন ইসমাকে একা ছাড়তে চান না । কিন্তু এখানে তো আরো অন্য বাচ্চারাও আছে আপনি যদি ইসমার কাছাকাছি থাকেন তাহলে আর যেই বাচ্চাগুলো আছে তাদের কেমন লাগবে একটু ভাবেন তো।

ইমা মন খরাপ করে বললো – sorry ইশান।।। আসলে ইসমা কে এমন মন খারাপ করতে দেখে আর থাকতে পারলাম না ।।ও আর খেলতে যাচ্ছে না তাই,,,,,!!!

বলতেই ইশান বললো – এই কথা আপনি আমাকে বলতে পারতেন।। আচ্ছা যাই হোক আমি ইসমার সাথে কথা বলছি আপনি যান ।।

ইমা – ok ।।

ইশান ইসমার কাছে এসে ইসমার সামনে হাঁটু ভেঙে বসে বললো-

ইশান – কি হয়েছে ইসমা খেলতে চাইছো না কেনো???

ইসমা – আমি আর জিতবো না বন্ধু।। আমি খেলবো না।।

ইশান – শুনো খেলাতে হার জিত থাকবেই । দেখো না সবাই কিন্তু জিতার উদ্দেশ্যে খেলছে কিন্তু সবাইকি জিততে পারছে তুমি বলো!??

ইজমা – না।। (মন খারাপ করে)

ইশান – হম সেটাই।। খেলতে হবে লড়াই করতে হবে হারজিত তো লেগেই থাকবে ।।।।তাই বলে কি যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা যাবে!!! জিততে হলে লড়াই করতে হবে।। ভয়ে পেয়ে পিছনে সরে গেলে জীবনের মানে কখনোই বুঝবে না । তাই ভয় কে জয় করতে হবে । লড়াই করে যদি হেরে যাও তাহলে সেটা হার না জিতে যাওয়া হয় ।। কারণ তুমি লড়াই করেছো পালিয়ে যাওনি।।

বলে ইশান চুপ হয়ে যায় । ঈশানের চোখের সামনে আপছা কোনো মেয়ের মুখ ভেসে উঠে যে তার হাত ধরে এই কথা গুলোই বলেছিল।। ইশান চোখ বন্ধ করে মাথা নরাই। এমন সময় ইসমা ঈশানের কাধে হাত রাখে ।। ইশান চমকে চোখ খুলে ইসমার দিকে তাকাই।।

ইসমা – কি হয়েছে বন্ধু ?? তুমি ঠিক আছো!!

ইশান হেসে বললো – হম ঠিক আছি।।। তুমি খেলবে তো??

ইসমা – হম খেলবো।। আমি গেলাম । (ইসমা খেলতে চলে গেলো )

ইমা ইসমাকে খেলতে যেতে দেখে খুশি হয়।। তারপর ঈশানের দিকে তাকাই।। দেখে ইশান কেমন মুখ ভার করে চলে যাচ্ছে সেখান থেকে।।

ইমা মনে মনে বললো- কি হলো হঠাৎ ঈশানের ??? দেখি তো ।

ইমা ঈশানের কাছে যাবে জন্য ভির থেকে বের হচ্ছে।। এদিকে ইসমার খেলা শুরু হয়ে গেছে। । ইমা ভিড় থেকে বের হয়ে দেখে ইশান নেই। ইমা এদিক ওদিক তাকায় কোথাও ইশান কে দেখে না।

ইমা – গেলো কোথায় !!! (চিন্তিত হয়ে)

ইমা আরো এগিয়ে যায় ।। কিছুদূর যেতেই দেখে ইশান সেই লেকের সামনে বসে আছে।। ইমা কিছু না ভেবেই দ্রুত ঈশানের কাছে যাই ।

ইশান পায়ের শব্দ পেয়ে পিছনে তাকাই দেখে ইমা আসছে।।।

ইশান – আপনি এখানে?? (ইমা ঈশানের পাশে বসে।। )

ইমা – কি হয়েছে জানতে পরি আপনার মন খারাপ কেনো???

ইশান – কে বললো ?? আমি ঠিকাছি ।।

ইমা – ইশান আপনি ভুলে যাচ্ছেন আমি ডাক্তার।।। আপনি চিন্তায় আছেন মন খারাপ করে আছেন আমি দেখেই বুঝতে পেরেছি।।

ইশান ইমার দিকে তাকাই।। এবং অপলক ভাবে তাকিয়েই থাকে। এদিকে লিলি ইশান কে দেখতে না পেয়ে এদিক ওদিক খুঁজতে লাগে। তারপর দেখে ইশান ইমা লেকের সামনে বসে আছে এবং ইশান ইমার দিকে তাকিয়ে আছে। লিলি দেখে খুব বিরক্ত হয় এবং জেলেসী ফিল করে।।। এদিকে ইমা ঈশান কে তার দিকে এই ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো –

ইমা – কি দেখছেন!! (মুচকি হেসে)

ইশান মুচকি হেসে বলল – না কিছু না।। আমার কি মনে হয় জানেন আপনি,,,,

বলতেই লিলি ইশান বলে ডাক দেই । ইশান ইমা দুজনাই পিছনে ঘুরে তাকাই।।।

লিলি – এখানে কি করছ?? চলো বাচ্চাদের খেলা দেখি ।

বলে লিলি ঈশানের হাত ধরে । ইমা লিলির এমন ঈশানের হাত ধরা দেখে রেগে গেলো কিন্তু কিছু বললো না।। লিলি ঈশানের হাত ধরে একরকম টেনে নিয়ে যেতে লাগে। ইশান ইমার দিকে তাকাই দেখে ইমা তার দিকে তাকিয়ে আছে। । ইমা ঈশানের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে অন্য দিকে তাকাই এবং মনে মনে ভাবে ইশান তাকে কি বলতে চাইল !!

কিছুক্ষন পর,,,,

ইসমা মার্বেল খেলায় দ্বিতীয় হলো। ইমা তো মহা খুশি ইশান ও অনেক খুশি । ইমা ইসমার দিকে ছুটে যেতে লাগলে ইশান ইমার হাত টেনে ধরে ।। ইমা থেমে যায় এবং ঘুরে পিছনে তাকাই ইশান চোখ দিয়ে ইশারা করে বললো – যাবেন না প্লিজ। । ইমার মন খারাপ হয়ে গেলোও বুঝে যে ইশান যেটা বলেছে সেটা ঠিক । ইমা আর যায় না ঈশানের পাশে দাড়াই।। ইশান ইমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।।। এদিকে ইসমা এত বেশি খুশি যে সে মনের আনন্দেই তৃতীয় চেয়ার খেলাতেও অংশ নিল এবং চেয়ার খেলায় প্রথম হলো।।ইসমা ইসানের দিকে তাকিয়ে খুশি তে দৌড়ে এসে ইশান কে এসে জড়িয়ে ধরে।। সবাই জিনিসটা খেয়াল করে এবং অবাক হয় । ইমা ও অবাক হয় ।

ইসমা চোখ বন্ধ করে এক্সাইটেড সুরে বলল – বাবা দেখেছ আমি পেরেছি।। আমি জিতেছি বাবা।।

ইশান ইসমার কথা শুনে অবাক হয়ে যাই ।। ইমা ও অবাক ।। ইমা ঈশানের দিকে তাকালো ইশান ইমার দিকে ।। ইমা কি করবে বুঝতে পারছে না । তাই তারাতারি ইসমা কে ঈশানের থেকে সরিয়ে নিয়ে বললো – কি বলছো তুমি???( বলতেই ইসমা মনে হলো তার বাবার তো স্মৃতি মনে নেই । )

ইসমা ঈশানের দিকে তাকাই।।। ইশান ইসমার সামনে হাঁটু ভেঙে বসে ইসমার গালে হাত দিয়ে বললো –

ইশান – আমি কি সত্যি তোমার বাবার মতো দেখতে !!! (ইসমা কিছু বলে না দৌড় দিয়ে চলে যায় ।। )

ইমা – কিছু মনে করবেন না ইশান।। আমি দেখছি।।। (বলে ইমা ইসমার পিছে যায় ।।)

ইমা দেখে ইসমা বসে কান্না করছে।।। ইমা ইসমার কাছে যেতেই ইসমা ইমা কে জড়িয়ে ধরে ।।

ইসমা কান্না সুরে বললো – আম্মু sorry আমি ভুলে গিয়েছিলাম বাবার স্মৃতি ভুলে গিয়েছে।।। আম্মু আমি এভাবে আর পারছি না । চাইলেও বাবা কে বাবা বলে ডাকতে পারছি না ।। আর কত দিন এই কষ্ট করতে হবে??

ইমা – সব ঠিক হয়ে যাবে মা।। তুমি কান্না করো না । ।। বাবা খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে ।। আমার লক্ষী মেয়ে।। (বলে ইসমার চোখ মুছে দিয়ে কপালে চুমু দিল)

Time skip

রাত ৯ টা,,,,

সবাই খাওয়াদাওয়া শেষ করলো ।। ক্যাম্পিং এর দায়িত্বে যে স্যার রয়েছে তিনি সব স্টুডেন্ট টিচারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল-

স্যার – স্টুডেন্টস আজ অনেক মজা হলো তাইতো!!!

স্টুডেন্ট – ইয়েস স্যার।।। (আনন্দিত সুরে)

স্যার – হম আজ মজা হয়েছে কাল কিন্তু কষ্ট করতে হবে।।এখন সবাই ঘুমিয়ে পড়বে। এবং কাল সকাল সকাল উঠবে আমরা তোমাদের একটা বিশেষ জাগায় নিয়ে যাবো। যেখান থেকে তোমরা কিছু শিখতে পারবে।। Ok!!!

স্টুডেন্টস – ok স্যার। (জোরে)

স্যার – good এখন যাও যে যার ক্যাম্পে গিয়ে শুয়ে পরো জলদি। । ।।

সব স্টুডেন্টরা চলে গেলো যে যার ক্যাম্পে গিয়ে শুয়ে পড়ল।।।

এদিকে সব টিচাররা বাইরে যে যার মতো বসে গল্প করছে।।। ইমা একাই বসে আছে। সবার গল্প করা দেখছে।।। ইশান গল্প করতে করতে খেয়াল করে ইমা একা বসে আছে ।। লিলি খেয়াল করলো ইশান ইমাকে দেখছে। ইশান উঠতে গেলে লিলি ঈশানের হাত চেপে ধরে ।

লিলি – কথাই যাচ্ছ বসো এখানে।।।

ইশান – মিস ইমা একা বসে আছে । উনাকে সময় দেওয়া উচিত ।।

লিলি ইমার দিকে তাকিয়ে বললো – কই মিস ইমা একা তো না। জেন স্যার আছে মিস ইমার কাছে।।
ইশান ইমার দিকে তাকায় দেখে জেন ইমার সামনে দাড়িয়ে কথা বলছে।। ঈশানের ভিতরে একটু রাগ কাজ করলো । কিন্তু সেটা দেখালো না । বসে পড়লো নিজের জাগায়।।

জেন – মিস ইমা আমি কি বসতে পারি??

ইমা – হম অবশ্যয় বসুন।।। (ইমা একটু সরে বসলে জেন ইমার পাশে বসে ।।)

জেন – মিস ইমা একটা প্রশ্ন করি??

ইমা – জী বলুন।।

জেন – আপনি কত দিন থেকে একা রয়েছেন?? মানে বলতে চাইছি,,,,,

বলতেই ইমা মুচকি হেসে বলল – আমি কখনো নিজেকে একা মনে করিনি স্যার ।। সবসময় একজন পাশে আছে ভেবেছি এবং বিশ্বাস করেছি।

জেন – সে কে?? আপনার মেয়ে।।

ইমা – না আমার মেয়ে না।। আমার মেয়ে তো আমার সাথে থেকেই।।। আমি যাকে সব সময় আমার পাশে আছে মনে করি সেটা হলো আমার মেয়ের বাবা। তাকে আমি কখনোই ভুলিনি আর ভুলবো ও না।। সে আমার মনে আছে আর থাকবে সব সময়। (ঈশানের দিকে তাকিয়ে বললো )

জেন – এমন ভালোবাসা আজকাল সত্যি দেখা যায় না। তার মানে আপনি এখনো বিশ্বাস করেন আপনার হাসবেন্ড ফিরে আসবে ।

ইমা ঈশানের দিকে তাকিয়ে বললো – তা আবার বলতে!! আমি জানি ওর আসতে হবে। আমার কাছে ফিরতে হবে।। ( ইশান সেই সময় ইমার দিকে তাকাই। )

জেন – আপনার কনফিডেন্ট দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম মিস ইমা। ( ইমা চমকে জেনে দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো)

রাত ১০ টা,,,,,
সবাই শুয়ে পড়ার জন্য নিজেদের ক্যাম্পে চলে গেল।। শুধু বাইরে বসে ছিল ঈশান, লিলি, রেন, জেন, ইমা ।।।

জেন – মিস ইমা এখন উঠি আমার ঘুম পেয়েছে । সকাল সকাল আবার উঠতে হবে।।

ইমা – ok good night । (মুচকি হেসে)

জেন – good night,,, (জেন চলে গেলো)

এদিকে ইশান রেন লিলি উঠে দাড়ালো।।ইমা উঠে যেতে লাগলে ইশান ইমা কে ডাক দেই ।। ইমা যায় তাদের কাছে।।।

ইশান – লিলি ইমা কে তুমি সাথে নিয়ে থাকো। ।

লিলি – ok আমার সমস্যা নেই।।। (হেসে)

রেন হামি তুলে বললো – ভাই চল তো আমার এখন সেই ঘুম পাইছে।। বাচ্চাদের সামলাতে আজ আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে।।

ইশান – হম চল ।। Ok ইমা good night। লিলি good night,,

ইমা, লিলি – good night।।।

ইশান রেন চলে গেলো।।। ইমা লিলি নিজেদের ক্যাম্পে এসে শুয়ে পড়লো ।। ।

লিলি – মিস ইমা ঘুমিয়ে গেছেন ??

ইমা চোখ বন্ধ করে বললো – না।।

লিলি – আপনি ইশান এক বিল্ডিংয়ে থাকেন সত্যি??

ইমা – হম।।

লিলি – ভাবছি সামনের মাসে আমিও যাবো আপনাদের বিল্ডিংয়ে।।।

ইমা চমকে লিলির দিকে তাকাই।। এবং মনে মনে বলে – তোকে আসাবো দ্বারা শাকচুন্নি ।। ঈশানের আশেপাশে ঘুরছিস ওর হাত ধরছিস কিছু বলছি না এই তোর ভাগ্য ।।

লিলি – আপনাকে একটা সত্যি কথা বলবো??

ইমা – হম বলুন !!(একটু গম্ভীর সুরে)

লিলি – আমি না ইশান কে ভালোবাসি।।। ওকে খুব ভালোলাগে।।।

ইমা লিলির কথা শুনে প্রচন্ড রেগে গেলো।।

ইমা – কি তোর এতো বড়ো সাহস ।। আমার ইশান কে ভালবাসিস ?? আজ তোকে আমি,,
বলে ইমা লিলির উপর উঠে বসে এবং ঠাস ঠাস করে লিলি গালে থাপ্পর মারতে লাগে।।

লিলি – ভুল হয়ে গেছে সরি মিস ইমা । আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।।। (কান্না করে জোরে জোরে জোরে বলতে লাগে)

লিলি ইমাকে ঠেলা দিলে ইমা চমকে উঠে।।

লিলি – কি হলো কিছু বললেন না তো । (ইমা লিলির দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগে ।। ) কি হলো হাসছেন কেনো??

ইমা – না কিছু না একটা ভাবনা মাথার মধ্যে ঘুরছিল তাই আরকি।।। (হেসে)

লিলি – হম তো বলুন কি করে বলবো ঈশান কে??

ইমা – ইশান স্যার আপনাকে কিছু বলেছে মানে তার ভাবে কিছু বুঝেছেন??

লিলি – হম আমারও মনে হয় ও আমাকে পছন্দ করে কিন্তু বলছে না আমার মতই।।। (লাজুক হাসি দিয়ে)

ইমা লিলির কথা শুনে মুখ ঘুরিয়ে হাসলো। এবং মনে মনে বললো – ইশান আমাকে ছাড়া কাওকে নিয়ে ভাববে না। এটা আমি ভালো ভাবে জানি।। শুধু শুধু সপ্ন দেখছে।। ঈশানের স্মৃতিটা ফিড়তে দিন মিস লিলি। তারপর দেখুন কি হয় । ইশান কাকে ভালোবাসে সেটা আপনাকে মুখের উপর বলে দেবে।।।

তারপর লিলি ঈশানের গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো। ইমা ও ঘুমিয়ে পড়ল।

রাত ২ টা,,,,,

লিলি ঘুমের মধ্যে ইমার গায়ের উপর পা তুলে দিলে ইমার ঘুম ভেঙে যায়।।। ইমা লিলির পা সরিয়ে দেই। এবং ঘুরে সোয়।। লিলি আবার পা তুলে দেয়। ইমা প্রচন্ড রেগে যায় এবং লিলি পায়ে চিমটি দেই।। লিলি মসা মারার মত নিজের পায়ে ঠাস করে মেরে সেখানে চুলকায় তারপর আবার ইমার গায়ে পা তুলে দেয়।

ইমা – মনে হচ্ছে গলাটা চিপে ধরি,,, ধুর!! (রেগে ক্ষীণ সুরে বললো)

বলে উঠে ক্যাম্প থেকে বাইরে আসতেই চাঁদের আলো তার শরীরে পড়ে।। ইমা আকাশের দিকে তাকাই দেখে গোল চাঁদ একদম মাথার উপরে। ইমা মুচকি হেসে সামনে তাকাতে দেখে একজন লোক হাটাহাটি করছে।।। কিন্তু চেহারা দেখা যাচ্ছে না।। গায়ে কালো রঙের হুড পোশাক ।। মাথায় হুড পোশাকের টুপি।।। ইমার বুকের ভিতর ধাক করে ওঠে।।। ইমার হাত পা কাঁপতে শুরু হয় কারণ এত রাতে কে এমন হাটাহাটি করতে পারে।।। হঠাৎ সেই লোকটা দাড়িয়ে গেলো এবং চুপ চাপ দাড়িয়ে আছে।।। ইমার মাথায় বিভিন্ন কথা ঘুরতে লাগে একবার মনে হয় ভূত, আবার মনে হয় মানুষ , আবার মনে হয় চোর হতে পারে।।। ইমা পাশে তাকাই দেখে একটা লাঠি পড়ে আছে।। ইমা সাহস করে লাঠি হাতে নিয়ে দুয়া পড়ছে এবং সামনে এগোচ্ছে।।

ইমা – আল্লাহ তুমি আমাকে বাঁচায় নিও ।। আমি তোমার ভরসায় এগিয়ে যাচ্ছি । (ভয় সুরে বললো)

ইমা পা টিপে টিপে লোকটি কাছাকাছি এসে যেই লাঠি তুলে মারতে যাবে সেই সময় লোকটি সামনে ঘুরে ।।। ইমা দেখে ইশান।। ইশান ইমাকে দেখে ভয় পেয়ে মাটিতে পরে যায়।।

ইমা বড় বড় চোখ করে অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো – আরে ইশান আপনি??

ইশান নিজের বুকে হাত দিয়ে বললো – উফফ ইমা ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।

ইমা ঈশানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল । ইশান ইমার হাতের দিকে তাকাই।।

ইমা – কি হলো ধরুন ।।( ইশান ইমার হাত ধরে উঠলো।।)

ইশান – এত রাতে আপনি …. ঘুমান নি??

ইমা – ঘুমিয়ে ছিলাম মিস লিলি আমাকে জাগিয়ে দিয়েছে গায়ের উপর পা তুলে দিয়ে।
(ইশান হেসে উঠে বললো -)

ইশান – আমারও একই কেস। (হেসে)

ইমা – হম।।

ইশান – চলুন ওখানে গিয়ে বসি।।

ইমা – চলুন । ইমা ইশান গিয়ে বসলো।।

ইমা ঈশানের দিকে তাকাই দেখে ইশান চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে।।

ইমা – চাঁদ পছন্দ??

ইশান – হম চাঁদ কার না ভালো লাগে ।।( ইশান ইমার দিকে তাকাই। দেখে ইমা কানের পিছনে চুল গুঁজে মুচকি হাসছে) ইশান মনে মনে বললো – এ কেমন সুন্দর উনি।। মনে হচ্ছে তাকিয়ে থাকি।।।

ইমা ঈশানের দিকে তাকালে ইশান চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকাই।।।

ইমা – চুপ হয়ে গেলেন যে !

ইশান ইমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললো – জানেন যখন আমার কথা বলার কেও থাকে না তখন আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে কথা বলি।। আকাশ বলেছে ছোট বেলায় নাকি আমার বাবা মা আমাদের রেখে চলে গেছে।। কিন্তু আমার মনে পড়ে না।। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার জীবনের অনেক স্মৃতি আমার মাথা থেকে মুছে গেছে।।

ইমা – যেমন ??

ইশান – যেমন আমার ছোট বেলা আমার স্কুল জীবন কলেজের জীবন আমার কিছুই মনে পড়ে না।। আকাশ আমাকে বলেছে আমি এখানে আমেরিকায় পড়াশোনা করেছি আমি সেটাই জানি কিন্তু আমার মনে পড়ে না।।। কখনো যদি মনে করার চেষ্টা করেছি তাহলে খুব মাথায় যন্ত্রণা করছে কষ্ট পেয়েছি এমন অনেক রাত আছে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি হসপিটালে আমাকে ভর্তি করতে হয়েছে।।। তারপর একদিন আকাশ আমাকে জোর করে প্রমিস করলো আমি কখনো আর অতীত মনে করার চেষ্টা করবোনা।।। তারপর থেকে আমি আর কখনো চেষ্টা করিনি কিন্তু ইদানিং দেখছি আমার চোখের সামনে কেমন ঘোলাটে কিছু স্মৃতি ভেসে উঠে এমন কিছু বলি এমন কিছু দেখি মনে হয় যেগুলো আমার সাথে হয়েছে বা আমি এগুলো করেছি বা আমি বলেছি , বা সেগুলো আমাকে কেউ বলেছে।।।।

ইমা – একদিন সব আপনার মনে পড়বে দেখবেন।।

ইশান – আমিও চাই ইমা আমার সব মনে পড়ুক এখন আগের থেকে বেশি কষ্ট হয় কেন জানেন আগে না হয় জোর করে মনে করতে চাইতাম এখন ঘোলাটে চোখের সামনে ভেসে ওঠে পরিষ্কার না এইজন্যে আরও বেশি কষ্ট হয় মনে হয় কেন মনে পড়ছে না কেন পরিষ্কার হচ্ছে না।।

ইমা মনে মনে বললো – যেদিন পরিষ্কার হবে সেদিন তুমি সবার আগে আমাকে ইজমা কে জড়িয়ে ধরবে ইশান।।।

গল্প করতে করতে রাত ৩ টা বেজে গেলো। সময়ের কোনো খেয়ালই নেই তাদের।।।

ইমা – ইশান অনেক রাত হয়ে গেছে। জান ঘুমিয়ে পড়ুন ।

ইশান – জী আপনিও ।।
ইমা ইশান উঠে যেতে লাগে।। ইমার রাস্তায় পরে থাকা ইটের উপর পা পড়ে এবং হোচট খেয়ে পড়ে যেতে লাগে ।। ইশান ইমার হাত ধরে নিজের দিকে টান দেই । ইমার মাথা গিয়ে ঈশানের বুকে বারি লাগে ।। ঈশানের হার্ড বিট দ্রুত হয়ে যায়। ইমা সেটা শুনতে পাই।।।

ইমা চোখ বন্ধ করে মনে মনে বললো – তোমাকে ভালো বাসি ইশান ।। তোমার হৃদপিণ্ডর আওয়াজ আজও আমার মনটাকে অশান্ত করে দেয়।।।
ইমা কেবল ঈশান কে জড়িয়ে ধরতে যাবে ইশান ইমাকে ছেড়ে দেই ।।

ইশান – আপনি ঠিক আছেন??

ইমা – হম।। Thank you।। Ok good night।।

বলে ইমা দ্রুত হেঁটে চলে গেলো । ইশান নিজের বুকের বাম পাশে হাত রাখে এবং বলে –

ইশান – আল্লাহ ইমা আমার কাছাকাছি আসলেই আমার এমন হার্টবিটের কম্পন কেন শুরু করে দাও।।। উফফ ,,,,,!!!!

,,,,,,,, continue,,,,,,

ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।।।।
,,,,,,,,,, Continue,,,,,,,,,

ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here