Lover boss part 5

#Lover_Boss
#Season_2
#part_5
#Mihika_Rahman

দিব্যর প্রতি চরম ঘৃণায় চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে রিত্তর । দিব্য কি করে পারল এভাবে রিত্তর সাথে প্রতারণা করতে?রিত্ত রুম থেকে বেরোয়নি,সকালের নাস্তাটা অবধি করেনি । মেয়েটা এমন ঘরে বন্দি-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে রিশাদের । দিব্যর এমন একটা রূপ দেখেও কি করে পারে মেয়েটা দিব্যর জন্য নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে ঘরবন্দি করে রাখতে নিজেকে??নাস্তার প্লেট হাতে নিয়ে রিত্তর রুমে ঢুকল । রিশাদকে দেখে চোখের জল মুছে খানিকটা সোজা হয়ে মাথা নিচু করে বসল রিত্ত ।

–নাস্তা রেখে যাচ্ছি,খেয়ে নিও ।

–আমিও অফিস যাবো আপনার সাথে ।

–বেশ,নাস্তা খেয়ে রেডি হয়ে নাও ফাস্ট ।

কথাটুকু বলেই রিশাদ রিত্তর রুম থেকে বেরিয়ে যায় । রিত্তর সামনে প্লেট রাখা । সিদ্ধ ডিম,আপেল আর ব্রেড-জ্যাম রাখা প্লেটে । এসব খাবার দেখে গা গুলিয়ে উঠলো রিত্তর । রিশাদ ছেলেটা সারাবেলা কিসব অখাদ্য কুখাদ্য খায় ভাবতেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল । ব্রেডটা কোনরকম খেয়ে রেডি হয়ে প্লেটটা ডাইনিংয়ে রেখে গেল । রিশাদ গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । কানে ব্লুটুথ,বেশ রুডলি কারো সাথে কথা বলছে । রিত্ত চুপচাপ রিশাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়ে রইল । কথা শেষ করে পেছনে ঘুরতেই রিত্তর সাথে ধাক্কা লাগে রিশাদের । ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যেতে নেয় রিত্ত কিন্তু রিশাদ ধরে ফেলে । রিত্ত ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছে । ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই দেখতে পেল রিশাদ তাকে ধরে আছে । স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ালো রিত্ত । রিশাদ কেন যেন রিত্তর দিকে তাকাচ্ছে না । আগে তো এমন করত না,হঠাৎ কি হলো রিশাদের যে সে রিত্তর দিকে তাকাচ্ছে না অবধি?

অফিসে যেতেই বড়সড় একটা ধাক্কা খেল রিত্ত । দিব্য দাঁড়িয়ে আছে রিত্তর কেবিনের সামনে । রিত্তর রাগে হাত-পা কাঁপতে শুরু করল । রিশাদ রিত্তকে এড়িয়ে নিজের কেবিনে চলে গেল । রিশাদের এ হেন বেপরোয়া
ভাব মানতে কষ্ট হচ্ছে রিত্তর কিন্তু সেও কিছু না বলে দিব্যকে উপেক্ষা করে নিজের সিটে বসলো ।

–রিত্ত!!তুমি আমায় এভাবে ইগনোর কেন করছো জানতে পারি?

–দিব্য,আমি আপনার সাথে কোনরকম কথা বলতে চাই না । তাই আপনাকে অনুরোধ করছি আমার কেবিন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ।

কপালে,হাতে ব্যান্ডেজ দিব্যর । খুব বাজেভাবে মেরেছিল রিশাদ । একটুও কি মায়া হলো না রিত্তর দিব্যর প্রতি?মুহূর্তেই চোখ জলে ভরে আসলো দিব্যর । এতটা স্বার্থপর কিভাবে হয়ে গেল রিত্ত? রিশাদের মায়ায় পড়লো সে নাকি রিশাদের টাকার মোহে?

🖤
“রিশাদ আফসান চৌধুরীর সমস্ত আপডেট আমার চাই!যে করেই হোক বের কর ওর খবর আর এই রিত্তর কোন আপডেট নাই কেন?ও পল্টি খায়নি তো?এই মেয়ে জাতটার ভরসা নাই!কখন মন কোনদিকে মোড় নেয় বোঝা মুশকিল ।”রাগে মাথাটা ফেটে যাচ্ছে লোকটার । “একে তো দীপের দুর্বলতাটা হাত ফসকে পালিয়েছে আর দীপও দেশে । ভুল করেও যদি ওদের ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়,আমি তো শেষ হয়ে যাবো!শীট!!”

🖤

–দীপ,আমার পেটব্যথা করছে ।

–বেবি আছে পেটে ।

–ধ্যাত!!তুমি এত নির্লজ্জ কেন?

–তাই নাকি?তাহলে কাল থেকে বোরকা পরবোনি!

–ভালো!!যা সর ।

–একটুও সম্মান নাই!বরকে তুই করে বলে!

দীপের কথা শুনে মিহি জোরে জোরে হাসতে লাগল । হাসতে হাসতে রীতিমতো গড়াগড়ি খাচ্ছে এমন অবস্থা । হাসতে হাসতে দীপের গলা জড়িয়ে ধরল মিহি । দীপের কাছে এসে চোখ টিপ মারল । দীপ তা দেখে হা । মিহি হেসে যাচ্ছে দীপের অবস্থা দেখে । আচমকা গুলির তীক্ষ্ম আওয়াজে ভাসটা ভেঙ্গে ফ্লোরে পড়ে গেল । দীপ মিহিকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ড্রয়ারে থাকা রিভলবারটা তাক করল যেদিক থেকে গুলিটা এসেছিল । মিহি ভয়ে গুটিশুটি মেরে দীপের বুকে লুকিয়ে আছে । আচমকা এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে তা মিহি কিংবা দীপ কেউই বুজে উঠতে পারেনি । জানালা বন্ধ করে সিফাতকে কল দেয় দীপ । বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে মিহির কাছে আসে দীপ । এমনিতে সাহসী সাজলেও ভিতরে ভিতরে এই মেয়েটা ভীতুর ডিম!মিহির কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল দীপ ।

–দীপ!চলো ফিরে যাই ।

–এত সহজ না সোনা সবকিছু । দেশে আসাটা যতটা বিপজ্জনক ছিল তার চেয়ে অনেকাংশ বেশি বিপজ্জনক হবে ফিরে যাওয়া । তাছাড়া ওরা দীপের উইকপয়েন্ট জেনে গেছে ওরা । বারবার চেষ্টা করবে তোমায় আঘাত করার । তোমাকে নিয়ে আমি আর ১% রিস্কও নিতে ইচ্ছুক না ।

–এতটা ভালো কেন বাসেন?

–শুধু ভালো না,খারাপও বাসি,বুঝলেন ম্যাডাম?

মিহি মুচকি হেসে দীপের কপালে হাত বুলাতে লাগল । দীপের চোখ বন্ধ ,বড্ড মায়াবী লাগছে দীপকে । দীপের মায়ায় ডুবে নিজেকে ধ্বংস অবধি করে ফেলতে পারে মিহি ।

🖤

আচমকা ফোনের রিং বেজে ওঠায় কাজে ব্যাঘাত ঘটলো রিত্তর । ফোন হাতে নিয়ে দেখল রিশাদের টেক্সট ।

“get ready in 10 minutes…we are going somewhere…”

রিশাদের টেক্সটে বেশ খানিকটা অবাক হলো রিত্ত । আচমকা এমন টেক্সট কেন করল রিশাদ । কাজগুলো কমপ্লিট করে ল্যাপটপ অফ করে রিশাদের কেবিনে ঢুকতেই রিশাদের চোখে চোখ পড়ল রিত্তর । অদ্ভুত এক মায়া যেন ঘিরে ধরল রিত্তকে । তবে কি রিশাদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে রিত্ত? নাহ!এমনটা ভাবাও ভুল রিত্তর জন্য । ল্যাপটপটা বন্ধ করে রিত্তকে নিয়ে গাড়িতে এসে বসল রিশাদ । নিশ্চিন্তে ড্রাইভ করছে রিশাদ কিন্তু রিত্তর মনে অজস্র প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে । রিশাদ কোথায় নিয়ে যাচ্ছে রিত্তকে!আচমকা গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে নামে রিশাদ । “তুমি বসো!”কথাটা বলেই কাজী অফিসে ঢুকে যায় রিশাদ । রিত্তর ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে । রিশাদ তাকে কাজী অফিসে কেন এনেছে?আবার কার সাথে রিত্তর বিয়ে ঠিক করে ফেলল রিশাদ!হঠাৎ ফোন বেজে উঠতেই গা শিউরে উঠলো রিত্তর । ফোনটা তুলে কানে ধরতেই অপরপাশ থেকে ঝাঁজালো কণ্ঠ শুনতে পেল ।

–এসব কি?সবকিছু ভুলে গেছ নাকি?বলেছি তো দিব্য আর তোমার সেফটি আমার হাতে ।

–দিব্যর নাম অবধি শুনতে চাই না আমি । ও একটা প্রতারক ।

–রিশাদ চৌধুরী ভুল বুঝিয়েছে আর তুমি বুঝেও গেলে । কি প্রুভ দেখিয়েছি রিশাদ তোমায়?একটাবার চেক করে দেখেছিলে?দিব্যকে প্রশ্ন করেছিলে?এত বোকা তুমি রিত্ত??রিশাদ আফসান চৌধুরীর মতো চৌকস একটা লোকের কথা এত সহজে বিশ্বাস করে নিলে?আশা করছি আভার কথাগুলো মাথায় ঢুকেছে ।

কল কেটে গেল । রিত্ত কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না?রিশাদ এতটা নিচে নামতে পারে তা কখনোই রিত্ত ভেবে উঠতে পারেনি । রিশাদ আর দিব্যর মাঝে নিজেকে এক অসহায় অস্তিত্ব মনে হতে লাগে রিত্তর যে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের এক দ্বন্দ্বে নিজেকে অবধি বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না । এ কেমন খেলায় মেতেছে বিধাতা তার সাথে?

রিশাদ বারবার চিৎকার করে রিত্তকে বলছে কবুল বলার জন্য কিন্তু রিত্তর কান অবধি রিশাদের কথা পৌঁছাচ্ছে না । রিত্ত এখন অন্য খেয়ালে মত্ত । দিব্যর প্রতি সন্দেহ করাটা কতটুকু যৌক্তিক তা ভাবতে ব্যস্ত রিত্ত । এমতাবস্থায় রিশাদের রাগ ক্রমশ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে । যে কোন সময় আগ্নেয়গিরির লাভা হয়ে ফাটবে সে রিত্তর উপর কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই রিত্তর । কি হতে চলেছে আজ?রিশাদের সাথে কি তবে রিত্তর বৈবাহিক সম্পর্কের সূচনা হতে চলল?রিত্ত কি আদৌ পারবে দিব্যকে ভুলে রিশাদকে মনের কোঠায় স্থান দিতে?প্রশ্নগুলো প্যাঁচালো হচ্ছে কিন্তু যার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না । পরিস্থিতিই হয়তো বলে দিতে পারবে কি হতে চলেছে তাদের জীবনে ।

চলবে….
[লেখা শেষ হলো তাই পোস্ট করে দিলাম 😊]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here