Marriage_With_Benefits part 29+30

#Marriage_With_Benefits
#Part_29
Writer::Sanjida Nahar Shaanj
.
.
আভি এইটা নিবো?!(আমি)

তোমার ইচ্ছা।আমার এক্সপিরিয়েন্স নাই।(আভি)

আচ্ছা।তাহলে নিয়েই নেয়া যাক।কাকা এই ঝিনুকের ঝুমকো গুলো কতো?(আমি)

70 টাকা।(দোকানদার)

আরে কি বলেন? এতো দাম এই ছুটো একটা ঝুমকোর।(আমি)

কি মেয়েরে!ওইদিন 70 লাখ টাকার ডায়মন্ডের জুয়েলারি নর্দমায় ফেলতে চেয়েছে।আর আজ মাত্র 70 টাকার ঝুমকর জন্য কেমন দামাদামি করছে!আমার আসুমনি সত্যিই অদ্ভুত!(আভি মনে মনে)

আভি ত্রিশ টাকা দাও(আমি)

কি হলো!ত্রিশ টাকা কেনো?উনি না বলছে 70 টাকা।(আভি)

আরে এখন ত্রিশ টাকায় এনেছি তো।টাকা দাও!(আমি)

চৌধূরী গ্রুপের CEO র বউ হয়ে তুমি এখন দামাদামি করছো?(আভি)

কেনো?ceo র বউরা কি দামাদামি করতে পারে না?(আমি)

থাক।তোমার সাথে তর্কই করবো না।
বলেই আভি আমাকে ত্রিশ টাকা দিলো।আমিও লোকটাকে ত্রিশ টাকা দিয়ে সেখান থেকে ঝুমকোটা নিয়ে নিলাম।

আমি আর আভি মেলায় টুকটাক কিছু কিনাকাটা করলাম।আর সেখান থেকে স্পেশাল একটা শো পিচ কিনলাম।যা একটা ঝিনুকের উপর শামুক নিয়ে দুটি কাপল বানানো।দেখতে খুব ইউনিক।আমার খুব ভালো লাগলো।আর সেই জন্য আমি ওইটা কিনে আভিকে গিফট করলাম।

এইটা আমার জন্য?(আভি)

না আমার স্বামীর জন্য!(আমি ভ্রু কুঁচকে)

ও তাহলে তো আমারই জন্য!(আভি মুচকি হেসে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে)

আমিও হাসি দিলাম।


সারাদিন আমাদের ঘুরাঘুরির মধ্য দিয়ে গেলো।যেনো আমরা নতুন প্রেমিক প্রেমিকা।আসলে ভেবে দেখলে আমরা সত্যিই নতুন প্রেমিক প্রেমিকা।

আসুমনী।(আভি)

হুম?(আমি)

তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে!(আভি)

কিহ!(আমি কৌতূহল নিয়ে)

আছে কিন্তু তার আগে তোমাকে চোখ বন্ধ করতে হবে।
বলেই আভি আমার চোখে কালো কাপড় দিয়ে বেধে দিলো।

আমাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছো আভি?আমি তো কিছুই দেখতে পারছি না!(আমি)

চোখ বাধা থাকলে কেউ দেখে বোকা!(আভি)

তাহলে খুলে দাও!(আমি)

খুলে দিলে তো সারপ্রাইজ থাকবে না।(আভি)

তাহলে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও(আমি)

তাহলে চুপ করে আমার সাথে চলো বলেই আভি আমাকে কোলে তুলে নিলো।

আভি চলো বলে কোলে তুলে নিলে!(আমি আভিকে শক্ত করে ধরে)

কি করবো?চোখ বন্ধ করে হাঁটলে যদি তুমি পরে যাও তাই তোমাকে কোলে তুলে নিলাম।বলেই আভি হাঁটা শুরু করলো।

আভি কোথায় নিয়ে এসেছে তা তো জানি না।তবে এখানে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ স্পষ্ট শুনতে পারছি।কিছু ক্ষন পরেই আভি আমার চোখ খুলে দিলো।

আমি তাকাতেই ভীষণ অবাক হলাম।কারণ আমি সমুদ্র সৈকতে দাড়িয়ে আছি আর মাথার উপর চাঁদটা আজ ভরা এবং বড়ো।আর আমি যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানের চারপাশে বড়ো একটা লাভ বানানো মোমবাতি দিয়ে।আর আমি সেই লাভের মধ্যে দাড়িয়ে আছি।আমার সামনে গোলাপের পাপড়ি না বরং অনেক গুলো টাটকা লাল গোলাপ দিয়ে আই লাভ ইউ লিখা।আমি খুব অবাক এতো কিছু দেখে।আমার চোখ দিয়ে আবারও খুশির পানি বের হচ্ছে।আমি আমার এই খুশি উপভোগ করছিলাম তখন হটাৎ কোথা থেকে যেনো এক সুরেলা কন্ঠে গান ভেসে আসলো

Sun meri shehzaasi
Main hoon tera shehzada
Baahon mein leke tujhe
Main karta hoon vaada

আমি গানের গলা শুনে জানার চেষ্টা করছি গানটা কে গাইছে আর কোথা থেকে গাইছে।কিন্তু আমি শুধু গানের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পেলাম না।আর এইখানে কোনো লোকজনও নেই।শুধু আমিই একা আভি কোথায় গেছে আমি তাও জানি না।কিন্তু হটাৎ দেখতে পেলাম যে কয়েকটা বাচ্চা পরীদের মতো ড্রেস পরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।আর ওদের হাতে অনেক রকম ফুল।কারো হাতে লাল গোলাপ,কারো হাতে হলুদ,তো কারো হাতে সাদা,আবার কারো হাতে রজনী গন্ধা, সূর্যমূখী।আরো অনেক ফুল আছে যাদের নামও আমি জানি না।

Sun meri shehzaadi
Main hoon tera shehzada
Baahon mein leke tujhe
Karta hoon vaada

গানের সাথে সাথে একেক জন এসে আমাকে একটা ফুল দিচ্ছে

Ae jaan – e – tanama na meri
Mein khake kasam Teri
Karta hoon ikraar

সবার ফুল দেয়া শেষ হলো।তারা সবাই আমাকে ফুল দিয়ে আমার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।আমি তখনও সেই মোমবাতির আকা লাভের মধ্যেই দাড়িয়ে আছি।আজ যেনো আমার অবাক হওয়ার কোনো শেষ নেই।হটাৎ কোথা থেকে যেনো আমার কাঙ্ক্ষিত মানুষটা বের হলো আর সে আর কেউই না আভি। হাতে একটা গিটার নিয়ে গান গাইছে।ভাবতেও পারছি না ও আমাকে এতো স্পেশাল ফিল করাচ্ছে।আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী মানি এখন নিজেকে।

Marr bhi gaya toh
Main tujhe
Karta rahunga peyar
Saaton janam main tere
Saat rahunga yaar..

ও গাইছে তখনই একজন এসে ওর হাত থেকে গিটারটা নিয়ে গেলো।আমি তাকিয়ে দেখি ওদিকে আরও অনেক জন বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট বাজাচ্ছে।আর আভি গান গাইছে। এতক্ষন আমি খেয়াল করি নি কারণ তখন সেখানে অন্ধকার ছিলো এখন আলো দিয়াতেই সব আমার চোখে পড়ছে।আভি গান গাইতে গাইতে আমার সামনে লাভটার ভিতরে চলে আসলো।এখন আমি আর আভি এক সাথে লাভের মধ্যে দাড়িয়ে আছি।আভি আমাকে ওর কাছে টেনে নিয়ে আবার গাইতে শুরু করলো

Ehsaas nahi tujhko
Main pyar karoon kitna
Kar dunga tujhe paagal
Chahunga sanam itna

আমি সত্যিই পাগল হয়ে গেছি আভি।তোমার এই রূপ দেখে আমি মুগ্ধ।আজ আমি খুব খুশি।thank you। আমাকে এতো ভালোবাসার জন্য।(আমি)

থ্যাংকস গুলো জমা রাখো।এখন থেকে এইরকম স্পেশাল তুমি প্রতিদিন ফিল করবে।
বলেই আভি আমাকে নিয়ে নাচতে শুরু করলো।

Daaman na kabhi chhute
Tode na kabhi toote
Jo rishta jude ek bar

বলেই শক্ত করে আমার হাত ধরলো।

Saaton janam main tere
Saath rahunga yaar
Marr bhi gaya toh
Main tujhe…
karta rahunga peyar
বলেই আমরা নাচতে শুরু করলাম।এইরকম নাচানাচির পালা শেষ করে আভি আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো আর হাতে ছিলো ওর একটা ফুলের আংটি।

এই ফুলের আংটি দিয়ে তোমাকে প্রপোজ করছি।আস্থা তুমি কি আমার আসুমণী হবে সারাজীবনের জন্য?(আভি)

হুম।কিন্তু তিনটা শর্তে রাজি হবো।(আমি)

কি শর্ত?(আভি চিন্তিত হয়ে)

প্রথম শর্ত
আমাকে বকবে না।
দ্বিতীয়
আমাকে ছেড়ে কখনও যেতে পারবে না।
তৃতীয়
আমাকে অনেক ভালোবাসতে হবে।(আমি কোমরে হাত দিয়ে)

আমি তোমার সব শর্তে রাজি।এখন বলো।তুমি রাজি কি না?(আভি)

আনন্দের সাথে রাজি আমি।
বলেই আমি আভির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম।

ও আমাকে আংটি পরিয়ে দিলো।তারপর আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম।আর চারপাশ থেকে পিচ্ছি বাচ্চা গুলো আমাদের উপর গোলাপ আর গাঁধা ফুলের পাঁপড়ি ছিটাতে লাগলো।আর ইন্সট্রুমেন্ট এর লোকেরা রোমান্টিক গান বাজাতে শুরু করলো।

পরেই বাচ্চাদের সাথে আমরাও নাচানাচি করতে শুরু করলাম।আজ জীবনের প্রথম আমি এতো খুশি তা আমার ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে।আমি কখনই ভাবতে পারি নি আমার জীবন যুদ্ধে আমি আভিকে এতো কাছে পাবো।আভি আমাকে এত ভালোবাসবে।মনে হচ্ছে আমার আর দুনিয়াতে কিছুই চাওয়ার নেই।আভিই আমার এখন সব।(আমি আভির দিকে তাকিয়ে কথা গুলো ভাবছি)

আর আভিও মগ্ন হয়ে বাচ্চাদের সাথে নাচতে ব্যাস্ত ওকেও বাচ্চা থেকে কম লাগছে না।একদম নিষ্পাপ বাচ্চা।

কি হলো? কোথায় হারিয়ে গেলে?(আভি)

তুমি থাকতে আমার আর হারানোর জায়গা খুঁজতে হবে বুঝি!(আমি)

আভি মুচকি হাসি দিয়ে আমার কপালে চুমু দিলো।
সারাজীবন আমাতেই হারিয়ে যেও।(আভি)


ফ্লাইটে
সারা রাস্তা আমি আর আভি হাত ধরে আসছি।এক মিনিটের জন্যও আভি আমার হাত ছাড়ে নি।আমারও ওর হাত ধরে থাকতে ভালোই লাগছে।

আভি তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?আমরা তো বাসায় যাবো তাই না?(আমি)

না।তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।(আভি ড্রাইভ করতে করতে)

সারপ্রাইজ?আবার কি সারপ্রাইজ!(আমি)

দেখতেই পারবে?(আভি)

তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছ!আমার অবাকের কৌটা এতো ভরে যাচ্ছে যে আমি আর অবাক হতেই পারবো না।(আমি)

অবাক না হও।খুশি তো নিশ্চয়ই হবে।(আভি)

তাই?আচ্ছা দেখা যাক।(আমি)

এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পরই আভি যেনো আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।আমি নিজেই জানি না।ওকে জিজ্ঞেস করলে বলে সারপ্রাইজ।আর সারপ্রাইজ বললে নাকি মজাই চলে যায়।তাই আমিও আর ওকে কিছু বলে নি।দেখি কি সারপ্রাইজ আছে আমার জন্য।
গাড়িটা হসপিটালে এসে থামলো।


আভি হসপিটাল কেনো?কেউ কি অসুস্থ?(আমি চিন্তিত হয়ে)

তুমি এত টেনশন করছো কেনো?হসপিটাল মানেই যে কেউ অসুস্থ আর খারাপ কিছু!এটা তো নাও হতে পারে তাই না।(আভি)

তাহলে এখানে কেনো এনেছ?(আমি)

চলো গিয়েই দেখতে পারবে।
বলেই আভি আমাকে নিয়ে হাঁটা শুরু করলো।


আমরা একটা কেবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।আমি আর আভি কেবিনে ঢুকতেই দেখি বাবা(পালিত বাবা)বিছানায় শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে।

বাবা।বাবা।কি হয়েছে তোমার বাবা?(আমি কাদতে কাদতে)

আসুমনি।শান্ত হও।কিছুই হয়নি উনার।(আভি)

কিছু না হলে বাবা শুয়ে আছে কেনো?ওমন করে!(আমি)

আসু মা।শান্ত হো। জামাই ঠিক বলছে আমার কিছুই হয় নি।(বাবা চোখ খুলে)

তাহলে তুমি হসপিটালে কেনো?(আমি)

বাবার অপারেশন করা হয়েছে।?এখন উনার সুস্থ হতে যতক্ষণ পরেই উনি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।(আভি আমার কাধে হাত রেখে)

আমি আভির দিকে তাকালাম।সত্যিই এই লোক কখন কি করে বুঝাই যায় না।আমার বাবাকে আল্লাহর রহমতে উনি সত্যিই সুস্থ করে তুললো।উনার কথা উনি রেখেছেন।(আমি মনে মনে)

আমি তোমাকে বলি নি কারণ আমি তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। সরি এই জন্য আর রাগ করো না।(আভি কান ধরে)

আমি উনার কান থেকে হাতটা নামিয়ে বললাম
এই কাজের জন্য তুমি স্পেশাল শাস্তি পাবে।

তাই নাকি?তা কখন পাবো? রাতে?(আভি কানে ফিসফিস করে)

আমি রাগী চোখে ওর দিকে তাকালাম
ওমনি আভি দুষ্টু হাসি দিলো।

যাক।আমার মেয়েটা এতো দিন পর নিজের সুখ খুঁজে পেয়েছে।আভি ওকে খুব ভালোবাসে ওর খুব খেয়াল রাখবে।আমি এখন নিশ্চিন্ত।(বাবা মনে মনে)

আচ্ছা।চলো।এখন বাবাকে রেস্ট নিতে দাও।আমরা বরং পরে আসবো।(আভি)

বাবার খেয়াল রাখবে কে?(আমি)

আরে মা তুই এত চিন্তা করিস কেনো?এখানে জামাই সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে।আমার চাওয়ার আগে সব তৈরি থাকে বুঝলি?তুই এখন চিন্তা বাদ দে তো!(বাবা)

সব কিছু তৈরি বলে যে নিজের খেয়াল রাখবে না এমনটা হলে কিন্তু চলবে না বলে দিলাম।(আমি বাবার ক্লাস নিয়ে)

বাবা(আভি)একে নিয়ে যাও তো নাহলে এখন আমাকে আমার মা হয়ে ইনস্ট্রাকশন দিতে শুরু করবে।আর তাতে বকা ফ্রি।(বাবা)

আরে আমি কি করলাম?
আরো কিছু বলতে যাবো তখনই আভি আমাকে টেনে নিয়ে চলে আসলো।

আমার মেয়েকে ওই সামলাতে পারবে!(বাবা হাসতে হাসতে)


গাড়িতে
তুমি আমাকে নিয়ে আসলে কেনো?তুমি বাবা একদম বাচ্চাদের মত কোনো কথাই শুনতে চায় না।উনাকে ভালো করে বুঝি,,,,,,
আর কিছু বলার আগেই আভি আমার ঠোঁটের সাথে ঠোঁট লাগিয়ে দিলো।
কিছুক্ষণ পর
বলেছিলাম চুপ করতে।কিন্তু করলে না।তাই এই টিকনিক বের করলাম।এখন থেকে চুপ না করলে এমন করে চুপ করাবো।(আভি)

তাহলে তো সারাক্ষণ বকবক করবো।(আমি)

তবে রে।
বলেই আভি এগিয়ে আসতে লাগলো।তখনই আমি ওকে আটকে বললাম
গাড়ি স্টার্ট করো বাসায় যাবো।(আমি)

আভি এক বুক হতাশা নিয়ে গাড়ি স্টার্ট করলো।


বাড়িতে
আমি এসেছি দেখে যে সবার মুখখানা পেঁচার মতো হয়ে গেছে তা আমি ঠিকই বুঝতে পারছি।আমি মানেই তো ঝামেলা।কিন্তু দাদু কেনো জানি মুচকি মুচকি হাসছে।ঐদিনের পর থেকে দাদুর কথা গুলো আমার রহস্য জনক মনে হচ্ছিলো।কিন্তু আমি তা আর আভি কে বলি নি। তবে এখন দাদুকে আরো গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।


আভি অনেক ক্লান্ত হয়ে ছিলো।তাই ও এসেই ঘুমিয়ে গেছে আমিও না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।


অন্যদিকে
অফিসের কেবিনে দাদু,আরিফ আর নিহাল বসে আছে।
আভি আর আস্থা এখন একে অপরকে ভালোবাসে!(নিহাল)

আমরা তো তাই চেয়েছিলাম।তাই না?(দাদু)

বলতে হবে।আরমান স্যার কি বুদ্ধি করে আভি স্যার আর আস্থা ম্যাম এর বিয়েটা দিয়েছে।(আরিফ)

এর ক্রেডিট তো সব যায় নিহালের উপর। ও যদি আস্থার সন্ধান আমাকে না দিতো তাহলে তো আমরা কিছু করতে পারতাম না।(দাদু)

আমি আর কি করলাম?আভি যখন আস্থাকে কিডন্যাপ করে এনেছিল তখন আস্থাকে দেখেই বুঝতে পেরেছি এক মাত্র আমাদের আস্থাই পারে আভির জীবন থেকে তুলি নামক ডাইনিকে সরিয়ে দিতে।(নিহাল)

হুম।কিন্তু এই বিয়ের জন্য তো আভিকে রাজি করানো তা ছিলো সব চেয়ে টাফ।(দাদু)

কিন্তু যখন তুমি(দাদু) আর আস্থা ওই ভাবে রাস্তায় ঝগড়া করছিলেন তা দেখেই তো আভি রাজি হয়ে ছিলো।(নিহাল)
.#Marriage_With_Benefits
#Part_30
Writer::Sanjida Nahar Shaanj
.
.
আর এটাও তো আপনাদের প্ল্যান ছিল।নিহাল স্যার কি একটা ডিল এর কথা বলে আভি স্যারকে সেখানে নিয়ে গেছেন আর প্ল্যান অনুযায়ী আরমান স্যার ওই রিকশাকে ধাক্কা মারে যাতে আস্থা ম্যাম যাতে আস্থা ম্যাম আরমান স্যারের উপর ক্ষেপে যায় আর ঝগড়া শুরু করে দেয়।আর যেহেতু আভি স্যার আরমান স্যারকে টক্কর দেওয়া মতো কাউকে খুঁজছিল তাই তার মাথায় আস্থাকে নিহাল স্যার ঢুকিয়ে দিলো।(আরিফ)

হ্যা।দাদুর অ্যাকটিং ছিলো দেখার মতো কি সুন্দর করে আস্থার সাথে ঝগড়া করলো।আর যখন আভি আর আস্থা বিয়ে করে বাসায় আসে তখন আস্থাকে গ্রহণ না করার অ্যাকটিং তাও যা ছিলো।একদম অস্কার লেবেলের।আমি তো ভেবেছিলাম সত্যিই উনি গ্রহণ করবে না।(নিহাল হাতে তালি দিয়ে)

দেখতে আরমান চৌধূরী বলে কথা।(দাদু ভাব নিয়ে)

তবে হ্যা।যখন কেবিনে বসে দাদু আস্থার পরীক্ষা নিবে বলছিলো।আর আস্থাকে যখন এক কোটি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করছিলো তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম।(নিহাল)

তা কি আমি নিবো না।তোর উপর আমার ভরসা নাই।তুই কাকে আমার আদরের নাতির জন্য ঠিক করছিস আমি কি জানবো না?(দাদু)

ইসস। এতো ভালো একটা মেয়ে খুঁজে বের করলাম।আর তুমি আমাকেই কথা শুনাচ্ছ?তোমাদের না উপকার করাই ভুল হয়ে গেছে আমার।(নিহাল)

কি আমার উপর করলা?আস্থাকে তো আমার নাতি কিডন্যাপ করে এনেছিল।তারমানে আস্থাকে আমার নাতি খুঁজে বের করেছে।(দাদু)

ও তাই না।তাহলে শুনো তোমার আর তোমার নাতির মাথার আস্থাকে আমি ঢুকিয়েছি।এমনি এমনি তোমার নাতি তো আস্থাকে বিয়ে করার মানুষ ছিলো।আর এখন তো প্রেম করে বেড়াচ্ছে।আবার বড়ো বড়ো কথা।(নিহাল)

হইছে হইছে।এখন আর নিজের বড়াই করতে হবে না।তবে এক কোটি টাকা দিয়ে মেয়েটা কি চালটাই না চাললো। আমি তো এই মেয়ের ফ্যান হয়ে গেছি।এখন ও আমার নাতি আর আমার পরিবারটাকে ঠিক করুক এটাই আমি চাই।(দাদু চোখ ছল ছল করে)

দাদু আস্থা পারবে।(নিহাল দাদুর কাধে হাত রেখে)

ধন্যবাদ নিহাল আস্থাকে আভির জীবনে আনার জন্য।ছেলেটা সেই ছোটো বেলা থেকে আমাকে ভুল বুঝে আসছে।আমি নাকি ওর মাকে ওর বাবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছি।কিন্তু বিশ্বাস কর আমি কিছুই করিনি আমি ওর মা বাবাকে আলাদা করি নি। হ্যাঁ আমি ওর মার সাথে ওর দেখা করতে দেইনি কারণ তখন ওর মা বাবার মধ্যে এমন ঝগড়া চলছিলো যা ও দেখলে সহ্য করতে পারবে না।শুধু ওর শিশুকালে যাতে খারাপ না পরে তাই আমার এই কাজ করা।কিন্তু এখন ওইসব এর জন্য ও আমাকে দোষারোপ করে।আমি তো জানিও না ওর মা বাবার মধ্যে ঝগড়াটা কি নিয়ে ছিলো!শুধু একদিন শুনি ওরা ডিভোর্স নিবে।কিন্তু কেনো সেটা ওরা কেউই আমাকে বলেনি।অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম ওদের অন্তত ছেলের মুখ চেয়ে সব ঠিক করে নেও।কিন্তু ওরা আমার একটা কথা শুনলো না।আমি কিছুই করতে পারলাম না ওদের ডিভোর্স নেওয়া থেকে।শুধু ওদের এইসব থেকে আভিকে আটকাতেই আমি আভিকে দূরে পাঠিয়ে দেই।তুলি ওকে ব্যবহার করতে চেয়ে ছিলো।তুলি ভালো মেয়ে না ও আভির সাথে ওর টাকার জন্য ছিলো।তবুও আমি ওকে আভির জন্য মেনে নিতান কিন্তু তুলি আভিকে ভালোবাসে না।যে লোকটা ওকে ভালোবাসে না আমি সেই লোকের সাথে কি করে আমার কলিজার টুকরার বিয়ে দেই বল।তুলি ওর সেক্রেটারি হয়ে এই জন্যই এসেছিলো যাতে ও আভিকে হাত করতে পারে।আভিকে ডুবাতে তুলি এসেছিলো।ওকে কেউ প্ল্যান করে আভির জীবনে এনেছিলো।তাই আমার যা করার করেছি শুধু ওদের আলাদা করার জন্য।কিন্তু এতে আমাদের সম্পর্ক আরো বিগড়ে গেলো।আমি জানি না এখন ও আমাকে বিশ্বাস করবে কিনা?ওর আর আমার সম্পর্ক ঠিক হবে কিনা?কিন্তু আমার জীবনে একটাই ইচ্ছা ও যাতে আমাকে একবারের জন্য হলেও দাদু বলে বুকে জড়িয়ে ধরে।
বলেই দাদু কাদতে লাগলো।

দাদু আপনি শান্ত হন।আমি আভির বেস্ট ফ্রেন্ড কিন্তু যখন আপনি বললেন এই সব কথা আর আমার কাছ থেকে সাহায্য চাইলেন তখন আমি রাজি হয়ে গেলাম কেনো জানেন?কারণ আভি শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড না আমার ভাইও। ওর ভালোর জন্য যদি আমাকে যদি হাজারো কথা লুকাতে হয় তবে আমি তাই করবো।ওকে ভালো রাখতে যদি আমার হাজারও মিথ্যা বলতে হয় বলবো।তবুও আভির জীবনে কোনো খারাপ আঁচ আসতে দিবো না।(নিহাল)

এই জন্যই তো তোর কাছে সাহায্য চাইছি।আমি জানি তুই কখনও আভি র খারাপ চাইবি না।(দাদু)


অন্যদিকে আমার ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

আমি উঠেই ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নিলাম।আভি এখনও ঘুমাচ্ছে।আমি তাই আর আভিকে ডাক দেই নি।আমি নিচে নেমে কিচেনে গিয়ে দেখি সার্ভেন্টরা রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিছু লাগবে ম্যাম!(একজন সার্ভেন্ট)

নাহ।কিছু না।এমনি আসলাম।আপনারা আপনাদের কাজ করুন।(আমি)

ওকে ম্যাম।
বলেই তারা আবার কাজে মনোযোগ দিলো।

আমি গিয়ে পুরো বাড়িটা ঘুরতে লাগলাম।আশ্চর্য ব্যাপার হলো আমি এখনও আমার শশুর বাড়ি ঘুরে দেখিনি।বাড়ির ঘুরার সময় আমি দেখতে পেলাম সিড়ির নিচে একটা ছোট্ট রুম আছে।মনে হয় স্টোর রুম।আমি কাছে গিয়ে দেখলাম রুমটা খোলা।তাই আমি কৌতূহল নিয়ে ঢুকে পড়লাম।সেখানে মাকড়শার জালে ভরা আরো বিভিন্ন প্রকার পোকামাকড় এর বাসা।সেখানে পুরনো আসবাপত্র,বই আর নিউজপেপার ছাড়া আর কিছুই পেলাম না আমি।তবে বিভিন্ন জিনিস ঘাটাঘাটি করতে করতে একটা খুব দারুন একটা জিনিস পেলাম।আমি শিওর আভি এইটা দেখলে খুব খুশি হবে।তাই আমি জিনিসটা নিয়ে পরিস্কার করে নিয়ে রুমে চলে গেলাম।


রুমে ঢুকে দেখি আভি নেই।ওয়াশ রুম থেকে আওয়াজ শুনে পেলাম।মনে হয় ওয়াশ রুমে আছে।অনেকক্ষন পর আভি বের হলো
কি হলো?তুমি কোথায় ছিলে তোমাকে তো আমি ঘুম থেকে উঠার পর থেকেই পাই নি!(আভি)

আভি আমি খুব মজাদার একটা জিনিস পেয়েছি। দেখবে?(আমি)

কি পেয়েছ?আলাদিনের চেরাগ নাকি?(আভি মজা করে)

তার থেকেও বেশি কিছু।এইদিকে আসো তোমাকে দেখাচ্ছি।
বলেই আভিকে টেনে ধরে আমার পাশে বসালাম।

এখন বলো কি পেয়েছ যাতে তুমি এত খুশি?(আভি)

এই দেখো।আমি একটা ছবির অ্যালবাম পেয়েছি।আর গেস হোয়াট!এইখানে তোমার ছবিও আছে।(আমি অ্যালবাম আভির কাছে এগিয়ে দিয়ে)

ওয়াও।তুমি কোথা থেকে পেলে এইটা?(আভি আমার কাছ থেকে অ্যালবামটা নিয়ে তাতে হাত বুলাতে বুলাতে)

আমি সিড়ির নিচে একটা রুম থেকে এইটা পেয়েছি।আর খুলে দেখলাম তোমার ছবি দিয়ে ভরা।(আমি)

তুমি কি করে জানলে এখানে আমার ছবি আছে?(আভি ভ্রু কুঁচকে)

কারণ আপনি ছোটো থাকতে যেমন ছিলেন এখনও তেমনই আছেন মি:কোবরা!বরং তার থেকে একটু বেশি কিউট।
বলেই আভির গলার জড়িয়ে ধরলাম।

তাই নাকি?(আভি)

তাহলে খুলে দেখি!(আমি কৌতূহল নিয়ে)

আচ্ছা। দেখো।এইটা আমার বাবা মা আর আমার অ্যালবাম।বুঝলা?এই ছবি যখন আমি হয়েছি তখন হসপিটালে বাবা আমাকে প্রথম কোলে নিয়েছেন আর মা তখন সেন্সলেস ছিলো।(আভি আমাকে ছবি দেখিয়ে)

মাশাআল্লাহ।আমার বড় তো পয়দাই কিউট!(আমি ছবিতে হাত বুলাতে বুলাতে)

তো কি ভাবছো হা?(আভি ভাব নিয়ে)

আচ্ছা এইটা আপনার মা মানে আমার শাশুড়ি মা তাই না?(আমি একটা মহিলার ছবি হতে নিয়ে)

হুম।উনি আমার মা।(আভি ছবিটাতে হাত বুলাতে বুলাতে)

আমি দেখলাম আভির চোখ ছল ছল করছে!হয়তো ও ওর মাকে অনেক মিস করে!আচ্ছা মা কি এখনও বেঁচে আছে?আর থাকলেও কোথায় আছে?(আমি মনে মনে)

তোমার মা অনেক সুন্দর ছিলো!(আমি আভির কাধে হাত রেখে)

হুম।দেখতে হবে কার মা।তুমি তো উনার ধারের কাছেও না।(আভি)

না হলে আর কিছুই করার নেই।এখন তো সব হয়ে গেছে।(আমি ভাব নিয়ে)

ওরে আমার দুষ্টু বউরে!(আভি আমার গাল টেনে)

আচ্ছা পরের গুলো দেখাও!(আমি আভিকে তারা দিয়ে)

দেখাচ্ছি।এই ছবি যখন আমি প্রথম হামাগুড়ি দেই।আর যখন আমি হাঁটতে শিখি মা আর বাবা তখন আমাকে পার্কে হাঁটতে নিয়ে যান তার ছবি।(আভি)

আভি এইভাবে আমাকে ওর সব ছবি দেখালো।ও খুব উত্তেজনার সাথে আমাকে ওর ছবি আর ছবির পিছনের রহস্য গুলো বললো।আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলাম।আভি ছোটো বেলা খুব শান্ত ছিলো যা বুঝতে পারলাম।কিন্তু পরিস্থিতি ওকে এমন বানিয়ে দিয়েছে।

আসুমনি?(আভি)

হুম?বলো!(আমি)

কি ভাবছো?(আভি)

ভাবছি আমার ছেলে হলে আপনার মত হবে নাকি আমার মত?(আমি ভাববার নাটক করে)

কে বলছে ছেলে হবে?মেয়ে হবে আর সে হবে তোমার মতো!(আভি)

আমি ছেলে চাই।তাও আবার তোমার মত!(আমি কোমরে হাত দিয়ে)

না মেয়ে।তোমার মত!(আভি)

না ছেলে।তোমার মতো!(আমি)

এইরকম করে আমরা কিছুক্ষন ঝগড়া করলাম।ঝগড়া করতে করতে দুইজনই হাপিয়ে পড়লাম।

আচ্ছা।আল্লাহ যা দেয় তাতেই খুশি।আর যে যার মতো ইচ্ছা তার মতো হবে।খুশি?(আভি হাপাতে হাপাতে)

হুম।খুশি!এখন আমাকে বাকি ছবি গুলো দেখান(আমি হাপাতে হাপাতে)

আচ্ছা।এইটা,,,,
বলেই আভি থেমে গেলো।

আভি(আমি কাধে হাত রেখে)এইটা কি?

এইটা আমাদের লাস্ট ছবি ছিলো।যাতে আমি এতো হ্যাপি ছিলাম।তখন আরমান চৌধূরী আমাদের মেনে নিয়েছিল।আর এই কারণে মা অনেক খুশি হয়েছিল।কিন্তু কে জানতো ওইসব ছিলো আমাদের সুখী পরিবারকে আলাদা করার একটা চাল।আমাদের তিন জনের জীবন উনি নরক বানিয়ে ছেড়েছেন।উনাকে যে করেই হোক আমি শাস্তি দিয়েই ছাড়বো।
কথা গুলোর সাথে যেনো আভির চোখ গুলো দিয়ে আগুন বের হচ্ছে।বদলা নেওয়ার আগুন।যে আগুনে ও যাকে পায় তাকেই জালিয়ে শেষ করে দিবে।আভির এই চেহারা দেখে আমার ভয় হতে শুরু করলো।ও না জানি কি করে বসে?অনেক সাহস নিয়ে ওর কাধে হাত রেখে বললাম
আভি।দাদুকে তুমি যতটা খারাপ ভাবছো উনি কিন্তু ততটাও খারাপ না।আমার মনে হচ্ছে কোথাও ভুল হচ্ছে।

আভি আমাকে চিৎকার করে বললো
চুপ। একদম চুপ।ওই ব্যক্তির সাফাই আমাকে শুনাতে এসো না।আর একটা কথা আস্থা আমি তোমাকে যতটুকু ভালোবাসি তার থেকে বেশি ওই ব্যক্তিকে ঘৃণা করি।তাই যেই ওই ব্যক্তির সাফাই দিতে আসবে আমি তাকেও ঘৃণা করবো।আর তা যদি তুমি হও আমার সমস্যা নেই।
বলেই আভি সেখান থেকে চলে গেলো।

আমি সেখানেই বসে রইলাম। আজও আভি আমাকে ঐদিনের মতো রাগ দেখালো।আমি তো যা বলছি সত্যিই।মাঝে মাঝে আমাদের চোখ ঘৃণায় অন্ধ হয়ে যায়।আর এখন আভির চোখও ঘৃণায় অন্ধ হয়ে গেছে।কিন্তু আভি তুমি ভুল করছো।আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে দাদুকে তুমি যতটুকু ঘৃণা করো দাদু ততটা ঘৃণা প্রাপ্য না।তবে আজ তুমি আবার আমায় কষ্ট দিলে।


অন্যদিকে
দাদু আভি যদি জানে তুমি আস্থাকে আভির জন্য ঠিক করেছো!তাহলে কিন্তু আভি আস্থাকে ও ঘৃণা করবে।(নিহাল)

এই জন্যই তো আমি চাই আভি আস্থাকে এমন ভাবে ভালোবাসুক।যাতে করে ও কিছুতেই আস্থাকে ঘৃণা করতে না পারে।আর ঘৃণা করা তো দূর আস্থাকে ছাড়া যেনো ও বাঁচতেই না পারে।ওর যেনো দম বন্ধ হয়ে যায় আস্থাকে ছাড়া।এতো ভালোবাসা ওদের মধ্যে জাগাতে হবে।এখন দেখার পালা কি হয়?(দাদু)

আরমান স্যার!আভি স্যার কি আস্থাকে এমন ভাবে ভালোবাসতে পারবে?(আরিফ)

যদি ভালবাসতে পারে তাহলে ওর কপাল ভালো।আর ও যদি আস্থাকে হারায় তাহলে ওর চেয়ে দূর্ভাগ্যবান আর কারো হবে না।(দাদু)


সারারাত পার হয়ে গেছে আভি এখনও আসলো না।কালকে রাতে যে বের হয়ে গেলো এখনও আসছে না।আমি কাল রাত থেকে অপেক্ষা করে আছি কিন্তু ওর কোনো নাম গন্ধও নেই। এত কিসের রাগ ওর।একদিন এই রাগের কারণে না আমাদের সমস্যা হয়।
প্রায় দুপুর হতে চললো আভির এখনও কোনো খোঁজ খবর নেই।উনার ফোন রাত থেকেই বন্ধ। তাই।নিহাল ভাইয়াকে ফোন করলাম উনিও কিছুই জানেন না।আর কক্সবাজার থেকে আসার পর থেকে নাকি উনার সাথে আভির কোনো কথাই হয় নি।উনিও ট্রাই করছে কিন্তু আভির ফোন বন্ধ।অন্যদিকে আরিফ বা মিস সাবিনা কিছুই জানে না এইসবের।অনেক হয়েছে উনি রাগ দেখাতে পারে আমি কি পারি না?আমিও রাগ দেখাবো।
বলেই একটা সুট কেস নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।উনি বাসায় নেই তো আমি থেকে কি করবো?আমিও চলে যাবো।
বলেই বেরিয়ে পড়লাম।


অন্যদিকে আভির যখন মন খারাপ থাকে তখন ও ওদের পুরনো বাসায় চলে আসে।যেখানে ওর বাবা মাকে মেনে নেওয়ার আগে ওরা থাকতো।সেই বাড়িটা এখনও সেই রকম পড়ে আছে।আভি সব কিছু খুব যত্ন করে রেখেছে।ওর মা বাবার সব স্মৃতি এখানে রয়েছে।
মা।আমি কি করে ওই লোকটাকে ভালো ভাববো বলো?ওই লোকের কারণে আজ আমি মা বাবা থেকেও অনাথ!(আভি ঘরের এক কোণে বসে আছে)

মা।তোমাকে আমার থেকে,বাবার থেকে আলাদা করেছে যেই মানুষ তাকে কি করে ঘৃণা না করে পারা যায় বলো?উনি শুধু তোমাকে আর বাবাকে আলাদা করেননি উনি আমাকে আর তুলিকেও আলাদা করেছে।তুমি তো জানতে আমি তুলিকে কত ভালবাসতাম।উনি তুলিকে আমার জীবন থেকে চলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করেছে।তুলিকে ধামকি দিয়েছে যাতে আমার জীবন থেকে চলে যায়।আর তা না করলে উনি নাকি তুলির মা বাবাকে মেরে ফেলবে।আর জানো এই সব কিছু আমি নিজের কানে শুনেছি আর নিজের চোখে দেখেছি।ওই ভিডিওতে যে উনি তুলিকে কিভাবে ধামকি গুলো দিয়েছেন।এর পরেও উনাকে ঘৃণা করবো না।উনি ঘৃণার যোগ্য।শ্রদ্ধার না


চলবে,,,,
সরি কালকে দেওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু দিতে পারি নি।
.
চলবে…..
কালকে পর্ব দিতে লেট হবে।সরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here