The unlimited love part 13+14

#the_unlimited_love❤️
#part_13
#writer_nusrat

রিংকিকে নিয়ে স্টেশন থেকে একটা গাড়ি নিয়ে চলে গেলাম ওদের বাড়িতে৷রিংকির আম্মু আগে থেকেই জানতেন তাই তেমন রিয়েকশন করেননি আমাকে দেখে৷ রিংকি আমাকে ফ্রেশ করিয়ে দিয়ে টেবিলে খাবার এনে দিলো৷ আমি খাবারটা খেয়ে সোফায় বসে পরলাম৷

কিছুক্ষণ পর রিংকির আম্মু এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন৷

“তোমার কী হয়েছে মা??এতো মনমরা দেখাচ্ছে কেন??

“না আন্টি তেমন কিছু হয়নি৷”

“দেখ রুহি আমি কিন্তু তোকে খুব ভালো মতে চিনি কিছু একটাতো হয়েছে তোর৷ নাহলে এভাবে ঘর সংসার ছেড়ে চলে আসলি কেনো??

“কোনটাকে তুই ঘর সংসার বলছিস?যেখানে কোনো ভালোবাসা নেই আছে শুধু একরাশ ঘৃণা আর অপমান”(তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)

“আমি জানিনা মা তোমার আর তোমার স্বামীর মধ্যে কী মনমালিন্য হয়েছে বাট এভাবে ঘর সংসার ছেড়ে চলে আসা একদম উচিৎ হয়নি৷”

“আমি জানি আন্টি এটা উচিৎ হয়নি৷ কিন্তু এখন যদি রিংকিকে ওর স্বামী ওর কথা না শুনে না যাচাই করে বাসা থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দিতো তাহলেও কী আপনি এই কথাটাই বলতেন৷ ”

আমার কথা শুনে রিংকি আর ওর আম্মু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন৷

“তারমানে তোর স্বামী তোকে,,,

“হ্যা আমার স্বামী আমার কথা না শুনে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দিয়েছে৷আর এটাও বলেছে কোনোদিন যাতে আমি তার সামনে না যাই৷আমি কী দোষ করেছি সেটা পর্যন্ত বলেনি৷কালকের রাত আমি আরেক ভদ্র মহিলার বাড়িতে কাটিয়েছি৷ উনার কাছে পেটের দায়ে খাবার চেয়েছি”৷ (কাদতে কাদতে)

“আচ্ছা আরুহি মা তুমি আমায় একটু খুলে বলোতো ঠিক কী হয়েছিলো৷”

আমি আন্টিকে সব খুলে বললাম৷ আন্টি আমার সব কথা শুনে বললেন,,,

“আচ্ছা মা তোমার এখানে যতদিন ইচ্ছা ততদিন থেকো৷ আমাদের কোনো আপত্তি নেই৷ রিংকি যেমন আমার মেয়ে তেমনি তুমিও তো আমার মেয়ে৷”

রাতে,,,🌃🌃🌃🌃

আদিল রুমে বসে আছে আর কাদছে৷

“সোহানি আমার সঙ্গে কেনো এমনটা করলো৷ ওর জন্য কত কষ্ট দিয়েছি আমি আরুহিকে৷ মেয়েটার চোখে সব সময় আমি ভালোবাসা দেখতে পেতাম৷ তবুও আমি সেসবে পাত্তা দিতাম না৷শুধু মাত্র সোহানির জন্যে৷আর সোহানির চোখে আমি আকাংকা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাইনি৷ কোথায় আছো তুমি আরুহি প্লিজ কাম ব্যাক৷ আই সোয়ার আর কখনো তোমায় কষ্ট দিবোনা৷ তুমি তো তোমার মা বাবার কাছেও যাওনি৷ তাহলে কোথায় আছো, তুমি কোথায়??”

আদিলের এসব ভাবনার মাঝেই আহিল এসে ডিনারের জন্য ডেকে গিলো৷

আদিল ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসতেই আদিলের বাবা টেবিল ছেড়ে উঠে পরলেন৷

“তোমার ছেলেকে বলে দাও ওর সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাবার খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়৷ যে ছেলেটা আমার ঘরের লক্ষীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারে সে এটলিস্ট যাইহোক আমার ছেলে কিছুতেই হতে পারেনা৷”

কথাটা বলে আদিলের বাবা হনহনিয়ে উনার রুমে চলে গেলেন৷আদিলের মা আর আহিল ও আদিলের সাথে তেমন কথা বলেননা৷ আদিল কোনোরকমে খাবারটা খেয়ে চলে গেলো৷রুমে গিয়ে সব কিছু ভাংচুর করে ফেলছে৷পরিবারের এমন নেগলেক্ট কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা সে

হঠাৎই আদিলের চোখ পরলো বুক সেল্ফে রাখা একটা নীল ডায়েরির উপর৷ কৌতূহলবশত ডায়েরিতে কী লিখা আছে সেটা দেখার জন্য ডায়েরিটা খুললো৷ প্রথম পেইজেই চোখ আটকে গেলো আদিলের৷ সেখানে লিখা,,

“বিয়ে নিয়ে মেয়েরা কতো স্বপ্নই না দেখে তেমনি আমিও দেখেছিলাম৷কিন্তু সব সময়তো আর সব স্বপ্ন পুরন হয়না৷ তেমনি আমারো হয়নি৷ বিয়ের রাতে মেয়েরা তার স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা আর সম্মান পায়৷ কিন্তু আমি পেয়েছিলাম একরাশ ঘৃনা আর চড়৷ কোনোদিন কখনো শুনিনি বাসর রাতেই নিজের স্ত্রীর শাড়ি অলংকার খুলে অন্য মেয়ের জন্য রাখা হয়৷কিন্তু সেটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছে৷ স্বপ্ন দেখতাম একটা রাজপুত্রের মতো ছেলের সাথে বিয়ে হবে৷ এই স্বপ্ন আমার পুরন হয়েছে৷ তবে রাজপুত্রের কাছ থেকে ভালোবাসা পাবো সেটা পুরন হয়নি৷হয়তো কোনোদিন তার কাছ থেকে ভালোবাসা পাবোও না৷ কিন্তু আমি চেষ্টা করবো৷”

আদিলের চোখে পানি চলে এসেছে৷ সে চোখের পানিটা মুছে আবারো পেইজ উল্টালো৷সেখানে লিখা,,

“সোহানিকে আদিল ভালোবাসে তাতে আমি একদমই কষ্ট পাইনি৷ গার্লফ্রেন্ড থাকতেই পারে এতে রাগ অভিমান করার কিছুই নেই৷ আমি আদিলকে ভালোবাসি খুব ভালোবাসি হয়তো আমার ভালোবাসা এক তরফাই থেকে যাবে তবুও উনাকে আমি ভালোবাসি আর খুব বিশ্বাসও করি৷ কিন্তু সোহানি মেয়েটা এতো খারাপ সেটা যদি আমি আজ উনাকে ক্লাবে ফলো না করার জন্য যেতাম তাহলেতো জানতেই পারতামনা৷ আমি উনাকে সব কিছু বলে দিবো৷ কেমন মেয়েকে ভালোবেসেছেন সেটা ওতো জানার দরকার৷ আমার কাছে প্রমান আছে সেটা আমি উনাকে দেখাবো না৷আমি উনাকে আমার কথা দ্বারা বুঝাবো৷ আমিও দেখতে চাই উনি আমায় কতটা বিশ্বাস করেন”৷

ডায়েরিতে আর কিছুই লিখা নেই৷ আদিল ফুপিয়ে কেদে উঠলো সব পড়ে৷

“মেয়েটা আমায় এতো ভালোবাসত এতো বিশ্বাস করতো আর আমি ওকে এভাবে বাড়ি থেকে বেড় করে দিলাম৷ শুধু মাত্র ওই ক্যারেক্টারল্যাস সোহানির কথা শুনে৷আচ্ছা আমিতো এটাই চেয়েছিলাম যে ও আমায় ছেড়ে চলে যাক কিন্তু এখন কেনো আমি সুখি হতে পারছিনা কেনো?কেনো এত কষ্ট হচ্ছে আমার আরুহির জন্য?

আদিল ওর গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরলো আরুহিকে খোঁজার জন্য৷ হন্য হন্য হয়ে খুঁজে চলেছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছেনা৷

🏜️🏜️🏜️🏜️🏜️

সকালে রিংকির ডাকা ডাকিতে ঘুম ভেঙে গেলো আমার৷ আমি ছোট ছোট চোখ করে বললাম,,,

“কীরে এতো সকালে এভাবে ডাকছিস কেনো??

“সকাল ১১টা বাজে আর বলছিস সকাল৷বাই দ্যা ওয়ে এখন উঠে পর তোকে নিয়ে আমি এখন শপিংয়ে যাবো৷

“শপিংয়ে কেনো??

“বাহ্ রে তুই যে কোনো ড্রেস আনিসনি কী পরবি৷? তাই আব্বু বলেছে তোকে নিয়ে শপিংয়ে যেতে৷ আর এখুনি রেডি হয়ে নে৷ আমি তোর কোনো কথা শুনছিনা৷

রিংকি আর আমি ব্রেকফাস্ট করে শপিংয়ে চলে আসলাম৷ শপিংয়ে এসে আদিলকে খুব মনে পরছে৷ উনাকে নিয়ে ২ দিন আগেও শপিংয়ে গিয়েছিলাম৷ আর এখন আমি এক জায়গায় আর উনি আরেক জায়গায়৷ আচ্ছা উনি তো বলেছিলেন সোহানিকে বিয়ে করে নিবেন৷ হয়তো বিয়ের তোরজোড়ও শুরু হয়ে গেছে৷ রিংকির ধাক্কাতে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসলাম আমি৷ তারপর কোনো রকমে নিজেকে ঠিক করে ড্রেস চয়েজে মনোযোগ দিলাম৷

🌅🌅🌅🌅🌅

বিকেলে রিংকিকে নিয়ে ছাদে বসে আছি আমি৷

“রিংকি তোকে একটা কথা বলি??

“হ্যা বল না৷”

“আংকেলকে বলবি আমাকে একটা চাকরীর ব্যবস্থা করে দিতে৷???

“তুই কী চাকরী করবি নাকি??

“হুম করবো৷”

“পারবি তো???

“না পারার কী আছে৷ আর পারতে তো আমাকে হবেই৷ নিজের পায়ে নিজেকে দাঁড় করাতে হবে৷নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে৷ ব্যস্ত থাকলে কীভাবে সময় চলে যাবে বুঝতেই পারবোনা”৷

“আচ্ছা আমি আব্বুর সাথে কথা বলবো”৷

🍀🍀🍀🍀

সোফার রুমে মনমরা অবস্থায় আরুহির মা বাবার সামনে বসে আছে আদিল৷উনারা যখন জানতে পেরেছেন আরুহিকে পাওয়া যাচ্ছে না ওমনি আদিলদের বাড়িতে চলে এসেছেন৷ কেনো আরুহি বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো? কী হয়েছে ওর?আদিলকে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছেন৷ আরুহির মা তো কান্নাকাটি করে একাকার৷ আরুহির বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,,,,,,

“দেখো বাবা আমার মেয়ে খুব শান্ত প্রকৃতির৷যা করে ভেবে চিন্তে করে৷ তবুও যদি কোনো ভুল করে থাকে তাহলে ওকে ক্ষমা করে বাড়িতে নিয়ে আসো বাবা৷ আমার যে একটাই মেয়ে৷”

“আব্বু আমি জানিনা আরুহি কোথায় আছে৷ যদি জানতাম তাহলে এখন এখানে বসে থাকতাম না ওকে নিয়ে আসতাম৷ বাট কোথাও পাচ্ছিনা ওকে৷ কাল থেকে ওকে আমি হন্য হন্য হয়ে ঢাকা শহরে খুজে চলেছি৷ আই সোয়ার আমি ওকে আপনাদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আজ নয়তো কাল৷ আপনারা এই বিশ্বাস আমার উপরে রাখতে পারেন৷ তবে আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে৷

খাটে বসে আছে আদিল৷ যে দিকে তাকাচ্ছে যেখানে যাচ্ছে সে দিকেই শুধু আরুহির স্মৃতি,আরুহির শরীরের ঘ্রাণ৷ রুমের সবই ঠিক আছে সবই আছে শুধু নেই আরুহি৷

“না এই সোহানি মেয়েকে একটা শাস্তি দিতেই হবে৷ আমি সুখি হয়েও সুখি হতে পারিনি শুধু মাত্র এই মেয়েটার জন্য তাই একে আমি ছেড়ে দিবোনা কিছুতেই না৷
#the_unlimited_love❤️
#part_14
#writer_nusrat

“এখানে শুধু সোহানির দোষ নেই, আমারও দোষ আছে৷ কেনো আমি ভালো করে যাচাই না করে আরুহিকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিলাম৷ওর কথাও একবার শুনা উচিৎ ছিলো৷ঠিকই সবসময় রাগকে প্রাধান্য দিতে নেই৷”

আদিলের ভাবনার মধ্যেই আহিল দৌড়ে আসলো৷

“ভাইয়া সোহানি এক্সিডেন্ট করেছে!!!

“কীহ!!!!এক্সিডেন্ট কীভাবে করলো???

“কারের নিচে নাকি চাপা পরে গেছে অবস্থা খুব ক্রিটিকাল”৷

“ওহ”

সোহানির কথা শোনে আদিলের মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা যায়নি৷

“আমরা মানুষের ক্ষতি করতে গিয়ে কীভাবে নিজেদের ক্ষতিই করে ফেলি বুুঝতেই পারিনা৷ সোহানি তো ওর কর্মের শাস্তি পেয়েছে৷ আমিও আমার কর্মের শাস্তি পাচ্ছি আরুহিকে হারিয়ে৷ ওকে যে আমি কতোটা মিস করি এটা কী ও বুঝেনা৷ ওর নাক ফুলিয়ে ঝগড়া করাটাও খুব খুব মিস করছি৷ আচ্ছা ও কী আমায় মিস করেনা৷ না মিস করবে কেনো আমি ওর সাথে রুড বিহেভ করেছি তারপরও আমাকে মিস করার কোনো প্রশ্নই উঠে না৷?ওর সাথে কাঠানো সেই দিনগুলি যে খুব মিষ্টি ছিলো৷ আমি আবারো সেই দিনগুলি ফিরে পেতে চাই৷ কিন্তু কে ফিরিয়ে দিবে আমায়৷ আদৌ কী তোমায় খুঁজে পাবো আরুহি ৷ তোমার মা বাবাকে তো কথা দিয়েছি তোমাকে ফিরিয়ে আনবো৷ আমি আদৌ পারবো তো তোমায় ফিরিয়ে আনতে৷”

♣️♣️♣️♣️♣️

ডিনারে বসেছি৷ হঠাৎই রিংকির আব্বু বলে উঠলেন,,

“আরুহি মা তুমি নাকি চাকরী করতে চাইছো???

“হ্যা আংকেল আমি চাকরী করতে চাই৷ নিজের পায়ে দাড়াঁতে চাই৷”

” সেটাতো বেশ ভালো৷ আমি কাল রিংকির কাছ থেকে শোনার পর আমারই এক বন্ধুর কাছে ফোন দিয়েছিলাম৷ সে বিরাট বড় বিজনেসম্যান৷কাল নাকি পিএ এর ইন্টারভিউ নেওয়া হবে৷ তুমি যেন সময় মতো চলে যাও৷”

“আচ্ছা আংকেল আমি ঠিক সময় চলে যাবো৷”

🏜️🏜️🏜️🏜️🏜️

সকালে ব্রেকফাস্ট শেষ করে বেরিয়ে পরলাম ইন্টারভিউয়ের উদ্দেশ্য৷ আংকেলের কথা অনুযায়ী অফিসে চলে এলাম৷ পুরো অফিস মানুষে গিজগিজ করছে৷ শুধু মাত্র ইন্টারভিউয়ের জন্যে৷ আমিও একটা ফাকা চেয়ারে বসে পরলাম৷ অনেক্ষন পর আমার নাম ডাকা হলো৷ আমার বুক ধুকপুক ধুকপুক করছে৷ পারবো তো আমি সব সঠিক উত্তর দিতে৷ ভয়ে ভয়েই চলে গেলাম ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্যে৷ হে আল্লাহ তুমি আমায় রক্ষা করো৷

আমাকে যে সব প্রশ্ন ডাকা হয়েছে আমি সব প্রশ্নেরই ঠিক ঠিক উত্তর দিয়েছি৷ তবুও ভয় করছে৷

এখনো মানুষের ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে৷ প্রায় ২ঘন্টা পর ম্যানেজার এলেন হাতে কিছু পেপার নিয়ে৷ ম্যানেজার নাম ডাকার জন্য পেপার হাতে নিতেই আমার ভয় আরো বেশি বেড়ে গেলো,চোখ বন্ধ করে ফেললাম আমি৷যেনো এই মুহুর্তেই সেন্সল্যাস হয়ে যাবো৷

আরুহি রহমান নাম শুনে চমকে চোখ খুলে তাকালাম আমি৷ তারাতাড়ি নিজেকে ঠিক করে হাত তুলে দাঁড়ালাম৷

“কংগ্রাচুলেশন আপনাকে পিএ পোস্টের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে৷”

“আমি বিশ্বাসই করতে পারছিনা প্রথম বার ইন্টারভিউয়ে এসেই সিলেক্ট হয়ে যাবো৷ আল্লাহ তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ৷ ”

২ বছর পর,,,,,,,,,,,,,, 🏞️🏞️🏞️🏞️🏞️

সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা৷ দেখতে দেখতে আমার জীবন থেকে ২টা বছর কীভাবে চলে গেল টেরই পায়নি৷ পিএ পোস্টেই চাকরী করছি আমি৷ যখন যা বলা হয় করার জন্য সব ঠিকঠাক ভাবেই করে ফেলি৷ অফিসের সবাই আমাকে খুব পছন্দ করে,ভালবাসে৷ সুখিই আছি আমি৷

♣️♣️♣️♣️

প্রতিদিনকার মতো আজও আদিল আরুহিকে খুঁজতে বেড়িয়েছে৷ এই দুইটা বছর আদিল সব জায়গায় খুঁজেছে তাকে৷ ফ্রেন্ড থেকে ধরে সব আত্নীয় স্বজনের বাড়ি খুঁজে দেখেছে৷ রিংকি ছোট বেলার বান্ধবী হওয়াতে ওকে তেমন কেউ চিনেনা৷ আদিল বাড়িতে ঢুকতেই ওর বাবা ওকে থামিয়ে দিলেন৷

“দাড়াঁও”

“কী হয়েছে বাবা??

“তোমাকে বিজনেসের ডিল করার জন্য চট্টগ্রাম যেতে হবে৷ তুমি চাইলে সেখানের এমডি ও হতে পারো৷”

“আমি পারবোনা বাবা৷ আহিলকে পাঠাও৷ ”

“আহিল এখান থেকে দেখাশুনা করবে৷ আমাকে এখন এসব থেকে মুক্তি দাও তোমরা৷ এই বিজনেস দেখতে দেখতে জীবনটাই গেলো৷আর তুমি আজই যাচ্ছো চট্টগ্রামে৷”

“আজই যাবো মানে??বাবা আমি চলে গেলে আরুহিকে কে খুঁজবে?ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড “(ছলছল চোখে)

“কে খুঁজবে মানে৷ যখন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দিয়েছিলে তখন মনে ছিলোনা৷ এই দু’বছর খুঁজে চলেছো ওকে, পেয়েছো কোথাও পাওনিতো৷আর বোধহয় পাবেও না৷ আজ তুমি যাচ্ছো৷ আমি আর কোনো কথা শুনতে চাইনা৷”

♣️♣️♣️♣️
কিছু ভালো লাগছেনা আমার রিংকির সাথে ছাদে বসে অনেক্ষণ আড্ডা দিলাম৷ আড্ডা দিতে দিতে কখন যে বিকেল হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি৷ তারপর নামাজ পরে আন্টিকে গিয়ে রান্নায় হেল্প করলাম৷ডিনার শেষ করে অফিসের কাজ করতে লাগলাম৷ কাজ করতে করতে রাত ২টা হয়ে গেছে তাই আর লেইট না করে শুয়ে পরলাম৷

সকালে ঘুম থেকে উঠতেও লেইট হয়ে গেছে আমার৷ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১০ঃ৩০ বাজে৷ কোনোরকমে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে দৌড়ে রিক্সায় উঠে অফিসে চলে গেলাম৷

অফিসের সবাই আমার দিকে কীভাবে যেনো তাকাচ্ছে৷ বেশ ভালই বুঝতে পারছি এরকম তাকানোর মানে৷আমি কোনোদিনই লেইট করে আসিনি৷ হঠাৎ লেইট করে আসাতে সবাই আমার দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছে৷ আজতো নতুন এমডি আসার কথা হয়তো এসেও গেছেন৷

ফাইল নিয়ে স্যারের কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে নক করলাম৷ ভিতর থেকে উত্তর আসলো,

“কাম”

আমি স্যারের দিকে এখনো তাকাইনি৷ফাইলটা দেখিয়ে বললাম,,

“স্যার আমাকে এই কাজগুলো করার জন্য দেওয়া হয়েছিলো৷ আমি সব কাজ কমপ্লিট করে ফেলেছি৷ আমি কথা বলে যাচ্ছি বাট কোনো রেসপন্স পাচ্ছিনা মুখ তুলে যাকে দেখলাম তাকে দেখে আমার হাত থেকে ফাইল মাটিতে পড়ে গেছে ৷ আমার সামনে স্বয়ং আদিল বসে আছে৷ উনি এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন৷ আমি দৌড়ে উনার কেবিন থেকে চলে এলাম৷ পথেই আরেকজন স্টাফ রিমির সাথে দেখা৷ রিমি আমায় দেখে বললো,,

“কী হয়েছে ম্যাম৷ আপনাকে নার্ভাস দেখাচ্ছে যে৷”

“ও কিচ্ছু না৷ বাট ওই যে পাশের কেবিনে একটা লোক উনি কে”??

“ম্যাম উনিতো আমাদের নতুন এমডি৷ আজই জয়েন করেছেন৷ আর এখন থেকে আপনাকে উনার সাথেই থাকতে হবে, কাজ করতে হবে”৷ কথাটা বলে রিমি চলে গেলো৷

“আমি এই লোকটার থেকে দুরে থাকার জন্য পালিয়ে চট্টগ্রাম এসেছি আর এখন উনার সাথেই কাজ করতে হবে নেভার৷ আমি চাকরী ছেড়ে দিবো তবুও উনার সাথে কাজ করবোনা কক্ষনো না৷”

এদিকে,,,,,,

“এ আমি কাকে দেখলাম এটা সত্যিই বাস্তব ছিলো নাকি স্বপ্ন৷ আরুহি আমার সামমে ছিলো,ওহ্ মাই গড৷ এই দুই বছর ধরে আরুহিকে খুঁজে চলেছি আমি৷ এখন আর পেয়েও হারাতে চাইনা৷” আদিল একজন স্টাফকে ডেকে পাঠালো৷

“স্যার আমায় ডাকছিলেন৷ ”

“হ্যা৷ আচ্ছা তোমাদের পিএ কে??

“আরে স্যার যে এখন আপনার কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেছে সে ওই পিএ৷”

আদিল আরেকটু শিওর হওয়ার জন্য বললো,,

“তা নাম কী তার???

“আরুহি রহমান৷”

“আচ্ছা তুমি যাও৷”

ছেলেটা চলে গেলো৷

“আরুহি তুমি নিজেই আমায় ধরা দিয়েছো৷ এই দু’বছর ধরে তোমায় খুঁজে যাচ্ছি৷ এমন কোনোদিন বাদ যায়নি আমি তুমায় খুঁজিনি৷ এখন যখন ধরা দিয়েই দিছো তাই আর ছারছিনা তোমায়৷ আমি জানি তুমি আমায় এখানে দেখে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবে৷বড্ড অভিমান যে তোমার আমার উপর৷ ”

♣️

এক ঘন্টা ধরে কেঁদেই যাচ্ছি আমি৷ মনে হচ্ছে যেন আজ সব চোখের পানি একসাথেই শেষ হয়ে যাবে৷ ভালবাসার মানুষটিকে এতো কাছে পেয়েও ভালো করে দেখতে পারিনি৷ আমি তো ভালোই ছিলাম৷ সব অতীত ভুলে গিয়ে৷ তাহলে কেনো আবার উনি আমার সামনে এসে সব অতীত আবার জাগিয়ে দিলেন, কেনো?অতীতের ক্ষতটাও যে শুকিয়ে গিয়েছিল সেটাও আবার তাজা হয়ে গেছে৷

“ম্যাম স্যার আপনাকে ডাকছে”

স্টাফের ডাকে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসলাম আমি৷ তারাতাড়ি চোখ মুখ মুছলাম৷

“আশ্চর্য উনি আমায় কেনো ডাকছেন?? নাহ এই অফিস আমায় ছাড়তেই হবে৷ আপাতত উনি কেনো ডাকছেন সেটা শুনতে হবে৷ নাহলে অফিসের সবাই কী না কী ভাববে৷”

চলবে,,,,,,,,,

(গাইস বিজনেস সম্পর্কে আমার তেমন ধারনা নেই৷ তাই ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏)
চলবে,,,,,,,

(রিচেক করিনি৷ ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন🙏)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here