অন্ধকার পল্লী পর্ব ১৬

#অন্ধকার_পল্লী
#Tabassum_Riana
Part:১৬
,
,
,
,
পুলিশ কমিশনার ডিজিআই আরো কিছু পুলিশ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মিটিং চলছে আফিনের।বিষয় হলো অবনীকে ফিরিয়ে আনা।আফিন দুহাত মুঠ করে সেটার ওপর থুতনি রেখে বসে আছে।চোখজোড়া বড্ড লাল হয়ে আছে ওর।সবাই কথা বলছে ও চুপচাপ শুনছে।হঠাৎ কমিশনারের কথায় চোখ তুলে তাকালো আফিন।দেখো আফিন অবনীকে মন্ত্রীর ছেলে মামুন কিডন্যাপ করেছে।ঐখানে অবনীকে আনতে গেলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বলেই থেমে গেলেন কমিশনার।আফিন রাগী চোখে তাকালো কমিশনারের দিকে।কি বলতে চান?আপনারা কি চান না আমার অবনী ফিরে আসুক?কি আপনারা চান না অবনীর মতো আর ও হাজার মেয়ের জীবন ধ্বংস হওয়া থেকে বেঁচে যাক?আপনাদের কোন কথাই মানবোনা আমি।আমার অবনীকে আমি চাই এক্ষুনি চাই এন্ড দ্যাটস ফাইনাল।চিৎকার করে কথা গুলো বলছিলো আফিন।
আফিন তোমার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি।জানি তুমি কেমন বোধ করছো?কিন্তু কমিশনার স্যার ঠিক বলেছেন।ঐখানে এভাবে গেলে অনেক প্রবলেম হবে।বুঝার চেষ্টা করো।বলে উঠলেন ডিজিআই।আফিন ওনাদের দিকে তাকালো।ওরা যদি আমাদের না চিনে তাহলে তো কোন সমস্যা নেই।গম্ভীর গলায় বলল আফিন।নেই তবে কি করতে চাইছো?টেবিলের সাথে ভুড়িটাকে ঠেঁকিয়ে টেবিলের ওপর হাত রেখে বলে উঠলেন কমিশনার।আফিনের ঠোঁটের কোনায় শয়তানি হাসি ফুঁটে উঠলো।
,
,
,
ঐ রুপা খালা!! রুপা খালা!!!চেঁচাতে চেঁচাতে জামিলা রুপা খালার রুমে এলো।রুপা এ পল্লীর সর্দারনী।ঠোঁটে লাল লিপস্টিক লাগিয়ে গালে হালকা পাউডার বুলিয়ে নিলো রুপা।আজ একজন মালদার পার্টিকে আনন্দ দিতে হবে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে।শাড়ীর আঁচল টাকে কাঁধের ওপর ফেলতেই জামিলার চিৎকার
শুনতে পেল রুপা।
,
,
,
,
কি হইছে এতো চিল্লাছ ক্যা?পান মুখে পুখে পুরে দিয়ে বলল রুপা খালা।এক ব্যাডা আইছে ব্রিফকেজ লইয়া। মালদার পার্টি মনে অইলো।আপনেরে বুলাইতেছে।বলেই দম নিলো জামিলা।রুপার ঠোঁটের কোনে হাসি ফুঁটে উঠলো।আইতেছি বলেই চুলটাকে আবার আঁছড়ে নিয়ে ঠোঁটে আরেকটু লাল লিপস্টিকের পরশ বুলিয়ে নিলো রুপা।জামিলার দিকে একটু হেসে বেরিয়ে গেলো রুপা।তার কক্ষে একজন কালো কোট ধারী লোক বসে আছে।গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি,চোখে সানগ্লাস।ভীষন হ্যান্ডসাম লোকটা।রুপা যেন একদফায় তার প্রেমেই পড়ে গেলো।শাড়ীর আচল একটু সরিয়ে লোকটার সামনে বসলো।হাতের একটা আঙ্গুল দিয়ে কিছু চুল প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে কথা বলল রুপা।কি চৌধুরী সাহেব কইছিলেন না রাতে আইবেন।অহন আইলেন যে?ঠোঁটে হাসি ফুটালো রুপা।আ’ম সরি আমি চৌধুরী সাহেব নই।আমি আফিন খান।বলে উঠলো রুপার সামনে বসা আফিন।রুপা কেমন যেন অবাক হয়ে আফিনকে দেখছে।আপনের লগে তো আমার কতা অয় নাই।বলে উঠলো রুপা।আমি জানি কিন্তু একটা কাজে এসেছি।বলে উঠলো আফিন।কি কামে আইছেন? মুখে খানিকটা বিরক্তির ছাপ ফুঁটিয়ে বলল রুপা।আমি একটা নতুন মেয়ে চাই একবারেই ফ্রেশ।বুঝছেন তো?একবারেই ফ্রেশ যাকে এখনো।কেউ স্পর্শ করে নি।বলে উঠলো আফিন।রুপা জামিলার দিকে একবার তাকিয়ে আফিনের দিকে তাকালো।নেই বলে উঠলো রুপা।আফিনের ভীষন রাগ হলে ও কিছুটা সামলে নিলো নিজেকে।২লাখ টাকা দিবো বলে উঠলো আফিন।
,
,
,
আরে কইলাম তো নাই।টাহার কতা কইলে কি ফেরেশ মাইয়া জন্মাইবো?যান আপনি যান।এহানে আপনের লাইগা ফেরেশ মাইয়া নাই।চল জামিলা চল।জামিলার দিকে তাকিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল রুপা।
,
,
,
,
৬লাখ টাকা দিবো।বলে উঠলো আফিন।৬লাখ টাকার কথা শুনে আর নিজেকে আটকাতে পারলোনা রুপা।জামিলা কে পাঠিয়ে দিলো অবনীকে সাজিয়ে দিতে।আফিমের সামনে রুপা বসে পড়লো।আসলে একজন আছে। একদম নতুন।যা করবেন একটু ধীরে সুস্থে।বলে উঠলো রুপা।মাথা ঝাঁকালো আফিন।কিছুক্ষন পর জামিলা এলো।এনারে লইয়া আহেন খালা।বলে উঠলো জামিলা।রুপা জামিলার দিকে গেল আহেন!!!!! আফিনের দিকে না তাকিয়ে বলল রুপা।জি!!আমাকে বলছেন?বলে উঠলো আফিন।জে আপনেরেই কইছি আহেন।বলেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলো রুপা।জানালা দিয়ে তাকালো আফিন। বখাটের সাজে আইজি কমিশমার আর অন্যান্য পুলিশ কর্মচারীরা হাত দুলিয়ে ইশারা করে জানালো যে মামুনরা এখনো আসেনি সব ঠিক আছে।
আফিন হালকা হেসে রুপার পিছু যেতে লাগলো।আশেপাশে বেশ কিছু রুম পড়লো।কিছু মেয়ে আফিনের হাত ধরে টানলো।আয় তোকে খুব আনন্দ দেবো এসব বলে।আবার কিছু রুমের দরজা বন্ধ।ভিতর থেকে শব্দ আসছে।আফিনকে নিয়ে একটা রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো রুপা।দরজাটা একটু চাপানো।যান ভিতরে।বলে উঠলো রুপা।আফিন চোখ দিয়ে ইশারা করলো রুপাকে চলে যেতে।রুপা বুঝতে পারলো এখন প্রাইভেসি দরকার।তাই হালকা হেসে বেরিয়ে গেলো রুপা।
,
,
,
আফিন ভিতরে ঢুকলো। অবনী লাল একটা লেহেঙ্গা পরে বসে আছে।সারা শরীরে দাগ হয়ে আছে আর ফোসকা পড়ে গেছে।হালকা সাজ দেয়া হয়েছে অবনীকে।অবনী বুঝতে পারলো একজন পুরুষের উপস্থিতি তবুও তাকালোনা সে দিকে।চোখ বুজে আছে অবনী।
,
,
,
,
অবনীর পাশে এসে দাঁড়ালো আফিন।নাম কি তোমার? বলে উঠলো আফিন।আমাকে প্লিজ ছেড়ে দিন।বলে উঠলো অবনী।নাম জিজ্ঞেস করলাম এখানে ছাড়াছাড়ির কথা কেন আসছে?আর তাছাড়া তোমার জন্য ঐ রুপাকে আমি ৬লাখ টাকা দিয়েছি।সো আজ যা বলবো তোমাকে তা করতে হবে।বলে উঠলো আফিন।না না প্লিজ এমন করবেন না।আফিন আফিন প্লিজ বাঁচাও আমাকে।এই নরপশুদের থেকে বাঁচাও আমাকে।চেঁচাতে লাগলো অবনী।আফিন অবনীর মুখ চেপে ধরলো।শশশ এতো চিল্লাও কেন? কি মনে করবে সবাই?এতোক্ষন হাতপা ঝাপ্টাচ্ছিলো অবনী।এখন থেমে গেলো।আফিন অবনীর মুখ থেকে হাত সরালো।আফিন কে?প্রশ্ন করলো আফিন।আফিনের নামে অবনী চোখ জোড়া ভিজে গেলো।এটা আমার হৃদকম্পনের নাম।আমার বাঁচার কারনের নাম আফিন।তাকে ভালবাসি আমি।ঐ নরপশুদের কারনে আমি তার থেকে দূরে। প্লিজ আমাকে নষ্ট করবেননা।কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো অবনী।অবনী ভালবাসে আফিনকে?ভাবতেই মন প্রান জুড়িয়ে গেলো আফিনের।নিজের চাপ দাড়ি আর সানগ্লাস খুলে নিলো আফিন।নিচে তাকিয়ে আছে অবনী।একটু তাকাও আমার দিকে।বলে উঠলো আফিন।না পারবোনা।আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।বলে উঠলো অবনী।না তাকালে কেমন করে ছাড়বো?বলে উঠলো আফিন।অবনী ওপরে তাকিয়ে টাস্কি খেলো।এ সে কাকে দেখছে?এ যে ওরই আফিন।
,
,
,
আ আপনি?বলে উঠল অবনী।আফিন মাথা ঝাঁকিয়ে অবনীকে জড়িয়ে ধরতে গেলে সরে গেলো অবনী।নাহ প্লিজ ছুঁবেননা আমাকে।বলে উঠলো অবনী।
,
,
,
,
কেন অবনী?এমন কেন করছো?আমি আফিন।তোমার আফিন।আমার ওপর এতোদিন অনেক অত্যাচার হয়েছে।আমি নোংরা হয়ে গেছি।প্লিজ ছোঁবেননা।কাঁদতে কাঁদতে বলল অবনী।আফিনের আর সহ্য হলোনা।জোরে চড় বসিয়ে দিলো অবনীর গালে।কে বলল তুমি নোংরা হয়ে গেছো?আমি প্রথম যেদিন আমার জলপরীকে যেমন দেখেছিলাম ঠিক তেমন আছো তুমি।আমার জীবন আলো তুমি,আমার গন্তব্য তুমি।ভালোবাসি তোমায়,অনেক ভালোবাসি।তোমাকে চাই আমি।বলতে লাগলো আফিন।আফিনের কথা শুনে অবনী নিজেকে ঠিক রাখতে পারলোনা।কাঁদতে লাগলো।অাফিন বুকে জড়িয়ে নিলো তার জলপরীকে।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here