অন্ধকার পল্লী পর্ব ৩

#অন্ধকার_পল্লী
#Tabassum_Riana
Part:৩
,,,,,,,,,,,,থামান!!!থামান!!অবনীর কথায় ঘোর কাঁটে আফিনের।চোখের কোনা দিয়ে পাশে বসা অবনীকে দেখে নিলো আফিন।গাড়ি থামিয়ে আশপাশ দেখে নিলো অাফিন।দোতলা পুরোনো একটি বিল্ডিং।তবে বিল্ডিংটা লতানো গাছ দ্বারা ঢাকা।এর আগের দিন তো অন্য কোন জায়গায় নেমেছিলো মেয়েটা।আজ এ কোন জায়গায় থামলো বুঝতে পারছেনা আফিন।অবনী গাড়ি থেকে নেমে সামনে চলে যেতেই কি মনে করে আফিনের দিকে দৌড়ে এলো।জানালার কাঁচ নামালো আফিন।অবনী কি জানি বলার চেষ্টা করছিলো এতক্ষন বুঝতে পারছিলো না আফিন।এখন শুনতে পেলো অবনীর কথা।জানিনা কি বলে ধন্যবাদ দেবো? সেদিন ও সাহায্য করলেন আজ ও করেছেন।ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা।বলে আর এক মুহূর্ত ও অপেক্ষা না করে সামনে হেঁটে চলে গেলো অবনী।অবনীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে আফিন।ওর কন্ঠস্বর এতো মধুর কানে লেগে থাকার মতো।শুধু শুনতেই মন চায়।সেদিনকার ছেলে গুলো পথ আগলে দাঁড়ায় রহমত সাহেবের।এলাকার ছ্যাঁচড়া বখাটের দল এরা।আজ এলি?সাহস তো কম না তোদের।সরে দাঁড়া,নাহলে পুলিশে কমপ্লেন করবো।রাগী গলায় বলতে থাকে রহমত সাহেব।
,,,,,,,,,,আরে ইন্সপেক্টর ঘরে এমন রসগোল্লা রাখলে শরীরের ঝাঁঝ তো বাড়বেই।তোর মাল মেয়েটা তো দিনে দিনে স্বপ্ন দোষের কারন হচ্ছে।দিবি তোর মেয়েটাকে একরাতের জন্য?বখাটে মামুন বলে উঠলো।ছেলেটা ওর গ্যাংগের লিডার।চেহারা দেখলেই বুঝা যায় হিরোইনচি।আমার মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়েছিস তো চোখ উপড়ে ফেলবো শালা হারামির দল।চেঁচিয়ে উঠলো রহমত সাহেব। তাহলে তোর মেয়েকে বের হতে দিস কেন?ঘরবন্দী করে রাখ।তাহলে আর আমাদের সমস্যা হবেনা।বলেই হেসে উঠলো ছেলে গুলো।আমার মেয়ে ঘরে বসে থাকবেনা আর তোরা ও কিছু করতে পারবিনা। আঙ্গুল তুলে ওদের শাঁসিয়ে ঘরের দিকে পা বাঁড়ালেন রহমত সাহেব।টিউশন থেকে মাত্রই ঘরে ফিরেছে অবনী।খোলা চুলগুলো কে খোপায় গুঁজে দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো অবনী।ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো। অবনীকে দেখে রহমত সাহেব নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসলেন। অবনী!!!রাস্তায় তোর কোন সমস্যা হয়না তো?হালকা কেঁশে বলে উঠলেন রহমত সাহেব।না বাবা কিন্তু কেন?প্লেটে ভাত বাঁড়তে বাঁড়তে বলে উঠলো অবনী।না এমনিতেই।রহমত সাহেব মেয়েকে চিন্তায় না ফেলার জন্য বলে উঠলেন।তাও বলছিলাম কি একটু সাবধানে থাকিস মা?একগাল ভাত মুখে নিয়ে বললেন রহমত সাহেব।
রাতে আফসানা অার অবনী শুয়ে আছে পাশাপাশি। বোনের দিকে একনজর তাকিয়ে অবনী বলে উঠলো বাবার কি কিছু হয়েছে?বাবা মাকে কথা বলতে শুনেছিলাম বিকেলে।মামুন, রাফাত আরো কয়েকজন আছেনা আমাদের এলাকায়?ওরা না কি বাবাকে খুব খারাপ কথা বলেছে।আফসানা একনাগাড়ে বলে দিলো।খারাপ কথা!!!কি খারাপ কথা?ভ্রু কুঁচকালো অবনী।অবনীর সম্পর্কে বলা প্রত্যেকটি কথা অাফসানা অবনীকে জানালো।আরে ওরা কিছুই করতে পারবেনা।বাবা মা শুধু শুধুই ভাবছে।নারে আপু শুনেছি পতিতা পল্লীর সাথে ওদের যোগসাজশ আছে।আফসানা বলে উঠলো।ওহ তাই নাকি?কিছুটা চিন্তিত হয়ে বলল অবনী।হ্যারে আপু।রাফসানা কিছুটা চিন্তিত মুখে বলে উঠলো।আচ্ছা থাক এখন এসব বাদ দেয়।ঘুম আসছে।অবনী বালিশে মাথা রেখে বলে উঠলো।পরদিন কলেজ থেকে বেরিয়ে সেই আগের জায়গায় এসে দাঁড়ালো অবনী।কত গাড়ি চলে গেলো তবু ও কারো অপেক্ষা যেন ওকে থামিয়ে রেখেছে।প্রায় ত্রিশ মিনিট পর আফিনের দেখা মেলেনি।অবনী হতাশ হয়ে বাসে উঠে যায়।আফিনকে না চাইতে ও আশা করেছিলো অবনী।
অফিস থেকে বের হতে খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে আজ।আফিন তো অধীর আগ্রহে ওর জল পরীর দেখা পাবার আশায় বসেছিলো।অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে সে আগের জায়গায় চলে আসে আফিন।জানালা খুলে সে আগের জায়গায় তাকালো যেখানে অবনীকে দেখেছিলো আগে।কিন্তু আজ নেই।হয়ত আসতে দেরি হচ্ছে।ভাবতে থাকে অাফিন।গাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায় আফিন।এভাবে অনেকসময় পার হয়ে গেলো,কিন্তু অবনী আসলো না।আফিনের খুব বেশি রাগ হচ্ছে অজানা মেয়েটার প্রতি।গাড়িতে বসে আশেপাশে অনেক খুঁজলো অবনীকে কিন্তু পেলো না।অবশেষে গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো আফিন।অবনী জানালার সামনে বসে আছে।আজ কি সে এসেছিলো?ওর জন্য অপেক্ষা করেছিলো?নাহ কেন করবে?ও কে হয় লোকটার?আর লোকটাই বা কেন ওর জন্য অপেক্ষা করবে?ও কেন ভাবছে লোকটাকে নিয়ে? মাত্র দুদিন দেখেছে,তেমন কথা ও হয়নি।বারান্দায় বসে কফিতে চুমুক দিচ্ছে আফিন।অজানা মেয়েটাকে দেখার নেশা দিনে দিনে বেড়ে চলছে ওর।কেন এমন হচ্ছে?এই নেশা কোনভাবেই কাঁটানো সম্ভব না।পরদিন প্রায় পনের মিনিট আগেই সেই একই জায়গায় পৌছে যায় আফিন।গ্লাস খুলতেই জলপরীকে দেখতে পেলো আফিন।মেয়েটা ওর দিকেই এগিয়ে আসছে।কিছুসময়ের মাঝেই অবনী আফিনের গাড়িতে উঠে বসলো।কাল অপেক্ষা করেন নি যে?সামনে তাকিয়েই প্রশ্ন করে উঠলো অাফিন।
কথা শুনে আফিনের দিকে অবাক চোখে তাকায় অবনী।ন না মানে অপেক্ষা করেছিলাম কিন্তু আপনি আসেননি।আর দেরি ও হচ্ছিলো।আমাদের বাসার গলিটা ভালো না।একনাগাড়ে বলে উঠলো অবনী।
কেউ জ্বালিয়েছে আপনাকে আপনাদের গলিতে?আচমকা প্রশ্ন করে উঠে আফিন।উহুম। মাথা নাড়ায় অবনী।অাফিন আড়চোখে অবনীর দিকে তাকায়।কলাপাতা রংয়ের জামাটায় এতো অপরুপ লাগছে মেয়েটাকে।কপালে কালো টিপ, চোখে কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক।এতো মায়াবী লাগছে মেয়েটাকে।এই মায়া কেঁটে উঠা সম্ভব না।ইসস একটু ছুঁয়ে দিতে পারলে……..ছি!!!! ছি!!!!!কি ভাবছি এসব?ভাবতে থাকে আফিন।অবনীর দিকে আড়চোখে আবার তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো আফিন।গাড়ি চলছে। অবনী আড়চোখে আফিনকে দেখছে।সাদা শার্ট কালো ডেনিম প্যান্ট,চোখে সানগ্লাস।শার্টের হাতটা কুনুই পর্যন্ত উঠানো।হিরো হিরো ভাব লোকটার মাঝে।ভেবেই অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে হাসে অবনী।বাসার সামনে আসতেই অবনী চেঁচিয়ে উঠলো থামান থামান।আফিন গাড়ি থামালো।আপনার নম্বর দিন কিছু টা অন্যমনষ্ক ভাবে বলে উঠলো আফিন।
আফিনের কথা শুনে হকচকিয়ে উঠলো অবনী।জ জি?তোতলিয়ে উঠলো অবনী। জি।আফিন বলে উঠলো।কিন্তু কে কেন?অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো অবনী।আপনি আর একা আসবেন না।আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।আমি আসবো।সেজন্যই নম্বর চাইছি যেন আমার দেরি হলে আপনাকে জানাতে পারি।দাঁতে দাঁত চেপে বলল আফিন।
আরে না না এতো কষ্ট করতে হবেনা আপনাকে।আমি চলে আসতে পারবো।কিছুটা ভয় পেয়ে বলে উঠলো অবনী।অবনীর দিকে কিছুটা ভ্রু কুঁচকে তাকালো আফিন।দিচ্ছেন কি দিচ্ছেন না?অবনী চুপ করে আছে।Yes or no?কিছুটা রাগী গলায় বলল আফিন।দিচ্ছি।লিখেনিন।বলে উঠলো অবনী।আফিন ফোন বের করে অবনীর নম্বর টি কন্টাক্ট লিস্টে জলপরী নামে সেভ করে নিলো।অবনী আর অপেক্ষা না করে বেরিয়ে দৌড়ে গেটের ভিতরে ঢুকে গেলো।
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here