অপ্রিয় পর্ব ৪+৫

৪+৫
#অপ্রিয়।
#তিতিশ্মা_মুসাররাত_কুহু
#পর্ব_৪

আমি মানিব্যাগে হাত দিতেই দিহান টুপ করে আমার হাত টা ধরে ফেলে।
আর আমি চিৎকার দিবো মাত্র আর ওর আরেকটা হাত দিয়ে আমার মুখটা চেপে ধরে বলে,টাকা লাগবে আমাকে বললেই তো হতো।চুরি করতে কে বলেছে?
এত দিন জানতাম যুবসমাজ খারাপ করার গুণ বিদ্যমান আছে।
এখন দেখছি চুরি বিদ্যাও জানা আছে ছিঃ।

এমন ভাবে মুখ টা চেপে ধরেছে,আমি কথা কেন নিঃশ্বাসও নিতে পারছিনা।আর কিছু ক্ষণ এভাবে ধরে রাখলে দম আটকে মারাই পড়বো আমি।

তাড়াতাড়ি করে যেই হাত ছাড়া আমার সেই হাত দিয়ে দিলাম জোরে এক চিমটি।
চিমটি খাওয়ার সাথে সাথে উফফ বলে ছেড়ে দিলো দিহান আমার মুখ।

আমি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকলাম।
-এই ভাবে কেউ মুখ আটকে ধরে?একটুর জন্য দমটা বেড়িয়ে যায়নি।
আপনি খারাপ সেটা জানতাম,তবে খুনিও যে সেটা জানতাম না।
-চুপ,চুরি করতে আসছে আবার বড় বড় কথা।
আর মা আমার পিছে উঠে পড়ে লেগেছে এই চুন্নিকে দিয়ে আমাকে বিয়ে করাবে বলে।

এই চুন্নি বিয়ে করলে আমার মানিব্যাগ সারাজীবন ফাঁকা ই থাকবে।টাকা আর থাকবেনা।

-আপনাকে বিয়ে করবো আমি?আয়নায় ভালো করে মুখটা দেখেছেন একবার?
চিরকুমারী থাকবো তবুও অপ্রিয় মানুষকে প্রিয় বানাবোনা।

-আমিও ঠিক তাই।চিরকুমার থাকবো তবুও এই চুন্নি বিয়ে করবোনা।
-ওই হ্যালো,আমি।চুন্নি না ওকে?
আমি আপনার রুমে চুরি করতে আসিনি।
-তো মানিব্যাগ টার সেবা করতে এসেছিলে বুঝি?
-আরে আমার কথা তো শুনবেন।
-কি আর অজুহাত দেয়ার আছে তোমার চুন্নি।
-আরে শোন তো আগে।
-কি?তুই?আমাকে তুই করে বলা হচ্ছে?সেদিনকার মেয়ে।আমাকে কিনা তুই করে বলে।
-উফ,আমাকে কিছু বলতে তো দিন।সকাল হয়ে যাচ্ছে,সবাই উঠে গেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
-কি আর হবে,সবাই ভাব্বে দুজন দুজনকে ছাড়া থাকতে পারছিলাম না তাই বিয়ের আগেই বাসর করতে…

আমি দিহান কে কথা টা শেষ করতে দেইনা।
আমার হাত দিয়ে ওর মুখটা আটকে ধরি।

দিহান চুপ হয়ে যায়।আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে এক ধ্যানে।
আমি ওর মুখ ধরে রেখেই ফিসফিস করে বলতে লাগলাম,

-আপনি আমাকে পছন্দ করেন না।আমিও আপনাকে পছন্দ করিনা।আপনি আমাকে বিয়ে করতে চান না,আমিও আপনাকে বিয়ে করতে চাইনা।আপনি আমাকে ভালবাসেন না।আমিও আপনাকে ভালবাসি না।

কিন্তু এলাকাবাসী আর আমাদের পরিবার ভাবে আমরা দুজন দুজনকে ভালবাসি।আর এক সাথে সারাজীবন থাকার জন্য পালিয়েও গিয়েছিলাম।

তাই আমার পরিবার আমাকে দিলো বাসা থেকে বেড় করে।
আর আপনার পরিবার চাচ্ছে আমাদের বিয়ে দিতে।
তাইতো?

দিহান মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ বলছে।
কারণ আমি ওর মুখ আটকে রেখেছি।

আর আমরা চাচ্ছি যাতে কোন ভাবেই এই বিয়ে টা না হয়।সেই জন্য আমি সারারাত ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ভোর হতেই আমি এ বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যাবো।
আমার বাসায় তো আমাকে উঠতে দিবেনা তাই আমার অন্য কোথাও যেতে হবে।আমার বান্ধবীদের বাসায় যেতে হলেও আমার তো ভাড়া লাগবে তাইনা?টাকা লাগবে আমার।
তাই আমি আপনার রুমে এসেছি টাকা নিতে।যাতে আমি ভাড়া দিয়ে যেতে পারি।আর আপনাকে ডাকি নি কারণ আপনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
আমি চুন্নি না কেমন?

আমার কথা শেষে এবার দিহান আমাকে একটা চিমটি দিয়ে বসে।
আর আমি আয়া করার আগেই আমার মুখ চেপে ধরে।এবার আর নাক সহ ধরেনি।তাই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছেনা।

-আমার মুখ ছাড়তে বলার ইংগিত ছিলো এই চিমটি।
আর তোমার মুখ আবার চেপে ধরার কারণ হচ্ছে,
যেন সাউন্ড না করো আর শব্দ বাইরে না যায়।

দিহান আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে বলে,
এই নাও মানিব্যাগ।এটা সহই নিয়ে যাও।
তবুও আমাকে মুক্তি দাও।যেখানে খুশি সেখানে চলে যাও।সারারাত ঘুমাতে পারিনি রত্নার কথা ভেবে।ভোর হবার একটু আগে চোখ টা লেগেছিলো।আর তুমি এসে আবার দিলে ঘুম টা ভেঙে।ক্ষত টা তাজা করে।

-সরি।আপনার ঘুম ভাঙানোর জন্য আর আপনার ক্ষত টা তাজা করার জন্য।
-এবার যাও।সাবধানে যেও।ভালো থেকো।
পালাও।

-যাচ্ছি।কষ্ট গুলো ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।ভালো থাকবেন।

আমি মানি ব্যাগ টা নিয়ে পা বাড়িয়েছি আর দিহানের ফোন বেজে উঠে।

-হ্যালো রত্না!

আমি থেমে যাই।

-তুমি কি সত্যি সত্যি মুসাররাতকে নিয়ে পালিয়েছো?
জানো আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি।কত কি ভাবছিলাম।এই বুঝি তুমি ওকে…
-আমি কি পেরেছি ঘুমাতে?আমিও তো কত কি ভেবেছি,এই বুঝি তুমি তোমার হনুমান বরকে..
-না না।আমি এখনো তোমারই আছি।
তুমি আমাকে বলো,মুসাররাত কই?
-ও তো নেই।
-নেই মানে?
-আরে শোনো আগে,
আমি তোমাকে মনে করে ভুল করে ওকে তুলে নিয়ে এসেছি।পরে দেখি ও।
আর তত ক্ষণে তুমি হনুমানের বউ হয়ে গেলে।
-তাহলে তোমরা পালাওনি?
-না বাবা না।ওটা একটা ভুল ছিলো।
সবাই আমাদের ভুল বুঝেছে।
-কিন্তু মুসাররাত কই এখন?
-ওকে বাসা থেকে বের করে দেয়ার পর ও আমাদের বাসায় চলে এসেছিলো।আর এখন যেন কোথায় চলে গেলো।
মা আমাদের বিয়ে দিতে চান।আমার পক্ষে ওকে বিয়ে করা সম্ভব না,কারণ আমার মন জুড়ে যে শুধুই তুমি।তাই আমি ওকে তাড়িয়ে দিয়েছি।
যাতে আমার ওকে বিয়ে না করা লাগে।
-ওরে আমার বল্টু সোনা।
-কিভাবে থাকবো আমি তোমাকে ছাড়া বলোতো?
-আর থাকতে হবেনা আমাকে ছাড়া।
সকাল টা হলেই আমি চলে আসবো তোমার কাছে।তুমি রেডি থেকো।
তারপর আমরা দূরে কোৎাও চলে যাবো।আমার কাছে এখন অনেক সোনা গহনা টাকা পয়সা আছে।
আরামসে এগুলো দিয়ে তিন মাস হানিমুন করে বাসায় ফিরতে পারবো।
তত দিনে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।আর পালানো মাত্রই আমি হনুমান টাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবো ঠিক আছে?

-হুম জান ঠিকাছে।তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।আমি রইলাম তোমার অপেক্ষায়।

কথা শেষে আমি বললাম,
-কাজ টা কি ঠিক হবে?
-ভালবাসার সামনে সব ঠিক।
-কিন্তু আপু তো এখন অন্যের স্ত্রী।একটা পরিবারের বউ।দুটো পরিবারের সম্মান।
-তোমার এখন পাকামো না করলেও চলবে।

তুমি এখন তোমার রাস্তা দেখো।
-যা করবেন একটু ভেবে চিন্তে করবেন।
আসি।আল্লাহ্‌ হাফেজ।
-যাও প্লিজ।গিয়ে আমায় রক্ষা করো।

আন্টি আর দীনার ঘুম ভাঙার আগেই আমি দিহানের বাসা ছেড়ে পালালাম।

উদ্দেশ্য বান্ধবীর হোস্টেল।

কিছু দূর যেতেই সামনে রিক্সা পেয়ে গেলাম।
রিক্সায় উঠেই দীর্ঘশ্বাস নিলাম।
-ওহ বেঁচে গেছি।
এখন আমায় আর পায় কে।

রিক্সা টা কিছু দূর যেতেই দেখি কে যেন আমাকে ডাকছে,মুসাররাত!ওই মুসাররাত। থাম বলছি থাম।

রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামিয়ে দেয়।
আর আমার সামনে এসে হাজির হন আমার আংকেল ওরফে চাচা।

(তিনি হাঁটতে বেড়িয়েছেন,প্রতিদিন সকালেই হাঁটতে বেড় হন তিনি।এমন কি রত্না আপুর বিয়ের দিনও হেঁটেছেন)

-এত সকালে কই যাচ্ছিস তুই?
-না মানে আমি,
-কি না মানে আমি?
কথা বলছিস না কেন?এত সকালে কোথায় যাচ্ছিস?

কি বলবো দিশা না পেয়ে বুদ্ধি খাটিয়ে কেঁদে দিলাম।

-ভ্যাএ্যা
-কি হয়েছে কাঁদছিস কেন?
-আংকেল,দিহান আমাকে ওর বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।বলেছে ও নাকি আমাকে বিয়ে করবেনা।আর বলেছে আমার যেদিকে দু চোখ যায় সেদিকে চলে যেতে।আপনি তো আর আমায় বাসায় তুলবেন না,তাই আমি যেদিকে দু চোখ যায় চলে যাচ্ছিলাম।

নাক টেনে আবার কান্না শুরু করলাম।
মনে মনে তো খুশি,আংকেল এর মন বোধয় গলে গেছে।এখনি তিনি আমাকে তার সাথে বাসায় নিয়ে যাবেন।আমি শিউর।

-কিহ?এত্ত বড় সাহস ওর।ও আমার বাড়ীর মেয়েকে বলেছে যেখানে খুশি সেখানে চলে যেতে।আমাদের বাড়ীর মেয়ে কি এতই সস্তা?চল আমার সাথে।এক্ষুনি আমি তোকে আমার সাথে নিয়ে যাবো।

ইয়াহু,
আংকেলের মন গলে গেছে।
মুসাররাত তার নিজের বাড়ী চলে যাচ্ছে।

কিন্তু কিছু দূর যাবার পর আমার চোখ দুটো যেন কপালে উঠে গেলো।

-এ কি,আমরা কোথায় যাচ্ছি আংকেল?
-কোথায় আবার দিহান দের বাসায়।
ও আমাদের মেয়েকে বাসা থেকে বেড় করে দিবে আর আমরা বসে বসে আঙুল চুষবো?

চল তুই আমার সাথে,আজ ওর একদিন কি আমার একদিন।

আংকেলের কথা শুনে আমি সাধারণ কান্না কাঁদবো নাকি চিৎকার করে কাঁদবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।

ওইদিকে তো রত্না আপু আর দিহান ভাইয়া পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ্যা এ্যা এ্যা এখন কি হবে?

বাসায় ঢুকতেই দেখি দিহান বাইরে দাঁড়ানো।
ও আমাকে দেখে যেন ভূত দেখলো,
চোখ দুটো ইয়া বড় বড় করে রাগী ভাবে আমার দিকে তাকালো।
আর আমি আমার ডান হাত দিয়ে আমার ডান কানটা ধরে অসহায় দৃষ্টিতে দিহানের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের ইশারায় বিনা শব্দে উচ্চারণ করলাম, সরি।

চলবে..

#অপ্রিয়।
#তিতিশ্মা_মুসাররাত_কুহু।
#পর্ব_৫।

বাসায় ঢুকতেই দেখি দিহান বাইরে দাঁড়ানো।
ও আমাকে দেখে যেন ভূত দেখলো,
চোখ দুটো ইয়া বড় বড় করে রাগী ভাবে আমার দিকে তাকালো।
আর আমি আমার ডান হাত দিয়ে আমার ডান কানটা ধরে অসহায় দৃষ্টিতে দিহানের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের ইশারায় বিনা শব্দে উচ্চারণ করলাম, সরিইইই।

-তোমার এত্ত বড় সাহস তুমি আমাদের বাড়ীর মেয়েকে বের করে দিয়েছো বাসা থেকে।
-দিহানের মা কোথায় এদিকে এসো তো।
-ভাইজান যে,কেমন আছেন?আসুন বসুন।
-কিভাবে বসবো তোমার বাসায় বলো আমাকে?তোমার ছেলে মুসাররাতকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে কোন সাহসে?

আর বিয়ে যদি না ই করবে তাহলে কেন ভেগেছিলো আমাদের মেয়েকে নিয়ে?

-ভাইজান,আমিতো ওদের আজই বিয়ে দিতে চেয়েছি।গত কাল রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো বলে বিয়ে টা করাতে পারিনি।

-তুমি চাইলে কি হবে?তোমার ছেলেতো আর চায়না।
তাই তো সকাল হতেই তাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের মেয়েকে।

এই কথা শুনে দিহান পারে তো আমাকে তখনই চিবিয়ে খেয়ে ফেলে।এই ভাবে তাকাচ্ছে আমার দিকে।

-এই দিহান,ভাইজান কি বলছে?তুই ওকে তাঁড়িয়ে দিয়েছিস বাসা থেকে?

দিহান কিছু ক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিলো,

_কই আমি ওকে তাড়িয়ে দিয়েছি?ওই তো দেখো ওর হাতে আমার মানি ব্যাগ দেখা যাচ্ছে।ও ই আমার মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছে।

আমি তো দিহানের উত্তর শুনে আসমান থেকে জমিনে পড়লাম।

কি বলছে দিহান এসব।

দিহানের চোখের দিকে তাকাতেই দিহান আমাকে ঠোঁট মিনমিন করে আর চোখের ইশারায় বল্লো এবং বুঝালো,
-তুই আমার নামে মিথ্যে বলেছিস।আমিও বলে দিলাম।
শোধবোধ।

আমিও এবার উত্তর দিলাম,

-না না ও মিথ্যে বলছে,ও আমাকে বাসা থেকে বেড় করে দিয়েছে আর বলেছে,আমাকে ছেড়ে যেতে কত টাকা নিবি তুই?বল বল বল।
আমি তোকে তাই দিবো।

তখন আমি করুন সুরে বললাম,আমার শুধু গাড়ী ভাড়া হলেই চলবে।
যেহেতু তুমি আমাকে নিয়ে সংসার করতেই চাওনা।

তখন সে আমাকে মানি ব্যাগ টা ছুড়ে দিয়ে বল্লো,

এই নে টাকা।
এখানে যত টাকা আছে সব তোর।এটা নিয়ে চলে যা।
তোর মুখ আর আমি দেখতে চাইনা।
তাই আমি এটা নিয়েই বেড়িয়ে গেছি।

যা,এবার তোকেও দিয়েছি ফাঁসিয়ে।

-না মা বিশ্বাস করো,ও মিথ্যে বলছে।

এদিকে দিহানের মা আর আমার আংকেল তো রেগে আগুন।

আমি তো মনে মনে খুশি।এবার নিশ্চয়ই আংকেল আমাকে তার সাথে বাসায় নিয়ে যাবে।আমাকে কখনোই এই বজ্জাত টার কাছে রেখে যাবেন না।

এদিকে দিহানের ফোন বাজছে।
রত্না আপু বোধয় বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে।কিন্তু দিহান তো এদিকে আটকা।

আংকেল ওর হাত থেকে মোবাইল টা নিয়েই দিলো এক আছাড়।এক আছাড়েই মোবাইল শেষ।

-কি করলেন এটা আপনি?মুরুব্বি বলে কি কিছুই বলবোনা আপনাকে আমি?এটা ভেবেছেন?
ভেঙে ভেল্লেন কেন আমার মোবাইল টা?
-তোমার এই দুইটাকার মোবাইলের চিন্তা হয়।আর আমাদের মেয়ের মন যে ভেঙে ফেলছো তার চিন্তা হয়না না?

এদিকে দিহানের মা ও দিহানকে ববকাঝকা করছে।
আর আমি আংকেল কে বললাম,চলুন আংকেল আমরা বাসায় চলে যাই।
এ বাড়ীতে আর এক মুহূর্তের জন্যও না।

আমি আংকেলের হাত ধরে যেই না উলটো দিকে হাঁটা শুরু করতে যাবো আর তখনি এক মুরুব্বি এসে হাজির।

ইনি আবার কে?

-এসে গেছিস তুই?
দুঃখিত তোকে এত সকালে বিরক্ত করলাম।
-আরে না সমস্যা নেই।

-এই যে এই দুজনকে এখনি বিয়ে পড়াতে হবে।শুরু কর তোর কাজ।

ও আল্লাহ্‌, এ কি বলছে আংকেল!এখন কি করবো।

তাহলে কি রাস্তায় আংকেল ইনাকেই ফোন দিয়েছিলেন?
আর আমি একটুও আন্দাজ করতে পারলাম না উনি কাজীকে ফোন দিয়েছেন।
আন্দাজ করবোই বা কি করে,তিনি তো বন্ধুর মত কথা বলছিলেন।
আর আমি কি জানি নাকি উনার বন্ধু কাজী।

কি চাইলাম আর কি হলো।এখন কি করবো আমি।

আমি এবার অসহায়ের মত দিহানের দিকে তাকালাম।
ও ছাড়া কেউ আর আজ বিয়ে ঠেকাতে পারবেনা।ও ই এখন এক মাত্র ভরসা।

কিন্তু ও মা এ কি,
ও তো চুপ করে আছে।কিছুই বলছেনা।

আমি ইশারায় বার বলছি,কিছু করুন কিছু বলুন।

ও আর কিছুই বলছেনা।
মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে কিছু ভাবছে।

এদিকে বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে।
দিহান ফট করে বলে ফেল্লো,

দীনা,আমার ওয়ারড্রবে একটা শাড়ী রাখা আছে। ওই শাড়ীটা এনে ওকে পরিয়ে দেতো।
আমিও পাঞ্জাবী পরে নিচ্ছি।

দিহানের কথা শুনে আমি অজ্ঞান হবো হবো অবস্থা।
কিন্তু হচ্ছিনা কেন,
হলেও তো বাঁচতাম।এসব আমার দেখতে হতোনা।

-আসো ভাবী,তোমাকে শাড়ীটা পরিয়ে দেই।

কিছু বলতেও পারছিনা,চুপচাপ কাঁদতে কাঁদতে পরে নিলাম শাড়ী।

এটা তো বিয়ের শাড়ী।হয়তো রত্না আপুর জন্য কিনেছিলো।

আহারে,কার শাড়ী কে পরে।

মনে মনে ভাবলাম,দিহান বুঝি পাঞ্জাবি পরার কথা বলে গিয়ে,
পেছন দিয়ে পালিয়ে যাবে।

বাহ্ বুদ্ধি আছে ফাজিল টার।

কিন্তু আমিতো তখন চিল্লায় কান্না শুরু করলাম যখন দেখলাম দিহান জামাই সেজে হাজির।

সবাই এবার খুশি আমাদের দেখে।
দীনা আমাদের কাপল পিক তুল্লো।এত ক্ষণে আমার বাসার লোকজনও এসে হাজির।আংকেলই আসতে বলেছেন এদের ফোন করে।

কিছুই বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে আজ।
জীবনে যা কল্পনা করিনি তাই হচ্ছে,
সকালে কোন দিন বিয়ে হয়?সেই সকালেই হচ্ছে আমার বিয়ে।
অপ্রিয় মানুষের সাথে কখনো বিয়ে হয়?
কিন্তু সেই অপ্রিয় মানুষটার সাথেই হচ্ছে আমার বিয়ে।

আর যে কি কি হবে আমার সাথে আল্লাহ্‌ ই জানেন।

দিহান কি সুন্দর হাসি মুখে বসলো আমার পাশে এসে।
-ওই মিয়া,হঠাৎ আপনি এত চেইঞ্জ কেন?কি হলো হঠাৎ?
বিয়েটা আটকান প্লিজ।আপনি আমার অপ্রিয় মানুষ।কোন দিন আমার প্রিয় হতে পারবেন না।তাড়াতাড়ি কিছু করুন।

-যা করার করবো তো বিয়ের পর।সবাই সরুক তো আগে।

এ কথা বলেই আবার হাসা শুরু করলো সবার সাথে।

আর এদিকে আমার বাধ্য হয়ে মনের কষ্ট মনে রেখে কবুল বলে বিয়ে করে নিতে হলো দিহান নামের অপ্রিয় মানুষটাকে।

বিয়ে তো করলাম কোন রকম,কিন্তু এখন তো ভয়ে আমার সারা শরীর কাঁপছে।
কি করবে ও সবাই সরলে?
মেরে তো ফেলবেনা আবার আমাকে?
ভয়ে তো আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।

-এক গ্লাস পানি হবে প্লিজ?

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here