অশ্রুসিক্ত নয়নে তুমিই আছো পর্ব ১০+১১

#অশ্রুসিক্ত_নয়নে_তুমিই_আছো
#সুবহী_ইসলাম_প্রভা
#পর্ব – ১১

পাখির কিচিরমিচির শব্দে ইসরার ঘুম ভাঙে। আসতে আসতে চোখ খুলে দেখে সকাল হয়ে গেছে। ইসরা উঠে ওয়াসরুমে যাওয়ার আগে একবার সায়েদকে দেখে। সায়েদ কাজ করতে করতে কখন যে সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছে তা সে নিজেও জানে না।
সায়েদের ঘুমন্ত মুখ দেখে ইসরার মায়া হলো।ইসস ছেলেটাকে সে কত্তো জ্বালায়। তার পরমুহুর্তেই ইসরার মনে হলো অন্যের স্বামীকে তো জ্বালাচ্ছে না নিজের স্বামীকেই জ্বালাচ্ছে।নিজের স্বামীকে জ্বালানোর পুরো হক তার আছে। ইসরা সায়েদের কাছে গিয়ে ওর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো।

—- আপনি আমাকে যত দূরে সরাতে চাইবেন আমি আপনার তত কাছে আসবো।আপনি আমায় যতো আঘাত করবেন আমি সব সহ্য করব। কারণ আপনি শুধু আমার। আমার এই #অশ্রুসিক্ত_নয়নে_তুমিই_আছো প্রিয়।

বলেই সায়েদের দিকে মুচকি হাসি দিয়ে উঠতে নিলে দেখে ল্যাপটপ অন করেই সায়েদ ঘুমিয়ে পড়েছে। ইসরা ল্যাপটপটা বন্ধ করে ওয়াসরুমে চলে যায়।

সকাল ৮:৩০ বাজে সায়েদের ঘুম ভাঙে। সায়েদ ঘুম থেকে উঠে নিজেকে সোফায় আবিষ্কার করে একটু অবাক হয়।তারপর তার কালকে রাতের কথা মনে পড়ে। মনে পড়েতেই মুখে বিরক্তির ছাপ প্রকাশ পেলো।হটাৎই তার চোখ ল্যাপটপের দিকে গেল।ল্যাপটপ বন্ধ দেখে সে তাড়াতাড়ি চালু করে দেখল সে কাল যে ডকুমেন্টের স্ক্রিপ্ট লিখেছিল তা সব ডিলিট হয়ে গেছে মানে সে খুজে পাচ্ছে না। সে রাত জেগে এতো কিছু লিখলো কিন্তু সেভ করতেই ভুলে গেছে। স্ক্রিপ্ট খুজে না পাওয়ায় তো রাগে ইসরাকে ডাক দিলো।

—– ইসরায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া

সায়েদ এতো জোরে ডাক দিলো যে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছে।ইসরা আর মিসেস পারভীন কিচেনে কাজ করছিলো সায়েদের এমন চিৎকারে তারা দুজনেই অবাক হয়। মিসেস.পারভীন ইসরাকে জিজ্ঞেস করে,,,

—- কি রে,,, আজও আবার কিছু করেছিস নাকি।

—- না মা,,,আজ তো আমি কিছু করি নি।

—- তাহলে সায়েদ তোকে এভাবে ডাকছে কেন?

—- জানি না তো।

এর মধ্যেই ইসরার আবার ডাক পড়ল।

—- মা,,, আমি যাই নাহলে উনি বাড়ি মাথায় করবে।

—- সাবধানে যা,,সায়েদের এমন ডাক কিন্তু সুবিধার লাগছে না।

ইসরা ভয়ে ভয়ে রুমে ঢুকলেই সায়েদ রাগী গলায় বলে,,,,,

—- আমার ল্যাপটপ কে বন্ধ করেছে

—- কেন? আমি।

—- কেন বন্ধ করেছো?আমার কোন জিনিস টার্চ করার পারমিশন তোমাকে দিয়েছি।

সায়েদ অনেক জোরে জোরে কথাগুলো বলল।

—- উফফ বাবা,,,এতো জোরে জোরে বলছেন কেন?আমি কি বয়রা নাকি?বন্ধ করেছি তাতে হয়েছে টা কি?

—- ইউ ইস্টুপিট গার্ল,, তুমি আমার সব কাজ বেস্তে দিয়েছো।

—- কিভাবে?

—- আমি আমার প্রজেক্টের স্ক্রিপ্ট লিখেছিলাম আর তুমি বন্ধ করার সব রিমুভ হয়ে গেছে।

ইসরা গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,,,,

—- ও আচ্ছা এই ব্যাপার।

—- কি তোমার কাছে এটা সামান্য এই ব্যাপার।

—- নয়তো কি?

—- অবশ্য তোমার কাছে এটা সামান্য এই ব্যাপারই হবে। এগুলো করতে মেধা লাগে,এগুলো শিখা জানতে হয় আর এগুলোয় কজ কি লাভ হতে পারে তাও জানতে হয়।তোমার মতো থার্ড ক্লাস মেয়েরা এর মূল্য কি করে বুঝবে?

—-ঠিকই তো আমার মতো থার্ড ক্লাস মেয়ে এর মূল্য কি করে বুঝবে?

এই বলেই ইসরা সায়েদের ল্যাপটপটা নিল।

—- একি তুমি আবার আমার ল্যাপটপ টার্চ করছো?তোমাকে না আমি নিষেধ করলাম।

—- উফফফ,,,সকাল থেকে চিল্লিয়ে মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে আপনার। একটু শান্ত হন তো।

—- খারাপ তো তোমার জন্যই হয়। আমাকে কি আর শান্তিতে থাকতে দেও তুমি।

এদিকে ইসরা একটা ফাইল ওপেন করে সায়েদকে দেখিয়ে বলে,,,,

—-দেখুন তো এটাই আপনার সেই স্ক্রিপ্ট কি না।

সায়েদ তাকিয়ে দেখে এটাই সেই স্ক্রিপ্ট যেটা সে রাতভর ভেবে লিখেছে।

—- এই থার্ড ক্লাস মেয়েটা নাহ এতোটাও বেমালুম নয় যে জানে না কিভাবে ফাইল সেভ করে ল্যাপটপটা ওপেন করতে হয়।

আসলে ইসরা ল্যাপটপ বন্ধ করার আগেই দেখেছে এই স্ক্রিপ্টটা। তাই সে এটা সেভ করে তারপর অফ করেছে।

সায়েদ কিছু বলতেই যাবে তার আগে ইসরা হাত দিয়ে আটকে অভিমানী সুরে বলে,,,,

—- থাক আর অপমান করা লাগবে না। আগে যদি জানতাম উপকার করে অপমান শুনতে হবে তাহলে উপকার করতামই না।

এটা বলেই ইসরা রুম ত্যাগ করে। সায়েদের মনে মনে গিল্ট ফিলিং হচ্ছে। কাল রাতে ইসরাকে আঘাত করল আবার আজ এতো অপমান।

~~~~~~~~~

নিথু কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়।হটাৎ করেই পাশ থেকে একটা বাইক এসে থামে। বাইকটা এমন ভাবে আসে যে নিথু ভয় পেয়ে যায়। নিথু কিছু বলার আগেই বাইকের মালিক হেলমেট খুলে।

—- কি ম্যাডাম,,, এভাবে হেঁটে হেঁটে কোথায় যাওয়া হচ্ছে।

নিথু দেখে আবির এসেছে।আবিরকে দেখেই নিথু রেগে বলে,,,

—- জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাচ্ছি।আপনার সমস্যা?

—- বাহ রে,,,ভাবির বান্ধুবী এভাবে হেঁটে হেঁটে জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাবে এটা তো মানা যায় না। চলুন আমি আপনাকে বরং আপনার জাহান্নামের চৌরাস্তায় পৌছে দিচ্ছি।

—– আপনি তো খুব আজব মানুষ। আমি বললাম আর আপনি আমাকে সত্যি সত্যি জাহান্নামে দিয়ে আসবেন।

—-বাহ রে,,,আপনাকে না দিয়ে এসে কি আমি সারাদিন আপনার সাথে ঘুরবো নাকি।অবশ্য আপনি রাজি থাকলে ঠিক আছে।

—- কিসের রাজি? কোন রাজি নই।আর আমি একাই যেতে পারব।

—-আপনি যদি আমার সাথে না যান আমি কিন্তু ভাবি কে ফোন দিবো তারপর কি হবে তা তো আপনি জানেনই।

—– এই এই আপনি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন নাকি।আমি কাউকে ভয় পাই না।

—- ঠিক আছে তাহলে ভাবিকে বরং ফোন দিয়ে বলি।

—- এই না না,,,আমি যাচ্ছি অযথা ওকে বিরক্ত করবেন না তো এমনিই যেই হিটলার বর পেয়েছে।

বাইকে উঠতে উঠতে কথাটা বলল নিথু।

—- এই যে শুনুন,আমার বন্ধু না মোটেও ওরকম না। শুধু দেখতে একটু কঠোর কিন্তু ওর মাইন্ড অনেক ফ্রি।

—- হইছে আপনার বন্ধু কেমন তা আর চিনাতে হবে না। এখন চলুন নয়তো আমার দেরি হয়ে যাবে।

—- যথা আজ্ঞা।

বলেই আবির নিথুকে কলেজে পৌছিয়ে দেয়। কলেজে ঢোকার সাথে সাথে সব মেয়েরা এমন ভাবে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে যে জীবনে মনে হয় কোন ছেলেই দেখে নি। নিথুর তো এই সব দেখে খুব রাগ হলো।আর সেই রাগটা তো এখন কারোর উপর প্রয়োগ করতে হবে। তাই নিথু বাইক থেকে নেমেই ব্যাগ থেকে কাজল বেত করে আবিরের কপালে বাচ্চাদের মতো টিপ একে দিল।

—- আরে আরে,,,, করছো টা কি?

—- এই বার ঠিক আছে। কালো টিপ দিয়ে দিলাম,,, এবার আর কেউ আপনার উপর নজর দিতে পারবে না।

— মানে?আমি কি বেবি নাকি?

—- কোথায় লেখা আছে যে বেবি হলেই কালো টিপ দেওয়া যায়।আর এভাবে তো আপনাকে খারাপ দেখতে লাগছে না ভালোই লাগছে।

—- তার মানে তুমি বলছো আমি দেখতে হ্যান্ডসাম তাই তো কালো টিপ দিলে।

—- জ্বি নায়ায়া,,,,,আপনি হ্যান্ডসাম না দেখতে পুরাই ভুত। এই ভুত যাতে কারোর ঘাড়ে ভর করতে না পারে এই জন্য এই ভুতটাকেই বন্ধী করলাম।বাই দ্য ওয়ে,,,,আমার দেরি হচ্ছে সো বাইই।

নিথু চলে যেতে নিলে আবার পিছনে ফিরে আছে। আবির একটা টিস্যু বের করে মুছতেই নিবে তখন নিথু বলে,,,

—- টিপ টা যেন মুছা না হয়। কারণ আমি আমার কলেজের মেয়েদের ভুতের পাল্লায় তো পড়তে দিতে পারি না।

বলেই নিথু চলে যায় আর আবির জোরে বলে,,,,

—- হোয়াটটটট।

দেরিতে গল্প দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।এই কয়দিন এসাইনমেন্ট নিয়ে অনেক ব্যস্ত ছিলাম।ইনশাল্লাহ এরপর থেকে আর আপনাদের খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।হ্যাপি রিডিং।#অশ্রুসিক্ত_নয়নে_তুমিই_আছো
#সুবহী_ইসলাম_প্রভা
#পর্ব – ১২

সায়েদ খেতে বসে কিছুক্ষন পরপরই আওয়াজ করছে।একবার চামচ দিয়ে তো একবার গ্লাস জোরে রেখে আবার খাওয়ার মধ্যে হালকা কাশঁছেও কিন্তু তা যেন ইসরা কর্ণগোচর এবং চোখেই পড়ছে না। আসলে চোখে পড়ছে না বললে ভুল হবে ইসরা ইচ্ছে করেই এগুলোয় পাত্তা দিচ্ছে না। এদিকে সায়েদের পাশে বসা তার বাবা মিস্টার সাফোয়াত আরফান এবং মিসেস.পারভীন সায়েদের এমন আচরণে বারবার আড়চোখে সায়েদের দিকে তাকাচ্ছে। তাদের ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না সায়েদ কেনই বাহ এমন করছে।

—-মম,,,,আই নিড ওয়াটার।

—-দাঁড়া আমি পানি এনে দিচ্ছি।

—-তুমি আনবে কেন?তোমার সাধের বৌমাকে বলো।

—- আমি এ বাড়িতে কোন বৌমা না মেয়ে এনেছি।আর তোর যখন এতোই ইচ্ছে জেগেছে আমার মেয়ের হাতের পানি খাওয়ার তো তাকেই বল।

শেষের কথাটা তার মা খুশি হয়েই আহ্লাদী গলায় বলল।সায়েদ এবার পড়েছে বেশ বিপাকে।সে বেশ ভালো করে বুঝেছে যে ইসরা তার উপর রাগ করেছে কিন্তু এখন সে রাগ ভাঙ্গাবে কি করে? এক সেকেন্ড ওর কি ঠেকা পড়েছে যে ইসরার রাগ ভাঙ্গানোর যে রাগ করেছে এমনি এমনিই রাগ ভেঙ্গে যাবে নাকি ভাঙ্গবে না?

এসব কথা সায়েদ ভাবছিল তার ভাবনার মাঝেই ইসরা দুম করে পানির গ্লাস রেখে চলে গেল।ইসরার এমন দুম করে রাখায় সায়েদ হালকা হলেও ভয় পায়।

মিসেস পারভীন টিটকানি দিয়ে বলে,,,,,,

—- নে আমার মেয়ে তোকে পানি দিয়ে গেছে।এবার খেয়ে নে।

—– আমার লাগবে না কোন পানি,, আমি যার তার হাতের পানি খাই না।মম,,,,তুমি বলে দিও কেউ যদি আমার উপর রাগ দেখাতে আছে তাহলে এই সায়েদ আরফানও তাকে বুঝিয়ে দিবে রাগ কি জিনিস।আর একবার যদি এই সায়েদ আরফান রাগে তো তার রাগ কেউ ভাঙ্গাতে পারবে না।

কথা গুলো জোরে জোরে বলে যাতে ইসরা শুনতে পায়।কথাগুলো শোনার পরও ইসরার কোন রিয়েকশন না দেখে সায়েদ ভুল করে ইসরার দেওয়া পানিই খেয়ে ফেলে। ইসরা তা দেখে বলে,,,,

—- আম্মু,,কেউ একজন বলেছিল তার পানি লাগবে না কিন্তু দেখো এখন কিন্তু সেই পানি লেগেই গেছে।

এই কথা শুনে একটুর জন্য সায়েদের পানি গলায় আটকায় নি।সায়েদ অবাক হয়ে গ্লাসের দিকে তাকিয়ে ভাবছে সে এটা কি করল?

সায়েদের এমন মুখ দেখে ইসরার ভীষণ মজা লাগছে। ইসরা সায়েদের উপর রাগ করে নি বরং রাগের অভিনয় করছে।সায়েদযে জ্বালানোর কোন সুযোগই ইসরা হাত ছাড়া করতে চায় না। এদিকে সায়েদের এমন আচরণ, কথা আর কাজে মিস্টার সাফোয়াত আরফান আর মিসেস পারভীন তো খুব অবাক।তারা ভাবছে ইসরা এমন কি জাদু করল যে সায়েদ এমন করছে,ইসরার সাথে কথা বলার জন্য এতো হাঁসফাঁস করছে।

—- মানুষ অনেক কাজ ভুলে করে তেমন আমিও করেছি। যেমন তোমাকে বিয়ে করে।

কথাটা বলেই সায়েদ উঠে চলে যায়।এদিকে কথাটা ইসরার গায়ে তীরের মতো লাগে।তার অজান্তেই তার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা অশ্রু বেরিয়ে গেল।মিসেস পারভীন ইসরাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল,,,,

—- ওর কথায় তুই কষ্ট পাস না,, জানিস তো ও এমনই। এতোদিন থেকে তো এইটুকু আমার ছেলেটাকে তুই বুঝেছিসই মা।

—- আম্মু,,,আমি কষ্ট পাই নি।কষ্ট যদি পেতামই তাহলে বহু আগেই ওকে ছেড়ে চলে যেতাম।

মিসেস পারভীন ইসরার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,,,,

—- আমার সোনা মেয়ে,আমার সোনা মেয়ে কি কখনো কষ্ট পেতে পারে নাকি?আয় এখন কিছু খেয়ে নে তো।

—- এখন না আম্মু আরেকটু কাজ আছে সেটা করেই আসছি।

—- আচ্ছা যা।

ইসরা কিচেনে চলে যায়।মিস্টার সাফোয়াত আরফান মিসেস পারভীনকে বলে,,,,

—- সায়েদ কিন্তু এবার বেশি বাড়াবাড়ি করছে। ওদের বিয়ে তো আর কম দিন হলো না চার মাস হতে চললো। ও এখনো কেন ইসরাকে মেনে নিতে পারছে না।

—- আহহ,, এতো অধের্য্য হয়ো না তো সবে তো চার মাসই হয়েছে
দেখবে আসতে আসতে ওদের সম্পর্কটা ঠিক হয়ে যাবে।

মিস্টার সাফোয়াত আরফান গম্ভীর সুরে বলল,,,,

—- হুম,, সেটাই তোমার ছেলের জন্য ভালো হবে।

~~~~~~~~

রোজকার দিনের মতো আজও আবির তার বাইক নিয়ে হাজির নিথুর সামনে।প্রায় দিনই আবির নিথুকে ড্রপ করে দিতে হাজির। নিথু এখন আর অবাক বাহ ভয় পায় না। শুধু আবিরকে দেখে একটু বিরক্ত প্রকাশ করে কিন্তু সেটা যেন আবিরের চোখেই পড়ে না।

—- আপনি আজও হাজির?

—- জ্বি ম্যাডাম,,,কোন সমস্যা।

—- আপনার কি আমাকে ড্রপ করা ছাড়া কোন কাজ নেই?জব ঠব করেন না নাকি।

—- জব তো করি কিন্তু বাবার কোম্পানি আর এখনও পুরাপুরিতে কোম্পানিতে জয়েন করি নি দেখে ভাবলাম তোমাকে ড্রপ করার কাজটাই করি।

—- আপনাকে নাহ কতো দিন বললাম আমি একাই যেতে পারি তারপরও আমাকে ড্রপ করে দিয়ে আসতে চান কেন?

—- এজ মাই উইস,,,,এখন বসো।

—- দেখুন আমি আপনার সাথে যাবো না।আপনার সাথে গেলেই ওই শাকচু…..

আর কিছু বলতে পারল না তার আগেই নিথুর হুস ফিরে এলো।ইসসস,,,,কি বলতে যাচ্ছিল যে।আবির ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে

—-কিইইই?কি হলো থামলে কেন?মুখের কথা শেষ করো।

—- আমার ইচ্ছা আমি মুখের কথা শেষ করবো কি করবো না।

—- ওকে এখন তো বাইকে উঠুন।

—- আরে বাবা,,,আজ আমি আপনার সাথে যেতে পারব না?

কথাটা নিথু খুব অস্থির ভাবে বলে। এতে সায়েদের মনে প্রশ্ন জাগে,,,,

—- কেন? এতোদিন তো খুব যেতে পারতে তো আজ কেন আমার সাথে যেতে পারবে না।

—- সেটা আপনাকে বলা যাবে না।

—- ওয়েট ওয়েট,,,,কি এমন সিক্রেট কথা যে আমাকে বলা যাবে না সাথে যাওয়াও যাবে না। ওহহহ বুঝেছি,,,,

—- কি বুঝেছেন?

—- সেটা তোমায় কেন বলব?তুমি আমাকে বলেছো।

—- মানেটা কি?আপনি আমার সম্পর্কে উল্টা পাল্টা কিছু বুঝবেন আর সেটা জানতে চাইলেও আপনি বলবেন না।

—- আমি উল্টা পাল্টা না একদম সঠিক বুঝেছি।

—- তাই নাকি সেটা কি?

—- বয়ফ্রেন্ড।

—- মানে?

—- মানে তুমি এখন কলেজে না তোমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাচ্ছো।

—- কিইইই?আপনি বোকা জানতাম কিন্তু এরকম রাম ছাগল তা জানতাম না।

—- তাহলে বলো,,তুমি কোথায় যাবে?কারণ তুমি কলেজে তো যাবে না।

—- আচ্ছা গেলেই বুঝতে পারবেন।

তারপর নিথু আবিরকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেল যে আবির সেই জায়গায় গিয়ে পুরো থ হয়ে গিয়েছে। সে ভাবতেও পারে নি নিথু তাকে এখানে নিয়ে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here