আমায় একটু ভালবেসো পর্ব -১৮+১৯

#আমায়_একটু_ভালবেসো
#জন্নাতুল_ফেরদৌস কেয়া

(১৮)

অর্ণা পিছন ফিরে চাইলো।তাহমিদ এসেছে, বাইক থেকে নেমে এদিকে আসছে। অর্ণাও এগিয়ে গেল।
তাহমিদ এসে অর্ণার হাত ধরলো। লজ্জায়, আড়ষ্ট হয়ে গেল সে। তা দেখে তাহমিদ ভ্রু কুঁচকে ফেলল।
,কি ব্যাপার?এমন মোচড়ামুচড়ি করছো কেন?
,না কিছু না।
,হুম চলো!
,কোথায়?
,আগে চলো, তারপর নিজের চোখেই দেখো।
অর্ণা কিছু একটা ভেবে বলল,
,আচ্ছা আপনি দাঁড়ান, আমি মাকে বলে আসছি।
অর্ণা মলের ভিতর ঢুকে গেল, তার মাকে বলার জন্য। পাপিয়া বেগমের থেকে অনুমতি নিয়ে, অর্ণা বাইরে এলো।তাহমিদ আগে থেকেই বাইকে বসেছিল।অর্ণা গিয়ে বসতেই বাইক স্ট্যার্ট দিল।অর্ণা অস্বস্তি নিয়ে বসে আছে। দুহাত দিয়ে পিছনের দিকে ধরে রেখেছে। ফলস্বরূপ, একটু ধাক্কা খেলেই তাহমিদের শরীর সাথে শরীর লেগে যাচ্ছে। তাহমিদ বিরক্ত হয়ে বলল,
,তুমি ঠিক আছো অর্ণা?এমন করে বসেছো কেন?
অর্ণা কাচুমাচু করে বলল,
,কীভাবে বসবো?
তাহমিদ কিড়মিড় করে বলল,
,আমার কাঁধে হাত রেখে বসো। তাহলে ধাক্কা খেলে ও, আমার সাথে লাগবে না।
অর্ণা ঠিক বুঝলো না,তাহমিদ কি বুঝাতে চাইছে।ঠেশ মে রে বলল নাকি!

বাইকের স্প্রিড এত বেশি যে, অর্ণার চোখে মুখে চুল এসে আছড়ে পড়ছে। এপাশের চুল গুলো গুঁজলে, ওপাশের গুলো বের হয়ে যায়। এ নিয়ে মহা যন্ত্রণায় পড়েছে অর্ণা।তাহমিদ কে ও কিছু বলতে পারছে না। প্রায় বিশ মিনিট পর বাইক এসে থামলো,একটা পার্কের সামনে। তারা দুজনেই নেমে পড়লো।
পার্কটা বেশ বড় আর নিরিবিলি। তাহমিদ আর অর্ণা একটা লেকের পাড়ে গিয়ে বসলো।বিকেলের নরম রোদ,ধূসর রাঙা আকাশ।সব মিলিয়ে পরিবেশ টা বেশ সুন্দর। অর্ণা আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষণ। কেউ কোনো কথা বলছে না।তাহমিদ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অর্ণা দিকে। মেয়েটা কি সুন্দর! হলুদ রঙের সূর্যের আলো এসে, অর্ণার মুখের উপর পড়েছে। ফর্সা মুখে, হলুদ রঙ পড়ায় মুখটা ভিষণ মায়বী লাগছে।
তাহমিদের মনে পড়লো, যখন সে অর্ণাকে প্রথম দেখেছিল তার কথা।তাহমিদ যখন এ ক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে ছিল,তার কিছুক্ষণ পরই অর্ণাদের গাড়িটা সামনে আসে।তাহমিদের তখন জ্ঞান ছিল ঠিকই, তবে কথা কিংবা চোখ কোনোটায় খুলতে পারছিল না।অর্ণা যখন ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে এসে, তার ক্ষ ত স্থানে ঔষধ লাগায়, তখন মিটমিট করে চোখ খুলে।আর চোখের সামনে ভেসে ওঠে, এক মায়াবতীর চেহারা।যে অতি মায়া নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তার রেশমি কোমল চুল, তাহমিদের নাক,মুখ গলা বারবার ছুঁয়ে দিচ্ছে। সেদিনই প্রেমে পড়ে তার।অর্ণা বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, মেয়েটার অন্য একটা ছেলের সাথে প্রেম ছিল। তবে ছেলেটার, তারই ছোটবোনর সাথে বিয়ে হয়ে গেছে। একবার খারাপ লাগলে ও পড়ে খুশি হয়।এই ভেবে যে,অর্ণার তো আর বয়ফ্রেন্ড নেই। এখন সে অর্ণাকে রাজি করাতে পারবে।

অর্ণা তাহমিদের উদ্দেশ্যে বলল,
,আকাশ টা কি সুন্দর, তাই না?
তাহমিদ এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে অর্ণার দিকে।অর্ণা তুড়ি মারলো তাহমিদের চোখের সামনে,
,কি হলো,কি ভাবছেন?
তাহমিদ বার কয়েক চোখের পলক ফেলে বলল,
,নাহ্ কিছু না! কিছু বলছিলে?
,হুম, বলছিলাম আকাশটা আজ অনেক সুন্দর। তাই না?
,হুম, তোমার মতো ।
তাহমিদ কিছু একটা মনে পড়তেই জিজ্ঞেস করলো,
,অর্ণা তোমার, ঐ জুথি আর নাঈমের কথা মনে আছে?
তাহমিদের মুখে ওদের নাম শুনে, গা কেঁপে উঠল অর্ণার।মনে, মনে বলল,ওদের কে কি করে ভুলি। নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক ছিল ওরা। সেদিন ঐ রাতটা দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। অর্ণার সারাজীবন মনে থাকবে। কিন্তু তাহমিদ জানলো কিভাবে ওদের কথা।অর্ণা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
,হ্যা মনে আছে। কিন্তু আপনি ওদের নাম জানলেন কীভাবে?
তাহমিদ মুচকি হাসলো। লেকের মধ্যে একটা ঢিল ছুড়ে বলল,
,ওদের কি শাস্তি হয়েছিল, তা তোর আর জিজ্ঞেস করোনি?
,আসলে আমি ভুলে গিয়েছিলাম তাদের বিষয় টা।তাই আর জিজ্ঞেস করিনি।আর তাছাড়া এদের তেমন গুরুতর শাস্তি হয়না। যেখানে মেয়েদের রে প করে, হ ত্যা করে ফেলা হয়,তবুও মৃ ত্যু দন্ড হয় না।সেখানে তো আমার কোনো ক্ষ তি হয়নি।আচ্ছা এতদিন পর এই কথাগুলো কেন তুললেন?
, অর্ণা, ছোটবেলা থেকেই আমি একরোখা, জেদি।আমার জিনিস আমি কখনোই কাউকে ভাগ দেই না।হোক সেটা চুল পরিমাণ। আর তুমি হচ্ছো আমার জীবন সঙ্গী,ভালবাসা,মানষিক শান্তি। তোমার ওরা ক্ষ তি করতে চাইবে, আর আমি ছেড়ে দেবো!
অর্ণা অবাক হচ্ছে, তাহমিদের কথা শুনে। কি বলছে লোকটা,
,আপনি কি করেছেন, ওদের সাথে?
তাহমিদ অসহায় মুখ করে বলল,
,বেশি কিছু করতে পারিনি জান।ওরা সংখ্যায় অনেক জন তো, তাই প্রত্যেকের একটা করে হাত, পা কনুই আর হাটু থেকে কে টে দিয়েছি।এখন বাকি জীবন ভিক্ষা অথবা ঘরে বসে খেতে হবে।
তাহমিদের কথা শুনে চোখ বড়,বড় করে ফেলল অর্ণা।বলে কি এই লোক?হাত আর পা কেটেছে মানে? অর্ণা চেঁচিয়ে বলল,
,কি বলছেন আপনি এইসব?ওদের আপনি পেলেন কোথায়, আর হাত, পা যে কেটেছেন ভ য় পাননি?
,আমার বাবা রাজনীতিতে আছে। তাই পুলিশকে হাতে আনা, বা হাতের খেল।পুলিশের সাথে হাত মিলিয়ে, ওদের কে আমার আন্ডারে নিয়ে এসেছি।আর ভয় পাবার কথা বলছো,রাজনীতি করতে গেলে, এসব খু ন,র ক্ত এসব দেখে অভস্থ হতে হয়।আর নয়তো রাজনীতি করা যাবে না। আর ওদের কে তো আমি নিজ হাতে শাস্তি দেয়নি আমার লোক দিয়ে করেছি।
,তা নাহয় বুঝলাম। কিন্তু আপনি এসব জানেন কিভাবে? কে বলেছে এসব?
তাহমিদ বাঁকা হাসলো।
,অর্ণা তুমি ভুলে যাচ্ছো,যেদিন তুমি ওদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে,সেদিন তোমাকে আমি চিঠিতে না করেছিলাম যাওয়ার জন্য। কিন্তু তুমি শোননি।প্রথমে ভেবেছিলাম, ওদের শুরুতেই ধরে ফেলি।কিন্তু পড়ে ভাবলাম তোমাকে একটা শাস্তি দিতে হবে। কারণ তুমি আমার কথা না শুনে ওদের কাছে গিয়েছো। তাই ভাবলাম, ওরা যখন তোমায় ওরা গাড়িতে তুলবে, তখন গিয়ে ওদের চমকে দিবো। বিকেল পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সবকিছু , ব্যর্থ হয়ে গেল একটা ফোনে।ঐদিন বাবা গিয়েছিল একটা সভায়,কিন্তু সেখানে কি নিয়ে যেন গন্ডগোল লাগে।বাবা যেখানেই যায় আমাকে সাথে করে নিয়ে যায়। কিন্তু সেদিন তোমার কারণে,আমি বাবাকে বলি, যে বাবা তুমি আজকে একা যাও।আমার একটা জরুরী কাজ আছে। বাবা ও আর কিছু বলেনি।কিন্তু সেখানের অবস্থা বেগতিক দেখে, বাবার সেক্রেটারির আমাকে জানায় বাবার উপর এট্যাক করেছে, কিছু লোক।উপায়ন্তর না পেয়ে আমি তারাতাড়ি সেখানে যায়।আর কিছু লোক রেখে যায় এখানে, তোমাকে দেখার জন্য। সেখানে গিয়ে বাবাকে পাঠায় তোমার কাছে। যাতে তোমাকে বাঁচাতে পারে। কারণ ওদের উপর বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার।যদি একটা ভুল করে, তাহলে তোমাকে সারাজীবনের মতো হারিয়ে ফেলব।
তাহমিদের কথাগুলো অর্ণার মাথার উপর দিয়ে গেল।তার অগোচরে যে এতো কিছু হলো,সে কিছুই জানে না। লোকটাকে যত দেখছে, ততই মুগ্ধ হচ্ছে অর্ণা।
তাহমিদ অর্ণার হাত ধরে বলল,
,আচ্ছা বাদ দাও ওসব।যা চলে গেছে, তা নিয়ে আর ভাবার দরকার নেই।এখন বলো তোমাদের বাড়িতে আজ কি হয়েছে?
,কই বাড়িতে কি হবে?
,তবে যে মিতু আমাকে ফোন দিয়ে বলল,যে পর্ণাকে নিয়ে নাকি ঝামেলা হয়েছে।
,ওহ্ মিতু আপনি সব বলে দিয়েছে?
,না সব বলেনি, তবে কিছু, কিছু বলেছে। এখন তুমি পুরোটা বলবে।
অর্ণা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সব খুলে বলল তাহমিদ কে।সব শুনে তাহমিদ অবাক হলো। কেউ যে এতটা খা রা প হতে পারে, তা জানা ছিল না। সে রাগী সুরে বলল,
,তোমাকে এত উদার হতে, কে বলেছে। কেন ঐ বদজাত মেয়ে কে ক্ষমা করলে?
,ওমা আপনি রাগ করছেন কেন?ওর জন্যই তো আজ আপনি আমাকে পাচ্ছেন। ও যদি আদনান স্যারকে, বিয়ে না করতো। তাহলে তো আমার সাথে বিয়ে হয়ে যেত!তখন কি আপনি আমাকে বিয়ে করতে পারতেন?
#আমায়_একটু_ভালবেসো
#জান্নাতুল_ফেরদোস_কেয়া

(১৯)

দুদিন পর।আজ অর্ণার গায়ে হলুদ। বিশাল বড় আয়োজন। কমিউনিটি সেন্টার বুক করা হয়েছে। বাড়ির সকলে সেখানে উপস্থিত। অর্ণাকে সাজানোর জন্য পার্লার থেকে, দুটো মেয়ে এসেছে। তারাই সাজাচ্ছে। কাঁচা হলুদ রঙের শাড়ি, নিচে সবুজ পাড়,ভারী মেকআপ বিভিন্ন ধরনের কাঁচা ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে অর্ণাকে।
পাপিয়া বেগম এলেন, মেয়ের সাজ হয়েছে কিনা দেখবার জন্য। দরজা কাছে এসেই থমকে দাঁড়ালো। চোখ দুটো বড়,বড় করে তাকালো,এটা কি অর্ণা?তিনি তো চিনতেই পারছে না।অর্ণা কোনোদিন তেমন একটা সাজগোজ করেনি।যদিও বা করতো,তবে কাজল আর হালকা লিপস্টিক, এতটুকুই।কিন্তু আজ যেন সম্পূর্ণ অন্যরকম লাগছে অর্ণাকে।পাপিয়া বেগম যেন নিজের মেয়েকে চিনতেই পারছে না। তিনি এগিয়ে গেলেন। অর্ণার কনিষ্ঠা আঙ্গুলে দাঁত দিয়ে, কামড়ে দিলেন।যেন মেয়ের নজর না লাগে।
,দেখুন তো আন্টি, আপনার মেয়েকে কেমন লাগছে?
পাপিয়া বেগম ছলছল চোখে, মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। তার কত আদরের দুই মেয়ে। একজন তো কবেই পর হয়ে গেছে! আরেকজন হবে কালকে।তার বুক ভেঙে কান্নারা এসে হানা দিচ্ছে।মায়ের চোখে জল দেখে, অর্ণা ও কেঁদে দিল। পাপিয়া বেগম মেয়েকে জড়িয়ে ধরলো।দুই মা-মেয়ে গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
পার্লারের মেয়েগুলো একে-অপরের দিকে তাকাচ্ছে। কি করছে এরা?সাজ তো একদম ঘেঁটে ঘ হয়ে যাচ্ছে। তারা দুজনকেই জোর করে আলাদা করলো।
,কি শুরু করেছেন বলুন তো আন্টি?আপনি এরকম করলে অর্ণাকে কে বুঝাবে?ও এভাবে কাঁদলে তো,সাজ নষ্ট হয়ে যাবে! তখন কিন্তু ভূতের মতো লাগবে,আপনার মেয়ে কে।
পাপিয়া বেগমের টনক নড়ে। আসলেই তো,এভাবে কাঁদলে তো সব নষ্ট হয়ে যাবে। না,না এ কিছুতেই হতে পারে না।তিনি তারাতাড়ি অর্ণাকে শান্ত হতে বললো।মাকে বিচলিত হতে দেখে,ফিক করে হেসে দিল অর্ণা।

ফুল ভলিউমে মিউজিক বাজছে। কান দুটো ঝা,ঝা করছে অর্ণার। বাড়ির সকল ছেলে-মেয়েরা হৈ-হুল্লোড়ের করছে। কেউ,কেউ আবার গানের তালে,তালে নেচে ওঠেছে।মেয়েরা পড়েছে,বেগুনী রঙের শাড়ি, আর ছেলেরা সবুজ রঙের পাঞ্জাবি।
অর্ণা বেচারী আছে, মহা ঝামেলায়।মিষ্টি খেতে, খেতে তার জীবন তেঁতো হয়ে যাচ্ছে। একটু পর,পর একেকজন স্টেজে ওঠছে, আর এটা সেটা এনে তার মুখে দিচ্ছে। কাউকে না ও করতে পারছে না। তার উপর আবার ছবি। পোজ দিতে, দিতে,কোমর ভেঙে যাচ্ছে। ঠোঁটে হাসি ছাড়া কথা নেই।অর্ণা বিরক্ত হলো।বিয়ে যে কি মজা, তা হাড়ে,হাড়ে টের পাচ্ছে এখন।মনে,মনে নিজের কপাল চাপড়ালো।কেন যে বিয়ে বসতে গেল?

চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আকাশে কিছু তারা আছে, তবে চাঁদ নেই।পর্ণা উদাস মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মনটা তার খুবই বিষাদময়।
পর্ণা যায়নি অর্ণার হলুদ অনুষ্ঠানে। বাড়ির প্রত্যেকেই সেধেছে,যাওয়ার জন্য। কিন্তু তার শরীর টা খুব একটা ভালো নেই। তাই আর যায়নি।অবশ্য আরেকটা কারণ আছে তা হলো, অর্ণার এতো বড় ক্ষতি করেছে। তারপর আবার কোনো মুখে যাবে সেখানে।
কদিন ধরেই শরীরটা ভালো যাচ্ছে না পর্ণার। দুমাস ধরে পিরিয়ড অফ।মাথা ঘুরায়,বমি, বমি ভাব,কিছু খেতে ইচ্ছে করে না।পর্ণা জানে এসব কিসের লক্ষণ। টিভিতে এসব অনেক দেখেছে। মেয়েরা যখন কনসিভ করে। তখন এই সমস্যা গুলো হয়। তবে সে পরীক্ষা করেনি। করার কোনো ইচ্ছে ও নেই।
ঐ দিনের পর আদনান তার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। না দেখা করে, না কোনো ফোন দেয়।পর্ণা ও চাই আদনান তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ না রাখুক।সবাই যদি তাকে ক্ষমা করে দেয়, তবে প্রায়শ্চিত করবে কিভাবে। তার মতো মেয়ের এমনই হওয়া উচিৎ।
পর্ণা আনমনে তার পেটে হাত বুলালো।বিড়বিড় করে বলল,তুই ও কি আমার মতো হবি?শুনেছি সন্তান পেটে নিয়ে, মায়েরা যা করে সন্তানেরাও তেমন হয়।তুই ও কি আমার মতো পাপিষ্ঠা হবি?না, না তা করিস না।তবে যে সারাজীবন ভালবাসার মানুষের ঘৃণা নিয়ে বাঁচতে হবে। আর তা যে কতটা কষ্টদায়ক তা আমি ভাল করেই উপলব্ধি করছি।
ছাঁদের দরজাটা ক্যাচক্যাচ করে ওঠলো।পর্ণা আঁতকে ওঠলো।কে,কে বলে দুবার চেঁচালো।কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই। বাড়িতে শুধু পর্ণা আর বড় জেঠি।বড় জেঠির বাতের ব্যাথা। তাই যেতে পারেনি।ওনি নিশ্চয়ই এতো রাতে ছাঁদে আসবে না।তাহলে কে এলো?
অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। পর্ণা কারো পায়ের শব্দ পেল।তার দিকেই এগিয়ে আসছে। ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেল পর্ণা।চিৎকার দিতে যাবে, এমন সময় কে যেন মুখ চেপে ধরলো।ফিসফিস করে বলল,
,চুপ,চুপ।
প্রথমে ছোটাছুটি করলে ও, পরে গলার স্বর শুনে চুপ হয়ে যায়।
আদনান ছেড়ে দিল পর্ণাকে।ফোনের ফ্লাশ জ্বেলে পর্ণার মুখের উপর আলো ফেলল।হুট করেই আলো এসে চোখে পরায়, চোখ,মুখ কুঁচকে ফেলল পর্ণা।আদনান একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। দুদিনে কেমন শুকিয়ে গেছে মেয়েটা।আদনানের বড্ড মায়া হলো।একটানে পর্ণাকে বুকের সাথে মিশিয়ে ফেলল। আহ্ এখন শান্তি লাগছে। এতদিন আগুন জ্বলছিল হৃদয়টায়।
পর্ণা চুপচাপ আদনানের বুকের সঙ্গে মিলে রইলো। ঠোঁটে কোণে এক চিলতে হাসি।সব দুঃখ বুঝি,ঘুচলো এবার।পর্ণা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। স্বপ্নের মতো লাগছে। ছেড়ে দিলে যদি পালিয়ে যায়। চারিদিকে ঝি,ঝি পোকার ডাক। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই। নিরবতা ভেঙে আদনান বলে ওঠলো,
,প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আমায় বিয়ে করেছো, তাই না পর্ণা?
পর্ণার হাতের বাঁধন ছুটে গেল। আদনানের চোখে-চোখ রাখলো।তবে বেশিক্ষণ নয়,খুবই অল্পসময়।ঐ চোখের দিকে তাকানোর যোগ্যতা যে পর্ণা হারিয়ে ফেলেছে। আদনান হাসতে, হাসতে বলল,
,আমি কি বোকা,তাই না পর্ণা?বোকার মতো ভেবে বসলাম,তুমিও হয়তো আমায় ভালবাসো!কিন্তু আমার ভাবনায় ভুল ছিল।প্রতিহিংসা করে বিয়ে করলে আমায়।অর্ণাকে হারাতে গিয়ে, আমার সঙ্গে নিজের জিবন কে জড়িয়ে ফেললে। অবশ্য তোমার কাছে হয়তো এই সম্পর্কের কোনো মূল নেই।আমি থাকি, বা না থাকি তাতে কিছু আসে যায় না তোমার।আচ্ছা পর্ণা, তোমাকে ভালবাসার মূল্য কি আমাকে এভাবে দিতে হবে?একটু ভালই তো বেসেছিলাম,তাই বলে এতো যন্ত্রণা দিবে?তুমি কি পারতে না, আমায় একটু ভালবাসতে? উফফ সরি,কাকে কি বলছি আমি।যে ভালবাসার মানেই বুঝে না,সে কিভাবে অন্যকে ভালবাসবে।শুধু জানে অন্যকে কষ্ট দিতে। ছোট থেকে এটাই তো শিখে এসেছো।
পর্ণার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পরছে। আদনানের হাতটা ধরতে গেলেই, সে দূরে সরে যায়। অন্য দিকে তাকিয়ে বলে,
,তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল পর্ণা।তুমি কি শুনতে প্রস্তুত?
পর্ণা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়।আদনান কাঠ,কাঠ গলায় বলে,
,আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি,আমরা আলাদা হয়ে যাব।যেহেতু তোমার ইচ্ছে পূরন হয়েছে, এখন নিশ্চয় আমাকে কোনো দরকার নেই আর তোমার?এরজন্যই তো তুমি এতকিছু করেছো।তাই না?

চলবে,,,
চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here