#উদ্দেশ্যহীন_কথা
Part_26
#Writer_Fatema_Khan
কথা চুপ করে বসে আছে। আর কিছুটা দূরেই বসে আছে আশ্রমের পরিচায়িকা(রাহিমা খালা), কনক আর আয়ান। তারা কথাকে নিয়েই আলোচনা করছিলো।
—পাঁচ বছর আগে ওকে আমি অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার কাছে পরে থাকতে দেখি আর ওইখান থেকেই আমি এখানে নিয়ে আসি।
—ও রাস্তায় কি করছিলো! ওর সাথে কোনো ছেলে ছিলো না?
এই কথা শুনে কনক বললো,
—না ও গ্রাম থেকে একাই এসেছিলো। আসলে ও একটা ছেলের সাথে সম্পর্কে ছিলো। কিন্তু যেদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সেদিন ও আর আসেনি কথার কাছে। তাই কথা কি করবে বুঝতে না পেরে ট্রেনে উঠে পরে। তারপর ট্রেন থেকে নামার পর কি হলো আমাদের কাউকেই বলেনি। ট্রেনের ভেতরের কাহিনীই আমি জানি বাকিটা কেনো বলে না তা জানা নেই। তবে প্রথম প্রথম যখন জিজ্ঞেস করতাম তখন খুব উত্তেজিত হয়ে যেতো। তাই এখন আর জিজ্ঞেস করি না আমরা ওইদিন ট্রেন থেকে নামার পর কি হয়েছিলো আর রাস্তায় বা কি করে এলো।
—কিন্তু ওর সম্পর্ক কার সাথে ছিলো?
—আপনাদের ক্লাসমেট বিহান নামের একটা ছেলের সাথে।
—বিহান! আমাদের ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ছেলে ছিলো সে। আর কত মেয়ের সাথে যে তার সম্পর্ক ছিলো তা আমাদের জানাও নেই। এই যেমন আজ কথার ব্যাপারে জানলাম। মেয়েটা এতটুক বয়সে কতকিছুই না সহ্য করেছে।
— হুম অনেক কষ্ট করে আজ সে এখানে। আমরা অনেক বুঝিয়েছি নিজের বাড়িতে যোগাযোগ করতে কিন্তু ওর কথা একটাই কি মুখ নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াবে?
—এটা ওর কতবড় বোকামি ও নিজেও জানে না। আমি রিয়ানকে কল করে দিয়েছি। কাল ও আসবে এখানে
—কথাকে কি এখান থেকে নিয়ে যাবে?
—সেটা আমি জানি না তবে আমার দায়িত্ব ছিলো সবাইকে জানানো কথার খোঁজ আমি পেয়েছি। আর তোমার ধারণা আছে ওদের দিনগুলো কত কষ্টে গেছে কথার জন্য। ওরা এখনো খুঁজে যাচ্ছে কথাকে আর তাদের একটাই কথা সে যার সাথেই থাকুক তাকেই মেনে নিবে। তবুও যেনো সে ফিরে আসে। আর এদিকে কথা কারো সাথেই যায় নি।
—সেটা আমিও বুঝি কিন্তু ওকে যেনো নিয়ে না যায়। আর ও একটা জব করে একটা কোম্পানিতে। আর কাব্য জিজু তো ওকে খুব ভালোবাসে
—কাব্য কে?
—ওই যে কলেজের সামনে দুইটা ছেলে থাকে আমাদের সাথে ওইখানে একজন তো তূর্য ভাইয়া আরেকজন কাব্য জিজু। খুব ভালো জিজু কিন্তু এই গাধি এখনো বিহান বিহান করে
—তাই
— হুম।
দুপুরের খাবার খেয়ে বসে আছে কথা, আয়ান, কনক আর রাহিমা খালা। রাহিমা খালা কথাকে বললো,
—দেখ কথা কাল তোর ভাই আসবে তার সাথে কোনো সংকোচ ছাড়া কথা বলবি। কতদিন পর বোনকে দেখবে বল। আর একটা কথা বলি তোকে।
—কি বলো বুড়ি
—কনক আমাকে আর আয়ানকে কাব্যের কথা বলেছে। আমরা চাই তুই ভালো থাক। আর নিজের অতীতের পেছনে না ঘুরে সামনে এগিয়ে দেখ একবার। সবাই খারাপ হয় না। আর যে ছেলে পাঁচ বছর পরেও তোর কাছে ফিরে আসতে পারে সে কি করে ওই ছেলের মত হবে একটু ভেবে দেখিস
আয়ান বললো,
—খালা একদম ঠিক বলছে। নিজের জীবনকে একটা সুযোগ দিয়েই দেখ সবসময় যে ঠকে যাবি তার কোনো মানেই হয় না।
—আমি ভেবে দেখব।
—এইতো গুড গার্লের মত কথা। আর এই নে তোর জন্মদিনের উপহার।
—আরে তুমি এটা আনতে গেলে কেনো? আর তুমিই কি আমাদের কনকের
কনক বলে উঠলো,
—এই কথা চুপ কর তো এখন দেখ আয়ান তোর জন্য কি এনেছে আমিই কিন্তু পছন্দ করে দিয়েছি।
কথা প্যাকেট খুলে দেখে খুব সুন্দর একটা ড্রেস।
—খুব সুন্দর হয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে। আচ্ছা বুড়ি বাচ্চাদের সবাইকে ডাকো তারা কেক কাটবে না। আমাদের আবার বাসায় যেতে হবে আর তাদের জন্য কিছু গিফট এনেছি আমি সেগুলোও তো দিতে হবে।
—আচ্ছা এখুনি ডাকছি সবাইকে।
আশ্রমের সব বাচ্চাদের ডেকে আনা হলো। তারপর সবার সাথে মিলে কথা কেক কাটলো আর সবাইকে নিজ হাতে কেক খাইয়ে দিলো। সবার জন্য গিফট ছিলো তাই কথা নিজের হাতে সবাইকে গিফট দিলো। সেখানে সবার জন্য নতুন জামা আর চকলেট ছিলো। তারপর রাহিমা খালার সামনে গিয়ে বলে,
—এই নাও বুড়ি এটা তোমার জন্য এনেছি। দেখোতো পছন্দ হয়েছে কিনা তোমার?
—আমার জন্য আবার কি এনেছিস আর আমি কি ওদের মত ছোট বাচ্চা নাকি যে আমাকেও গিফট দিতে হবে?
—একটা শাড়ি আছে বুড়ি তোমার জন্য আর আমার মন চাইলো আমার বুড়িকে একটা শাড়ি দেই তাই নিয়ে এলাম। এখন বলো তো কেমন হয়েছে?
রাহিমা খালা প্যাকেট টা খুলে শাড়ি বের করে চোখের পানি ছেড়ে দিলো আর বললো,
—খুব সুন্দর হয়েছে এটা। তোর আর কাব্যের বিয়ের সময় আমি এই শাড়ি পরব
কথা ভ্রু কুচকে বলে,
—আমার কাব্যের বিয়েও ঠিক করে ফেলেছো সাথে কি পরবে তাও। তোমাকে নিয়েও আর পারি না বুড়ি
—তুই বেশি বুঝিস তোর বিয়ের সময় কি আমার সাজতে হবে না
—আমার বিয়ের সময় নতুন শাড়ি কিনে দিব
—এত খরচের কি আছে বল
—তোমার জন্য খরচ করতে আমার যে ভালোই লাগবে। আমার মায়ের পর মায়ের ভালোবাসা তোমার থেকেই তো পেয়েছি বুড়ি।
—তুই তো আজ আমাকে কাদানোর জন্য এসেছিস তাই না।
—আচ্ছা আর কাদাব না। এখন আমাদের যেতে হবে। তাহলে এবার বিদায় দাও।
—চলে যাবি?
— হুম যেতে হবে এখন। আবার সময় করে আরেকদিন আসব।
— এখন তো চাকরি হয়েছে বড় ম্যাডাম হয়ে গেছিস আমাকে কি এখন আর দেখার জন্য সময় পাবি?
—তোমার জন্য আর এই বাচ্চাদের জন্য সবসময় আমার সময় থাকবে।
—ঠিক আছে আজ যা। কিন্তু আবার আসিস কিন্তু। আমি অপেক্ষায় থাকব আর কাব্যের ব্যাপারে একটু ভেবে দেখিস। যা শুনলান ছেলেটা খুব ভালো।
— হুম ভেবে দেখব আর কাব্য সত্যি খুব ভালো মানুষ।
—এইতো সোনা মেয়ে আমার।
তারপর সন্ধ্যার আগেই আয়ান, কনক আর কথা আশ্রম থেকে চলে গেলো। আয়ান নিজের বাইক করে যাবে আর কথা, কনক বাসে করে যাবে৷ ঠিক সেই সময় সেখানে কাব্য এসে হাজির। কথার তো চোখ কপালে কাব্যকে দেখে। আয়ান কাব্যকে চিনতে পারে না তাই সে কনকের দিকে তাকায় জিজ্ঞেস করার জন্য। কনকের দিকে তাকিয়ে সে দেখে কনক দাত কেলিয়ে হাসছে। আয়ান কনককে হালকা ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
—উনি কে?
—আরে আপনি চিনেন না ইনিই কাব্য। আপনি না ওনাকে দেখেছেন?
—না। আমিতো ওই তূর্যের দিকে আর তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। অন্যদিকে দেখতামই না। তাহলে উনিই কাব্য
— হুম। দেখুন কথার পিছু পিছু এখানেও চলে এসেছে, কতটা ভালোবাসে কথাকে
কাব্য কথার দিকে এগিয়ে আসে আর বলে,
—চলো আমার সাথে এক জায়গায়
—আপনার সাথে আমি কোথায় যাব?
—গেলেই দেখতে পারবা এখন চলো আমার দেরি হচ্ছে।
—এই সময় আমি কোথাও যাব না বাসায় গিয়ে রেস্ট নিব
—সকালেই অফিস থেকে চলে এসেছো তাহলে রেস্টের কি দরকার, আর আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করছি না আমি তোমাকে বললাম আমার সাথে চলো।
তারপর আয়ান কনকের হাত ধরে নিজের বাইকের কাছে এনে বলে,
—কনক চলো আমার বাইকে করে তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসব তারপর কথা কাব্যের সাথেই যাবে।
—ঠিক বলেছেন। তাড়াতাড়ি চলুন তাহলে।
আয়ান আর কনক বাইকে উঠে গেলো আর বাইক স্টার্ট দিয়ে তারা চলে গেলো। কথা আর কাব্য বাইকের শব্দ শুনে ওইদিকে তাকিয়ে দেখে আয়ান আর কনক চলে গেছে। তাই কথা বলতে লাগলো,
—এই কনক আমাকে রেখে কোথায় যাস। আয়ান ভাইয়া আমি রয়ে গেলাম তো
—আসলে তারাও চায় তুমি আমার সাথেই যাও তাই চলে গেলো।
কথা কাব্যের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালো।
#উদ্দেশ্যহীন_কথা
Part_27
#Writer_Fatema_Khan
আয়ান কনকের বাসার সামনে বাইক থামায়। কনক বাইক থেকে নামে তারপর আয়ান।
—ধন্যবাদ কনক
—আমাকে ধন্যবাদ! কিন্তু কিসের জন্য?
—তুমি না থাকলে হয়তো কখনোই কথার দেখা পেতাম না।
—আমিও তো চেয়েছি কথা সবসময় হাসিখুশি থাকুক। আমি তো ছোটবেলা থেকেই অনাথ। এই আশ্রমেই বড় হয়েছি। খালা না থাকলে হয়তো কবেই মরে যেতাম। আমি বুঝি পরিবার কি জিনিস আর সেখানে কথার পরিবার থাকা সত্ত্বেও সে কেনো তাদের ছায়াতলে থাকতে পারবে না।
—নিজেকে অনাথ বলছো কেনো, ওই আশ্রমের সবাই তো তোমার পরিবার তাই না। আর তুমি চাও আর না চাও আমিতো আছিই।
কনক অঝোরে কাদতে থাকে। আয়ান কনকের কাছে গিয়ে তার দুগালে হাত রেখে চোখের পানি মুছে দেয়। কিছুটা কাছে গিয়ে কনকের কপালে নিজের ঠোঁট জোড়া দিয়ে ছুয়ে দেয়। আয়ানের স্পর্শ পেয়ে কনক চোখ বুঝে নেয় আর আয়ান কনককে জড়িয়ে ধরে।
—এভাবে কাদবে না কখনো। আমার খুব কষ্ট হয় তুমি কাদলে। আমিতো বললাম আমি আছি তোমার পাশে আর রইলো কথা সেও তার পরিবারের কাছেই থাকবে আর ভালো থাকবে।
— হুম। আচ্ছা এখন আমি যাই কেউ এভাবে দেখলে খারাপ ভাববে।
আয়ান কনককে সাথে সাথে ছেড়ে দিলো। আর নিজের মাথা চুলকে চারপাশে দেখলো কেউ আছে কিনা? কনকের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললো,
—না কেউ নেই চারপাশে।
—কেউ দেখে নিলে তখন কি হতো?
—কি আর হতো বলতাম আমার বউ রাগ করে বন্ধুবির বাসায় চলে আসছে।
—কিহ্!
— ঠিকই তো বললাম যাও এবার বাসার ভেতরে যাও।
—ঠিক আছে যাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।
—আল্লাহ হাফেজ।
তারপর আয়ান সেখান থেকে চলে গেলো আর কনক নিজের কপালে হাত রেখে মুচকি হাসলো। তারপর সেও বাসার ভেতরে চলে গেলো।
________
অন্ধকার নেমে এসেছে অনেক আগেই। কাব্য আর কথা বাইক থেকে নেমে একটা রাস্তা ধরে হাটছে।
—আচ্ছা আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন একটু বলবেন?
—গেলেই দেখতে পারবে। এখন তাড়াতাড়ি হাটো তো
—উফ কি যে বিরক্তিকর আপনি এটা কি জানেন?
—আমি মোটেও বিরক্তিকর না আর যদি হইও তাতে সমস্যা কি তোমাকেই তো বিরক্ত করছি আর সারাজীবন করে যাব বুঝলে প্রেয়সী।
—প্রেয়সী টা আবার কে আমি কথা বুঝলেন
— হুম বুঝলাম। এবার থামো একটু।
—এসে গেছি আমরা?
—না আরেকটু।
—তাহলে এখানে থামলেন কেনো আর এটা কেমন জায়গা ভুতুড়ে টাইপের
কাব্য কিছু না বলে হাসলো। তারপর কথার পেছনে গিয়ে দাড়ালো। কথা কাব্যের দিকে ফিরতে নিলে কাব্য তার কাধে হাত দিয়ে থামিয়ে দেয়। তারপর পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে কথার চোখ দুটো বেধে দেয়।
—কি হলো চোখ বাধলেন কেনো!
—এবার চলো তোমাকে নিয়ে যাই।
তারপর কাব্য কথাকে নিজের কোলে তুলে নিলো আর এগুতে লাগলো।
—একি করছেন আপনি আমি পরে যাব তো নিচে নামান প্লিজ।
—চুপ না থাকলে আমি সত্যি ফেলে দিব। ডেমো দেখতে চাও।
বলেই কাব্য নিজের হাত আলগা করে। হাত আলগা করতেই কথা কাব্যের গলা জড়িয়ে ধরে।
—আপনি তো আচ্ছা খারাপ লোক। এখুনি আমি পরে যেতাম।
—আমি পরতে দিলে তো নিচে পরে যেতে।
কিছুটা পথ হাটার পর কাব্য এক জায়গায় এসে থেমে গেলো আর কথাকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো।
—কি হলো এসে গেছি আমরা?
……
—-কথা বলছেন না কেনো, কই গেলেন?
কাব্যের সাড়াশব্দ না পেয়ে কথা চোখ থেকে রুমাল সরিয়ে নিলো। আর চোখ খুলতেই সে অবাক হয়ে গেলো। কারণ চারপাশে কেউ নেই আর অন্ধকার একটা জায়গা। কথা আস্তে আস্তে হাটতে থাকে আর কাব্যকে ডাকতে থাকে। কিন্তু কাব্য তার ডাকে সাড়া দেয় না। হঠাৎ তার মনে পরলো মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। তারপর সে তার ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে ফ্ল্যাশ জ্বালাতে যাবে ঠিক তখনই চারদিকে আলো জ্বলে উঠলো। কথা চারদিকে তাকিয়ে দেখে সে একটা বাগানে দাঁড়িয়ে আছে। যার চারদিকে সব ফুলের গাছ আর সেখানেই সাজানো হয়েছে সাদা রঙের ঝার বাতি দিয়ে। আর কথা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেও ফুল দিয়ে সাজানো।
—কাব্য আপনি কোথায় আর এসব কি?
কাব্য পেছন থেকে এসে বললো,
—এইতো আমি এখানে তোমার ঠিক পেছনে
কথা কাব্যের দিকে ফিরে বলে,
—কাব্য এসব কিসের জন্য আর সবকিছু এত সুন্দর করে সাজানো কেনো?
—আমার প্রেয়সীর ভালো লেগেছে?
—খুব সুন্দর, খুব ভালো লেগেছে
—সবকিছুই আমার প্রেয়সীর জন্য। আজ তার জন্মদিন আর এতটুকু না করলে কি করে হয়।
—আপনি কি করে জানেন আজ আমার জন্মদিন!
—তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে এটা যদি জানতে পারি, তাহলে আজ তোমার জন্মদিন এটা জানা খুব একটা বড় ব্যাপার না। তাই নয় কি
—কিন্তু এই সবকিছু আমার জন্য
—আর কার জন্য আমি এতকিছু করতে পারি বলো। অনেক ভালোবাসি যে তোমায়। একটু যদি বুঝতে তুমি।
কথা কিছুটা নিরব থাকে। তারপর কাব্যই বলে,
—আচ্ছা তোমার আর কনকের সাথে একটা লোক ছিলো উনি কে?
—উনি আমার আয়ান ভাইয়া। আমার রিয়ান ভাইয়ার বন্ধু। আপনাকে হয়তো বলেছিলাম ভাইয়ার কথা। আজ আমাকে সবচেয়ে বড় উপহার কনক দিয়েছে। ভাইয়ার সাথে দেখা হওয়ার পেছনে কনক ছিলো। কাল রিয়ান ভাইয়া আসবে আমার সাথে দেখা করার জন্য। আমি খুব খুশি কতদিন পর তাদের সাথে দেখা হবে।
কাব্যের হাসি মুখটায় নিমিষেই অন্ধকার নেমে এলো।
—তোমাকে কি তোমার ভাইয়া নিয়ে যাবে তার সাথে?
—আমি যাব না এখান থেকে
—ওহ তাহলে বাচা গেলো। এক মুহূর্তের জন্য আমার প্রাণ টাই বের হয়ে গিয়েছিলো। ভাবলাম আমার শালা বুঝি তোমার আর আমার লাইফে ভিলেন হয়ে এন্ট্রি নিতে যাচ্ছে।
—তবে আমি হয়তো গ্রামে যেতে পারি কিছুদিনের জন্য। ততদিন আমি অফিস যেতে পারব না। তবে কাল আসব। ম্যামকে কি বলব সেটাই ভাবছি। আজকেও তাড়াতাড়ি চলে এলাম সারাদিন অফিস যাই নি আবার কয়েকদিন অফিসে আসতে পারব না।
—না গেলে হয় না।
কথা কাব্যের দিকে তাকিয়ে দেখে কাব্য তার দিকে অসহায় চাহনিতে তাকিয়ে আছে। কথা আর কিছুই বললো না। তারপর কাব্য বলে উঠলো,
—আচ্ছা সেসব বাদ দাও। এখন চলো তো আমার সাথে
—আবার কোথায়?
—আসো তো।
ফুলের রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে দুইজন। কিছুটা দূরে গিয়েই একটা ছোট্ট কুটির ঘর। যেটা পুরো ঝার বাতি আর ফুল দিয়ে সাজানো। কথা কাব্যের দিকে একবার তাকায় কাব্যের মুখটা হাস্যোজ্জ্বল। তাই আর কথা কিছুই না বলে কাব্যের সাথে পা মিলালো। সেখানে এসে ঘরের বাইরে একটা টেবিল আছে। টেবিলে একটা প্যাকেট রাখা আছে। কাব্য প্যাকেট টা হাতে নিয়ে কাব্যের দিকে এগিয়ে দেয় আর বলে যদি প্যাকেট টা নিতে। কথা কিছুক্ষণ চুপ থাকে আর নিজের ওরনাতে আংগুল পেচাতে থাকে। কাব্য কথার অস্বস্তি বুঝতে পেরে কথার হাতে হাত রেখে বলে
—প্লিজ
কথা কিছু না বলে প্যাকেট টা হাতে নেয় আর জোরপূর্বক একটা হাসি দেয়।
—ভেতরে গিয়ে এটা পরে আসবে। আমার রিকুয়েষ্ট, প্লিজ না করো না।
কথা প্যাকেট টা নিয়ে ঘরের ভেতরে চলে গেলো। ছোট একটা রুম যেখানে একটা ড্রেসিং টেবিল আর একটা চেয়ার ছাড়া আর কিছুই নেই। প্যাকেট টা খুলে কথা দেখলো সেখানে একটা নীল রঙের শাড়ি, একজোড়া নীল চুড়ি, টিপের পাতা আর একটা কাজল। কথার মুখে আনমনেই হাসি ফুটে উঠলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই তার মুখটা উদাস হয়ে গেলো।
অনেকক্ষণ হয়েছে কথা ভেতরে গেছে এখনো আসে নি। কাব্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে তার জন্য। এই অপেক্ষা যেনো শেষ হওয়ার নাম নেয় না। তখনই দরজা খোলার আওয়াজ হলো। কাব্য তাড়াতাড়ি সেদিকে তাকিয়ে দেখে কথা বেরিয়ে আসছে। কথার পরনে তার দেওয়া শাড়ি। চোখে মোটা করে কাজল, পরবে নীল শাড়ি, নীল চুরি জোড়া, খোলা চুল আর উদাস মুখ। সব মিলিয়ে যেনো কাব্য পুরো এলোমেলো হয়ে গেলো কথার রূপে। কাব্য কথার পেছনে দাঁড়িয়ে কথার চুলের ঘ্রাণ নিতে থাকলো।
—কাব্য কি হয়েছে?
—কিছুনা
—তাহলে
—একটা কথা জানো?
—কিহ্?
—তোমার কাজল আঁকা চোখের
প্রেমে পরেছি,
তোমার নীল শাড়ির আচলের
মোহে পরেছি।
তোমার হাতের চুড়ি জোড়ার
ছন্দে মেতেছি,
তোমার না বলা কথার জালে
আটকেছি।
তোমার খোলা চুলের গন্ধে
মাতাল হয়েছি,
তোমার উদাস মুখের মায়ায়
আহত হয়েছি
বারবার আমি তোমার নীলিমায় হারিয়েছি।
(ফাতেমা খান)
কথা যেনো কব্যের কথায় খুব লজ্জা পেয়ে গেলো। তাই সে কাব্যের কাছ থেকে অনেকটা দূরে চলে গেলো। কথা সরে যাওয়াতে কাব্য নিজের মধ্যে ফিরে এলো। কথা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে আর তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে কাব্যের ব্যবহারে সে খুব অস্বস্তি বোধ করছে। তাই কাব্য কথাকে স্বাভাবিক করার জন্য বলে,
—তোমার এগুলো পছন্দ না হলেও তো আমাকে ধন্যবাদ বলতেই পারো।
কথা কাব্যের দিকে তাকিয়ে বলে,
—খুব সুন্দর হয়েছে সবকিছু আর আমার ভালো লেগেছে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এখন আমরা বাসায় যাব কখন?
—আরেকটু পর।
—আর কি বাকি আছে, অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে তো।
—আমি আছি তো, ভয় কিসের
চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,