একগুচ্ছ কালো গোলাপ পর্ব -০৯+১০+১১+১২

একগুচ্ছ_কালো_গোলাপ🖤
লাবিবা_তানহা_লিজা
পর্ব_৯+১০+১১+১২

{ ভূত পর্ব 👻👻}

🍁
লাবিবা আর মুক্তা সকালে খেয়ে স্কুলে চলে আসছে । বিনাকে আসতে বলেছে কিন্তু বিনা বলে দিয়েছে সে আর ঐ বাড়ি যাবেনা । মুক্তা রাগারাগী করে গেছে যাওয়ার সময় । এর জন্য লাবিবা মুক্তা দুজনের ই মন খারাপ । ক্লাসে এসে লাবিবার মন খারাপ দেখে সবাই ভাবছে কালকের জন্য মন খারাপ করে আছে এখনো । টিফিন পিরিয়ড়ে সবাই মিলে পুকুর ধারে গোল হয়ে বসে । নানান কথা বলে লাবিবার মুখ থেকে কথা বের করতে চায় । কিন্তু পারে না । তিথী একসময় বুদ্ধি করে বলে – জানিস আমার দাদা ভুতের বিয়ে পড়িয়েছে । চমকে অবাক হয়ে তাকায় লাবিবা । বাকিরা মনে মনে হাসে ।
লাবিবা – সত্যি ?? কাজী হয়ে বিয়ে পড়িয়েছে ?
তিথি মনে মনে মিট মিটিয়ে হাসে। কিন্তু দিনের বেলাতেও ওর দাদার আর জিনের বিয়ের কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলো । একটু চেপে বসে তাই।
নুপুর – কিভাবে বিয়ে পড়ালো ? ওরাও কি কবুল বলে ?
তিথী – শোন তাহলে । আমার দাদা তো রাত করে ক্ষেতে পানি দিতো । তখন শীতকাল ছিলো ।দাদা কাপতে কাপতে চাদর মুড়ি দিয়ে পানি দেওয়ার জন্য বেড়িয়ে যায় বারোটার পর । ক্ষেতের পাশে বসে ড্রেইনে পানির আসা দেখছিলো টর্চ লাইট জালিয়ে । হটাৎ হাত থেকে টর্চ পড়ে যায় । দাদা পানিতেই হাতিয়ে তুলে টর্চটা । কিন্তু নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো । হটাৎ পাশে এসে একজন বললো ফকির মিয়া যে । দাদা চমকে উঠে পাশে তাকিয়ে অন্ধকারে একটা ইয়া বড় মানুষের মতো দেখলো । তার শরীর থেকে ফুলের গন্ধ আসছিলো।
– হয় । আপনি কেঠা?
– আমার নাম শরীয়তউল্লাহ জ্বীন ।
– জ্বীন ??
– হ্যা । আমার সাথে চল ।
– কোথায় ? আমি কেন যাবো ?
– বিয়ে পড়াবি আমার ছেলের । আয় আমার পিছু ।
দাদা ভয় পায়নি । না গেলে ক্ষতি করবে তাই পিছু পিছু যায় । জ্বীনটা একটা চকচকে প্রাসাদে নিয়ে যায় দাদাকে । বিয়ে বাড়ি ফুলে ফুলে সাজানো । সুন্দর স্মেল পাচ্ছিলো দাদা । বর কনেকে দেখে দাদা হা করে ছিলো । জ্বীনরা অনেক সুন্দর হয়। বর ছিলো জ্বীন আর বউ ছিলো পরী । শরীয়ত উল্লাহ ধমক দেয় দাদাকে ।
– বিয়ে পড়াও ফকির মিয়া । আমার ছেলের বউয়ের দিকে আর এক সেকেন্ডের কম সময় তাকিয়ে থাকলে তার রুপের ছটায় তুমি এখনি পাগল হয়ে যাবে ।
দাদা তারপর বিয়ে পড়ায় । দাদাকে কলাপাতায় খিচুড়ি মাংস খেতে দেয় । কিন্তু দাদা খায় না । হাতে করে ফিরে আসে একদিন পর । এদিকে আমরা খুজতে খুজতে অহারন দাদাকে । দাদা এসে আমাদের সব বলে আর দাদীর হাত কলাপাতায় মোড়ানো খিচুরিটা দেয় । দাদি খুলেই হাত থেকে ফেলে দেয় । মাংসের বদলে হাড্ডি ছিলো আর খিচুরীর বদলে মানুষের পটি .ছিলো।.yackk…{ সত্য ঘটনা }
লাবিবা – ওদের কখন পাওয়া যায় ?
সাদিয়া – শুনেছি ওরা নাকি রাত বারোটার পর বের হয় । শিউলি তলা , বেলী তলা, গন্নরাজ তলায় আরো অনেক ফুল তরায় এসে থাকে । কারন স‌ফুলে ফুলে পরীরা বসে থাকে জ্বিনদের জন্য ।
নুপুর আর লাবিবা তাকিতুকি করে কিছুক্ষন । ক্লাসের বেল পড়ে যায় । সবাই উঠে পড়ে ।

তারপর থেকে পুরোটা সময় লাবিবার মাথায় শুধু জীনদের কথাই ঘুরপাক খায় । জীন দেখা তার অনেকদিনের শখ । তার খুব ইচ্ছা জীনের সাথে পুতুল খেলবে । আর জীনের পুতুলের সাথে তার পুতুল বিয়ে দিয়ে জীনের শাশুড়ী হবে । জীনকে কিভাবে দেখবে ? খালি চোখে কি জীনকে দেখা যায় ? ভাবতে ভাবতেই নুপুর বলে – জানিস তোর মতো আমারো ইচ্ছা জীন জামাইয়ের খালা শাশুড়ী হওয়া ।
লাবিবা – আজকে আমার সাথে থাকবি ? জীন ধরবো ।
নুপুর – আব্বুকে বলে প্রাইভেট পড়ার সময় একেবারে চলে আসবো । জীনরা কি আসলেই এতো সুন্দর ?
লাবিবা – শুনেছি ওরা নাকি নুরের তৈরী । অনেক সুন্দর । পরীরা আরো সুন্দর । যে ব্যক্তী পরি দেখে তারা নাকি পাগল হয়ে যায় পরীর প্রেমে । পরীদের শরীরের চামড়া ভেদ করে তাদের হাড় দেখা যায় । ওরা নাকি আমার মতো গাউন পড়ে থাকে । দামী পাথরের জুয়েলারি পড়ে । অনেক ম্যাজিক জানে ‌ । আকাশে উড়ে উড়ে বেড়ায় ।
নুপুর- ইস আমি যদি পরী হতাম ..
লাবিবা মিটি মিটি হাসে ।
নুপু – হাসস ক্যা ?
লাবি -আমিই তো পরী ।
নুপু – কিহ ?
লাবিবা তার সপ্নের কথা বলে । দুজনে imagine করে সপ্নটাকে । শরীর শির শির করে উঠে । চোখ মুখ অন্তর আত্মা ছুয়ে ভালোলাগারা ছুয়ে দেয় । নুপুর আফসোস করে সে কেন এই সপ্ন দেখলোনা ।

বিকালে নুপুর এক সেট জামা ব্যাগে তুলে ওর আম্মুকে বলে চলে আসে । মোরে লাবিবার সাথে দেখা হতেই দুজনে হাত ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে এগোতে থাকে । দুজনেই খুব খুশি একসাথে থাকবে আরো ভুত ধরবে ।
পড়তে বসে তানভীর যখন পড়া চায় তখন দুজনের ই খেয়াল হয় ভুরের টেনশনে সব ভুলে গেছে। হাজার চেষ্টা করেও মনে করতে পারে না । তানভীর সামনে বই খুলে দেয় একবার দেখে নেওয়ার জন্য । বার বার চোখ ঘুরিয়েও মাথায় ঢুকাতে পারে না । আরএকটু দেখেই বলে পারবে । লাবিবা চোখ বন্ধ করে পড়া বলতে থাকে । মাঝখানে তানভীরের ধমকে থমকে যায়।
তানভীর – পড়ার ভিতর fairy’s wed with jin কোথায় দেখাওতো ।
লাবিবা চুপ ।
তানভীর – পড়া না শিখে উল্টা পাল্টা চিন্তা ভাবনা নিয়ে ঘুরে শুধু । আবার থাকলো । কাল না পারলে দেইখো তোমার কি অবস্থা করি ।
লাবিবা চুপসে যায় । পড়া পারে না জন্য সবাই বকে । কেউ ভালুপাসেনা । মাথা নিচু করে থাকে । তানভীর পাটি গনিত বুঝাতে থাকে । যা লাবিবার মাথায় কিছুই ডুকে না । আনিস আসে ছুটির সময় । তানভীর সালাম দেয় । – আসসালামু আলায়কুম আংকেল ।
– ওয়ালাইকুম সালাম । কেমন আছো বাবা ?
– এইতো আংকেল আলহামদুলিল্লাহ ।
– যাক যাক ভালোই । তুমি করেই ডাকলাম কিছু মনে করো না বাবা । তোমরা বড় মানুষ বড় মন ।
– ছি ছি আংকেল কি বলছেন ?
– ওরা খুবই দুষ্টু । কথা শুনে না । পড়াশুনায় ভালো । একজন আরেকজন ছাড়া চলে না । একটু দেখ বাবা ।সামনে তো এক্সাম ।
– হ্যা । আমি চেষ্টা করছি ।
– আমার বড় মেয়ে আখি । ওও তোমার কাছে পড়তে চাইছে । ক্লাস টেন এ পড়ে ।
তানভীরের ভালো লাগে না কথাটা । সেকি প্রাইভেট টিচার হয়ে আসছে নাকি ? দুষ্টু পুতুলটাকে দেখতে ইচ্ছা করে তাই পড়াতে চেয়েছে । সাথে নুপুর এসেছে ঠিক আছে বান্ধুবী । এখন তার বোন ও পড়বে নাকি ?
– আংকেল আমি শুধু লাবিবাকেই পড়াতে চেয়েছিলাম পড়ে না জন্য ।ওদের সাথে আমাদের কেমন সম্পর্ক জানেন আপনি । তানিয়া আর লাবিবা ওদের বন্ডিং ভালো একসঙ্গে পড়লে ভালো হয় । আমি তো প্রাইভেট পড়াচ্ছিনা আংকেল ।
আনিস আর কিছু বলে না । ছুটি দেওয়ার পর নুপুরকে বলে – অন্যদিন থাকবে । আমি সকালে ঢাকা যাবো । আজ বাইরে থাকা যাবে না ।
লাবিবা আটকাতে গেলেও আনিস নুপুরকে নিয়ে চলে যায় । নুপুর পিছু তাকিয়ে হাত কানে ধরে ফোনের ইশারা দিয়ে চলে যায়। লাবিবা মন খারাপ করে বাসার দিকে রোওনা দেয় । একটু আগের খুশি গুলো এখন বিষন্নতায় পরিনত হয়ে গেছে ।

রাতে বিনা খেতে আসে না । সকালে মুক্তা বের হয়েছে আর কল দেয় নি । ভিষন খারাপ লাগছে । বসে থাকতে থাকতে এক পর্যায়ে কেদেই ফেলে । লাবিবার এসব ন্যাকা ন্যাকা লাগে । মুখ ভেঙচিয়ে বলে – এখন কাদিস কেন ? আমি যে এনে দিলাম সাথে যেতে পারলিনা ?
লাবিবা তেজ দেখিয়ে উঠে রুমে চলে যায় । প্রহর গুনতে থাকে কখন বারোটা বাজবে আর ভুত দেখা শুরু করবে । আলমারি থেকে একটা নতুন ওরনা নিয়ে নেয় । নতুন কাপড় লাগে নাকি ভুত ধরতে শুনেছিলো একবার । ওযূ করে এসে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বারান্দায় এসে দেখে দেখে ইয়াসিন সূরা পড়ে । সময় হয়ে এলে কল আসে । নুপুরের কল । রিসিভ করে বলে
– – কি করিস ?
– ইয়াসিন পড়লাম ।
– হ আমিও ।
– সময় হয়ে গেছে বাগানে যা । আমি বাগানে।
– যাচ্ছি ।
লাবিবা আস্তে করে কেচি গেইট খুলে বেড়িয়ে পড়ে । হাতে ওরনা । বাগানে এসে বসে ।
– দোস্ত । আসছি ।পরী কই? জিন কই ?
– আরেহ দোস্ত ..পরী জিন তো আসবো । অপেক্ষা কর । দোয়া পড়ছোস এখন দেখতে পাবি ?
– দোস্ত জিন কালো নাকি সাদা ?
– আমি তো জানি সাদা ।
– দোস্ত পা নাকি উল্টা ?
– হ । ভয় পাস না । আমরা দুজন সাহসী । তোর সাথে থাকলে ভালো হইতো ।
– জানু সব অন্ধকার । কিছু দেখি নাতো ।
– বসে থাক দেখবি ।
তখনি লাবিবা দেখে সাদা কি জানি একটা আসছে এই দিকে এগিয়ে । গা ফুলে উঠে ।
– দোস্ত আমি পাইছি । দেখছি । ভুত আসতাছে । ফোন রাখ ।
লাবিবা ফোন রেখে চুপি চুপি পেছন দিকে চলে যায় । হোচট খেয়ে চিৎকার করে নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরে । ওড়না নিয়ে পায়ে পায়ে হেটে সাদা জিনিসটার কাছে এসে পেছন থেকে ঝাপিয়ে পড়ে । শক্তিতে না পেড়ে উপরে উঠে পড়ে আর ইয়াসিন পড়তে থাকে ।
এদিকে উম উম উম শব্দ কানে আসছে । আওয়াজ মানুষের মতো তাই আরো চেপে ধরে উপরে উঠে বসে বলে
– ও জিন তুমি মানুষের মতো গলায় কথা বলো ? তোমার ভয়েজটা চেনা চেনা লাগছে । আচ্ছা তুমি কি আমার চেনা কেউ যে মরে ভুত হয়ে গেছো ?
– উম উম উম …
– উম উম করো কেন ? তুমি কি বেচে থাকতে মুরগী ছিলে ? ডিমদের উম দিতে গিয়ে বোধহয় মরে গেছো তাইনা ?
দম আটকে আসছে বার বার । আরেকটু হলে মরে যাবে বুঝতে পেরে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝটকা দিয়ে এক চিৎকার করে উঠে – লাবিবা📣📣📣📣📣
লাবিবা ছিটকে পড়ে মাটিতে । এমন গলা কাপানো আওয়াজ শুনে ভয়ে জোরে কেদে উঠে – ভুত ভুত বলে।
চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে দেখে মুক্তা সাদা শার্ট গায়ে বসে আছে । এদিকে ওদিকে তাকিয়ে খুজতে খুজতে বলে – কোথায় ভুত কোথাই ?
এদিকে আওয়াজ শুনে বাসার সবাই চলে আসছে । লাইট জালানো হয়েছে । আশে পাশের বাড়ি থেকেও লোকজন এসে জড়ো হয়েছে । বিনা এসে বলে
– তুমি বসে আছো কেন ? আর গায়ে এই উড়না কেন ? লাবিবা তুই ??
একটু আগে বিনার সাথে মুক্তার কথা হয় । বিনা কান্নাকাটি করলে মুক্তা বলে আসছি আমি । এসেই এই অবস্থা ।
লাবিবা কাদো কাদো ফেইস করে দাড়িয়ে পড়ে । আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকে যেন ইসমাইল না বকে । কিন্তু ইসমাইল কিছু না বলে ভিতরে চলে যায় হন হন করে । এখানে থাকলে রাগ উঠবে পরে মেয়েকে মারতে হবে তাই আগেই চলে যায় ।
বেলাল – লাবিবা কি করছিলে তুমি ?
লাবিবা- জিন পরী দেখতে আসছিলাম ।
মুক্রা – তুই জিন দেখতে আসছোস নাকি আমাকে মারতে আসছোস ? ডাইনি কথাকার ।
সখিনা – আচ্ছা যা হবার হয়েছে । এবার চলো ঘরে চলো ।
লাবিবা আর বিনা মুক্তাকে ধরে তুলে ঘরে নিয়ে যায় ।

To be continue ______

একগুচ্ছ_কালো_গোলাপ🖤
লাবিবা_তানহা_লিজা
#পর্ব_১০

🍁
প্রাইভেটে তানভীর জিজ্জাসা করে – দুষ্টু পুতুল কি পড়া শিখেছে ?
লাবিবা মাথা নাড়িয়ে না করে ।
– কেন শিখোনি ? রেগুলার তুমি পড়া শিখে আসবেনা , মাথায় উল্টাপাল্টা চিন্তা ভাবনা নিয়ে ঘুরবে, পড়া ধরলে পড়বেনা এগুলো কি ? এভাবে চলতে থাকলে আমিতো তোমাকে পড়াবোনা । সাত নাম্বার অংক টা করো । hurry up .
লাবিবা অংক কষতে বসে মাথা চুলকায় শুধু । কাল পড়িয়েছে কিন্তু কিছুইতো বুঝেনি । একদম মনোযোগী ছিলো না । এখন কি করবে ভেবে পায়না ।
তানভীর – finish ?
লাবিবা – no sir .
তানভীর – you cant? মনোযোগ কোথায় থাকে ?
লাবিবা চুপ ।
– I ask you something.
লাবিবা চুপ ।
টেবিলে হাতের তালু দিয়ে বাড়ি দিয়ে বলে – answer me.
নুপুর সহ লাবিবা চমকে উঠে । তানভীরের রাগ সম্পর্কে লাবিবার বেশ ভালোই জানা আছে । কলিজা কাপে ওর । তানভীরের দিকে ভীরু চোখে তাকিয়ে থাকে । লাল চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে চোখ পিট পিট করে । ঠোট দিয়ে ঠোট কামড়ে ধরে ভয়ে ।
তানভীর – কুচকে আছো কেন ? ভয় পাচ্ছ ? তোমার ব্যপারে অনেক কথাই শুনি । অনেক famouse তুমি । রাতের বেলা জিন ধরো তুমি । এসব কেন ? কি ধরনের পাগলামি এসব ? বড় হচ্ছো তো । তাহলে বুদ্দ্বি কেন বাড়ছেনা আম্মুনিকা হরলিক্স খাওয়াকা বাচ্চিকা ? 😠
লাবিবা থর থর করে কাপতে থাকে । তানভীর নিজেকে সামলে নিয়ে বলে – দুষ্টু পুতুল , সামনে তোমার পরিক্ষা । to be serious yarrr .. জিন কেন ধরতে হয় তোমার ?
লাবিবা ভয়ে ভয়ে ওর ইচ্ছার কথা আর সপ্নের কথা বলে । তানভীর যেন পাগল হয়ে যাবে এমন অবস্থা । এরোকম অদ্ভুত ইচ্ছা কার থাকে ? দুষ্টু পুতুল বলেই মনে হয় সম্ভব । গম্ভীর ভাবে বলে
– শোন ,কাল থেকে যেনো পড়া না মিস হয় । কয়েকদিন থেকে তোমার এসব অযুহাত দেখে যাচ্ছি । আর দেখবোনা । কাল না পারলে তুমাকে punished করবো আমি ।
may i come in ? দরজার দিকে তাকায় তানভীর । চোখ আটকে যায় দরজায় দাড়ানো মেয়েটির দিকে । নুপুর আপু বলে উঠে যায় মেয়েটির দিকে । তারমানে এই আখি । নুপুরের বোন । কিন্তু এতো সুন্দরী ..নুপুর ও সুন্দরী কিন্তু আখির সৌন্দর্যের তুলনায় কিছুই নয় । সাদা থ্রি পিচ পড়া আখি সাদা শরীরে ..অপরুপ মুখের গঠন অনেক সুন্দর লম্বা চুল মিলিয়ে হুর পরীর ন্যায় । তানভীরের চোখ সরছে না । খুতিয়ে খুতিয়ে আখিকে দেখতে থাকে । কেমন যেনো চেনা চেনা লাগে তার কাছে । নুপুরের সাথে কিছুটা গড়নে মিল আছে । তাই হয়তো চেনা লাগছে । চোখ নামিয়ে নিয়ে বললো
– yes , come in .
আখি রুমে ঢুকে বললো – কেমন আছেন তানভীর ভাইয়া? আমি পড়তে চেয়েছিলাম আমাকে কেন নিতে চাননি ?
-আলহামদুলিল্লাহ । আমি প্রাইভেট পড়াই না । লাবিবা আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ও হয় । আর ওদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো তাই আমি পড়াতে চেয়েছি । তোমার বোন ওর বান্ধুবী তাই এসেছে । এখন তোমাকে কিভাবে নেই বলোতো ? After all , i am not a tutor . অনান্য স্যারের কাছে পড়তে পারোতো ।
– স্যার পড়াতে চাইলেও পারে না । student রা কোন batch এ আমাকে allow করে না । আমার জন্য নাকি তাদের স্যার পড়ায় না । শুধু আমাকেই পড়ায় ।
তানভীর বুঝতে পারে । এরোকম একজন চোখ ধাধানো সুন্দরী সামনে থাকলে আর কারো যে পড়া হবে না তা ভালো করেই জানে । তার নিজের ই চোখ বার বার চলে যাচ্ছে । চাইলেও আটকাতে পারছে না । চোখ বন্ধ করে নেয় তানভীর । আশ্চর্য জনক ভাবে লাবিবার নিষ্পাপ মুখটা ভেসে উঠে । লাবিবার কথা মনে পড়ে যায় । এতোক্ষন অনেক বকাঝকা করেছে । পিছনে তাকিয়ে দেখে জড়োসড়ো হয়ে চুপ চাপ বসে আছে । নুপুরকে বলে – তোমার ছুটি । আপুর সাথে চলে যাও। নুপুর ব্যাগ নিয়ে চলে যেতে নিলে আখি বলে
– তানভীর ভাইয়া ..পড়াবেন না আমায় ?
– না আপু পড়াবোনা । আমি কোন tutor নই।
আখি নুপুর চলে যায় । লাবিবা বই গোছাতে থাকে । ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে তানভীরের দিকে তাকিয়ে পা বাড়ায় চলে যাবার জন্য । তানভীর ডাকে
– দুষ্টু পুতুল ..come to me .
লাবিবা এগিয়ে এসে সামনে দাড়ায় । তানভীর নিচু হয়ে লাবিবার মেঘে ঢাকা মুখটা দেখে । সামনে আসা চুলগুলো হাত দিয়ে কানের পিছু গুজে চিবুক ধরে উপরে তুলে মুখটা । দু গালে দু হাত রেখে চোখে চোখ রাখে । লাবিবা উৎসুক চোখে তানভীরের দিক তাকিয়ে । মনে মনে ভাবছে স্যার কেন তার গাল ছুল ? একটু আগে বকলো এখন কেন আদর করছে ? অদ্ভুত একটা ডলফিন জিন । ইসস.আবারো জিনের কথা ভাবছি আমি । তুই মানুষ হলিনা লাবিবা । স্যার তো অনেক সুন্দর । জিন রা কি স্যারের মতো সুন্দর 🤔নাকি আরো বেশি সুন্দর 🤔
তানভীর – Fairy princess লাবিবা তানহা এলিজা , আপনি devil lover কবে হলেন ?
হকচকিয়ে উঠে লাবিবা । খাতায় Fairy+Devil লেখা ছিল ডিজাইন করে । ঐটা দেখে ফেলেছে নাকি 🙊
তানভীর ভ্রু উচিয়ে তাকিয়ে থাকে । লাবিবা কি বলবে বুঝতে পারে না । এমনিতেই মুখটা তানভীরের দু হাতের মাঝে । নিচের দিকে তাকতেও পারছে না । ঠোটে ঠোট কামড়াতে থাকে ।
তানভীর – Fairy .. Prince না চেয়ে devil কেন চাইলো ? জানতে পারিকি ? Devil এর মাঝে কি এমন পেল সে যে এই বয়সেই তার মনে devil উকি ঝুকি দেয়? নির্ভয়ে বলতে পারো । I promise you কাউকে বলবোনা ।
– আমিতো human fairy তাই human good devil এর কথা বলেছি । human good devil দের আমার অনেক ভালো লাগে ।
– কেন ?
– আমার আব্বু একটা devil আম্মুনিকে বকে আমাকে বকে মারে ..but he loves us onkmuch . আমার জেঠু devil .. সব সময় বড় আম্মুর সাথে দাতে কিরমির করে কথা বলে , কিন্তূ বড় আম্মু অসুস্থ হলেই কাদে আর বলে সখিনা আমি তোমাকে অনেক ভালুপাসি তুমি তারাতারি আমার বুকে সুস্হ হয়ে ফিরে আসো । আমার এত্তোগুলা ভালো লাগে । আমার বিনাপুকে কয়েকদিন পর পর ই ভাইয়া বকে । devil একটা । আপু রাগ করে বাসায় চলে আসে । কিন্তু ভাইয়া একটা রাত ও আপু ছাড়া থাকে না । রাত তিনটা বাজলেও চলে আসে । বিনাপু আর জেমি আমাদের বাসায় থাকলে প্রতিদিন ই দরজা খুলে রাখা হয় । সবাই জানে ভাইয়া আসবে । এরা হচ্ছে good devil. যাদের এত্তোগুলা ভালো লাগে আমার । good devilরা অনেক ভালুপাসে অনেক care করে । আপনিও devil. অনেক বকেন কিন্তু আপনি সুন্দর করে পড়া বোঝান । মানুষের উপকার করেন । good devil . আর যারা বলে তারা ভালোমানুষ তারা আসলে ভালো না । তাদের মনে অনেক কালা কুত্তার গু স্টোকে থাকে । I love good devils. আর devil familyr সাথে devil রাই add হয় ।
তানভীর মন্ত্রমুগ্ধের মতো লাবিবার বর্ণনা শুনে । তার ও মনে হয় লাবিবা ঠিক কথা বলেছে । যারা একটু অপরাধ করে তাদের ই আমরা শয়তান বলি । সেই হিসেবে লাবিবা ঠিক । লাবিবার অল্প পরিসরে নিজের পরিবারকে দেখে এটা মনে হওয়ারই কথা । লাবিবার জ্ঞান বুদ্ধি পরিবেশের দিক থেকে লাবিবার কথাই ঠিক ।
তানভীর – I wish তোমার ড্রীম ফুলফিল হোক । তোমার ডেবিল এসে তোমাকে কালো গোলাপের সুভাসে ভরিয়ে দিক । আর শোন ..ডেবিলরা আসার নির্দিষ্ট একটা সময় লাগে । তুমি আর বাগানে গিয়ে ওয়েট করোনা । ডেবিল যখন আসবে দেখবে তুমি যেখানেই থাকোনা কেন তোমার সামনে নিজেকে হাজির করবে । এখন বাসায় যাও । কাল পড়া শিখে এসো ।
লাবিবা বাইরে বেড়িয়ে আসে । একবার গোলাপ গুলোর দিকে তাকায় । সে ভেবে পায়না কেন এতো টানে তাকে গোলাপ গুলো ।

বাড়িতে আসতেই অনেক আত্মীয় স্বজন কে দেখে । কয়েকজন বিনার নানু বাড়ির লোক । বিনার শ্বশুর শাশুড়ীও আছে । বাড়িটাও চকচকে করা হচ্ছে লোক লাগিয়ে । ব্যপার টা বুঝতে পারে না ‌। ভিতরে গিয়েই একলাফ ..বিনার মামাতো ভাইবোন লাবিবর বয়সী । ওদের সাথে খুব ভাব । ওদের কাছ থেকে জানতে পারে কাল অনুষ্টান হবে ছোট করে । লাবিবা আবার খালামনি হতে যাচ্ছে। আনন্দ যেন ধরে না আর । পুচকু আসবে বাড়িতে । পুচকুর সাথে খেলবে ভাবতেই লাফালাফি শুরু করেছে । রাতে সবাই খাওয়া দাওয়া করার পর লাবিবা বিনার রুমে আসে
– বিনাপু , সবাই জানলো আমি কেন জানলাম না ?
– কেন তোকে বলেনি ‌কেউ ?
– নাতো ।
– ওও সরি সরি ..আমি ভেবেছিলাম তুই জানিস তাই বলিনি । সরি বনু । ( বিনা ইচ্ছা করে বলেনি । কারন লাবিবাকে বললে সারাবাড়ি মাথায় করবে ও । সবাই জানাজানি হয়ে যাবে । চার মাস হওয়ার আগে বাইরের কাউকে জানানো উচিৎ না । এতে বাবু নষ্ট হতে পারে । গ্ৰআমের অশিক্ষিত মানুষদের মনে অনেক বুদ্ধি কুবুদ্ধি ঘুরে । হিংসার বর্শবতী হয়ে কু নজর দিতে পারে যা কেউ জানবেই না । সাবিনারও তিনটি বাচ্চা নষ্ট হয়েছে তিন মাস হওয়ার আগেই । তাই বিনার ব্যপারটা চার মাস হওয়ার আগে কাউকে জানাতে দেয় নি । বড় বাড়ির বউয়ের বাচ্চা হবে তাই ওনারা অনুষ্টান করবেন । জেমির সময় বিনার শশ্বুড় বাড়ি অনুষ্টান হলেও এবার বেলালের মিনতিতে এই বাড়িতে অনুষ্টান করা হয়েছে ‌। )
লাবিবা কিছু না বলে উঠে চলে আসে । রুমে এসে দেখে সাবিনা আলমারিতে কি যেন রাখছে । লাবিবা এসে দাড়াতেই বলে – দেখতো এটা পড়ে হয় কিনা ?
লাবিবার হাতে প্যাকেট দেয় । প্যাকেট থেকে জামা বের করে লাবিবা হা হয়ে যায় । মেজেন্টা কালার খুব গর্জিয়াস একটা বার্বি গাউন 😍😘। তারাতারি করে চেঞ্জ করে । একদম ফিট । আয়নার সামনে দাড়িয়ে আরো হা । সাবিনা থুতনিতে চাপ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয় ।
সাবিনা – খুল এবার । কাল পড়বি । বাইরে থেকে ঘুরে আয় একবার।
লাবিবা বাইরে এসে দেখে বড় লাইট ছোট লাইট ফেইড়ি লাইটে লাল নীল হলুদ সবুজ সাদা হয়ে আছে পুরো বাড়ি । অসম্ভব সুন্দর লাগছে । লাবিবা থ বসে পড়ে দু গালে হাত দিয়ে বলে
– আলো ফুল😱😱 I love it onkmuch 😍😍😘😘।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে বাড়ি ভর্তি লোকজন । বিনার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন চলে আসছে সবাই । এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিরা , টিচার সার্কেলের সবাই ।সকালে খাবারের জন্য দাওয়াত দেওয়া হয়েছে লোকজন দের । সকাল সকাল অনুষ্টানের ভেজাল সাড়তে চান ইসমাইল বেলাল । তাড়াতাড়ি জামা পড়ে সাজতে চলে যায় বিনার কাছে । মুক্তা বিনার পাশে বসা
সেইযে সকালে এসে বসেছে আর উঠার নাম নেই । বিনাকে যেন পাশে না পেলে সে পাগল হয়ে যাবে । একটা হাত ও মুঠিতে ধরে আছে । লাবিবা সাজতে বসলে বিনা হাত ছাড়াতে নিলে হাত শক্ত করে ধরে মুক্তা । বিনা রাগী চোখ করে তাকিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয় । লাবিবা বলেই ফেলে
– ভাইয়া তুমার কি সকাল থেকে একবারো হিসু পটি পায়নি ?
মুক্তা কেশে উঠে ।
বিনা – চুপ কর তো। ওকে বলে লাভ নেই ।
লাবিবাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয় । চুলগুলো পেছনে উপূড় করে খোপা করে দেয় । মুক্তা বিনা হা করে দেখে । মুক্তা বলে – শোন এদিক ওদিক কোথাও যাবিনা । তোর আপুর সাথে বসে থাক নয়তো আমার সাথে থাক । বলা তো যায়না কে কোথা থেকে এসে নজর দিয়ে তুলে নিয়ে চলে যায় ।
‌লাবিবা – আমাকে আবার কে তুলবে ?
মুক্তা – কথা না বলে যা বলছি তাই শোন ।
লাবিবা – আচ্ছা আমি সবাইকে দেখিয়ে আসি বলেই জামা তুলে দৌড় ।
ইসমাইলকে খুজতে খুজতে পায় রাস্তার ধারে । অনেক গুলো গাড়ি । এগিয়ে এসে ইসমাইলকে ফিরোজ খানের সাথে দেখে বুঝতে পারে এমপির দল এসেছে । উকি ঝুকি মেরে দেখার চেষ্টা করে তানভীর এসেছে কিনা । কিন্তু না পেলো না । দৌড়ে ইসমাইলের কাছে গিয়ে ঘুরে ঘুরে বলে – আব্বু ..এইযে দেখো ।
ইসমাইল মেয়েকে একহাতে ধরে দাড় করায় বলে
– হে হে আমার পুতুল কন্যা। যাও ঐদিকে আমি এখানে কথা বলছি ।
ফিরোজ লাবিবার হাত ধরে এগিয়ে এনে বলে – দেখি দেখি .. একদম বারবি ডল লাগছে লাবি মা টাকে । অনেক সুন্দর লাগছে ।
পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে এক হাজার টাকার নোট লাবিবার হাতে ধরিয়ে দেয় । ইসমাইল আপত্তি করতে গেলে ফিরোজ থামিয়ে দেয় । লাবিবা খুশিতে লাফাতে লাফাতে বাড়ির ভিতর চলে আসে ।

To be continue ____

একগুচ্ছ_কালো_গোলাপ🖤
#
লাবিবা_তানহা_লিজা
#পর্ব_১১

🍁
বিকালে লাবিবা এসে বসে আছে খান বাড়িতে । তানিয়া পড়া শুরু করেছে বসেই । একটু পর নুপুর ও এসে বসে । তানভীর এখনো নিচে reading room এ আসে নি । নুপুর এসেই লাবিবাকে জড়িয়ে ধরে ।
নুপুর – দোস্ত ফোন আনছিস ? ছবি গুলো দেখা ।
বলেই নুপুর ফোন হাতে নেয় । লাবিবা আটকিয়ে দিয়ে বলে
– যাওয়ার সময় দেখাবো । পড়া তো শিখি নাই দোস্ত । অনুষ্টানের জন্য। এখন কি হপ্পে ?
নুপুর – আরে দোস্ত no tention be cool . স্যার একটু বকা দিবে তারপর শেষ । আমি শিখেছি রাতে ।
লাবিবা- কিহহহ!! তুই না বললি তুই শিখিস নি ?
নুপুর – আব্বু শিখিয়েছে । আব্বু পড়িয়েছে কাল ।
লাবিবা মন খারাপ করে । নুপুর শিখেছে ও শিখতে পারলো না। কিছুক্ষনের মধ্যেই তানভীর নিচে আসে । লাবিবা চেহারা দেখেই পিট পিট করে তাকায় । চোখ দুটো আজ ও লাল হয়ে আছে । ভয়ংকর লাগছে তানভীরকে। দেখেই মনে হচ্ছে ও ঠিক নেই । নুপুরকে বলে – আমার ফোন নাম্বার তোমার কাছে কিভাবে গেল ?
নুপু – লাবিবার কাছ থেকে নিয়েছি ।
তানভীর – তো তোমার বোন কেন কল দেয় আমায় ? সাবধান করে দিবে কল দিতে । নেক্সট টাইম যেন আমি তার ফোন না পাই ।
নুপুর মাথা নাড়ায় । কাল রাতে নুপুরের কাছ থেকে আখি তানভীরের নাম্বার চেয়ে নেয় । তারপর তানভীরকে কল দেয় । তানভীর ঘুমাতে যাচ্ছিলো আননোন নাম্বারের ফোন পেয়ে দুবার কেটে দেয় বিরক্তিতে ।ঘুম পাচ্ছিলো তার খুব। তিনবারের মাথায় কানে ধরে বলে – Md. Tanvir khan speaking .
আখি – সুন্দরী মেয়েদের ফোন পাওয়ার জন্য সবাই অপেক্ষা করতে থাকে । আর আপনি দেখছি ফোন কাটেন । I like it .
তানভীর – who are you bloodyy girl . এতো রাতে ফোন করে আজেবাজে কথা বলো 😠
আখি – রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন ।আজিতো আমাদের দেখা হলো । ভুলে গেলেন নাকি আমাকে ? এতো সুন্দর মেয়েকে কি কেউ ভুলে ? হা করে তো তাকিয়ে ছিলেন ।
তানভীরের বুঝতে বাকি রইল না আর এইটা কে ।
– আখি রাইট ? কেন ফোন দিয়েছো ?
– ভালো লাগছিলো না । তাই ভাবলাম একটু কথা বলি । বিরক্ত হচ্ছেন ? আমার ভয়েজ কি খারাপ ?
– bf নেই ?
– খুজছি …যদি মনের মিল হয় ।
– গুড নাইট । ঘুমাও ।
তানভীর ফোন অফ করে চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ।

তানভীর বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে শুধু । লাবিবা ভয়ে ভয়ে জিজ্জাসা করে – স্যার আপনি কি রেগে আছেন ? মার পিট করেছেন ?
লাবিবার জিজ্জাসা টা ঠিক নিতে পারলো না তানভীর । ওর এখন সব কিছু কটাক্ষ লাগছে । পড়াতেও ইচ্ছা করছে না । একটু আগে ফোনে ——

তানভীর – হ্যালো রাজীব । তোর সাথে কথা ছিলো । কিন্তু কি ভাবে বলবো বুঝতে পারছিনা ।
রাজীব – আরে দোস্ত বল ।
তানভীর – তুই তোর জি এফ এর সাথে ব্রেকাপ করে দে ।
রাজিব- পাগল নাকি তুই ? ও আমার জান দোস্ত। অনেক একটা ভালো মেয়ে । ওর মতো একটা মেয়ে আজকাল পাওয়া দুস্কর। তুই ছবি দেখেছিস তার ।
তানভীর – শুধু ছবি দেখিনি সামনাসামনিও দেখেছি । ঐ মেয়ে ক্লাস টেনে পড়ে । আমাদের এলাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে । ওর বাবা কৃষি কাজ করে। কিসের কোটিপতির মেয়ে ? কিসের মিল কিসের ফ্যাক্টরি ? কিসের মার্জিত মেয়ে ? সব ভূয়া । তোকে মিথ্যা বলেছে সব । ঠকিয়েছে তোকে । আমার সাথে ভাব দেখাচ্ছে । সুন্দর করে সেজে আসছে যাতে আমি তার দিকে তাকাই । পুরো খেলোয়াড় ভাই । এক্ষূনি ব্রেকাপ কর তুই।
রাজিব- দেখ আমি জানি আমার আখি সুন্দর । তার দিকে আমার সব ফ্রেন্ডের নজর। তোকে আলাদা ভেবেছিলাম। কিন্তু তুই ও দেখি ওদের দলে ।
তানভীর – ঠিক ভাবে কথা বল রাজিব। তোকে নিজের মনে করি তাই তোকে এই মেয়ের থেকে সাবধান হতে বলছি ।
রাজিব- চুপ কর তুই । তোর থেকে আমি এইটা আশা করিনি । কক্ষোনোনা। সব গুলার মতো তুইও শালা । শোন এর পর আমার আখির সম্পর্কে আর একটা কথাও বলবিনা । সব গুলার সাথে আগেই সম্পর্ক শেষ করেছি আজ তোর আর আমার সম্পর্ক শেষ । গুড বাই ।
তানভীর -রাজিব শোন ..শোন আমার কথা ।
রাজিব ফোন কেটে দেয় । তানভীরের প্রচুর রাগ হচ্ছে। এর জন্যই হয়তো কারো ভালো করতে নেই কখনো । সালার একটা বাজে মেয়ের জন্য রাজিব ওকে ভুল বুঝলো । সোহানার ডাক পড়াতে পড়াতে আসে । পড়াতে এসে নুপুরকে দেখে আরো রাগ লাগছে তার ।

তানভীর লাবিবার দিকে বই এগিয়ে দিয়ে বলে complete the Rearenge .
লাবিবা এখন কি করবে ? একবার চোখ বুলায় প্রশ্নটার দিকে । কি কঠিন কঠিন word. এর meaning গুলোও তো পারে না । তাহলে করবে কিভাবে ? এখন তো বলতেও পারছেনা যে পারবেনা । তবুও খাতা কলম নিয়ে বসে । নুপুরের দিকে তাকিয়ে দেখে নুপুর দিব্বি লিখে যাচ্ছে । এদিকে লাবিবা টেনশনে কলম কামডাতে থাকে । কলম সরিয়ে নুপুরের খাতায় উকি দিয়ে দিয়ে লিখছে । তানভীর এক নজরে লাবিবার দিকে তাকিয়ে দেখছে । এবার চুপ থাকতে না পেরে বলল – পড়া শিখ নি ?
লাবিবা চুপ ।
– answer me .
লাবিবা আমতা আমতা করতে লাগলো ।
টেবিলে জোড়ে হাতে বাড়ি দিয়ে চিল্লিয়ে উঠল তানভীর । – যতোদিন থেকে পড়তে আসছো একটা দিন ও পড়া দিতে পারোনি । ব্যাপার টা কি তোমার ?
তোমার আব্বু এমনি এমনি আমার কাছে পাঠায়নি । অন্যান্য স্যারের মতো আমাকে ভেবে ভুল করেছো তুমি । সব সময় দুষ্টুমি করবে পড়ায় ফাকি দিবে পরিক্ষায় ফেল করবে সেই দায় আমার উপর উঠবে সেটা আমি আমি হতে দিচ্ছি না । শেষ মেষ তোমার আব্বু বলবে যে তানভীর কিছু পড়ায়নি আমার মেয়েকে শুধু শুধু salary নিয়েছে । যদিও আমি এমনি পড়াচ্ছি তোমাকে কোন salary নিবো না । আমার কাছে তোমার আব্বু যাস্ট হাতের ময়লা ছাড়া কিছুই নয় । সোজা আঙুলে অনেক চেষ্টা করেছি এবার বাকা আঙুলে সোজা করবো তোমায় । তোমার জন্য punishment ছাড়া কাজ হবে না । আমি সেটাই করবো । তোমার মতো অনেক কে মানুষ করেছি আমি ।
তানভীর এদিক ওদিক তাকিয়ে স্কেল পায় । স্কেল সামনে ধরে বলে – হাত পাত । আজকে থেকে এই দাগ গুলো দেখবে আর পড়বে।
লাবিবা নুপুর তানিয়া ভয়ে কাপা কাপি অবস্থা । তানিয়া এক দৌড়ে মম মম বলে চলে যায় । পিছু পিছু নুপুর ও দৌড় । লাবিবা বেচারি কাপতে কাপতে হাত এগিয়ে দেয় । তানভীর ইচ্ছা মতো যত রাগ সব লাবিবার দুই হাতে ঝাড়ে । লাবিবা এদিকে ব্যথায় চিৎকার করে কাদতে থাকে
– আম্মুনিগো মরে গেলাম গো । হাত দুটো শহীদ খাইলো গো । ও শাশুমা গো তোমার ছেলে বউ হাত ছাড়া হয়ে গেলো গো । তোমাকে আর রেধে বেড়ে খাওয়াতে পারবে না গো । আমি জানি তুমি এই ছেলের বউ ঘরে তুলবেনা গো । ও আমার গো বিয়ে হবে না গো । আমি কি করবো গো । ও শাশুমা গো আমাকে তুমি ছেলের বউ করে ঘরে তুলবেনা গো । ও শাশুমা গো হাত ছাড়া বউ দিয়ে কি করবে গো …আমি আর বাচবোনা গো ।
সোহানা মমতা এসে তানভীর কে সরায় । লাবিবাকে ধরে । লাবিবার এইসব চিল্লানো শোনে তানভীরের আরো রাগ উঠে গেছে । এই মেয়ের জন্য ই এতো কিছু । সোহানা রাগে তানভীরের গালে চড় বসায় ।
এতোটা খারাপ হয়ে গেছিস তুই । তোকে কতবার বোঝাতে হবে ঐটা তোর বাপের বিরোধী দল নয় । ঐটা একটা বাচ্চা মেয়ে যাকে আদর করতে হয় মারতে না । দিক বেদিক হুস জ্ঞান হারিয়ে বসে আছিস তুই । মেরে কেউ কখনো কাউকে পড়াতে পারে ? ইসমাইল ভাই এমনি এমনি তোর কাছে পড়তে দিয়েছে ? পড়াতে পারবিনা না করে দে । এভাবে মারছিস কেন ?
তানভীর নিভল ।
মমতা আগেই লাবিবাকে নিজের রুমে নিয়ে চলে এসেছে । তানিয়া মলম এনে দিয়েছে । হাতে মলম দিয়ে দিচ্ছে। ব্যথায় আরো চিল্লাচ্ছে লাবিবা। সোহানা এসে বুকে চেপে কান্না বন্ধ করতে চাচ্ছে । কিন্তু লাবিবা আম্মুনিগো শাশুমাগো বলে চিল্লাতেই আছে । সোহানা অনেক বুঝ দিতে থাকে
– মা টা আমার চুপ করো । কোথায় ব্যথা করছে দেখি দেখি । খুব মরেছে ও । ওকে বকে দিবো । মার দিবো । চুপ করো মা । দরকার হলে আমিই তোমাল
র শাশুমা হবো । তোমাক রেধেবেড়ে খাওয়াবো মা । তোমার কিছু করতে হবে না । লক্ষী মা টা আমার । ভালো হয়ে যাবে হাত । আমি আছিতো তোমার কোন কাজ করতে হবে না । আমিই সব করবো । তুমার আব্বু এসে তোমাকে কাদতে দেখলে কষ্ট পাবে তো । আব্বুও কাদবে । তুমি কান্না বন্ধ করো মা । ব্যথা কমে যাবে ।
লাবিবা কাদতে কাদতে সোহানার বুকেই চুপ হয়ে যায় । সোহানা মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় । মমতা টেবিল ফ্যান ছেড়ে দেয় । তানিয়া হাত দুটো উচু করে বাতাসে ধরে রাখে । বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে থাকে । লাবিবা মুখ তুলে বলে – শাশুমা ক্ষুধা পেয়েছে ।
সোহানা – কি খাবে আমার মা টা ?
লাবিবা- ডুডুলস ।
সোহানা- কিহহ?
লাবিবা- ডুডুলস খাবো ।
তানিয়া -নুডুলস খাবে ?
লাবিবা মাথা নাড়ায় ।
সোহানা উঠে চলে যায় কিচেনে । নুডুলস করাই ছিলো । ওগোলো গরম করে একটু । তানভীর এর মাথা এতোক্ষনে ঠান্ডা হয়। কি করেছে ও ভাবতেই খারাপ লাগতে থাকে । দুষ্টু পুতুল টাকে মেরেছে ভাবতেই বুকে ব্যাথা অনুভব করে । কিচেনে সোহানাকে দেখে বলে
– মম দুষ্টু পুতুল চলে গেছে ?
– না ও আছে । নুপুর চলে গেছে ।
– ওর হাতে মেডিসিন লাগিয়েছো ?
সোহানা একবার ছেলের দিকে তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নেয় । নুডুলস নিয়ে উপরে চলে আসে । পিছু পিছু তানভীর ও আসে । সোহানা চামচে করে লাবিবাকে খাইয়ে দেয় । তানভীর ভিতরে রুমে ঢুকতেই লাবিবা শাশুমা শাশুমা বলে ভয়ে সোহানাকে জড়িয়ে ধরে । সোহানা ইশারা করলে তানভীর রুমের বাইরে চলে যায় ।
তানভীর বলে – ওকে পাঠাও। বাসায় দিয়ে আসি ।
সোহানা – তোমাকে দিয়ে আসতে হবে না । কেউ একজন দিয়ে আসবে । তুমি যাও এখান থেকে ।
তানভীর চলে যায় । যাবার সময় একবার লাবিবার দিকে তাকায় । লাবিবা সোহানার বুকে মুখ গুজে তানভীরের দিকে তাকিয়েই চোখ পিট পিট করে ।

To be continue _______

#একগুচ্ছ_কালো_গোলাপ🖤
#লাবিবা_তানহা_লিজা
#পর্ব_১২

🍁
রাতে তানভীর বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে থাকে । কিছুতেই ঘুমোতে পারে না । চোখবন্ধ করলেই লাবিবার কান্না জড়ানো জলে ভরা চোখ দুটো ভেসে উঠে । উঠে বসে বেলকনিতে আসে । গোলাপ গাছটির দিকে নজর পড়তেই হেসে ফেলে । তারপর আবার মুখে আবার অনুতাপের ছায়া পড়ে।বাচ্চা একটা মেয়ের উপর নিজের রাগ কমানো একদম উচিত হয়নি । রেগে গেলে মাথা একদম ঠিক থাকে না । নিজেকে কেনো যে কন্ট্রোল করতে পারে না বুঝেনা । পড়া যে শিখবেনা এটাতো জানাই ছিলো । শিখিয়ে দেবার জন্যই তো পড়ানো । কেন করলো এটা ? যে মেয়ে ব্যথা না পেয়েই কাদে আর তাকে এতোটা ব্যথা দিলো । কিভাবে পারলো এটা সে ? চোখ দুটো বন্ধ করে নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে “I am sorry…I am sorry..forgive me please ..I never hard you . Sorry for this . ”

বিকালে reading room এ এসে দেখে কেউ আসেনি । লেট হচ্ছে ভেবে বসে পড়ে তানভীর । অপেক্ষা করতে থাকে । তানিয়া ব্যাগ নিয়ে এসে বসে । তানিয়াকে জিজ্জাসা করলে তানিয়া কিছু জানে না বলে । চিন্তায় পড়ে যায় তানভীর । তাহলে কি ইসমাইল লাবিবাকে আসতে নিষেধ করে দিলো ?তানভীর উঠতে নিলে চোখে পড়ে একটা ফোন । হাতে নিয়ে দেখতে থাকে। স্যামসাং ফোনটি খুব সুন্দর পুতুল লাগানো একটি কভার । এবাড়ির কারো নয় বুঝাই যাচ্ছে।তানিয়াকে জিজ্জেস করে – এটা কার ফোন ? তানিয়া ফোন দেখে বলে – ওমা..এটাতো লাবিপুর । তখনি ফোন আসে তানভীরের ফোনে । নুপুরের নাম্বার দেখে রিসিভ করে
নুপু- আসসালামুয়ালাইকুম।
তানভীর- ওয়ালাইকুম সালাম । কোথায় তুমরা ? এখনো আসোনি কেন ?
নুপু- স্যার লাবিবা আর আমি একসাথেই যাবো । ও সুস্থ হোক তারপর ।
তানভীর – কেন? কি হয়েছে ওর ?
নুপু- স্যার ওর অনেক জর ।
তানভীর – ওহ আচ্ছা । ওকে এসো ।
নুপু- আসসালামু আয়ালাইকুম ।
তানভীর উপরে চলে আসে ফোন নিয়ে ।

রাতে আবার ফোনে কল আসে । স্কিনে আখির নাম্বার দেখতে পায় ।রাগ হলেও তানভীর নিজেকে সামলে নেয় । রিসিভ করে রেকর্ড চালু করে ।
তানভীর – হ্যালো
আখি- আপনিতো ভারী লেট ..এতোক্ষন সময় লাগে নাকি ফোন ধরতে ?
তানভীর – আমি নিশ্চয় তোমার ফোনের জন্য বসে ছিলাম না ।
আখি- আপনি এভাবে কেন কথা বলেন ? আমাকে দেখে কি আপনার এমন ভাবে কথা বলতে ইচ্ছা করে ?
তানভীর গা ঝাড়া দিয়ে বলে – তো কিভাবে কথা বলতে হবে শুনি ।
আখি- সোফ্ট মানুষের সাথে সোফ্টলি কথা বলতে হয় ।
তানভীরের লাবিবার কথা মনে পড়ে । খুবই রাফ ব্যবহার করে ফেলেছে ।
তানভীর – তুমি কি আমাকে পছন্দ করো ? দেখো সোজা সাপ্টা উত্তর দিবে । আমি স্পষ্ট ভাষীকে পছন্দ করি ।
আখি মাথা নাড়িয়ে লজ্জা ভাব এনে বলে – জি ।
তানভীর – আমার সাথে রিলেশন শীপে যেতে চাও ?
আখি- জি
তানভীর – রাজিবের সাথে কি ব্রেকাপ করে দিয়েছো ?
আখি এবার আমতা আমতা শুরু করে । সামনে নিয়ে কাপা গলায় বলে – কে কে রাজিব ?
তানভীর – ও এখন রাজিব কে চিনো না ? যার সাথে একবছরের রিলেশন তাকে চিনোনা। যাকে বেলেছো তুমি এইচ এস সি এক্সাম দিবে । সিলেটে তোমার বাসা।তোমার বাবা লন্ডনে অনেক বড় ব্যবসায়ী । কোটি কোটি টাকা তোমার বাবার । তোমার বাবা তোমাকে নিয়ে খুবই কনসান তাই তোমাকে একা ছাড়ে না । তাই তুমি মিট করতে পারছো না । একের পর এক গিফ্ট রিসিভ করছো ।
আখি কাপতে কাপতে বলে -আপনি কে ?
তানভীর- চুপ করো বেয়াদব মেয়ে । ফাজিল থার্ড ক্লাস মেয়ে । লজ্জা করে না তোমার ? এতো মিথ্যা কথা বলে একটা ছেলেকে জালে ফাসিয়ে তাকে ব্যবহার করতে ? ওইটা দুরে হয়ে গেছে তাই এখন আমার সাথে ভাব নিচ্ছো যেন তোমার রুপে আমি পটে যাই । ছোট একটা মেয়ে নাক চাপলে দুধ বের হবে আর সে প্লে গার্ল হোওয়ার রাস্তায় হাটছে । এমপির ছেলে দেখতে হ্যান্ডসাম বড় লোক দেখে লাইন দিতে চলে আসছো । বাজে মেয়ে কথাকার । রাজিবের কাছে যেনে নিবে আমি কে ? ফোন রাখ।

ফোন কেটে রেকডিং টা রাজিবকে সেন্ড করে । বিছানায় ফোন ডিল দিয়ে বেলকনিতে চলে আসে । গোলাপ গাছটির দিকে চোখ পড়তেই লাবিবার ফোনের কথা মনে পড়ে । রুমে এসে ফোন হাতে নিয়ে ক্লিক করতেই কিউট একটা পিক লক স্কিনে ভেসে উঠে সাথে সাথে তানভীরের ঠোটেও মৃদু হাসি ফুটে ওঠে । নিমেষেই বিরক্তির সব আধার কেটে যায় । বালিশে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে । ফোনটা লক করা তাই খুলতে পারছে না । অনেক নাম দিয়ে খুলার চেষ্টা করে । লাবিবার নাম বয়স সব কিছু দিয়ে ট্রাই করে বাট পাসওয়ার্ড মেচ করে না । শেষ মেষ লাবিবার খাতার ফেয়ারি❤ডেবিল নামটা মনে হয় । লগ ইন করতেই লক খুলে যায় । লক খুলতেই আরেকটা কিউট পিক স্কিনে ভেসে উঠে । তানভীর ফোন ঘেটে দেখতে থাকে । কল লিস্টে জানু ভাইয়া এই দুই নাম্বারেই বেশি কল । জানু নুপুরের নাম্বার আলষর ভাইয়া মুক্তা স্যারের যদিও মুক্তা স্যারের নাম্বার তানভীর চিনেনা ধরে নিয়েছে । এপ স্টোরে সব গেমস । ভিডিও লিস্টে শুধু কার্টুন- মিনা রাজু, সিসিমপুর, ওগি, ফেয়ারি টেল। এসব দেখে তানভীর হাসতে হাসতে শেষ । মনে হচ্ছে পাচ বছর বাচ্চার একটা ফোন হাতে নিয়েছে । গ্যালারিতে গিয়ে তানভীর শকড। আট হাজার ছাপ্পান্ন পিক দুষ্টু পুতুলের । লাবিবার প্রত্যেকটা পিক দেখে তানভীরের নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার অবস্থা । একেকটা কস্টিউম সব গাউন ঠিক যেন পরীর ড্রেস ~ একেকটা স্মাইল দুষ্টুমিতে ভরা দুস্টু পুতুল ~ একেকটা লুক নেশা ভরা ~ একেকটা পোজ মডেলদের থেকে কম না ~ একেকটা এক্সপ্রেশন পাগল করা ~ একেকটা বডি ল্যাংগুয়েজ লাইক হিরোইন। সারারাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় তানভীরের । পিকের মেয়েটাকে কিছুতেই পিচ্চি দুষ্টু পুতুলের সাথে মেলাতে পারছে না । মনে হচ্ছে উনিশ বছরের এক যুবতি মডেলের ফটোশুট করা ফটো দেখছে সে । এ যাবত যা খেয়াল করেনি আজ তাই খেয়াল করছে । প্রত্যেকটা পিক খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে থাকে সে । রাত্রি শেষ প্রহরে তার পিক দেখা শেষ হয় । আযানের শব্দ শোনা যায় । মাথা পুরো হ্যাং । পাগল প্রায় অবস্থা তানভীরের । মুখ থেকে আপনা আপনি উচ্চারিত হয় – ইউ আর এ ………..গার্ল দুষ্টু পুতুল । একটু সাজলে তোমায় এত্তো সুন্দর লাগে আমার ধারনার বাইরে । ইউ আর সো কিউট গুলুমুলু ডিয়ার । ইউ আর রিয়েলি সো সোফ্ট। আমার দেখা শ্রেষ্ট সুন্দরীদের একজন মনে হচ্ছে তোমায়। ইউ আর রিয়েলি লাইক ফেয়ারী । তোমাকে সামনাসামনি দেখার খুব লোভ হচ্ছে দুষ্টু পুতুল । আমি দেখতে চাই তোমায় । আমার মিসবিহেবের জন্য আমি সরি ডিয়ার । সরি ।

বেলা এগারটায় মমতা আসে তানভীরকে ডাকতে । যে ছেলে ভোরে উঠে আজ এতোবেলা করে ঘুমোচ্ছে জন্য চিন্তা হচ্ছে । পিছু পিছু সোহানাও এগোয় । মমতা ভিতরে এসে দেখে তানভীর বিছানায় ঘুমোচ্ছে । ডাক দেয় দু একবার কিন্তু সাড়া নেই । সোহানা এসে ঝাকাতে থাকে । তানভীর আধচোখা হয়ে বলে – মম ঘুমোতে দাও ।
সোহানা – ঘুমোতে দাও মানে ? এগারোটা বাজে । উঠ।
মমতা- তানভীর কখন ঘুমিয়েছিস রাতে যে আজ এতো বেলা ঘুমাচ্ছিস ।
তানভীর – সকালে ।
মমতা- সকালে মানে ? সারারাত ঘুমোসনি কেন ? কোন প্রবলেম ? বল বাবা কি হয়েছে ?
তানভীর – উফ কিছুই হয়নি । এমনি জেগেছি । বেশি চিন্তা করো তুমরা ।
সোহানা – একটাইতো ছেলে আমাদের । করবোনা কেন বল ।
মমতা – হাতে কি এটা দেখি ? ফোন ? কার ফোন এটা পুতুল লাগানো ?
তানভীর হেসে ফেলে ।
– দুষ্টু পুতুলের মম । ভুলে রেখে গেছে । যাও ব্রেকফাস্ট দাও টেবিলে আমি ফ্রেস হয়ে আসছি ।

তানভীর নুপুরকে ফোন করে আসতে বলে । নুপুর এলে নুপুরকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে । উদ্দেশ্য লাবিবার বাসা । বাসা চেনার জন্য নুপুরকে সাথে নিয়ে নেয় । বাজারে এসে নুপুরকে জিজ্জাসা করে – দুষ্টু পুতুল কি বেশি পছন্দ করে ?
নুপু- চকোমো ।
তানভীর – আর তুমি ?
নুপু-আমিও ।
তানভীর দোকানে যায় । চকলেট কেনার সময় উপরের তাক গুলোতে চোখ পড়ে । হরলিক্স , গুড়ো দুধ এর বয়াম দেখে হেসে ফেলে তানভীর । আম্মুনিকা হরলিক্স খাওয়াকা বাচ্চিকা😂। মামা দুইটা হরলিক্সের বক্স ও দেন । চিপস ও দেন । ফ্রুটস এর দোকান থেকে কিছু ফ্রুটস কিনে নেয়।
গাড়িতে এসে একটা চকলেট বক্স প্যাকেট থেকে বের করে নুপুরকে দেয় । নুপুর জিজ্জাসা করে – স্যার এতো বড় প্যাক কেন ?
– তোমার জানু তো অসুস্থ। তাই তাকে সুস্থ করার জন্য প্যাকেট বড় হয়ে গেলো ।

লাবিবার বাসায় এসে গাড়ি থেকে নামতেই ইসমাইল বেলাল এগিয়ে আসে ।
বেলাল-আসসালামুয়ালাইকুম ।
ইসমাইল – আরে তানভীর যে । আসো বাবা আসো ।
তানভীর – ওয়ালাইকুম সালাম । কেমন আছেন আপনারা ?
বেলাল – ভালো বাবা । আসো ।
তানভীর বসার রুমে গিয়ে সোফায় বসে । হাতের প্যাকেট টা টি টেবিলের উপর রাখে ।
তানভীর – লাবিবা কেমন আছে কাকা ?
ইসমাইল মাথাটা নিচু করে নেয় । টিচাররা শাসন করবে মারবে পড়া না শিখলে এটাই স্বাভাবিক। এ ব্যপারে তানভীরকে কিছু বলা শোভা পায় না ।
তানভীর – কাকা আমি সরি। আমি আসলে কয়েকজন ছাত্র পড়িয়েছিলাম । তারা পড়া না শিখলে আমি যেভাবে শাসন করতাম লাবিবাকে সেভাবেই করেছি । আমার আসলে মাথায় আসেনি যে এটা ঐ ছাত্ররা নয় । আমি না বুঝে শুনে কাজটা করেছি । আমি সরি কাকা । ওর হাতের কি অবস্থা ? আমি দেখিও নাই ওর হাতটা ।
বেলাল – না বাবা তোমার সরি বলার কিছু নেই । আসলে দোষটা আমাদের ই । আমাদের মেয়ে পড়া শুনা করে না । তুমি তো শাসন করবেই । মার খেয়ে ভয়ে কে না পড়ে বলো ..। কিন্তু ওর একটা সমস্যা আছে । কোন ছেলের হাতের মার ও সহ্য করতে পারে না । হোক সেটা আমি নয় ওর বাবা নয় ওর টিচার ..যে কোন ছেলের হাতে মার খেলেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ে । টানা জর চলে আসে । কিছুতেই দু তিন দিনের আগে কমাতে পারি না । মেয়ে আমাদের মূমুর্ষূ অবস্থা হয়ে যায় । এর জন্য কেউ ওর গায়ে হাত তুলে না শত দুষ্টুমি করলেও । ওর বাবা সময় সময় ভূল করে বসে তারপর আমরা মেয়েকে হারাতে বসি । আমাদের ই উচিত ছিলো তোমাকে আগেই বলার যে ওকে না মারতে । আদরের মানুষদের আদর দিয়েই পড়াতে হয় বুঝলে বাবা ? তোমার বাবা আমার বন্ধু মানুষ । ও বলেছিল বলেই আর তোমার মতো বুঝদার ছেলে দেখেই ইসমাইল পড়াতে বলেছে তোমায় । তোমার বাসা থেকে আসার পর রাত থেকেই জর । সকালেও ছিলো । এখন একটু কমেছে ।
– আংকেল আমি আসলে জানতামনা ব্যপার টা ।এরকম ভূল আর কখনো হবেনা ।আমার উপর ভরসা করতে পারেন । আমি দু মাসের মতো আছি । আমি কথা দিচ্ছি ওকে যত্ম নিয়ে পড়াব । বাসায় আর পড়া দিবো না । সামনে বসিয়ে সব পড়া মুখস্ত করাব । রাত যতই গভীর হোক আমি নিজে পৌছে দিয়ে যাবো ।
ইসমাইল – আমার মনে হয় না আর পড়বে তোমার কাছ ‌ তানভীর – কাকা ও ছোট মানুষ জিদ তো করবেই । বুঝালেই বুঝবে ।
ইসমাইল – দেখো বুঝে কিনা । আমার একটাই মেয়ে বাবা । মানুষ না করতে পারলে সব শেষ ।
সাবিনাকে ডাক দেয় ইসমাইল । সাবিনাকে বলে লাবিবার রুমে নিয়ে যাও । সাবিনা তানভীরের সাথে কুশল বিনিময় করে লাবিবার রুমের দিকে এগোয় । দরজায় দাড়াতেই দেখে লাবিবা খাটে হেলান দিয়ে বসে টিভিতে ওগি দেখতে দেখতে খিল খিল করে হাসতেছে । শুকনো অসুস্থ মুখে হাসি বড্ড অদ্ভুত লাগছে যেনো । হাতের দিকে তাকাতেই দেখে ব্যন্ডেজ করা । মাথা পুরো খারাপ তানভীরের । এমন মার মারলো যে হাত ব্যন্ডেজ করতে হলো । সাবিনা ভিতরে ডুকেই টিভি অফ করে দিলো । লাবিবা এক চিক্কুর দিল- আম্মুনি…..আমার ওগি ..😭😭।
সাবিনা – আপাদত ওগি রাখ ‌। স্যার আসছে তোকে দেখতে ।
তানভীর – কাকিমা ওর হাতে ব্যন্ডেজ ..
সাবিনা – আর বলোনা বাবা ..হাত দুটো দেখে আর চিৎকার করে কাদে‌ । তাই ডাক্তার ব্যন্ডেজ করিয়ে দিয়েছে যাতে না দেখতে পায় ।
তানভীর – ওহ ।
লাবিবা ভয়ে রাগে শেষ । ডলফিনটা কেনো এলো ? আবার মারবে নাকি? না আর মারবে না । সরি বলতে এসেছে । সরি এক্সেপ্ট করমু না । অভিশাপ দিমু বেশিনা জাস্ট একটা। বেটা ডলফিন তোর কোন দিন বিয়ে হবো না😏 । অভিশাপ ডান 😎

To be continue____

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here