এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় পর্ব -০৬+৭

#এক_বর্ষণমুখর_সন্ধ্যায়
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ৬

চারিদিক দিয়ে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনি। ইতোমধ্যে আনায়শার গলা চেপে ধরার বাধন আলগা হতে লাগল। আস্তে আস্তে মনে হলো আনায়শা হতে ভারী চাপটা সরে গেছে। আনায়শা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল আশে পাশে সবই স্বাভাবিক। এখন আর আগের মতো গলায় চাপও অনুভব হচ্ছে না। তবে কি এটা দুষ্স্বপ্ন ছিল? কিন্তু এটা আনায়শা স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিতে পারল না। আনায়শা গলায় হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল আর৷ কাশতে লাগল। বিছানা ছেড়ে উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই খেয়াল করল গলায় একটা কালসিটে দাগ পড়ে গেছে সাথে তিন আঙ্গুলের ছাপ। তার মানে সত্যিই তার সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাকে কেউ গলা চেপে ধরেছিল। আনায়শা আর এসব নিয়ে ভাবতে পারল না বড্ড তেষ্টা পেয়েছে তার। তেষ্ঠায় গলা শুকিয়ে আসছে। তাই সে পানি ঢেলে ঢকঢক করে দু গ্লাস পানি খেয়ে ফেলল। আনায়শা আর ঘুমাতে পারল না কোনো ভাবে, সারা রুম পায়চারি করতে লাগল।

দূর হতে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছিল কেউ একজন। সাথে রাগে ফুসতে থাকে। যেন চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে, সব জালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে। মনে মনে কিছু একটা ভেবে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। সাথে সাথে সে স্থান ত্যাগ করে হওয়ার মিলিয়ে গেল।

ভোরের আলো ফুটে বেশ বেলা হয়ে যেতেই রুম থেকে বেরিয়ে এলো আনায়শা। আনায়শা ভালো করে গলাটা ঢেকে নিল যাতে তার গলার দাগটা না দেখা যায়। লাবিবা রহমান দেখলেই অযথা চিন্তা করবেন, সাথে নানান প্রশ্ন করবেন এজন্য আনায়শা তাড়াতাড়ি ঢেকে নেয়। এখনই এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে চায় না সে। তাকে সবটা জানতেই হবে কি হচ্ছেটা কি তার সাথে। এসব ভাবতে ভাবতেই নিচে চলে এলো আনায়শা। লাবিবা রহমান মেয়েকে দেখে চিন্তিত সুরে বললেন

– কাল রাতে বাসায় এসে তো খেলেও না। না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে। এতো বার ডাকলাম সারাও তো দিলে না। আমার কি চিন্তা হয় না?

– সরি মাম্মি, আসলে কাল অনেক ক্লান্ত লাগছিল তো তাই না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

– এটা কি কোনো কথা হলো? এমন করলে তো শরীর খারাপ করবে।

– এমন ভুল আর হবে না মাম্মি। প্রমিস। এখন খেতে তো দাও, খুব খুধা লেগেছে।

– না খেয়ে ঘুমালে তো ওমন লাগবেই। বসো। তোমার খাবার দিচ্ছি।

আনায়শা বাধ্য মেয়ের মতো খাবার টেবিলে বসে রইল, তার খাবারের অপেক্ষায়। খাওয়া দাওয়া করেই মায়ের কাছ থেকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে পরল কলেজের উদ্দেশ্যে।

গাড়ি থেকে নেমেই কলেজে যেতে গেলে, আনায়শার পথে বাধা হয়ে দাড়ায় মেহরাব। মেহরাবকে এখন এসময় এখানে দেখে আনায়শা কিছুটা অবাকই হয়। আনায়শা কিছু বলার বা বুঝে ওঠার আগেই মেহরাব ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে কলেজের একদম শেষ প্রান্তে। এ জায়গাটায় কোনো মানুষ তেমন একটা আসে না, ফলে কিছুটা ঝোপঝাড় মতো। মেহরাবের এমন আচরণে আনায়শা ভরকে যায়।

আনায়শার চেহারা দেখে কিছুটা হলেও মেহরাব বুঝে ফেলে, তাই শান্ত কণ্ঠেই সে বলতে শুরু করে

– সরি, আনায়শা তোমার অনুমতি ছাড়া এখানে নিয়ে আসার জন্য। তোমার সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আছে।

– কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কথা আমার সাথে আপনার থাকতে পারে, যে কারণে আমাকে এখানে নিয়ে এলেন?

– আছে অনেক কথা। কিন্তু কিভাবে যে বলি? তুমি কি আমার কথা আদৌ বিশ্বাস করবে আনায়শা?

– আচ্ছা আগে তো বলেন, তারপর না হয় ভেবে দেখব।

– তাহলে শোন। তুমি তোমার বান্ধবী মাইশার উপর একটু নজর রেখো তো আনায়শা। তোমার ঐ বান্ধবী কে আমার মোটেও সুবিধার মনে হয় না। মাইশা তোমার ভালো চায় না, ও তোমার ক্ষতি চায়। যেকোনো ভাবে তোমার ক্ষতি করতে চাইবে। এমন কি তোমাকে মেরে ফেলতেও দুবার ভাববেনা।

– এসব আপনি কি বলছেন কি? আপনার কি মাথা ঠিক আছে? আর আপনার ওকে সুবিধা, অসুবিধার মনে হওয়াতে কিছুই যায় আসে না আমার।

– আমি জানতাম, তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে না। এ কয়দিনেও কি মাইশার মধ্যে কোন আচরণের পরিবর্তন পাওনি তুমি?

আনায়শা কিছু বলতে যেয়েও বলতে পারল না। ও ভাবতে লাগল। সত্যিই তো মাইশার আচরণে যথেষ্ট পরিবর্তন। আনায়শার কাছ থেকে কিছু একটা লুকানোর চেষ্টা করা। আস্তে আস্তে সব মনে করতে লাগল, আসলেই মেহরাব ভুল কিছু বলেনি, কিন্তু তাই বলে মাইশা কেন মারতে যাবে ওকে, এটাই ভেবে পায়না আনায়শা। আনায়শাকে চুপ থাকতে দেখে মেহরাব বলল

– কি হলো আনায়শা, চুপ করে আছো কেন? বলো কোনো পরিবর্তন পাওনি তুমি?

– হুম। কিন্তু মাইশা আমার বেস্টফ্রেণ্ড হয়, আমার বিপদে আপদে ঝাপিয়ে পড়ে। সেই মেয়েটাই কেন আমার ক্ষতি করতে চাইবে? কেন আমায় মারতে চাইবে?

– স্বার্থে আঘাত লাগলে সবাই সব করতে পারে। তুমি মানুষ চিনতে ভুল করো, সবাইকেই আপন বানিয়ে নেও। যেটা মোটেও ঠিক না।

– আমি ওর কোন স্বার্থে আঘাত করলাম? আমি তো ওকে কখনোই হার্ট করে কোনো কথা বলিনি।

– সেটা মাইশাই ভালো জানে।

– কিন্তু আপনি এতো কিছু কিভাবে জানলেন? না আমাকে আর না মাইশাকে আপনি ঠিক মতো চিনেন।

– আমি সবাইকেই খুব ভালোভাবে চিনি।

– মাইশা কে চিনেন কিভাবে?

– পার্কে সেদিন দেখা হয়েছিল তোমার সাথে, তখন দেখেছিলাম।

– কিন্তু, আপনি আমার সাথে কথা বলার সময় তো মাইশা ছিল না আমার পাশে।

– আমি আগেই দেখেছিলাম তোমাদের। মাইশা চলে যাওয়ার পরই তোমার সাথে কথা বলতে আসছিলাম।

– আচ্ছা, বুঝলাম, কিন্তু ওটাই যে মাইশা এটা কিভাবে বুঝলেন? অন্য কেও তো হতে পারত।

– আরেহ্ তুমিই তো মাইশা মাইশা করছিলে, আমি দূর থেকে সবই দেখছিলাম। মাইশা হয়তো তোমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছিলো, এজন্য আমি ওকে ফলো করি, আর তখন…

– আর তখন কি?

– পরে বলি, আচ্ছা শোন যা বললাম, ওর থেকে একটু দূরে থেকো আর খেয়াল রেখো। সাবধান থেকো। আমার কিন্তু ওর হাবভাব মোটেও ভালো লাগছে না। বাই দ্যা ওয়ে, তোমার গলায় কি হয়েছে?

মেহরাবের একথা শুনে আনায়শা খেয়াল করল ওর গলা থেকে ওরনা টা সরে গেছে, দ্রুত ওড়না দিয়ে গলাটা ঢেকে ফেলল। আমতা আমতা করে বলল

– ক কই ক কিছু না তো।

– তুমি কিছু লুকাচ্ছো আনায়শা। সত্যি করে বলো কি হয়েছে? তাহলে আমি তোমায় হেল্প করতে পারব।

আনায়শা ভাবতে থাকে, বলাটা কি ঠিক হবে কিনা। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আর সাত পাচ না ভেবে আনায়শা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ওর সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলল মেহরাবকে।

– তার মানে আমি যা ভেবেছি তা-ই। আমি হেল্প করব তোমায়, তুমি টেনশন করো না। এখন ক্লাসে যাও, দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমিও যাই, আমার কাজ আছে। চোখ কান খোলা রেখে সাবধানে থেকো।

আনায়শাকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত মেহরাব চলে যায় কোনো অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আনায়শা কিছুক্ষণ তাই রয় ওর যাওয়ার পানে। তারপর চলে যায় আনায়শার ক্লাসে।

আনায়শাকে ক্লাসে দেখেই যেন ভুত দেখার মতো চমকে উঠল মাইশা আর নিশিতা।

– কি রে আনু, তুই এখানে?( আনায়শাকে দেখে পাশ থেকে নিশিতা বলে উঠল)

– কেন, আমার এ অবস্থায় এখানে আসাটা আশা করিসনি তাই না?

– না, সেটা না। তুই না অসুস্থ ছিলি, মাইশা বললো। তাহলে এ অবস্থায় কলেজে এলি কেন?

– আসলাম, ইচ্ছা হলো তাই। কি হলো মাইশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কোনো কথাও বলছিস না যে, তুই মেইবি এক্সপেক্ট করিস নি আমার এখানে আসাটা, তাই না?

মাইশা চমকে উঠল আনায়শার কথা শুনে ও ভাবতে পারেনি আনায়শা এমন কথা বলে বসবে ওকে। মাইশা আমতা আমতা করে বলল…

#চলবে ~#এক_বর্ষণমুখর_সন্ধ্যায়
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ৭

মাইশা চমকে উঠল আনায়শার কথা শুনে ও ভাবতেও পারেনি আনায়শা ওকে এমন কথা বলে বসবে। মাইশা আমতা আমতা করতে লাগল কিন্তু ওর মুখ দিয়ে একটা কথাও বের হলো না। দরদর করে ঘামতে লাগল মাইশা। ইতোমধ্যে মাইশার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। মাইশাকে এমন নার্ভাস হতে দেখে আনায়শা বাকা হাসল, তার মানে মেহরাব যা বলেছিল সব সত্যি। কিন্তু ও এতো কিছু জানল কিভাবে, সেটাই ভেবে পায় না আনায়শা। আনায়শা এখন আর এসব কিছু ভাবতে চায় না। এসব নিয়ে পড়েও ভাবা যাবে।

মাইশাকে আরেকটু ভয় পাওয়ানোর জন্য হাসতে হাসতে আনায়শা মাইশাকে উদ্দেশ্য করে বলল

– কি রে, মাইশা। তুই হঠাৎ এতো ঘামছিস কেন? কি হয়েছে তোর? এনি প্রবলেম?

– ক ক কই ন না তো। আ আমার কিছুই হয়নি। হঠাৎ করে গরম লাগছে, ঐ আর কি।

ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে দ্রুত ঘাম মুছতে লাগল মাইশা। এদিকে আনায়শা আর নিশিতা হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের গায়ের উপর পরছে।

– আনু, সত্যি করে বল তো কি হয়েছে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। তোর মজা করে বলা কথাটা মাইশা এভাবে সিরিয়াসলি কেন নিল? মাইশা এমন নার্ভাস ই বা কেন হয়ে গেল?

– সেটা মাইশাই ভালো বলতে পারবে। কি রে
মাইশা, নিশু কে বল।

মাইশা পানি খাচ্ছিল, আনায়শার কথা শুনে বিষম খেল, এদিকে কাশতে কাশতে মাইশার বেহাল অবস্থা। ইতোমধ্যে চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মাইশা দ্রুত ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে এলো আনায়শার কাছ থেকে বাচার জন্য। বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল মাইশা। মাইশা যা সন্দেহ করেছে, তবে কি তা-ই। আনায়শা কি সব জেনে গেছে। মাইশা নতুন প্ল্যান করতে লাগল। আনায়শার উপর নজর রাখতে হবে তার।

মাইশা ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে যেতেই নিশিতা বলল

– আজকে কি হলো মাইশার? ও এমন কেন করছে?

– তুই মাইশার ফ্রেন্ড, তুই জানিস না নিশু?
এটা কেমন কথা।

– কেন তুই আমাদের ফ্রেন্ড না, নাকি আমাদের ফ্রেন্ড মনে করিস না?

– আমি মনে করলেও তোরা মনে করিস না।

– এমন বলার মানে কি? তোর আর মাইশার সাথে কি কোনো ঝামেলা হয়েছে?

– আরে না, জাস্ট ফান, আর তাতেই এমন। সিরিয়াসলি বললে না জানি কি হতো।

বলেই হেসে ফেলল আনায়শা। এবার সিরিয়াস ভাবে বলল

– আচ্ছা নিশু, তুই নাকি অনেক আপসেট মোহনা আপু আর মিলির মৃত্যুর কথা শুনে? কই তোকে তো আপসেট দেখাচ্ছে না। বেশ হাসিখুশিই তো লাগছে তোকে।

– মোহনা আপু মারা গেছে, এটা জানি। আর মিলি তো নিখোঁজ ছিল কিন্তু মিলি মারা গেল কবে? কই আমি তো জানি না।

– কেন তুই নাকি ওদের মৃত্যুর কথা শুনে আধমরা হয়ে গিয়েছিলি?

– কই নাতো। আমি তো এসবের কিছুই জানি না। কে বলেছে তোকে এসব?

– মাইশা। গত এক সপ্তাহ যাবত কলেজে না আসার কারণে মাইশার কাছে তোর কথা জানতে চাইলে আমাকে ও এসব বলেছে।

– কিহ্ মাইশা বলেছে। আমার তো ওর সাথে কথাই হয়নি। আজ দেখা হলো। আমার আম্মু অসুস্থ ছিল বলে আমি কলেজে আসিনি।

– তার মানে মাইশা আমাকে মিথ্যা বলেছে।

– আমার প্রথম থেকেই এই মাইশাকে সন্দেহ হয়।

– কেন সন্দেহ হয় ওকে তোর?

– আজ পর্যন্ত ওর সাথে যত গভীর ভাবেই আমরা মিশি না কেন, আমাদের কি একবারের জন্যও ওর বাসায় নিয়ে গেছে? ওর ফ্যামেলি সম্পর্কে কিছু বলেছে? না ওর পারসোনাল লাইফ নিয়ে কিছু বলেছে। আমরা তো ওর ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনো কিছুই জানতে পারলাম না। আমরা যতবারই ওর সম্পর্কে জানতে চেয়েছি কোনো না কোনো ভাবে এড়িয়ে গেছে। বাসায় যেতে চাইলে কোনো না কোনো বাহানা দিয়েছে।

– হুম, ঠিক। কিন্তু প্রাইভেট শেষে কি একটা মনে করে মাইশার সাথে হাটতে হাটতে যাচ্ছিলাম একদিম। তো ওর বাসার সামনে আসলেই ও বলে ওর সাথে ওর বাসায় যেতে, কিন্তু আমি যাই না, আমার বাসায় চলে আসি।

– গিয়ে দেখতিস ওর বাসাটা।

– ওতো রাতে কেন একজন মানুষের বাসায় যাব।তাতে করে যতই ফ্রেন্ড হোক না কেন। আর ওর বাসা থেকে আমার বাসায় যেতে ১০ মিনিট লাগে।

– তাহলে তো ওর বাসা তুই চিনিস। আচ্ছা তোর বাসা চেনে মাইশা?

– হ্যাঁ, কেন চিনবে না। আমার বাসায় তো সেদিন গিয়েছিল আমাকে দেখতে। ওর সাথে পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম।

– আনু, চল তো মাইশার বাসাটা একবার দেখে আসি।

– না এখন যাব না। ক্লাস শেষ করে তারপর যাব।

– ওকে।

আনায়শার মাইশার প্রতি সন্দেহটা তীব্র হতে লাগল। কিন্তু নিশিতাকেও আনায়শার বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই আনায়শা নিশিতাকে মনে ভুলেও কোনো কথা বলল না, এমনকি মাইশার বিরুদ্ধে একটা কথাও বলল না। ও ভাবতে থাকল, মাইশার বাসায় নিশিতা কে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা। এমনও তো হতে পারে মাইশার সাথে নিশিতা আগে থেকে প্ল্যান করে ওকে যেকোনো ভাবে মাইশার বাসায় নিয়ে গিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টাও তো করতে পারে। মেহরাব বারবার করে বলে গেছে চোখ কান খোলা রেখে সাবধানে থাকতে। কি করবে ভেবে পায়না আনায়শা।

এসব কথা ভাবতে ভাবতে আজকে ক্লাসে কোনোভাবেই মনোযোগ দিতে পারল না আনায়শা।

কলেজ থেকে বের হয়েই,,,

নিশিতা মাইশাকে বলল

– আজকে আমরা তোর বাসায় যাব।

– আজকে না রে, অন্য কোনো একদিন যাস।

– না আজকেই যাব তোর বাসায়। ঐ অন্য কোনো একদিন জীবনেও আর আসবে না। কি রে আনু, তুই কি বলিস?

– না রে, আজ যাব না মাইশাদের বাসায়। আমার ভালো লাগছে না, আমি বাসায় যাব।

– হ্যাঁ নিশু, আনু তো ঠিকই বলছে আজ না পরে যাস।

– না আমি আজই যাব। কোনো কথায় কাজ হবে না। আনু তোকে যেতেই হবে।

– না আমার ভালো লাগছে না, অন্য একদিন যাব।

নিশিতা তো নাছোরবান্দা। ও কারোর কথাই শুনবে না। বাধ্য হয়ে মাইশা রাজি হয় কিন্তু আনায়শা যেতে নারাজ। তাও নিশিতা হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগল আনায়শাকে মাইশাদের বাসায়।

বেশ অনেক বছর আগের একটা পুরোনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে আনায়শা, মাইশা আর নিশিতা। বাড়ির এককোণ প্রায় ভেঙে পড়েছে। দেখলে মনে হবে না এ বাড়িতে কেউ থাকে। সেদিন রাতে অন্ধকার থাকায় ঠিক মতো খেয়াল করেনি আনায়শা। আনায়শার তো দেখেই ভয় করছে, আগে তো যেতোই না, আর এখন মোটেও যাবে না মাইশার বাসায়।

বাসার ভেতরে প্রথমে মাইশা যায় তারপর নিশিতা আনায়শার হাত ধরে নিয়ে যেতে গেলেই আনায়শা বাধ সাধে।

– আমি যাব না, আমাকে এখন এই মুহূর্তে বাসায় যেতেই হবে।

– চল আমার সাথে কিছুই হবেনা। শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস তুই

এতোকিছুর পরেও নিশিতার এতো বেশি আগ্রহ দেখে সন্দেহ হয় আনায়শার। এক ঝটকায় নিজের হাত টা ছাড়িয়ে নেয় নিশিতার হাত থেকে আনায়শা। রাগী ভাবে বলে

– তোর এতো কিউরেসিটি তুই যা। আমাকে কেন টানছিস এর ভিতর, আমি যাব না বললাম তো।কথা কি কানে যায়নি তোর। এক কথা কয়বার বলা লাগে তোকে?

আনায়শার কথা শুনে কান্না করে দেয় নিশিতা। কাদতে কাদতে বলে

– তুই আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারলি আনু?

বলেই আবার কাদতে লাগল নিশিতা। আনায়শার মন তবুও সায় দিচ্ছে না যাওয়ার জন্য। বিরক্তি নিয়ে অন্য দিকে আনায়শা ঘুরতেই দেখতে পেল….

#চলবে ~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here