কতটা চাই তোকে পর্ব ১+২

“কবুল বলার আগের মুহূর্তে আপু চেঁচিয়ে ভরা বাড়ির লোকের সামনে কাব্য ভাইয়াকে বলে উঠল আমি এ বিয়ে করতে পারবো না’!!আপুর কথা শুনে আমি সহ আমাদের পরিবারের সবাই অবাক চোখে তাকালাম আপুর দিকে’!!এসব কি বলছে আপু’!!আপুর কথা শুনে আব্বু গিয়ে আপুর সামনে দাঁড়িয়ে বললোঃ

——–“এসব কি বলছিস তুই “রিয়া”……

“আপু আব্বুর সামনে মাথা নিচু করে বলে উঠলঃ

——–“আব্বু এই বিয়ে করে আমি আমার ছোট বোনের মরা মুখ দেখতে পারবো না’!!

“আপুর কথা শুনে আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেল’!!মুহূর্তে আমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসলঃ

——-“এসব কি বলছে আপু,,কাব্য ভাইয়াকে বিয়ে করলে আমার মরা মুখ দেখবে মানে’!!

“আপুর কথা শুনে আব্বু বলে উঠলঃ

——–“মানে কি বলতে চাইছিস তুই’!!

——–“আমি বলছি মাইশা কাব্যকে ভালোবাসে’!!ওকে না পেলে ও মরে যাবে’!!

“আপুর কথা শুনে আমি চরম প্রকার শকট খেলাম’!!চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলাম আপুর দিকে’!!এত বড় মিথ্যা কথাটা কি করে বললো আপু তাও আবার এমন সময় বিয়ের আসরে’!!এই মুহূর্তে ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আমার’!!

”এদিকে আব্বু রিয়াকে বলছেঃ

———“তুই এইসব কি বলছিস’!!

———“আমি ঠিক বলছি আব্বু আর আমি এই বিয়ে করে আমার ছোট বোনটার জীবন নষ্ট করতে পারবো না’!!আমি এই বিয়ে করবো না’!!আব্বু আপুর কথা শুনে ক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললোঃ

———“রিয়া যা বলছে তা কি সত্যি মাইশা’!!

“আব্বুর কথা শুনে পুরো শরীর কাঁপছে আমার,,আমার লাইফে দুজন মানুষকে আমি খুব ভয় পাই আর তাদের মধ্যে একজন হলো কাব্য ভাইয়া আর এই আব্বু’!!আর আজ কিনা এই ভাইয়াকে নিয়ে এত বড় মিথ্যা কথা বললো আপু’!!কেন করলো এমন আপু’!!এসব ভাবতে ভাবতেই আব্বু চেঁচিয়ে বললোঃ

———“কি হলো কথা বলছো না কেন??

“আব্বুর চেঁচানোতে আমি পুরো কেঁপে উঠলাম’!!আমি কাঁপা কাঁপা চোখ নিয়ে আপুর দিকে তাকালাম’!!আপুর দিকে তাকাতেই আপু চোখের ইশারায় বললো “হ্যা” বলতে’!!আমিও আপুর কথা মতো মাথা নাড়ালাম’!!আমি মাথা নাড়াতেই আব্বু ঠাসস করে আমার গালে থাপ্পড় দিয়ে দিল’!!আমি গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে তাকালাম আব্বুর দিকে’!!আব্বু আমার আরেক গালে থাপ্পড় দিতে যাবে এমন সময় মামা এসে ধরলো আব্বুর হাত’!!আর মামা হলো কাব্য ভাইয়ার আব্বু’!!কাব্য ভাইয়া হলো আমার মামাতো ভাই’!!মামা আব্বুর সামনে এসে বললঃ

——–“এসব কি করছিস তুই তার চেয়ে বরং রুমে গিয়ে ভালো ভাবে কথা বলে সব ঠিকঠাক করে দেই’!!আব্বু মামার কথা শুনে মেজাজ গরম হয়েই হন হন করে রুমের ভিতরে চলে গেল’!!আর মামা আমার কাছে এসে বললোঃ

———“চিন্তা করিস সব ঠিক হয়ে যাবে’!!এই বলে মামা আমার হাত ধরে নিয়ে গেল’!!সাথে কাব্য ভাইয়া আর আপুও’!!

“রুমের ভিতর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি আমি, সাথে আছে কাব্য ভাইয়া, মামা-মামী,আপু,আম্মু আর আব্বু’!!এই মুহূর্তে শুধু মাথার ভিতর একটা প্রশ্নই ঘুরছে আপু কেন করলো এমন”!!আর আপু এগুলো করার জন্যই তখন আমায় সরি বলে ছিল’!!আপু নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি রুমে আসতেই আপু বলে ছিল মাইশা একটু পর যা হবে তার জন্য সরি বনু’!!তখন আপুর কথাটা বলার কোনো কারন বুঝতে পারি নি আমি’!!কিন্তু এখন সব বুঝতে পেরেছি আমি’!!

“এদিকে মামা আব্বুর হাত ধরে বললঃ

——–“দেখ যা হওয়ার হয়ে গেছে মাইশা যদি কাব্যের সাথে থাকতে চায় তাহলে আমরা কেন মানতে পারবো না’!!আর ভালোবাসা অন্যায় নয়’!!তাই আজকে কাব্যের সাথে মাইশার বিয়ে হবে’!!

“মামুর কথা শুনে বুকের ভিতর দক করে উঠল আমার’!!কাব্য ভাইয়াকে বিয়ে করতে হবে ভাবতেই ভয় লাগছে আমার’!!কিন্তু এখন কি বলবো আমি’!!আমি বলে দিবো আপু মিথ্যা কথা বলছে’!!এই ভেবে আব্বুকে কিছু বলতে যাবো এমন সময় আপু আমার কাছে এসে বললোঃ

———“তুই যদি এখন কাউকে কিছু বলিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি’!!আপুর কথা শুনে বড় বড় চোখ নিয়ে তাকালাম আমি’!!আপুকে আমি খুব ভালোবাসি’!!তাই বলে আপু যাকে আমি ভয় পাই তার সাথে সারাজীবন কিভাবে থাকবো’!!আর কাব্য ভাইয়াও বা কেন মেনে নিবে’ আমায়’!!সে তো আপুকে ভালোবাসে’!!

“এমন সময় মামু কাব্য ভাইয়াকে বললোঃ

——-“তোর কোনো আপওি আছে মাইশাকে বিয়ে করতে’!!

“মামুর এ প্রশ্নে উওরে ভাইয়া নিশ্চয়ই “না” বলবে কিন্তু আমায় অবাক করে দিয়ে “হ্যাঁ” বললো’!!আমি চরম প্রকার শকট’!!কি বললো ভাইয়া আমার বিয়ে করতে তার কোনো আপওি নেই’!!ভাইয়ার কথা যেন আমার কানে এখনো বাজছে’!!

“মামু সবাইকে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো’!!যার ফলে সবাই মেনে নিলো আমায়’!!আর ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে দিতে কারো কোনো আপওি নেই'”!!!কে কি বলছে সব যেন আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে’!!আমি পাথরের মতো শুধু সব শুনে যাচ্ছি’!!

__________________________________________

_____________________

“কনের বেসে সাজানো হলো আমায়’!!চোখের পানি যথা সম্ভব আঁটকে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমি’!!কি হওয়ার কথা ছিল আর কি হচ্ছে’!!অবশেষে কাজী আমায় কবুল বলতে বললো’!!আমি এখনো চুপ করে আছি’!!কি হচ্ছে না হচ্ছে বুঝতেই পারছি না’!!আমি যেন ভিতর থেকে পাথর হয়ে গেছি’!!কাজী কয়েকবার কবুল বলার পর অবশেষে কবুল বলে দিলাম আমি’!!সাথে সাথে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে ফেললো’!!

“এদিকে আপু ভিতরে ভিতরে প্রচুর পরিমান খুশি হয়েছে’!!আবার মাইশার সাথে এমন টা করার জন্য অনুতপ্ত হচ্ছে’!!এমন সময় রিয়ার মাথায় হাত দিলো আব্বু’!!তারপর বলে উঠলঃ

———“এখন তোর কি হবে রিয়া’!!

———“কিছু হবে না আব্বু আমার বোনের সুখের জন্য আমি সব করতে পারি’!!

“এমন সময় একজন মহিলা এসে আব্বুকে বললোঃ

——-“আপনি কিছু মনে না করলে আমি একটা কথা বলবো”!!

——–“হুম বলুন”!!

———“আপনার এই বড় মেয়েকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে আপনি চাইলে এখনি আমার ছেলে রাসেলের জন্য আপনার এই মেয়েকে আমি বউ বানিয়ে নিয়ে যেতে চাই”!!

“আব্বু কিছুক্ষন নিশ্চুপ থেকে আপুর দিকে তাকালো তারপর বলে উঠলঃ

———-“তুমি কি বলো’!!

———-“আব্বু তুমি যা চাইবে তাই হবে’!!

“আব্বু আপুর কথা শুনে রাজি হয়ে গেল’!!তারপর ওই মহিলাও তার ছেলেকে সামনে আনলো আব্বুর’!!আপু ছেলেটি দেখে মুচকি হাসলো’!!তারপর ওই কাজীর কাছে গিয়েই আব্বু বললো আপুর বিয়ের কথা’!!সবাই সব শুনে প্রায় খুশি’!!তারপর আপুকে আর ওই ছেলেকে বিয়ে আসরে বসানো হলো’!!তারপর কাজী তাদের বিয়েও পড়াতে শুরু করলো’!!কিছুক্ষনের মধ্যেই কবুলের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো হয়ে গেল’!!!

“এতকিছু হয়ে গেল তারপরও আমি পাথরের মতোই বসে ছিলাম’!!যেন কোনোকিছুই কানে পৌঁছাচ্ছিল না’!!একজনের বিয়ে দিতে এসে দু-জনের বিয়ে হয়ে যাবে তা আমি ভাবতেও পারি নি’!!

“সবশেষে দু-বোনের একসাথেই বিদায় দেওয়া হলো’!!আমি এতটাই শকট ছিলাম যে আমার চোখ বেয়ে শব্দহীন পানি পরতে ছিল’!!গাড়িতে উঠতেই বুকের ভিতরটা কেমন যেন করো উঠলো’!!আমি ঠলে পরলাম কারো উপর হয়তো কাব্য ভাইয়ার’!!আর কিছু মনে নেই সব অন্ধকার হয়ে গেল’!!আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম’!!

“জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে সাজানো ফুলের বিছানায় দেখতে পেলাম’!!মুহূর্তেই সবকিছু মনে পরতেই আমি চেঁচিয়ে কেঁদে দিলাম’!!এক পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরলাম আমি’!!

“রাত ২ঃ০০টা’!!কাব্য রুমে ঢুকেই টেবিলের উপর থাকা কাঁচের গ্লাসটা চেপে ধরে ভেঙে ফেললো’!!আচমকা কোনো কিছু ভাঙার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে গেল আমার’!!তারপর উঠে যা দেখলাম তা দেখে ভয়ে কলিজা কেঁপে উঠল আমার………..
!
!
!
!
!#কতোটা_চাই_তোকে💖
#Writer:—#TanjiL_Mim💖
#part:—02
.
.
🍁
“টপ টপ করে রক্ত পড়ছে কাব্য ভাইয়ার হাত থেকে আমি তা দেখে রীতিমতো ভয়ে ঘাবড়ে গেলাম’!!তারপর ভাইয়ার হাতের রক্ত দেখে কেন জানি না খুব কষ্ট হলো’!!তারপর ভাড়ি লেহেঙ্গা ধরে বিছানা থেকে উঠে দৌড়ে ভাইয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বললামঃ

——–“এসব কি করছো তুমি ভাইয়া'”!!

“ভাইয়া কিছু বললো না,,শুধু অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে তাকালো আমার দিকে’!!আমি রীতিমতো ভাইয়ার চোখ দেখে ভয়ে আধমরা হয়ে যাচ্ছি’!!তারপরও এই মুহুর্তে ভয়টাকে উপেক্ষা করে ড্রয়ার থেকে স্যাভলন আর ব্যান্ডেজ বের করে ভাইয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বললামঃ

———“ভাইয়া তোমার হাত ব্যান্ডেজ করে দেই রক্ত পড়ছে’!!

“ভাইয়া চেঁচিয়ে বললোঃ

———“তোকে এত দরদ দেখাতে হবে না আমার উপর’!” তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড়’!!

“ভাইয়ার কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলামঃ

——–“প্লিজ ভাইয়া আগে তোমার হাতটা ব্যান্ডেজ করে দেই’!!

“ভাইয়া আমার কথা শুনে কিছু বললো না’!!ভাইয়ার চুপ থাকাটা দেখে আমি একবুক সাহস নিয়ে ভাইয়াকে ধরে বিছানায় বসিয়ে দিলাম’!!তারপর আস্তে আস্তে করে হাতটা পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিতে লাগলাম’!!

.

“এদিকে কাব্য ভিতরে ভিতরে খুব খুশি হয়েছে মাইশার কাজে’!!কারন মাইশা তার জন্য ভাবে’!!এই প্রথমবার মাইশা সাহস করে নিজ ইচ্ছে তার হাত ধরেছে আর কাব্যের রেগে যাওয়ার কারনটা হলো বিয়ের অনুষ্ঠানে মাইশা একটা ছেলের সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলেছিল’!!তখন থেকেই কাব্য প্রচন্ড বেগে রেগে ছিল মাইশার উপর’!!আর রুমে ঢুকে মাইশাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে আরো রেগে যায় কাব্য’!!আমচকা কাব্য “আহ” করে শব্দ করে উঠে সাথে সাথে মাইশা কাব্যের হাতে ফু দিতে থাকে’!!

“ভাইয়ার হাতে ব্যান্ডেজ দিয়ে ভাইয়া বলে উঠলামঃ

———“তুমি বিছানায় শুয়ে পরো ভাইয়া’!!

“আমার কথা শুনে ভাইয়া বলে উঠলঃ

———-“আর তুই’!!

———-“আমি ওই সোফাটায় ঘুমিয়ে পরছি’!!তুমি ঘুমাও’!!

———-“সোফায় ঘুমাতে হবে না বিছানায় ঘুমাবি তুই’!!

———“কিন্তু তুমি…….

———”কোনো কিন্তু নেই তাড়াতাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পর’!!(ধমক দিয়ে)

“ভাইয়ার ধমক শুনে আমি আর কিছু বললাম না’!!চুপ করে বিছানার মাঝখানে একটা কোলবালিশ রেখে ঘুমিয়ে পরলাম’!!

“এদিকে কাব্য মাইশার কাজে মনে মনে হাসলো’ কিন্তু বাহিরে তা প্রকাশ করলো না’!!তারপর সেও গিয়ে ঘুমিয়ে পরল বিছানায়’!!

__________________________________________

_____________________

“সকালে……….

“শাড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি’!!প্রচন্ড বেগে বিরক্ত লাগছে আমার’!” শাড়ি পরতে পারছি না’!!পাক্কা ১ ঘন্টা যাবৎ ট্রাই করছি এই শাড়ি পরার কিন্তু কোনো ভাবেই শাড়ির কুঁচি দিতে পারছি না আমি’!!এদিকে বিছানায় ঘুমিয়ে আছে কাব্য ভাইয়া না জানি কখন উঠে পরে’!!তাহলে তো আমার মান সম্মান সব চলে যাবে’!!এখন কি করবো’!!হর্ঠাৎই মাথায় ইউটুব আন্টির কথা মনে পরল’!!ব্যাস মোবাইলটা হাতে নিয়ে ইউটুব আন্টিদের একটা ভিডিও দেখতে লাগলাম আমি’!!বেশ কিছুক্ষন পর কোনোরকমের কুঁচি দিলাম আমি’!!কিন্তু খুব একটা ভালো হলো না হয়তো’!!ধুর শালা এইভাবে বিয়ে হবে আগে জানলে কিভাবে শাড়ি পরতে হয় মায়ের কাছ থেকে শিখে নিতাম ধুর ভালো লাগছে না’!!একরাশ বিরক্ত মাখা মুখ নিয়ে সোফায় বসে পরলাম আমি’!!এমন সময় কারো হাসির আওয়াজ শুনে সামনে তাকালাম’!!সামনে তাকাতেই অবাক আমি’!!কারন কাব্য ভাইয়া হাসছে’!!আশ্চর্য এভাবে হাসার কি আছে বুঝতে পারছি শাড়ি পড়া হয় নি তাই বলে এইভাবে হাসতে হবে নাকি’!!মেজাজটা আরো গরম হয়ে গেল’!!আমি সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললামঃ

———-“এভাবে হাসার কি আছে শাড়িটাই তো পরতে পারি নি’!!কোনো ব্যাপার না এখনি মামুনির কাছে গিয়ে আমি শাড়ি পড়ে আসছি’!!এই বলে পা বাড়াতে নিয়েও আবার থেমে গেলাম’!!কেন জানি না একটু সংকোচ বোধ হচ্ছে’!!কালকে যা হলো’!!

.

“এদিকে কাব্য মাইশাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হয়তো বুঝতে পেরেছে মাইশা কেন যাচ্ছে না’!!কাব্য কিছুক্ষণ মাইশার দিকে তাকিয়ে থেকে বিছানা থেকে নেমে এগিয়ে গেল মাইশার দিকে’!!

.

“হর্ঠাৎ করে ভাইয়াকে এইভাবে কাছে আসতে দেখে ভয়ে ঘাবড়ে গেলাম আমি’!!ভাইয়া আসতে আসতে অনেকটা কাছে চলে আসলো আমার’!!আমি চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছি’!!ভিতরে ভিতরে বুক কাপছে আমার’!!!

“হর্ঠাৎই ভাইয়া বললোঃ

———“আমি পড়িয়ে দিচ্ছি…..

“ভাইয়ার কথা শুনে অটোমেটিক চোখ বড় বড় হয়ে গেল আমার’!!কি বলছে কি ভাইয়া……..

———-“তুমি শাড়ি পড়িয়ে দিবে আমায়……

——–হুম………

“হাজারো অনিচ্ছা থাকা সত্বেও এক প্রকার বাধ্য হয়ে শাড়ি পরতে হলো ভাইয়ার কাছে……….

“ভাইয়া কুঁচি ঠিক করে দিয়ে চলে গেল ওয়াশরুমে’!!আর আমি এখনো শকট মুডে দাঁড়িয়ে আছি কি করে পারলো ভাইয়া শাড়ি পরাতে’!!এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল আমার’!!উপরে আপুর নাম দেখে একরাশ অভিমান নিয়ে ফোনটা তুলে বললাম আমিঃ

———“তুমি খুব পঁচা আপু,, কেন করলে এমন আপু’!!কেন এত বড় মিথ্যা কথা বলালে আমাকে দিয়ে’!!এই বলে কেঁদে দিলাম আমি’!!

“আপু আমাকে এইভাবে কাঁদতে দেখে শান্ত গলায় বললোঃ

———-“শান্ত হয় মাইশা’!!আমি তোকে সব বলছি’!!

“আপুর কথা শুনে আমি নিজেকে শান্ত করে বললামঃ

———–“বলো কেন এমন করলে……..

“আপু এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললঃ

———–“তুই তো জানিস আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি’!!কিন্তু আব্বুর ভয়ে আমি তো ওর কথা বলতেই পারলাম না’!!তাই বাধ্য হয়ে এই মিথ্যা কথাটা বলতে হলো’!!আমার ক্ষমা করে দে বোন'”!!!

———–“কিন্তু এখন তোমার আরেকজনের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে সেটা……..

“আপু মুচকি হেঁসে বললোঃ

———–“আমি যাকে ভালোবাসি তাকেই বিয়ে করেছি বোন কারন ওই হলো রাসেল’!!আমার ভালোবাসার মানুষ’!!

“আপুর কথা শুনে আমি যেন অবাকের চরম সীমানায় পৌঁছে গেলাম’!!

———“বাহ এত সুন্দর নাটক করলা কালকে……

———“সরি মাইশা আমি জানি আমি যেটা করেছি সেটা হয়তো আমার করা উচিত হয় নি’!!কিন্তু বিশ্বাস কর এটা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না’!!

———-“সব বুঝতে পেরেছি কিন্তু তাই বলে আপু কাব্য ভাইয়ার সাথে আমি কি করে থাকবো তুমি বলো’!!তুমি তো জানো আমি ভাইয়াকে কতোটা ভয় পাই’!!ওনার মতো এতো রাগী, আর বদমেজাজি মানুষের সাথে থাকা যায় তুমি বলো……

———–“একটু কষ্ট করে নে’!!তবে আজ একটা কথা বলি আমার এই কাজের জন্য একদিন তুই আমায় ধন্যবাদ দিবি’!!!কারন কাব্য যে তোকে……….

“এতটুকু শুনতেই এমন সময় পিছন কাব্য ভাইয়া বলে উঠলঃ

———–“কার সাথে কথা বলছিস তুই……….

“হর্ঠাৎ করে ভাইয়া আওয়াজে ভয় পেলাম আমি’!!আমি আমতা আমতা করে বললামঃ

——–না মানে আপু’!!এই রে আপুর সাথে বলা কথাগুলো সব শুনে নিলো নাকি ভাইয়া’!!(মনে মনে)

———“তুই কি বলেছিলি রিয়াকে…..’!!এই বলে ভাইয়া সামনে এগোতে লাগলো আমার দিকে’!!যা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম আমি’!!

“এই রে সব শুনে ফেলেছে মনে হয়’!!এই ভেবে এক প্রকার দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম আমি’!!আজকে আর যাচ্ছি না ভাইয়ার সামনে’!!এই ভেবে নিচে চলে আসলাম আমি’!!নিচে নামতেই দেখলাম………..
!
!
!
!
!
!
!
#চলবে……………

[

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here