কাঠপুতুল পর্ব ১+২

১+২

সদ্য শাওয়ার নিয়ে আয়নার সামনে বসে আছে মৃদুলা। এই একটা সময় সে পায় শরীরটা দেখার আর এমন অবস্থাতেই নিজের সৌন্দর্য খোঁজার। সাদা শরীরে কালো দাগগুলো ফুটে উঠেছে এখন এতে মৃদু নিজেকে সুন্দর মনে করে। হয়তো এই দাগগুলো না থাকলে সে এতো সুন্দর হতে পারতো না।
বেঁতের আঘাতের কালসিটে দাগ সারা শরীরে। নিজেকে দেখে ডুককে কেঁদে উঠলো মৃদু তার ঠিক ২মিনিট পরেই ডাক পরলো তার কাকিমার। ধূসর রঙ্গের সাদামাটা শাড়িটা ফুল স্লিভ ব্লাউজ ২মিনিটে পরে কোনোরকম দৌড় দিলো কারণ ৫মিনিটের মধ্যে উপস্থিত না হলে আবার মারবে তাকে। যদিও এখন শরীরে সয়ে গেছে তবুও নিজেকে সম্পূর্ণা তৈরী করতে তার এই প্রয়াস। তার স্বামী যখন ফিরে আসবে তাকে যেনো মেনে নেয় এটাই সে চায় খুব করে চায়। আচ্ছা জীবনটা এমন না হলে পারতো না?? কাকিমা কি পারতো না তাকে মেনে নিতে?? আগেতো খুব ভালোবাসতো তাহলে এখন এমন কেন করে?? ওনার ছেলে আমায় বিয়ে করেছে বলে? আর কিছু ভাবার সময় পেলোনা মৃদু।
“কাকিমা রোজকারমতো ঝাঝালো কন্ঠে বলে উঠলেন-কি ব্যাপার গোসল করতে এতো সময় নিস কেন? পানির বিল কি তোর মরা বাপ-মা দিবে??? জানিস তো আমার ছেলেটা তোকে মানেনা তো আমরা কেন তোকে পুষবো??? ভালই ভালই বাড়ির কাজ কর নাহলে পরশ আসার আগেই রাস্তায় নামবি তুই। কোনোভাবেই তোকে আমি এইবাড়িতে থাকতে দিবোনা বুঝলি? তুই শুধু আমার পরশ না আসা পর্যন্ত এখানে থাকতে পারবি আর পরশ আসলেই তোকে তালাক দিবে তারপর তুই তোর নিজের ঠিকানা খুঁজে নিবি যত্তসব অপয়া, অলক্ষি কুলঠা। (৮:২০মিনিট) সময় দেখছিস? ১০মিনিটে যেমনে সম্ভব নাস্তা রেডি করে টেবিলে দে যা ভাগ।”
আমি আর দেরি না করে নাস্তা তৈরি করা শুরু করলাম। আগে খুব কষ্ট হলেও এখন আমি রোবোটে পরিণত হয়ে গেছি । রাতেই সব কেটে বেঁছে আধা রান্না করে রেখেছিলাম তাই ১০মিনিটে হয়েও গেলো। নাস্তা টেবিলে দিয়ে যেই না নিজের জন্য কিছু খাবার তুলে নিয়ে যাবো তখনই কাকিমা ডাক দিলেন। কাকিমার দড়জার কাছে দাড়িয়ে আছি। সে যতক্ষণ না বলবে ভিতরে যেতে ততক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হবে। টেবিলে কাকিমা বাদে সবাই যার যার মতো খেয়ে উঠেও যাচ্ছে কিন্তু কাকিমা রুম থেকে আসতেছেনা। গতরাতে পায়ে একটু মেরেছিলো তাই দাড়িয়ে থাকতে একটু কষ্ট হচ্ছে। কিছুক্ষণপর ডাক পরলে ভিতরে গেলাম আমি। আমি রুমে প্রবেশ করতেই দেখলাম কাকিমায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি। কাকিমায়ের মুখে হাসি দেখেই বুকটা ধক করে উঠলো আমার আবার কাকিমা আমায় মারবেন এখন। ৩বছর থেকে কাকিমা যখনই খুশি কিংবা মন খারাপ করেন তখনই সে আমাকে বেঁত দিয়ে মেরে সেলিব্রেট করেন। এতে যেনো তিনি পৈশাচিক আনন্দ পান। খুব কি খারাপ হতো যদি পরশ আমায় মেনে নিতো? আমার কি এইসব প্রাপ্য?? আবারো কাকিমা তার আনন্দ প্রকাশ করলেন আমার শরীরটায় আঘাত করে। আমিও নিঃশব্দে চোখের জল না ফেলেই মেনে নিলাম তার অত্যাচার। এখন যে চোখের জলও অভিমানে আমায় ছেড়ে গেছে কি করে ফিরাবো তাদের? ফিরবে কি আমার নীড়ে?? নাকি এভাবেই আজীবন #কাঠপুতুল হয়ে থাকবো? কাকিমা আমার নাম দিয়েছেন #কাঠপুতুল। সে চায় আমি যেনো কাঠের পুতুলের মতো সব সহ্য করি কোনো প্রতিবাদ না করে সব করি আর এটা করতে কাকিমার বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। আমি যেনো সবকিছু চুপচাপ সহ্য করি সেটার জন্য টানা ৪রাত পিটিয়েছিলো আমায়। কাঁচা বাঁশের লাঠি উফ্ কি যে কষ্টকর সেটা মনে করতে চাইলেও মনে হয় আমার শরীরে এখনো কেউ মারতেছে। নাহ্ আমায় হসপিটালে নেয়নি পরশের বড় ভাই সুমু ভাইয়া(সুমেন) একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্টার তাই সেই এইসব প্রাইমারী পর্যায়ের চিকিৎসা দিয়েছিলেন আর কিছু ঔষধও। মাত্র ২মাস আমায় বেড রেস্ট দেয়া হয়েছিলো যদিও আমার শরীর পর্যাপ্ত সময় পায়নি কিন্তু কাকিমা সেটা মানেনি। আমিও নিজেকে শক্ত করি সব মেনে নিতে। হয়তো সম্পূর্ণ না হলেও এইসব সহ্য করার ক্ষমতা আমার হয়েছে। আর এখন তো ছোট ছোট দোষ বের করে মারার জন্য না পেলেও কিছু একটা করে দোষ দিয়ে মাঝে মাঝে রাতে অনে বাজে কথা শুনায়। বেঁতের চেয়ে কথার আঘাতগুলো বেশী লাগে। আজ একটা দোষের কারণে আমার জীবনটা নরকে পরিণত হয়েছে।
.
রাতে জ্বর এসেছিলো তাই সকালটা আমার মোটেই মনের মতো হচ্ছেনা তবে তাতে কি? গতরাতে কিছু করে রাখতে পারিনি তাই ৪৪মিনিট বাকি আছে এতেই সব করতে হবে। ৪৪মিনিট আমার কাছে অনেক এতে আমি অনেক কিছু করতে পারবো তাই নিজের কাজে মনোনিবেশ করলাম। তেল গরম হচ্ছে ডিম ভাঁজি করতে হবে কিন্তু হঠাৎ করেই মাথাটায় তীব্র ব্যথা অনুভব করলাম। চোখের সামনে সব ঝাপসা হতে লাগলো ফ্রাই প্যানটার হাতলে হাত লেতে তা আমার শাড়িতে পরে আমি দ্রুত সরে দাড়াতে যেতে ধরলেই পা গরম তেলে ঝলসে যায়। প্রচন্ড রকম ব্যথায় কুকড়ে যাচ্ছি কিন্তু চোখ দিয়ে জল আসছেনা আমার। একটা গ্লাসে কোনোরকমে পানি নিয়ে ঢেলে দিলাম পায়ে। আহ্ এবার একটু হলেও ঠিক আছে তেলের গরম ভাবটা কমেছে।
টেবিলে সবাই বসে আছে কিন্তু আমার নাস্তা আধা রেডি তাই যা হয়েছে তাই নিয়ে গেলাম খুড়িয়ে খুড়িয়ে। কাকু ডিম ভাঁজি দেখতে না পেয়ে কড়া গলায় আমায় প্রশ্ন ছুরে মারলেন-
“মৃদু ডিম ভাঁজি কই? তুই কি আজ আমায় প্রথম নাস্তা পরিবেশন করতেছিস নাকি আজকে এই বাড়িতে তুই নতুন?(কাকু রেগে উঠে চলে গেলেন আর আমি কাকিমার পানে চেয়ে দেখি সে রহস্যময়ী হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার পানে। আর আমি? আমি সদা প্রস্তুত। আর থাকবো নাই বা কেন?? আমি যে কাঠপুতুল। কাকু বেড়িয়ে যেতেই আমিও কাকিমার দৃষ্টি অনুস্মরণ করে ছুটে গেলাম তার রুমে। আজ কাকিমার হাতে নতুন বেঁত দেখতে পাচ্ছি। আচ্ছা এটা দিয়ে কি খুব বেশিই ব্যথা পাবো নাকি কম? কাল সকালে তাহলে নতুন আঘাত নিয়ে আয়নাবিলাস করতে পারবো? নতুন বেঁত, নতুন দাগ, নতুন কষ্ট। লাল লাল দাগগুলো কি খুব আকর্ষনীয় করে তুলবে আমায়? নাকি খুব বেশি বিদঘুটে লাগবে? পরশ কি করবে আমায় এভাবে দেখে? খুব কি কষ্ট পাবে নাকি আবারো ছেড়ে যাবে? আর কিছু ভাবার সময় পেলোনা মৃদু। এই বেঁতের আঘাত যে একটু বেশিই লাগছে। একটা বারি গলায় লাগে যার কারণে ঢোক গিলতেও পাচ্ছেনা মৃদু।
#কাঠপুতুল
#লেখনীতে-তানভীন শিলা
#সূচনা_পর্ব
চলবে-

#কাঠপুতুল
#লেখনীতে-তানভীন শিলা
#পর্ব-২
“মৃদু”
পরিচিত কন্ঠে নিজের নাম শুনে প্রথমে চমকে গেলেও পরক্ষণেই মনে পরলো ওর তো আরো চারমাস পর আসার কথা ছিলো। আমারই হয়তো ভুল হয়েছে শুনতে। আবারো রান্নায় মনোনিবেশ করলাম কিন্তু কারো কোমর পেঁচিয়ে ধরায় আর কাঁধে মাথাটা রাখায় বুঝতে পারলাম সে সত্যিই এসেছে।
“তো মৃদুপাখি কি আমার কন্ঠটাও ভুলে গেছে হুম??” অভিমান করে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দুরে গেলে আমিও তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললো-
“ইশ্ মৃদু তোর হাতগুলো এতোশক্ত? উফ্ মনে হলো কেউ আমাকে পিষে দিয়েছে রে। আহ্ আমার হাত। হ্যাঁ রে মৃদু মা তোকে এভাবে মেরেছে? আমি আজই ভাইকে কল দিয়ে বলে দিবো।”
“না পরিমনি ওনাকে বলতে হবেনা। তাছাড়া কাকিমা তো আমার শাশুড়ি মা ও হন তো মা সন্তানদের একটু আধটু মারতে পারেনা বল? উনি তো আমায় খুব ভালোবাসতোরে এখন কেন এমন করে সেটাই বুঝিতেছিনা। উনি হয়তো কোন কারণে রেগে আছেন আমার উপরে।”
“হুম আর সেই রাগের কারণেই তো তোমার সতীন আনতে চাচ্ছে।”
উদ্ভট গন্ধ নাকে আসতেই মনে পড়লো কাকুর জন্য চুলোয় গুরুর মাংস ভুনা রাঁধছিলাম। ইশ্ সম্পূর্ণটা জ্বলে গেছে আর সময়ও নেই যে আবারো বানাবো। তাই পরিকে ফ্রেস হওয়ার জন্য যেতে বলে আমি অল্পকিছু সংখ্যক মাংস উপর থেকে তুলে নিয়ে মসলা ছিটিয়ে আবারো হাল্পা জ্বাল দিলাম যেনো কাকুকে খাওয়াতে পারি। তবে প্রচুর ভয় লাগতেছে গন্ধের জন্য ফির কিছু বলবে নাকি খাওয়া ছেড়ে উঠে যাবে?
এবাড়িতে কাকু, কাকিমা, পরী (পরশের ছোট বোন আর আমার সমবয়সী) আমরা একই সাথে এচইএসসি পরীক্ষা দিয়েছি কিন্তু অনার্স-এ পড়ার কপাল আমার হয়নি।পরশ তো আমেরিকায় আছে কোনো এক সুনামধন্য মেডিকেল কলেজে-এ পড়ছে। কাকুর বড় ভাই অর্থাৎ বড় কাকু তার স্ত্রী বড় কাকি এবং তাদের একমাত্র সন্তান সুমেন ভাই ও আমিসহ মোট ৭জন থাকি পরশসহ ৮জন কিন্তু ও তো নেই বর্তমানে।
আমি রান্না শেষ করে ডাইনিং টেবিল-এ খাবার সাজিয়ে দিলাম কিন্তু নিজের জন্য রাখলামনা। আল্লাহ্ জানে কাকু আজ কি করে, কাকু যদি খাবার না খায় আমি এমনিতেই খাবার পাবোনা। ইদানিং শরীরটা খুব খারাপ যাচ্ছে, প্রচুর দূর্বল হয়ে পরছি কিন্তু আমার দূর্বলতা দেখার মানুষ নেই। পরী আমায় প্রচুর ভালোবাসে তাই ও যখন আসে কাকিমা আমায় মারতে পারেনা। পড়াশোনার তাগিদে পরী শহরে থাকে ছয়মাস পরপর আসে বাড়িতে কিন্তু আজ হুট করে দুমাস পরেই কেন এলো বুঝলামনা। পরীর জন্য হয়তো কাকিমা আজ আমায় মারবেননা কিন্তু ও চলে গেলে না জানি কটা রাত আমার ব্যথায় কাতরাতে হয়।
সকলে খেতে বসছে আর আমি উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইছি যেন গন্ধটা বেশি না হয় কাকু যেন কিছু না বলে খেয়ে নেয়। মাংস ভুনা কম দেখে কাকু আমায় বললেন সে খাবেনা সেটা যেন সম্পূর্ণটা পরী খায়। পরী খুব পছন্দ করে কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি ও একটু খারাপ হলেই খেতে পারেনা, মেয়েটা না জানি কি করে বসে। আমি অপেক্ষায় আছি পরী কি করে দেখার জন্য কিন্তু আমাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে পরী সম্পূর্ণটা চেটে খেয়ে নিয়ে বললো “দারুণ হয়েছে” আমিতো মহা অবাক!! পুড়াগন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে পরী বলছে ভালো হয়েছে কিভাবে সম্ভব? ও কি আমায় বাঁচাতে বললো?
“মৃদুপাখি তোর হাতের রান্নাতো দারুণ রে। আমরা তো ভেবেছিলাম তুই কখনো রান্না করতেই পারবিনা কিন্তু এখন তোর মতো রান্না মনে হয় মা ও করতে পারবেনা রে। লাভ ইউ পাখি। তুই খেয়ে আমার রুমে আসবি বুঝলি? জলদি আসবি আমি গেলাম রুমে।”
সবাই খেয়ে যার যার রুমে চলে গেলে আমিও খেয়ে পরীর রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। সিঁড়ি বেয়ে অর্ধেক উঠেছি এমন সময় কাকিমা রুম থেকে বের হয়ে আমায় বললেন তার রুমে যেন ৫মিনিটে চা নিয়ে যাই। কিছুক্ষণ আগেই দুপুরের খাবার খেয়েছে আর এখনি চা!!! আমার কিচ্ছু বলার নাই, আমি কিছু বলতেই বেঁতের নজরবন্দি হতে হবে তাই চা বানিয়ে তার রুমে দিয়ে চলে এলাম পরীর রুমে। হুট করে পরী কেন এলো সেটাও তো জানতে হবে। আমি পরীর রুমে ঢুকে দেখি মোবাইলে কিছু একটা করতেছে আমাকে দেখেই কেমন জানি করতে লাগলো। আমি কিছু বুঝতেছি না তাই ওর পাশে বসলাম।
“পরী তুই আজ হঠাৎ করে এলি যে? তুই কি অসুস্থ পরী? নাকি অন্যকিছু?”
পরী আমার কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ব্যাগ থেকে কিছু শাড়ি বের করে তার মধ্যে থেকে আমাকে ৫টা শাড়ি দিয়ে বলল-
“ভাইয়া টাকা দিয়েছিলো শপিং করতে তাই আমি তোর জন্য এই ৫টা শাড়ি কিনেছি। দেখতো কেমন হয়েছে?”
“না পরী অন্য কোনো কারণ আছে এগুলোর জন্য তুই আসিসনি বলনা কি হয়েছে?”
“ভাইয়া তোর সাথে কথা বলবে মৃদুপাখি।”
আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না। পরশ যাওয়ার ৪বছর হয়ে গেছে কিন্তু একটাবারের জন্যও আমার সাথে কথা বলতে চায়নি। প্রথম প্রথম আমি খুব জিদ করতাম তাই কেমন আছি শুনেই কল কেটে দিতো। আজ হঠাৎ আমার সাথে কথা বলতে চাইছে কেন? কি এমন বলবে যে আজ এতোগুলো বছর পর নিজে থেকে কথা বলতে চাইছে? ইতিমধ্যে পরী পরশকে কল দিয়েছে। কল রিসিভ করতেই পরী চেঁচিয়ে উঠলো-
“ভাইয়া বিয়ে করে বৌটাকে নরকে কেন রেখে গেলি রে? আমি আজ বলতে বাধ্য যে তুই মৃদুর জীবনটা কয়লা বানিয়ে ময়লা করে দিয়েছিস। জানিস ওর হাতগুলো লোহার মতো শক্ত? কেন শক্ত সেটা আমি চাই তুই নিজে এসে দেখ।”
“ওপাশ থেকে কি বলল আমি শুনতে না পারলেও এই বাচালটার কথা ঠিকই শুনতে পাচ্ছি।”
“তুলোর মতো নরম ছিলো ওর ফরসা হাত দুটি।তোর থেকে তো অনেক শেড ফরসা আমার মৃদুপাখি কিন্তু এখন ওকে দেখলে তুই চিনতেই পারবিনা।(পরী ডুকরে কেঁদে উঠলো। আমি পরীকে কি বলে থামাবো বুঝতেছিনা। আমার জন্য এতোটা ভাবে মেয়েটা যে নিজের অতীতটা মনে করার সময় পায়না।পড়াশোনার বাহিরে যতটুকু সময় পায় আমার সাথে কথা বলতে চায় কিন্তু কাকিমার জন্য আমি অনেক তাল-বাহানা দিয়ে কম কথা বলি।)”
“পরীজান আমার প্লিজ আমার জন্য এভাবে কাঁদিস নারে। দেখ আমি ঠিক আছি। আমার একটুও কষ্ট হয়নারে। প্লিজ কাঁদিসনা বোন আমার।(পরীকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কথাগুলো বললাম। ভুলে গিয়েছিলাম যে কল ডিসকানেক্ট হয়নি।)”
“পরীর নাক টেনে আমায় বলল- “নে ভাইয়ার সাথে কথা বল” কিন্তু আমি স্ক্রিনে দেখলাম পরশ কল কেঁটে দিলো হয়তো আমার সাথে আর কথা বলার ইচ্ছা ওর নেই কিংবা বোনের কান্না সহ্য করতে পাচ্ছেনা।
আমি পরীকে চুপ করিয়ে শাড়িগুলো নিয়ে নিজের রুমে এলাম। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পরে কাকিমা আমার রুমে এলেন।
“ঐ কুলঠা **** পরীর কান্নার আওয়াজ কেনো পেলামরে? তুই কিছু বলেছিস? বুঝিনা কিছুই আমার মেয়েটাকে কাঁদিয়ে তুই কি সুখ পাইসরে? এখন ইচ্ছা করতাছে তোরে গরম খুন্তি দিয়া পিটাই বজ্জাত মাইয়া। তুই মরতে পারিসনা? পরশ আসলেই তোকে বের করে দিবো বাড়ি থেকে যত্তসব অপয়া কুলঠা ****। তোর আমার বাড়িতেই আসতে হইলো আর কোন জায়গা পেলি না? পাবিই বা কিভাবে পরশকে তো নিজের হাতের মুঠোয় নাচাচ্ছিলি। ভাগ্যিস আমার ছেলেটা দেরিতে হইলেও বুঝতে পারছে কিন্তু তার আগেই তুই জোর করে ওকে বিয়ে করে নিলি। এখন পরে পরে ঘুমা শান্তি হজম কর।”
“কাকিমা কি বলে গেলো এইসব? পরশ কি বুঝতে পারছে? আমি তো পরশকে জোর করে বিয়ে করিনি। আমি তো শুনেছিলাম কাকিমাই আমাকে ওনার ছেলের বৌ বানাতে চেয়েছিলো। জানিনা এমন কি হয়েছিল যার কারণে কাকিমা অদ্ভুত আচরণ করতেছিলো আর তারপরই তো পরশ কেনোজানি জোর করেই বিয়ে করলো আমায়। এইবাড়িতে কি হচ্ছে আমার বোধগম্য নয় কিছুই। কাকিমাতো আমায় মানুষ মনেই করেননা, কাকুর আমি দুচোখের বিষ। বড় কাকু আর কাকি আমি আছি মনেই করেননা। সিমুন ভাই ছ্যকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে আছেন ৩বছর থেকে। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে সব ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যেতে কিন্তু আমার কিশোরী মনের প্রথম প্রেম তারপর স্বামী আর এখন ভালোবাসার মানুষটা যদি আমায় না পেয়ে কাকিমার সাথে ঝগড়া করেন সেটা আমার ভালো লাগবেনা। আর আমারো যেতে ইচ্ছা করেনা। আমি জানতে চাই পরশ আমায় কেনো বিয়ে করেছিলো আর আমায় না জানিয়ে কেনোই বা চলে গেলো। আমি জানি পরশ আমায় ভালোবাসে তাই বিয়ে করেছে।”
বিকেলে সবার জন্য নাস্তা বানাচ্ছি এমন সময় কলিং বেল বেঁজে উঠলো। আমি দরজা খুলতেই দেখি মিফতি এসেছে। মিফতি কাকিমায়ের বড় বোনের ছোট মেয়ে। আমি ভেতরে আসার জন্য বললাম। গেট লাগিয়ে রান্নাঘরে যাওয়ার আগেই কাকিমা যা বলল তাতে আামি নিজেকে সামলাতে পাচ্ছিলামনা।
“মিফতি আমার পরশের হবু বৌটা বুঝি এতোদিন পরে তার হবু শাশুড়ির কথা মনে করেছে?”
চলবে-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here