ক্রাশ পর্ব -১৬

#ক্রাশ
#পর্ব_১৫
#মুমতাহিনা_জান্নাত_মৌ
সারাদিনে একবার একটা কল দাও নি,
আমি যদি দেই তখন বার বার কেটে দাও।
আর এখন রাত ১২ টার দিকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছো আমি ঘুমাইছি কিনা?
রাতে খেয়ে শুইছি কিনা?
কি দরকার ছিলো কল দেওয়ার?
আচ্ছা সব বাদ দিলাম,তুমি যে আজ আমাদের এখানে আসবে না সেটা তো অন্তত বলতে পারতে????
কথাগুলো এক নিঃশাসে বললো মোহনা।।
সাগর কে কোন কথা বলার সুযোগ ই দিচ্ছে না সে।
সাগর তখন বললো, আমাকে কিছু বলতে দাও।
আমি একটু বলি???

–কি বলবে তুমি?
তোমার কোন কথা শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নাই আমার।
একটা মানুষ সেই সকালে বের হইছে পৌঁছেছে কিনা সেটা তো জানানো উচিত ছিলো?
আচ্ছা ঠিক আছে তুমি ব্যস্ততার কারনে বলার সময় পাও নি।।
যদিও তুমি এমন ব্যস্ত নও যে আমাকে একটা ফোন দিতে পারবে না।
তবুও মেনে নিলাম।
কিন্তু আমি ফোন দিলে বার বার কেনো কেটে দাও?
তারপর আবার ফোন ব্যস্তও দেখায়?
কোনসময় আবার বন্ধ করে রাখো?
কথাগুলো আবার এক নিঃশ্বাসে বললো মোহনা।

সাগর এবার আর কোন কথা বললো না।
সে চুপ করে মোহনার কথা শুনতে লাগলো।
মোহনা সাগর কে চুপ থাকা দেখে বললো,
সমস্যা কি তোমার?
চুপ করে আছো কেনো?
কিছু বলছো না কেনো?
আমার কথার উত্তর দাও।
সাগর তখন বললো তুমি তো আমার কথা শুনতেই চাচ্ছো না।
কি বলবো আমি?
আর তোমার এটা বোঝা উচিত ছিলো যে মানুষ হঠাৎ করে এতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে,
ফোনে কথা বলার মতো সময় পাচ্ছে না সে নিশ্চয় ইচ্ছে করে এসব করছে না।
নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে?
এভাবে ফোন ধরেই বকাবকি না করে তোমার ধীরে সুস্থে আমাকে প্রশ্ন করা উচিত ছিলো।
মোহনা তখন বললো তুমি কি এমন ব্যস্ত যে আমাকে ফোন করার পর্যন্ত সময় পাও নি?
সাগর তখন বললো সামিরাকে নিয়ে সারাদিন আজ হাসপাতালে ছিলাম।

সামিরার কথা শোনামাত্র মোহনা একটু শান্ত হলো।
আর বললো,
সামিরা?
কি হইছে ওর?

–বিষাক্ত কিছু খাইছে।
ডাক্তার তো সেটাই বললো।।।
এখন আবার জিজ্ঞেস করো না কেনো খাইছে?
কি কারনে খাইছে?
আমরা নিজেরাও জানি না।

মোহনা তখন বললো এখন কেমন আছে সে?

–এখন বিপদমুক্ত।
সমস্ত পয়জন বের করা হইছে।
তবে সুস্থ হয় নি এখনো।
একবার একটু তাকায়ছিলো পরে শরীর দূর্বলের কারনে অজ্ঞান হয়ে যায়।।।
এখনো জ্ঞান ফেরে নি।

মোহনা সে কথা শুনে বললো, আমি কি তোমাদের পরিবারের কেউ নই?
আমাকে এই কথা টা কি বলা উচিত ছিলো না?
তুমি বলো?
এটা কি তুমি ঠিক করেছো?
ও কি শুধু তোমারই বোন?
আমার কেউ নয়?

সাগর তখন বললো, আমাকে বাবা ফোনে এ ব্যাপারে কিছু বলে নি।
বাড়ি গিয়ে জানতে পারলাম।।
পরে ওকে নিয়ে সারাদিন দৌঁড়াদৌঁড়ি করতেই গেছে।।দুই হাসপাতাল থেকে ফেরত দিয়েছে।।
কোথাও এডমিট করাতে পারছিলাম না।
এদিকে তো সবার কান্নাকাটি।
আমি নিজেও শকড হয়ে গিয়েছিলাম।
তোমার সাথে কথা বলি কখন?
এখন পর্যন্ত মাথা টা বনবন করে ঘুরছে।
বুঝতে পারছি না সে হঠাৎ করে এই কাজ টা করতে গেলো কেনো?
মোহনা নিজেও অনেক বেশি অবাক হলো।
কি এমন হয়েছে যে নিজের জীবন টাই শেষ করতে চেয়েছে সামিরা???
মোহনা কি বলে সাগর কে শান্ত্বনা দিবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
তাই সে আর সাগর কে তাদের বাড়ি আসার ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করলো না।
কারন সে বুঝতে পারছে সাগর এখন অনেক টেনশনে আছে।
সে হয় তো তাকে আর নিতেও আসবে না।
এদিকে সামিরা কে দেখার জন্য তার মন টা ছটফট করছে।
সাগর কে সাহস করে বলতেও পারছে না।
হঠাৎ সাগর বললো,মোহনা আমি কিন্তু কালকেও যাবো না তোমাদের বাসায়।
এই রকম একটা পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বের হওয়া মোটেও সম্ভব না।

মোহনা এই সুযোগে বললো,আমি একটু সামিরা কে দেখতে চাই।
সাগর সাথে সাথে বললো না না তুমি আগেই এসো না।
তুমি তোমার বাড়িতেই থাকো।
বাবা তো তোমাকে বলতেও নিষেধ করেছিলো।
তোমার পরিবারেরও কেউ যেনো না জানে।
এটা আমাদের পরিবারের মানসম্মানের ব্যাপার।
বাহিরের লোক জানাজানি হলে অনেক বড় কেলেংকারী হয়ে যাবে।
মোহনা তখন বললো, ঠিক আছে।
কাউকে বলবো না।
কিন্তু আমি তোমাদের বাড়ি গেলে কি প্রবলেম?
সাগর তখন বললো আমি যেটা বলছি সেটাই শোনো।
তোমার মা যদি আমার কথা কিছু জিজ্ঞেস করে বলবে ব্যস্ত আছি আমি।
মোহনা সে কথা শুনে মন খারাপ করলো।
কারন মোহনা এটা বুঝতে পারছে না যে সে তাদের বাড়িতে গেলে প্রবলেম টা কোথায়?
ওদের ফ্যামিলি কি তাকে বাহিরের লোক মনে করে নাকি?
আর সে সামিরার কথা কাকে বলতে যাবে?

পরের দিন টাও এইভাবেই কেটে গেলো।
কিন্তু মোহনার আর এভাবে ভালো লাগছে না।
তাছাড়া সামিরাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে।
সামিরা কাউকে কিছু না বললেও তাকে নিশ্চয় কারন টা বলবে।
কেনো সে এই রকম একটা কাজ করেছে?

কিন্তু তার পরের দিন মোহনা কাউকে কিছু না বলে তার শশুড় বাড়ি চলে গেলো।
কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কারো সাড়াশব্দ পেলো না।
সবাই গেলো কোথায়?
তাছাড়া সাগর তো বলেছিলো তারা কালকেই সামিরাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসেছে।
তাহলে তো আজ তাদের বাড়িতেই থাকার কথা।
কিন্তু কেউ নাই কেনো?
সামিরা তার রুমে গিয়ে দেখে তালা লাগানো।
কোন রুমই খোলা নাই।
এখন কি করা যায়?
বাড়িতেও তো সে এখন আর যেতে পারবে না।
তাই মোহনা সাগর কে ফোন দিলো।

সাগরের ফোন বার বার ব্যস্ত দেখাচ্ছে।
মোহনা তাই সাগর কে আর বিরক্ত করলো না।
হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো তার দাদীর রুম খোলা।
মোহনা তাই দৌড়ে সেই রুমে গেলো।
সাগরের দাদী মোহনাকে দেখে তো সেই অবাক!!!
মোহনা!!!
তুমি কখন এলে?
কে নিয়ে আসলো তোমাকে???
মোহনা তখন বললো দাদী আমি একাই এসেছি কিন্তু বাড়িতে কেউ নাই কেনো?
আমার রুমেও তালা লাগানো।
সাগরের দাদী তখন বললো, সবাই সাগরের খালার বাড়িতে গিয়েছে।
মোহনা ভুল করে বলে ফেললো সামিরা না অসুস্থ???
এই অবস্থায় সবাই বাহিরে বেড়াতে গেছে?
সাগরের দাদি বুঝতে পারলো সাগর মোহনাকে
সামিরার কথা সব বলে দিয়েছে।
এজন্য সাগরের উপর মনে মনে তিনি একটু রাগই হলেন।
এতো বারন করার পরও সে মোহনাকে সব বলে দিলো?
সাগরের দাদী তখন বললো সামিরাকে সাথে করেই নিয়ে গেছে।
কিন্তু সাগর তোমাকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করে নি?
মোহনা তখন বললো, বলেছিলো।
কিন্তু আমার কেনো জানি ভালো লাগছিলো না তাই ওকে না বলেই চলে এসেছি।
তাছাড়া সামিরাকে দেখতে ও ইচ্ছে করছিলো।
এখন বুঝতে পারছি উনি কেনো আমাকে বাড়ি আসতে নিষেধ করেছেন?
এখন যেহেতু এসেই পড়েছি আজ না হয় তোমার রুমেই থাকি?
সাগরের দাদী কোন উত্তর দিলেন না।

মোহনা তখন নিজেই আবার কথা বললো,আচ্ছা দাদী দাদুও কি গিয়েছে?
তাকে দেখছি না যে?
সাগরের দাদী বললো না।
উনি কেনো যাবেন?
উনি অন্য আরেক জায়গায় গিয়েছে।
এই বলে সাগরের দাদী রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

এদিকে মোহনা দাদীর রুমেই থাকলো।
তার ড্রেস ও চেঞ্জ করে নিলো।
মোহনা বুঝতে পারলো তার দাদী তাকে এড়িয়ে চলছে।
ভালোভাবে কথা পর্যন্ত বলছে না।
তাহলে কি উনি রাগ করেছেন?
কিন্তু কেনো?
কিছুক্ষন পর দাদী মোহনাকে বললো তোমার রুমে যাও।
তালা খুলে দিয়েছি।
মোহনা সেই কথা শুনে তার ব্যাগ নিয়ে রুমে চলে গেলো।
কিন্তু তার কিছুতেই ভালো লাগছে না।
এভাবে না বলে আসা টা মনে হয় ঠিক হয় নি?
সে ভাবলো সবাই কে সারপ্রাইজ দিবে।
কিন্তু নিজেই তো সারপ্রাইজড হয়ে গেলো।

মোহনা সেজন্য তার রুমে মন খারাপ করে শুয়ে থাকলো।
প্রায় এক ঘন্টা পর হঠাৎ মোহনা সাগরের গলা শুনতে পেলো।
সাগর,মোহনা মোহনা বলে ডাকছে।
মোহনা সাগরের গলা শুনে বিছানা থেকে তাড়াতাড়ি করে উঠতে ধরলো।
কিন্তু সাগর তার আগেই রুমে প্রবেশ করলো।
আর মোহনাকে বিছানা থেকে টেনে তুললো,
তুমি এখানে এসেছো কেনো?
বারণ করি নি তোমাকে?

মোহনা তখন সাগর কে জড়িয়ে ধরে বললো এতো রাগ করতেছো কেনো?
তুমি তো আমাকে ক্লিয়ার করে কিছু বলো নি?
যদি বলতে বাসায় কেউ থাকবে না তাহলে কি আসতাম নাকি?
তাছাড়া একা একা ভালো লাগছিলো না তাই চলে এলাম।
ভাবছিলাম তুমি খুশি হবে।
কিন্তু তুমি তো দেখি আমাকে দেখে রাগ হচ্ছো।

সাগর মোহনাকে এখন কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
মোহনাকে সামিরার ব্যাপারে বলতে সবাই নিষেধ করেছিলো।
তারপরেও সে বলেছে তাকে।
তাছাড়া সাগর কে আবার এখনি তার খালার বাসায় যেতে হবে।
তা না হলে তার বাবা আবার খুঁজবে তাকে।
কাউকে না বলেই সে চলে এসেছে।।
কারন দাদী সাগর কে ফোন করে মোহনার আসার খবর দিয়েছে।

সাগর তাই মোহনাকে বললো, তুমি বাড়ি চলে যাও।
একা একা কি করবে এখানে?
সবাই খালার বাড়ি গিয়েছে।
দুই চার দিন থাকবে ওখানে।
আমিও ওখানেই থাকবো।

মোহনা তখন বললো,আমাকেও নিয়ে চলো।
আমিও যাবো খালার বাড়ি।
আমাকে নিয়ে গেলে কি হবে?
তাছাড়া আমি সামিরাকে দেখার জন্য এখানে এসেছি।
ও যেহেতু এখানে নাই তাই যেখানে আছে আমিও সেখানেই যাবো।
সাগর তখন বললো, প্লিজ মোহনা জিদ করো না।
আমরা ওখানে সাধে যাই নি।
একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে গিয়েছি।
তোমাকে সাথে নিয়ে গেলে সবাই রাগ করবে।
একটু বোঝার চেষ্টা করো।
দাদী বললো সবাই দেখার আগেই তোমাকে যেনো আমি আবার তোমার বাড়ি রেখে আসি।।
কাজটা হয়ে যাক তখন সব বলবো।।

মোহনা তখন বললো সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ টা কি আমাকে বলা যায় না?
আমিও শুনতে চাই।
কারন আমি তোমার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না।
এই দুইদিন আগে বললে সামিরা অসুস্থ, হাসপাতালে আছে।
আবার আজ শুনছি খালার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে।
এখন আবার বলছো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।
আমাকে ক্লিয়ার করে বললেই তো হয়।
সাগর তখন মোহনার হাত ধরে বললো , আগে তুমি তোমার বাড়ি চলে যাও।
তখন সব বলবো।
চলো আমি তোমাকে অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত রেখে আসি?
সেই কথা শুনে মোহনা সাগরের হাত সরিয়ে দিলো।আর বলবো যেতে হবে না তোমাকে।
আমি একাই যেতে পারবো।
তবে খবরদার তোমাকে যেনো আমাদের বাড়িতে আর না দেখি।
আমাকে নিতে আর যাবে না।
এই বলে মোহনা তার ব্যাগের মধ্যে কাপড় তুলতে লাগলো।
সাগর বুঝতে পারলো মোহনা ভীষণ রাগ করেছে।
তাই সে মোহনার সাথে সাথে নিজেও ব্যাগে কাপড় উঠাতে লাগলো।
মোহনা সাগর কে দেখে সবগুলো কাপড় আবার বের করলো।
আর বললো, খবরদার আমার ব্যাগে হাত দিবে না।
আমি একাই পারবো।
সাগর তখন মোহনার হাতের ব্যাগ টা কেড়ে নিলো।
আর বললো, রাগ টা একটু কম করো।
তারপর মাথা ঠান্ডা করে কাপড় গুলো ওঠাও।
মোহনা সেই কথা শুনে আর ব্যাগটাই নিলো না।
গড়গড় করে ব্যাগ রেখেই রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

চলবে,,,,,,,
পরবর্তী পর্ব পড়তে চাইলে অবশ্যয় লাইক কমেন্ট করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here