ঘর বাধার স্বপ্ন পর্ব -১১

#ঘর_বাধার_স্বপ্ন
#আরোহী_ইসলাম
#পর্ব:১১

কিছুক্ষন পর সবার খাওয়া শেষ। অবনি ড্রয়িং রুমে বসে আছে। ধ্রুব রুমে চলে এসেছে ওইখানে লজ্জায় পরার থেকে রুমে বসে থাকা ভালো। অবনি আর ধ্রুবের নানি গল্প করতেছে। আবিদের দাদি হাসি মুখে আবিদের মাকে বললো ‘ শুনো আজ আমার নাতনি আসবে। ওর যেনো কোনো সমস্যা না হয় ঠিক আছে?

আবিদের দাদির কথায় আবিদের মা আর অবনির মায়ের মুখে অন্ধকার নেমে আসলো। আবিদের মা থমথমে গলায় বললো ‘ জ্বি মা নিলিমার কোনো সমস্যা হবে না।’

আবিদের দাদি হুম বলে নিজের রুমে চলে গেলো। অবনি নিলিমার কথা শুনে মুচকি হাসলো যে হাসির মাঝে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো রহস্য। ধ্রুবের মা অবনির কাছে এসে বললো ‘ অবনি নিলিমার থেকে দূরে থাকবি তুই। ওর সাথে কোনো তর্কে যাবি না আর ধ্রুবের থেকে ওকে দূরে রাখতে চেষ্টা করবি। জানিনা কোন বিপদ আসতেছে নতুন করে।’

অবনি তখন দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললো
‘ কোনো চিন্তা করো না তুমি।’

আবিদের মা হুম বলে রুমে চলে গেলো। আবিদের মা খুব ভয়ে আছে। অবনি ভাবতে লাগলো নিলিমার কথা। নিলিমা হচ্ছে অবনির ফুপির মেয়ে। অবনির একটাই আপন ফুপি। নিলিমা অবনিকে দু-চোখে সহ‍্য করতে পারে না। অবনির প্রিয় জিনিস গুলো সে জোর করে কেড়ে নেয়। অবনির একটা কথা মনে পরতেই মন খারাপ হয়ে গেলো।

কিছু বছর আগে অবনি যখন ক্লাস টেনে ছিলো।অবনির বেষ্ট ফ্রেন্ড ব্লাড ক‍্যান্সারে মা’রা যায়। কিন্তু মা’রা যাবার কিছুদিন আগে অবনিকে একটা ঘড়ি গিফট দেয় ঘড়িটা অবনির খুব পছন্দ হয়েছিল। অবনি কোথাও যাওয়ার আগে ঘড়িটাকে একবার দেখে যেতো। অনেক খেয়াল রাখতো যাতে পরে ভেঙে না যায়। হাতে পরে কোথাও যেতো না যদি সেটা হারিয়ে যায় কিন্তু একদিন নিলিমা অবনিদের বাড়িতে এসে অবনির রুমে আসে। ভুল বসত অবনি সেইদিন ঘড়িটাকে টেবিলের উপরে রাখে যার জন্য নিলিমার চোখে পরে আর নিলিমা ঘড়িটা নিয়ে যায়। অবনি রুমে এসে দেখে ঘড়ি নেই। অবনি সাড়া রুম খুজতে থাকে কিন্তু পাই না। অবনি কান্না করে দেয় এইটাই তার বেষ্ট ফ্রেন্ড এর শেষ স্মৃতি ছিলো আজ সেটাও হারিয়ে গেলো। অবনি ড্রয়িং রুমে এসে দেখে নিলিমার হাতে ঘড়ি অবনি নিলিমাকে বলে

‘ নিলিমা আমার ঘড়িটা ফেরত দাও।’

নিলিমা তখন মুখ বাকা করে বলে’ দিবো না। এইটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।’

অবনি তখন আকুল কন্ঠে বললো
‘ তুমি আমার অন্য একটা ঘড়ি নিও কিন্তু এইটা দাও প্লিজ।’

নিলিমা পৈশাচিক হাসি দিয়ে ঘড়িটাকে ফ্লোরে ছুড়ে মেরে বললো’ তোর প্রিয় জিনিস আমার তুই তো জানিস। আর এইটা আমার পছন্দ হয়েছে কিন্তু তুই এইটা আমাকে দিবিনা তাই আমি ভেঙে ফেললাম যাতে এইটা তুইও না পাশ আমিও না পায়।’

অবনি সেইদিন রুমে এসে অনেক কান্না করেছিলো। দুইদিন পযন্ত পানি ছাড়া কোনো খাবার মুখে দেয়নি। যার ফলে অবনির প্রচন্ড জ্বর আর শরীর দূর্বল হয়ে গিয়েছিলো। অবনিকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল।”

অবনি এইগুলো ভাবতেছে হঠাৎ ধ্রুব ডেকে বললো
‘ অবনি একটু এইখানে আয়তো আমার হেডফোন পাচ্ছি না।’

ধ্রুবের নানি হেসে বললো
‘ যা ডাকছে তোরে। রুমে ভালো লাগছে না সেই জন্য তোর লগে গল্প করবো যা এহন।’

অবনি তখন নানিকে বললো ‘ তুমিও না।’ ধ্রুব আবার ডেকে উঠলো অবনি ধ্রুবকে বললো’ হেডফোন টেবিলের উপরে দেখেন।’

ধ্রুব অবনির কথায় চোখ রাঙিয়ে ইশারা করে বললো ‘ রুমে আয়।’
কিন্তু অবনি ধ্রুবের কথায় পাত্তা দিলো না। ধ্রুবের নানি বললো’ ধ্রুব এইভাবে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বললো তো টেবিলে আছে।

ধ্রুব তার নানির কথায় বিরবির করে বললো একবার শুধু তোকে পাই তারপর আমাকে পাত্তা না দেওয়ার জন্য তুই শা’স্তি পাবি।’ ধ্রুবের রুমে ভালো লাগছিলো না একা সেই জন্য অবনিকে ডেকেছে কিন্তু অবনি রুমে আসতেছে না। ধ্রুব আবারো অবনিকে ডাক দিয়ে বললো’ আমার শার্ট পাচ্ছি না।’

অবনি মুখ টিপে হেসে বললো
‘ ড্রয়ারে আছে দেখো।’

ধ্রুব অবনির কথায় চুপচাপ অবনির কাছে এসে কোলে তুলে নিলো। ধ্রুবের এমন কাজে অবনি অবাক হয়ে গেলো। ধ্রুবের নানিতো হাসতেছে। ধ্রুব অবনিকে রুমে নিয়ে এসে দাড় করালো। অবনি রেগে বললো ‘ এইভাবে কেউ কোলে নিয়ে আসে? ভাগ্যিস নানু ছাড়া ওইখানে কেউ ছিলো না তাহলে কি ভাবতো?

ধ্রুব অবনিকে বললো
‘ কেউ ছিলো না যে দেখবে আর দেখলেও সমস্যা নাই। তোকে আমি রুমে আসতে বলছি আসলি না কেনো?

ধ্রুবের কথা শুনে অবনি হেহে করে হেসে বললো
‘ আমি তো নানুর সাথে গল্প করছিলাম তাই আরকি আসি নাই।’

ধ্রুব শান্ত চাহনিতে বললো
‘ এক পায়ে পনেরো মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবি এইটা তোর শা’স্তি আর যদি না থাকিস তাহলে অন্য রোমান্টিক শা’স্তি পেতে হবে। এখন বল কোনটা চাস?

অবনি তখন কাদো কাদো মুখ করে বললো
‘ কাল আমাদের বিয়ে হয়েছে আর আজকে তুমি আমাকে কান ধরিয়ে দাড় করাতে চাচ্ছো?

ধ্রুব ধমক দিয়ে বললো
‘ চুপচাপ কান ধর না হলে..

অবনি আর কোনো উপায় না পেয়ে কান ধরে দাড়ালো। অবনি মনে মনে বিরবির করে বললো’ বিয়ের আগে তো দেখেছি আমার কথা শুনেছে। কত ভালো ছিলো। কিন্তু এখন তো দেখি কথায় কথায় শাস্তির কথা বলে মাগো।’

ধ্রুব ভ্রু কুচকে বললো
‘ কি বিরবির করতেছিস?

অবনি ধ্রুবের কথায় বললো
‘ কিছু না।’

ধ্রুব ল‍্যাপটপে কাজ করতে লাগলো।অবনি কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অবনির কেনো জানি ধ্রুবের উপরে প্রচন্ত রাগ উঠতেছে।একে তো পায়ে ব‍্যথা হচ্ছে আর ধ্রুব তাকে দাড় করিয়ে চুপচাপ ল‍্যাপটপে কাজ করছে। ল‍্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে ধ্রুব অবনির দিকে তাকিয়ে বললো’ এইবার কান ছাড়।’

অবনি কান ছেড়ে চুপচাপ বেলকনিতে চলে গেলো। পায়ে ব‍্যথা হচ্ছে অবনির চোখ দিয়ে পানি পরে গেলো। অবনি মন খারাপ নিয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। ধ্রুব অবনির কাছে এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো’ সরি আসলে আমার অনেক রাগ হয়েছিল সেই জন্য শা’স্তি দিয়েছিলাম।’

অবনি মুচকি হেসে বললো
‘ ইট’স ওকে।’

কিছুক্ষন পর
অবনি রুমে বসে আছে। অবনির মা অবনিকে ডেকে বললো’ নিলিমারা এসেছে তোকে ডাকে।’

অবনি আসছি বলে ড্রয়িং রুমে আসলো। অবনি এসে দেখে নিলিমা আর তার ফুপি এসেছে। অবনি নিলিমার দিকে তাকিয়ে দেখে চোখে কালো চশমা পরেছে। অবনি সোজা ফুপির কাছে এসে বললো
‘ কেমন আছো ফুপি?

অবনির ফুপি মুচকি হেসে বললো
‘ আলহামদুলিল্লাহ্। তুই?

অবনি বললো
‘ আলহামদুলিল্লাহ্।’

নিলিমা ফোড়ন কেটে অবনিকে বললো
‘ তোর বলে ধ্রুবের সাথে বিয়ে হয়েছে? কি দেখে ধ্রুব তোকে বিয়ে করলো?

অবনি কিছু বললো না মনে মনে শুধু বললো
‘ শাকচুন্নি এসেই আমার কিউট জামাইয়ের উপরে নজর দিচ্ছিস। ধ্রুব তোর বড় তাও তুই ধ্রুব বলে ডাকছিস। মন চাই তোর চোখ কাটা চামচ দিয়ে তুলে ফেলি।’

ধ্রুব সিড়ি দিয়ে নামতেছে নিলিমা ধ্রুবের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। অবনি নিলিমার দিকে তাকিয়ে দেখে ধ্রুবের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে যেনো জীবনে কোনো ছেলে দেখেনি। ধ্রুব নিচে এসে নিলিমাকে দেখে বললো’ নিলিমা কেমন আছো?

নিলিমা মুচকি মুচকি হেসে বললো
‘ আলহামদুলিল্লাহ্। তুমি?

ধ্রুব হেসে বললো
‘ আলহামদুলিল্লাহ্।’
এইদিকে ধ্রুবের হেসে হেসে কথা বলা দেখে অবনির গা জ্বলতেছে। ধ্রুবের অবনির দিকে তাকিয়ে দেখে অবনি চোখ মুখ লাল করে আছে। অবনিকে রাগাতে ধ্রুব নিলিমাকে বললো’ তোকে তো সুন্দর লাগছে।’

নিলিমা বললো
‘ ধন্যবাদ। বাট তুমি আমাকে কিভাবে চিনলে?

ধ্রুব তখন বললো
‘ তোমার কথা শুনেছি তাই চিনলাম।’

অবনির মা বললো
‘ তোমরা ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নাও।’

নিলিমার মা আচ্ছা বলে উপরের রুমে চলে গেলো। নিলিমা ধ্রুবের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো ‘ বাই পরে কথা হবে।’

ধ্রুব হুম বললো। অবনি তো রেগেমেগে ধ্রুবকে বললো’ তুমি রুমে আসো।’

ধ্রুব বললো’না আমি বাহিরে যাবো।’

অবনি চোখ রাঙিয়ে বললো
‘ তুই রুমে আসবি নাকি তোর,,

আর কিছু বলবে তার আগেই ধ্রুব কাদো কাদো মুখ করে বললো’ চল।’

অবনি রুমে এসে দরজা আটকে ধ্রুবকে বললো
‘ ওই শাকচুন্নির সাথে হেসে হেসে এতো কি কথা হচ্ছে শুনি? আমার সাথে তো কখনো হেসে হেসে কথা বলেন নাই?

ধ্রুব বুঝতে পারলো অবনি জেলাস হচ্ছে নিলিমাকে দেখে। ধ্রুব বললো ‘ কই?

অবনি রেগে বললো,,

#চলবে…
( ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেকবেন। কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন। পড়ে মন্তব্য করার অনুরোধ রইলো। হ‍্যাপি রিডিং।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here