তুমি আমার প্রেয়সী ২ পর্ব -০৪

#তুমি_আমার_প্রেয়সী
#সিজন ২
#তাসনিম_জাহান_রিয়া
#পর্ব_৪

লাইক সিরিয়াসলি। আমি আর কিউট? নাইস জোক্স। জোক্স অফ দ্যা ইয়ার। আমি ভ্রু কুচকে তাকালে আমাকে কিউট লাগে। হা হা। যার মুখ দেখলে বাচ্চারা ভয়ে পালিয়ে যায়। বড়রা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাকে আপনি কিউট বলছেন। আপনি আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে চাইছেন আমি দেখতে কতটা কুৎসিত। আমাকে এভাবে অপমান না করলেও পারতেন।

হুট করে সম্পূর্ণ ঘর অন্ধকার হয়ে যায়। কণা একটু ভয় পেয়ে যায়। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয়। হঠাৎ কণা নিজের পিছনে কারো অস্তিত্ব অনুভব করে। বুঝতে পারে এটাই সেই লোক। কণা ভাবে লোকটা তার হাতের বাধন খুলে দিচ্ছে ।

কিন্তু লোকটা কণার ভাবনাকে ভুল করে দিয়ে কণার হাতের বাধন খুলে দেয় না। বরং চেয়ারে সাথে বেধে রাখা দড়িটা খুলে দেয়। কণাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। অজানা লোকটার নিশ্বাস কণার ঘাড়ে আঁচড়ে পড়ছে। কণার শরীরে যেনো হীম শীতল বাতাস বয়ে গেলো। সে জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। অপরিচিত বলিষ্ঠ বাহুর বন্ধনে গিয়ে কেঁপে ওঠে কণা।

এর আগে কোনো ছেলের এতো কাছে সে যায়নি। আদ্রিয়ানের সাথে রিলেশন থাকলেও সেটা হাত ধরা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। হঠাৎ লোকটা এক টানে কণার হিজাবটা খুলে ফেল। টান দিয়ে চুলের কাটা খুলে ফেলে। কণার হাঁটু অব্দি চুলগুলো ঝর ঝর করে ছড়িয়ে পড়ে পিঠময়। লোকটা কণার চুলে নাক ডুবিয়ে স্মেল নিতে থাকে।

আরেকদিন নিজেকে কুৎসিত বললে এর ফল খুব খারাপ হয়ে যাবে। তুমি আমার কাছে বকুল ফুলের মতো। বকুল ফুল যেমন শুকিয়ে গেলেও সুভাস থেকে যায়। তেমনি এসিড দিয়ে তোমার সৌন্দর্য নষ্ট করে দেওয়ার সাধ্য কারো নেই।

তোমাকে এখানে কেনো নিয়ে আসছি জানো? তোমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। তুমি আমাকে এতোদিন যতটা কষ্ট দিয়েছো সব শুধে আসলে ফিরত দেওয়ার জন্য। কিন্তু পারলাম না তোমার ঐ সর্বনাশী চোখ দুটো দেখে। তোমার ঐ সর্বনাশী অক্ষি জোড়ার দিকে তাকালেই আমি আমার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলি।

লোকটা কণার কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলে,

মিহু বেবি নেক্সট টাইম আমার পুরুষত্ব নিয়ে কথা বলো না। আমি যদি তোমাকে আমার পুরুষত্বের প্রমাণ দেই। তাহলে তুমি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

অজানা লোকটার কথায় কণা কেঁপে ওঠে। কী ভয়ঙ্কর কথা বার্তা। হঠাৎ কণা তার ঘাড়ে সুক্ষ ব্যথা অনুভব করে। পরমুহূর্তেই ঢলে পড়ে অজানা লোকটার বুকে।

তোমাকে সামনে থেকে দেখার বহুদিনের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিলাম।

আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে কণার ঙ্গান ফেরার পর নিজের রুমের নিজের বিছানায় নিজেকে আবিষ্কার করে। তাহসিন আহম্মেদ কণার মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ঐশি কণার পায়ের কাছে বসে আছে। আভিয়ান কণার বিছানার সাথে একটা চেয়ার নিয়ে বসে আছে। কণা পিটপিট করে চোখ খুলতেই তাহসিন আহম্মেদ অস্তির কন্ঠে বলেন,

এখন কেমন আছিস তুই? এখন তোর শরীর কেমম লাগছে?

উফ আব্বু এতো অস্তির হয়ে না তো। আমি একদম ঠিক আছি। কিন্তু আমি এখানে আসলাম কী করে?

তোকে আভিয়ান আর ঐশি নিয়ে আসছে। ভার্সিটির সামনে মাথা ঘুরে অঙ্গান হয়ে গিয়েছিলি। তখন আভিয়ান আর ঐশি তোকে হলপিটালে নিয়ে যায়। ডক্টর বলেছে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া না করা আর কোনো কিছু নিয়ে ভীষণ চিন্তিত থাকার কারণে এমন হয়েছে

কিন্তু আমি তো. …..

কণা আর কিন্তু বলে না ঐশির চোখ রাঙানো দেখে কণা চুপ করে যায়। ঐশি কণাকে চোখে ইশারা দিয়ে বলে পরে সব কিছু বলবে।

আংকেল আমরা এখন আসি। কণার ঙ্গান ফিরে আসছে। কণা নিজের খেয়াল রাখবি। আমরা এখান আসি।

ঔশি আর আভিয়া কণা আর তাহসিন আহম্মেদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। কণা বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে।

নিশ্চয়ই তোর অনেক ক্ষুধা লাগছে তাই না? তুই শুয়ে থাক আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি।

কথাটা বলেই তাহসিন আহম্মেদ এক মুহূর্ত দেরি না করে ঐ স্থান ত্যাগ করে। কণা তাহসিন আহম্মেদের কথাটা আদৌও শুনেছে নাকি? তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সে তো তার ভাবনায় ব্যস্ত। সে হিসাব মিলাচ্ছে। একে একে সব ঘটনা মনে করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সে ব্যর্থ। তার শুধু এতটুকু মনে আছে তার ঘাড়ে সে সূক্ষ্ম ব্যাথা অনুভব করে। তারপর ঙ্গান হারিয়ে ঢলে পড়ে অজানা লোকটার বুকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সে বাসায় আসলো কী করে? ঐশি পরে বলবে বলছে কিন্তু তার মন তো খচখচ করছে। মনে হচ্ছে সত্যিটা ঐশিও জানে না। তাহসিন আহম্মেদ খাবার নিয়ে এসে কণাকে খাইয়ে দিতে থাকে। কণার মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে অজানার লোকটার কথাগুলো।

আরেকদিন নিজেকে কুৎসিত বললে এর ফল খুব খারাপ হয়ে যাবে। তুমি আমার কাছে বকুল ফুলের মতো। বকুল ফুল যেমন শুকিয়ে গেলেও সুভাস থেকে যায়। তেমনি এসিড দিয়ে তোমার সৌন্দর্য নষ্ট করে দেওয়ার সাধ্য কারো নেই।

আচ্ছা লোকটা কী তাকে ভালোবাসে? কিন্তু সে তো ভালোবাসার ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। সে যে মিথ্যা ভালোবাসার প্রতারণায় প্রতারিত হয়েছে। নিজের জীবনে একবার কেউ ঠকে গেলে সহজে আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না ঐ ব্যক্তি।

আচ্ছা বাবা আমাকে দেখে তোমার ভয় হয় না? অন্যদের মতো তোমার ঘৃণা করে না আমার এমন কুৎসিত চেহারা দেখে? তুমি কেনো অন্যদের মতো ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নাও না আমার থেকে?

প্রত্যেকটা বাবার কাছেই তার মেয়ে রাজকন্যা। আর তুই তো আমার রাজকন্যা। রাজকন্যারা কখনো কুৎসিত হয় না। রাজকন্যারা সর্বদাই সুন্দর।

১০

চরম বিরক্তি নিয়ে কণা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে রিকশার জন্য। কিন্তু কণার অপেক্ষার প্রহর শেষ করে দিয়ে কোনো রিকশা আসে না। মাথার ওপর সূর্য তার উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে অন্য দিনের তুলনায় দ্বিগুণ আকারে। কণা গরমে ঘেমে অস্তির। কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘামের অশ্রু কণাগুলো। কণা ব্যস্ত হাতে বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কপালে ঘামের বিন্দুগুলো মুছার। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর একটা রিকশা আসে।

কণা রিকশায় ওঠে বসে। রিকশা চলতে শুরু করে উদ্দেশ্য ভার্সিটি। রিকশায় বসেও সূর্যের উত্তাপ থেকে নিস্তার নেই। রিকশার হুট তুলার ব্যবস্থা নাই। তাই রোদে পুড়ে ছাই হতে হতে ভার্সিটি যেতে হচ্ছে। প্রায় ২০ মিনিট পর রিকশা এসে থামে নিজের গন্তব্যে।

কণা ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নেমে পড়ে। ব্যস্ত পায়ে ভার্সিটিতে প্রবেশ করে। আশেপাশে ঐশিকে খুঁজে চলেছে কণা। কিন্তু কোথাও ঐশিকে দেখতে পাচ্ছে না কণা। তার মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে। এই প্রশ্নের উত্তর না জানা পর্যন্ত কণার শান্তি নেই। আর কণার সকল প্রশ্নের উত্তর আছে ঐশির কাছে।

একটু সামনে এগিয়ে যেতেই কণা ঐশিকে দেখতে পায়। কণা সেদিকে যেতে নিলেই কণার সামনে এসে দাঁড়ায় আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানের পিছনে আছে তার দলবল। আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে ঝুলে বাঁকা হাসি। কণা সেই হাসির দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়। সে তো একসময় এই হাসিরই প্রেমে পড়েছিল। এই হাসি দেখেই যেনো সে যুগ যুগ কাটিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু এখন তো সেই হাসি দেখার অধিকার তার নাই। আদ্রিয়ান যে অন্য কারো। আদ্রিয়ানের পিছন থেকে ছোঁয়া বেরিয়ে আসে। ছোঁয়া আদ্রিয়ানের এক হাত জড়িয়ে ধরে।

চলবে……..

(ছোট বলে কেউ লজ্জা দিবেন না। প্রতিদিন গল্প দিলে পর্ব একটু ছোট হবে। )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here