তোমার মাঝে আমি পর্ব ৪

#তোমার_মাঝে_আমি
#পর্ব:৪
#নিহীন_রুবাইয়াত

–কি ব্যাপার নিহী তোমার মুখে এতো হলুদ আসলো কি করে?

ভাবির কথাই নিহীন ভয় পেয়ে যাই।কি বলবে সে এখন?তার সাথে একটু যা ঘটেছে সেটাও তো বলতে পারবে না
–কি হলো নিহীন কিছু বলো..
–আসলে ভাবি..

–এই অনামিকা এখনো এখানে কি করছো,ছবি তুলতে সবাইকে ডাকা হচ্ছে চলো..(নিশানের কথাই অনামিকা আর নিহীনের দিকে খেয়াল করে না।নিহীনকে আসতে বলে নিজে চলে যাই।

নিহীন এখনো দাড়াই আছে।।

–আগে তো পেত্নি ছিলেন এখনতো হনুমান ও হয়ে গেছেন(হটাত সৌভিকের গলা শুনে নিহীন ভয় পেয়ে যায়)
কিছুক্ষন চুপ থাকার পর বলে,,
–আমি হনুমান হয় আর যাই হয় আপনার কি তাতে?সারাদিন আমার পিছনে লাগা ছাড়া কোন কাজ নেই।যত্তোসব ফালতু(সৌভিক বুঝতে পারে নিহীন ক্ষেপে গেছে)
–বাহ রাগলে তো আপনাই অনেক সুন্দর লাগে বেইয়ান(কথাটা শেষ করেই চোখ টিপ মারে)

নিহীন তো এবার আরো রেগে যাই,মন চাচ্ছে সৌভিকের সবগুলো চুল ছিড়ে দিতে।

–বেইয়ান একটু তাকান তো একটা ছবি তুলি আপনার,স্মাইল প্লিজ

নিহীন অবাক হয়ে তাকাই সঙ্গে সঙ্গে শৌভীক তার মোবাইলে একটা ছবি তুলে নেই।

–এই এই কি করলেন এটা?আমার ছবি তুললেন কেন?
–ছবি মানুষ কেন তোলে,পরে দেখতে পারার জন্য..
–মানে টা কি?(নিহীন চিল্লিয়ে ওঠে,দাতে দাত চেপে ধরে)
–মানে রাগান্বিত হলুদ হনুমানটার ছবি রেখে দিলাম গ্যালারি তে পরে আপনার ছেলেমেয়েকে না না নাতি নাতনিকে দেখাবো(সৌভিক ৩২ টা দাত বের করে ক্লোজ আপের এড দেয়ার মতো হাসি দেয়)
–ইউ….(নিহীন সৌভিকের গলা টিপে ধরার স্টাইলে হাত বাড়াই,সৌভিক সরে যাই)
–হাই আল্লাহ,,কি করেন এ?মেরে ফেলবেন নাকি?প্লিজ আমাকে মারবেন না আমার তো এখনো বিয়েটাও হয়নি।বিয়ে হবে বাচ্চা হবে কতো প্লান আমার আপনি যদি মেরে ফেলেন আমায় তাহলে তো….
–আপনি যাবেন এখান থেকে?তখন থেকে বক বক করেই যাচ্ছেন…ফালতুতু…
–আরে আরে আবার রেগে যাচ্ছেন কেন??ওহ বুঝছি আপনি চুমু চাইছিলেন দিই নাই তাই এতো রাগ??
–ইউ….(নিহীন এবার নিজের মুখের হলুদ নিয়ে সৌভিকের পাঞ্জাবিতে লাগিয়ে দেই।সৌভিকের বুকের দু পাশে নিহীনের হাতের ছাপ ভালোমতোই বোঝা যাচ্ছে…
–আরে কি করলেন এটা?আপনি কি করলেন এটা…কেউ দেখলে কি ভাববে?
–আমি জানি কে কি ভাববে?হনুমানের সাথে লাগতে আসলে তো এমন হবেই বিয়াই সাহেএএএএএএবব

নিহীন জোরে জোরে হেসে দেই,সৌভিক চুপচাপ দাড়াই থাকে।নিহীন হাসতে হাসতেই চলে যাই,,সৌভিক নিহীনের চলে যাওয়া দেখে হটাত নিহীন পিছন ফিরে তাকাই,,

–আমি কিন্তু ওতোটাও বোকা নয় বেয়াই সাহেব।

নিহীন এবার চলে গেছে।কিন্তু নিহীনের শেষ কথাটার মানে বুঝতে পারছে না সৌভিক।

রাতে শুয়ে আছে সৌভিক,মোবাইল টা বের করে কিছু একটা দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।
–@তোমার_মাঝেই_আমি দেখেছি আমার সসর্বনাশ..
–কার মাঝে ভাই??
–ভা ভাইয়া তুই?এখন?আমার ঘরে?কোন দরকার?কিছু লাগবে কি?আমায় ডাকতে পারতিস..
–আরে আরে মিয়া দাড়া এতো প্রশ্ন একসাথে করলে জবাব দেয়া যাই নাকি??তার আগে বল কার মাঝে নিজের সর্বনাশ দেখলি?(দাত কেলিয়ে)
–কা কারোর না।।তুই এখানে কেন যা তো নিজের রুমে যা..
–তা তো যাবোই কিন্তু আগে উত্তর দে কথা ঘুরাস না…

সৌভিক ভালো মতোই জানে সৌরভ উত্তর না নিয়ে যাবে না।তাই সে ওয়াশরুমের নাম করে পালিয়ে যাই।
–সৌভিক আমি জানি তুই কথা লুকানোর জন্য ওয়াশরুমে বসে আছিস।দরজা খোল কিন্তু তা না হলে কিন্তু ভেঙে দেবো দরজা..

সৌভিক দরজা খুললো না।দশ মিনিট পর সে দরজা খোলে।উকি মেরে দেখলো সৌরভ চলে গেছে।

সৌভিক একটা দীর্ঘ নিশ্বাস নেই তারপর বুকে হাত দিয়ে বলে,,
–বাঁচলাম।

পরের দিন মেহেদি অনুষ্ঠান,পার্লার থেকে মেহেদি পরানোর লোক এসেছে।নিলুফা সহ সবাই মেহেদি পরছে।

–আপু আপনার হাতে কি কারো নাম লিখে দেবো,মানে স্পেশাল কেউ..

নিহীন মুচকি হেসে মেয়েটির কানের কাছে গিয়ে নাম বলে,মেয়েটি হেসে বলে,

–সুন্দর নাম আপু

নিহীনও মুচকি হাসে।নিহীনের কথা মতো নামটা একটু জড়িয়ে লেখা হয়েছে।তাই খুব খেয়াল না করলে কেউ বুঝতে পারবে না।

রাত পোহালেই নিলুফার বিয়ে।বাড়ির সবাই এক সাথে বসে আছে।সবার মনটাই খারাপ।নিহীনের মা বার বার শাড়ির আচলে চোখ মুচছে।নিহীন,নিশা,অনামিকা,তাদের ফুফু সবাই মন খারাপ করে বসে আছে।সবাইকে এভাবে দেখে নিহীনের বাবা ধমকের সুরে বলে উঠলেন,
–আমি মেয়ের বিয়ে দিচ্ছি করর না।
–ছি ছি ভাইজান কি বলছো এসব?
–কি অলুক্ষুনে কথা বলছো এ আমার মেয়ের কবর কেন দিবা?
–তাহলে এভাবে শোক পালন করছো কেন?হাসি মুখে মেয়ের বিদাই দেয়া যাই না।সেটা যদি না পারো তাহলে কোন দরকার নেই বিয়ে দেয়ার।ঘরে রেখে দাও,পারলে সোকেসে উঠাই সাজাই রাখো।

সবাই মাথা নিচু করে বসে থাকে।হাসার চেষ্টা করে।তবে মনে মনে মেয়ের জন্য মিনহাজুর সাহেব ও অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

রাত ১২টা,নিহীন আলমারি থেকে সেদিনের সেই প্যাকেটটা বের করে,প্যাকেট টা খুলে দেখে খুব সুন্দর একটা শাড়ি।রানী গোলাপি শাড়িতে গোল্ডেন সুতার কাজ।নিহীন মুচকিকি হাসে তারপর শাড়ির সাথে থাকা সেই চিঠিটা খুলে হাসে আর বলে,,

–আমি কিন্তু ওতোটাও বোকা নয়।

সকাল থেকে দুই বাড়িতেই ব্যস্ততা,বিয়ে বলে কথা।নিলুফার ইচ্ছা ছিলো তার বিয়েটা যেন বাড়িতে থেকেই হয় তাই বাড়িতেই আয়োজন করা হয়েছে।
পার্লার থেকে লোক এসে নিলুফাকে সাজিয়ে দিয়ে গেছে।লাল বেনারসি,গা ভর্তি গহনা,ভারী মেকাপে নিলুফাকে অপরুপ সুন্দরি লাগছে।সব কাজিন রা নিলুফাকে নিয়ে মজা করছে,বাসর ঘরে কি কি হবে তা নিয়ে হাসিঠাট্টা করছে।এরই মাঝে নিহীনের ফুফু আসে,,

–বাহ!নিলুফা তোকে তো অনেক সুন্দর লাগছে।মাহশাল্লাহ… নজর না লাগে যেন।আশেপাশে তো আবার বদ মানুষের অভাব নেই।

নিহীন বুঝতে পারে কথাটা তার ফুফু তাকেই বলেছে।

–ফুফু টেনশন নিয়ো না।এতো বছর এক ঘরে থেকে ফুফার যখন নজর লাগে নি তখন আপুর ও লাগবে না
( ক্লোজ আপের এড দিয়ার মতো হাসি দেই নিহীন)
–তুই কি বলতে চাইলি নিহী?
–কিছু না ফুফু…
–বদ মাইয়া।কোন শিক্ষা নাই।তোর বিয়ে হবে না।
–তোমার বিয়েটা হতে পারলে আমার ও হবে

নিহীনের ফুফু মুখ খুলার আগেই নিহীনের মা এসে নিহীনকে বকা দেই।নিহীন চুপ করে যাই।নিহীনের মা নিলুফার কাছে এসে কিছু কথা বলে।মা মেয়ে দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাদে কিছুক্ষন এরই মাঝে বাইরে বর এসেছে বর এসেছে বলে চিল্লানো হয়।রুমের সবাই বেরিয়ে যাই ছুটে।নিহীন ও যেতে যাই কিন্তু ফিরে এসে নিলুফার কানে কানে বলে,,

–বেচারা তোর বলদ দেবরটারে আজ একটু টাইট দিবো।কিছু মনে করিস না যেন

নিহীন হাসতে হাসতে চলে যাই আর নিলুফা বোকার মতো বসে থাকে।যখন বুঝতে পারে নিহীন কোন দুষ্টুমি করবে তখন তাকে মানা করতে যাই কিন্তু কোন লাভ নেক।নিহীন চলে গেছে।

–বেচারা সৌভিকের যে আজ কি হবে।আল্লাহ ওর পাশে থেকো।

কথাটা বলে নিলুফা শুকনো ঢোক গেলে…..

চলবে……..
কেউ কি বলতে পারবেন নিহীন কেন বলেছিল সে ওতোটাও বোকা নয়?

(আজকের পার্টটা একটু ছোট তাই আমি দুঃখিত।রাতে এক্সট্রা পার্ট দেয়ার চেষ্টা করবো।ভূলত্রটি ক্ষমা করবেন।ধন্যবাদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here