নিস্বার্থ ভালোবাসা পর্ব ২+৩

#নিস্বার্থ ভালোবাসা
#পর্ব:২
#লেখিকা:তাসনিম জাহান রিয়া

রিদ এতক্ষণ ধরে নিরব দর্শক হয়ে সব কথা শুনছিলো। এবার সোফা ওঠে দাঁড়িয়ে
শুভ্রতার হাত ধরে টানতে সিঁড়ি দিয়ে নিয়ে এসে একটা রুমে এনে ফ্লোরে ছুড়ে মারে।

রিদ: তোর সাহস খুব বেড়ে গেছে তাই না। বিয়ের আগ পর্যন্ত তুই এই ঘরেই বন্দি থাকবি।

রিদ শুভ্রতাকে রুমের ভিতর বন্দি করে বাইরে দিয়ে দরজা লক করে চলে যায়।

রিদ: মামুনি-বাবাই এই রুমের দরজা কেউ খুলবে না। আর বাকিদের বলছি তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এই রুমের দরজা খুলে আমি কী করবো আমি নিজেও জানি না।

রিদ হনহন করে নিজের রুমে চলে যায়। এদিকে শুভ্রতা কখন থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছে কিন্তু কেউ খুলছে না। কারণ রিদের রাগ সম্পর্কে সবারই ধারণা আছে। আস্তে আস্তে সবাই দরজার সামনে থেকে সরে যায়।

শুভ্রতা: মামুনি-বাবাই প্লিজ দরজাটা খুলে দাও। কেউ একটু দরজাটা খুলে দাও।

শুভ্রতা চিৎকার করে বলছে সবাইকে দরজা খুলে দিতে কিন্তু কেউ দরজা খুলে দিচ্ছে না। শুভ্রতা কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে বসে পড়ে।

শুভ্রতা: আমাকে এখান থেকে যে করে হোক পালাতে হবে। রিদ আমাকে কখনো ছাড়বে না।

এইদিকে,

রিদ রুমে এসে ভাঙচুর করছে। তাকে আটকানোর জন্য কেউ আসছে না কারণ রিদ সবাই ভয় পায়। রিদ মাথা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে বেডে বসে পড়ে। আজকে তার রাগ কিছুতেই কমছে না। শুভ্রতাকে ঠাডায়া দুইটা থাপ্পড় মারতে পারলে হয়তো তার রাগটা কমতো। কিন্তু সে তো শুভ্রতার গায়ে হাত তুলতে তার হাত কাঁপে।

এনা: রিদ বেবি।

( রিদ এবং শুভ্রতার ফুফাতো বোন এনা। রিদকে ছোটবেলা থেকেই পছন্দ করে কিন্তু রিদ পাত্তাও দেয়। তার সবটুকু জুড়ে তো শুধু শুভ্রতা।)

এনা এসেই রিদের গা ঘেষে বসে পড়ে। রিদের কাধে হাত রাখতেই রিদ ঝাড়া মেরে হাতটা সরিয়ে দেয়।

এনা: রিদ আমি তোমাকে কত ভালোবাসি অথচ তুমি আমাকে পাত্তা দেও না কেনো?

রিদ: নো রেসপন্স।

এনা: তুমি সারাদিন শুধু শুভ্রতা শুভ্রতা করো। কিন্তু দেখ শুভ্রতা তোমাকে একটুও ভালোবাসে না। এতোদিন তোমার সাথে ভালোবাসার নাটক করে এখন অন্য একটা নাগড় জুটিয়ে ফেলছে। কেরেক্টারলেস মেয়ে একটা।

রিদ এনাকে ধাক্কা মেরে বেড থেকে ফেলে দেয়। ধাক্কাটা জুড়ে লাগায় বেডের কোনা লেগে এনার কপাল অনেকটা কেটে যায়।

রিদ: আমার শুভ্রতার কেরেক্টার সম্পর্কে তোর কাছ থেকে আমার জানতে হবে না। আগে নিজের কেরেক্টার ঠিক কর। আমার শুভ্রতার কেরেক্টার সম্পর্কে আর একটাও বাজে কথা বললে আমি তোকে জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলবো। বেরিয়ে যা আমার রুম থেকে।(চিৎকার করে)

এনা আসছিলো আগুনে ঘি দিতে। এখন নিজেই সেই আগুনের তাপে চিকেন ফ্রাই হয়ে গেছে।

রিদের চিৎকার শুনে রিদের দরজার কাছে রিদের বাবা-মা বাসার সব কাজের লোক চলে আসছে। রিদ এনাকে টানতে টানতে রুমের বাইরে বের করে দিয়ে সবার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়।

এইদিকে

শুভ্রতা পালানোর জন্য রাস্তা খুজছে। অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলো বেলকনি দিয়ে পালাবে। শুভ্রতা অনেকগুলো শাড়ি একসাথে জুড়া লাগিয়ে। শাড়ীর এক অংশ বেলকনির সাথে বেধে অন্য অংশ জুলিয়ে দেয়। তারপর ঐ শাড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়। নিচে নামতেই কারো সাথে ধাক্কা লাগে। যার সাথে ধাক্কা লাগে তার মুখ দেখে শুভ্রতা আতকে ওঠে। কারণ তার সামনে আর কেউ নয় বরং রিদ দাঁড়িয়ে আছে।

কিছুক্ষণ আগে,

রিদ সবার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে বেলকনিতে চলে যায়। রিদের রুম আর শুভ্রতার রুম পাশাপাশি হওয়ায় বেলকনি দুইটাও পাশাপাশি। রিদের চোখ শুভ্রতার বেলকনির দিকে যেতেই চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে যায়। কারণ শুভ্রতা বেলকনি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে।

বর্তমানে

রিদ শুভ্রতাকে টানতে টানতে বাসার ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে। বাসার ভিতরে প্রবেশ করেই,

রিদ:মামুনি-বাবাই আমি এই মুহুর্তে শুভ্রতাকে বিয়ে করতে চায়।

আনিকা: এতো তাড়াতাড়ি কেনো? তিনদিন পরে এমনিতেই তোদের বিয়ে।

রিদ: আমি কোনো কথা শুনতে চায় না। আমি এখনি শুভ্রতাকে বিয়ে করবো।

রিদ কাউকে একটা ফোন করলো। কিছুক্ষণের মাঝে দুইটা মেয়ে আসলো।

রিদ: যান উনাকে সাজিয়ে নিয়ে আসেন।

শুভ্রতা: আমি তোমাকে বিয়ে করতে চায় না।

রিদ:তোর মতামত জানতে চায়নি।

এক ঘন্টা পরে শুভ্রতাকে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে এনে সোফাতে বসানো হলো। শুভ্রতার পাশে বর বেশে আছে রিদ। রিদকে কবুল বলতে বললে একদমে বলে দেয়।

রিদ: কবুল, কবুল, কবুল।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে শুভ্রতার সময় কিছুতেই কবুল বলছে না। তারপর রিদ যা করলো তার জন্য মোটেও কেউ প্রস্তুত ছিল না।
#নিস্বার্থ ভালোবাসা
#পর্ব:৩
#লেখিকা:তাসনিম জাহান রিয়া

কিন্তু বিপত্তি ঘটে শুভ্রতার সময় কিছুতেই কবুল বলছে না। তারপর রিদ যা করলো তার জন্য মোটেও কেউ প্রস্তুত ছিল না। রিদ একটা রিভালবার নিয়ে তার নলটা নিজের মাথার ঠেকাই।

রিদ: শুভ্রতা তুই এই মুহুর্তে কবুল না বললে আমি নিজেকে শেষ করে দিব।

শুভ্রতা: কি করছো তুমি ওটা নিচে নামাও।

রিদ: তুই কবুল না বললে আমি নিচে নামাবো না।

শুভ্রতা: পাগলামো করো না। ওটা খেলনা না নিচে নামাও। প্লিজ তুমি এভাবে জেদ ধরে থেকো না।

রিদ: নো রেসপন্স।

রিদ যখনি মাথায় শুট করতে যাবে তখনি
শুভ্রতা একধমে কবুল বলে ফেলে।

শুভ্রতা:কবুল, কবুল, কবুল।

রিদের ঠোঁটের কোনে ঝুলে আছে বাঁকা হাসি। শুভ্রতা ছলছল চোখে রিদের দিকে তাকায়।

রিদ: তোর এই চাহনি যে আমার ভিতরটা ক্ষত, বিক্ষত করে দিচ্ছে সেটা কি তুই বুঝিস না। তোকে যে আমি খুব ভালোবাসি। (মনেমনে)

বিয়ের সব কাজ কম্পলিট হতে হতে ৮ টা বেজে যায়। ফুলে সজ্জিত রিদের রুমে সবাই মিলে শুভ্রতাকে বসিয়ে দিয়ে যায়।

শুভ্রতা: এই রাতটা নিয়ে সবারি কত স্বপ্ন থাকে আমারও ছিল। কত ইচ্ছে ছিল এই রাত নিয়ে। এই রুমটা নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে ছিলাম। কিন্তু সবকিছু যে আমার কাছে মরীচিকার মতো লাগছে।

দেখতে ৮ টা থেকে ১০ টা বেজে যায় কিন্তু রিদের আসার কোনো খবর নাই। শুভ্রতা দুই হাত দিয়ে ধরে লেহেঙ্গাটা একটু উপরে তুলে বেলকনিতে চলে যায়। বেলকনির রেলিং ধরে দুর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝড়ছে। তারাদের দিকে তাকিয়ে আনমনে গেয়ে ওঠে,

যেটুকু সময় তুমি থাকো পাশে
মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে
বাকিটা সময় যেন মরণ আমার
হৃদয় জুড়ে নামে অথৈয় আধার

ব্যথার সমাধিতে বসে এ মন
ফোটায় আশার ফুল রাশি রাশি
যখন দেখি ঐ মুখের হাসি
স্বপ্ন থেকে আসে নয়নেতে
নয়ন থেকে তুমি স্বপ্নে হারাও
জাগরণে হেসে কাছে দাঁড়াও

যেটুকু সময় তুমি থাকো পাশে
মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে
বাকিটা সময় যেন মরণ আমার
হৃদয় জুড়ে নামে অথৈয় আধার

হঠাৎ শুভ্রতাকে কেউ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শুভ্রতা কেঁপে ওঠে। শুভ্রতার বুঝতে একটুও অসুবিধা হয় না যে এটা রিদ। রিদ
শুভ্রতাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দুই গালে হাত রেখে।

রিদ: তুই আমার বউ না।

শুভ্রতা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।

রিদ: তাহলে তুই কাঁদছিস কেনো? আমার বউ কখনো কাঁদবে না সবসময় হাসি খুশি থাকবে।

শুভ্রতা: রিদ ভাইয়া তুমি ড্রিংক করছো।

রিদ: হুশশশ নিজের বরকে কেউ ভাই ডাকে।

শুভ্রতা: তুমি ড্রিংক কেনো করছো?

রিদ: তোর জন্য। তুই কি একটুও বুঝিস না আমি তোকে কতটা ভালোবাসি। তোকে ছাড়া যে আমি বেঁচে থাকতে পারবো না। তুই তো আমাকে ভালোবাসিস না। ( অভিমানী সুরে)

শুভ্রতা: আমিও তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

রিদ: আমাকে কখনো ছেড়ে যাবি না। তোকে ছাড়া তো আমি বেঁচে থেকেও মরে যাব।

রিদ শুভ্রতাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে।

শুভ্রতা: তোমার জন্য আমায় তোমাকে ছেড়ে যেতেই হবে। (মনেমনে)

শুভ্রতা: রিদ চলো ঘুমোবে।

রিদ: না আমি ঘুমোবো না।

শুভ্রতা: কেনো?

রিদ: আমি ঘুমিয়ে পড়লেই তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি।

শুভ্রতা: আমি যাবো না।

রিদ: আমাকে ছুঁয়ে প্রমিস কর।

শুভ্রতা: প্রমিস।এখন চলো ঘুমোবে।

রিদ: হুম।

ড্রিংক করে রিদ বাচ্চাদের মতো বিহেব করছে। বেলকনি থেকে রুমে চলে যায়।

শুভ্রতা: তুমি বসো আমি তোমার জন্য লেবুর সরবত নিয়ে আসি।

রিদ: না তুই যাবি না।

শুভ্রতা রিদকে বেডে জুড় করে বসিয়ে দিয়ে লেবুর সরবত আনতে যায়। লেবুর সরবত এনে রিদকে খাইয়ে দেয়। রিদ হরহর করে শুভ্রতার গায়ে বমি করে দেয়।
শুভ্রতা রিদ ফ্রেশ করিয়ে একটা শাড়ি নিয়ে নিজেও ফ্রেশ হতে চলে যায়। রিদ বেডে বসে আছে হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় গোলাপি শাড়ি পরিহিতা শুভ্রতাতে। রিদ আস্তে আস্তে শুভ্রতার কাছে গিয়ে শুভ্রতার চুলে মুখ ডুবিয়ে দেয়।

শুভ্রতা: কি করছো?

রিদ: তোকে একটু ভালোবাসতে দিবে। আমার ভালোবাসার রঙে তোকে রাঙিয়ে দিতে দিবি।( ঘোর লাগা কন্ঠে)

রিদের এমন কন্ঠ শুনে শুভ্রতা লজ্জায় রিদের বুকে মুখ লুকায়। রিদ তার উত্তর পেয়ে যায়। রিদ শুভ্রতাকে কোলে তুলে নেয়।

পূর্ণতা পাবে তাদের ভালোবাসা। মিলে মিশে দুজন একারার হয়ে যাবে।

অন্ধকার রুমে একটা ছবির সামনে বসে আছে একটা লোক।

অজানা: শুভ্রতা তুমি শুধু আমার। তোমাকে আমি আর কারও হতে দিব না।

চলবে…..
চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here