পবিত্রতার_ছোঁয়া পর্ব শেষ

#গল্পের নাম:#পবিএতার_ছোঁয়া (সিজন২)
#অন্তিম পর্ব
#লেখিকা:#জাবিন_মাছুরা [ছদ্মনাম]

সময় চলমান। সবকিছুকে থামিয়ে রাখা গেলেও সময়কে থামিয়ে রাখা যায় না।কোন দিক দিয়ে তিনটি বছর কেটে গিয়েছে তা আমি বুঝতে পারি না। আসলেই সবকিছুকে ধরে রাখা গেলেও সময়কে ধরে রাখা যায় না। স্যার কথা রেখেছেন। এই তিনটি বছর একজন আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সাথে আমার সম্পর্ক এখনো টিচার স্টুডেন্ট এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।তার প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এইচএসসি ও এসএসসি তে এ প্লাস
পেয়েছি। তিনদিন হলো মেডিকেল এ পরীক্ষা দিয়েছি। বেশ ভালোই পরীক্ষা হয়েছে আমার।
স্যারের মা আমাকে মেনে নিয়েছে। আর রিমি নামের মেয়েটার কিছুদিন আগে বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
মাঝেমধ্যে মা বাবা মেঘের সাথে দেখা হয়। আমার পিচ্চি ভাইটা অনেক বড়ো হয়ছে। মেঘের পাগলামো গুলো মনে হলেই আমার হাঁসি পাই। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছি। একটু আগে শাওয়ার নিয়েছি ফলে চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে।বাইরে তাকিয়ে ভাবছি স্যারের কথা। আজও লোকটা নিজের অধিকার চাইতে আসি নি।তার মুখ থেকে শুধু একটা বের হতো, নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। আর আমি কিছু বললেই মাথায় হাত রেখে বলতেন, মিহু তুমি এখনো অনেক ছোট। কথাগুলো ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।
তিনদিন হলো ফ্রী আছি। পড়াশোনা কোন চাপ নেই। নিজেকে স্বাধীন মনে হচ্ছে।

হঠাৎ আমার পাশে কারো উপস্থিতি টের পেলাম। বুঝতে বাকি রইল না কে এসেছে।

তাহসিন:বউ পাখি,,

আমি:নিশ্চুপ,,

তাহসিন:তুমি তো দিন দিন সুন্দর হয়ে যাচ্ছ।

আমি:তাই।

তাহসিন:হুম।আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছি না,,

আমি:কেউ তো আপনাকে কন্ট্রোল করতে বলছে না।

আমার কথা শুনে মনে হয় স্যার আকাশের চাঁদটা হাতে পেয়ে গেল। আমি তো লজ্জায় মুখ তুলে চাইতে পারছি না।

তাহসিন:তুমি তো দেখি অনেক বড়ো হয়ে গিয়েছ। পাকা পাকা কথা বলতে শিখে গিয়েছ।

আমি:নিশ্চুপ,,

লজ্জায় আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।কেউ যদি এখন আমাকে স্যারের সামনে থেকে নিয়ে যেত। তাহলে বোধহয় আমার জন্য অনেক ভালো হতো।

তাহসিন:এত লজ্জা পাচ্ছ কেন?

আমি:নিশ্চুপ,,

তাহসিন:লজ্জা পেলে কিন্তু তোমারই ক্ষতি,,

আমি:নিশ্চুপ

তাহসিন:বাই দা ওয়ে,যাও শাড়ি পড়ে এসো।

আমি:কেন?

তাহসিন:আমি দেখব, তোমাকে শাড়ি পড়ে কেমন লাগে।

আমি:কখন পড়ব?

তাহসিন:এখুনি পড়ে এসো।

আমি:আচ্ছা যাচ্ছি।

তাহসিন:তাড়াতাড়ি করবে।

আমি:ওকে।আপনি বাইরে যান।

তাহসিন:না যাব না।

আমি:তাহলে আমিও পড়ব না।

তাহসিন:তুমি দিন দিন আমার অবাধ্য হয়ে যাচ্ছ।

স্যারের অভিমান সুরে কথাটা শুনে বুকের মাঝে খারাপ লাগতে শুরু করল। আমি আর কিছু বলার আগে স্যার মন খারপ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
আমি নীল রং এর একটা শাড়ি পড়লাম। স্যারের নীল রং খুবই পছন্দের। সাথে মেচিন করে নীল চুরি পড়লাম। লম্বা চুলগুলো ছেড়ে দিলাম। ঠোঁট হাল্কা টিপস্টিক, চোখের নিচে চিকন করে কাজল। ব্যাস আমার সাঁজ কমপ্লিট।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।আজ আমি তার জন্যে সেঁজেছি, তাই হয়তো দেখতে অন্যরকম লাগছে। একদম বউ বউ লাগছে।স্যারের কথা ভাবতেই লজ্জা লাগছে। আজকে যে কি হবে আমার।
দরজায় ধাক্কার শব্দে আমার ধ্যান কাটল।আয়নায় থেকে মুখ সরিয়ে পিছনে তাকালাম। দেখলাম স্যার বুকে হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি তাকে দেখে জাস্ট ক্রাস খেলাম।তিনিও নীল রঙের পানজাবি পড়েছেন। মনে হচ্ছে তার দিকে তাকিয়ে জীবন পার করে দেই।

তাহসিন:মিহু তুমি আমাকে মারার ধান্দা করেছ?

আমি:নিশ্চুপ

তাহসিন:আজকে আমি শেষ।মিহু একটা কথা শুনতে চাই তোমার মুখ থেকে?

আমি:কি কথা বলুন।

তাহসিন:একবার বলবে ‘ভালোবাসি’?

আমি:অনেক অনেক ভালোবাসি আপনাকে।

তাহসিন:আমিও অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে।আজকে অপেক্ষার প্রহর শেষ করতে চাই। তোমার #পবিএতার_ছোঁয়া পেতে চাই। অনুমতি দেওয়া যাবে?

আমি:আপনি আমার স্বামী। আপনার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমিও আপনার #পবিএতার_ছোঁয়ায় নিজেকে ভাসিয়ে নিতে চাই।

(#সমাপ্ত)

[জানি আপনারা কেউ এমনটা আশা করেননি। আমিও গল্পটা আরো অনেক বড়ো করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাক্তিগত কারনে আমাকে তাড়াতাড়ি শেষ করে দিতে হলো। দুঃখিত, প্লিজ আমার উপর রাগ করবেন না।নিশ্চুপ রিডাসদের সাড়া চাই আজকে।আজকে সবার কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়া চেষ্টা করব।ধন্যবাদ সবাইকে ।]

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here