বিরহ শ্রাবণ ২ পর্ব – ৩২

#বিরহ_শ্রাবণ(দ্বিতীয় খণ্ড)
#পর্ব_৩২
#লেখিকা_সারা মেহেক

আমি প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের এ প্রশ্নকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিঃসংকোচ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
” অভ্র ভাইকে কখনো প্রচণ্ড হিংসা করেছেন আপনি? ”

প্রোজ্জ্বল ভাই হয়তো আমার নিকট হতে এমন প্রশ্ন আশা করেননি। তাই তো উনি কিঞ্চিৎ বিস্মিত ও নির্বাক চাহনিতে আমার দিকে চেয়ে রইলেন। উনার এহেন চাহনিই আমাকে স্পষ্টত বলে দিচ্ছে যে উনি কাল ঘুমের ঘোরে যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য।
আমি এখনও উত্তরের অপেক্ষায় প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের পানে চেয়ে আছি। আর উনি এলেমেলো নজরে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। হয়তো এ প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ার বাহানা খুঁজছেন উনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
” কি হলো? জবাব দিচ্ছেন না যে?”

প্রোজ্জ্বল ভাই এবার ব্যর্থ হাসার চেষ্টা করে বললেন,
” কি যে বলিস চন্দ্রিমা! ও আমার বন্ধু। ওকে হিংসা করার কি আছে। সেই ছোটবেলায় রেজাল্ট নিয়ে দুজনই দুজনকে হিংসা করতাম। সেসব হিসাব তো ছোটবেলার। ওসব……..”

” বড় হওয়ার পর কখনো একে অপরকে হিংসা করেননি?”

প্রোজ্জ্বল ভাই এবার খানিক নড়েচড়ে বসলেন। বললেন,
” কি হিংসা নিয়ে পড়ে আছিস তুই! হঠাৎ কি মনে করে এসব বলছিস চন্দ্রিমা?”

আমি প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের উপর হতে নজর হটিয়ে চায়ের কাপে মনোযোগী হলাম। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দায়সারাভাবে জবাব দিলাম,
” এমনিই জিজ্ঞেস করছিলাম আরকি। আচ্ছা এসব আলোচনা বাদ দিয়ে চা খেয়ে নিন। মামির সাথে রাতের খাবার রান্না করতে হবে। ”

প্রোজ্জ্বল ভাই আর কথা বাড়ালেন না। হয়তো বুঝতে পেরেছেন, এখন কথা বাড়ানো মানে অভ্র ভাইয়ের বিষয়টি আরো টে’নে হিঁ’চড়ে আমাদের মাঝে নিয়ে আসা। এই ভেবে আমিও আর কথা বাড়ালাম না।

.

তিন দিন পর কলেজে একটা কালচারাল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হলো। মূলত ডক্টর ও স্টুডেন্টদের কাজ ও পড়ার প্রেশার হতে কয়েক ঘণ্টা রেহাই দিতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। যদিও অনুষ্ঠানে সব স্টুডেন্ট আর ডক্টররা এলেন না। যেসব ডক্টরদের আজ বিজি শিডিউল তারা হসপিটালেই থেকে গেলেন। আর বাকিরা চলে এলেন শিল্পকলা একাডেমিতে। এখানে বেশ বড়সড় আয়োজন করা হলো।

কালচারাল প্রোগ্রামে প্রথমে গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া স্পোর্টসের প্রাইজ দেওয়া হলো। এরপর নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক শুরু হলো। প্রথমে আমাদের ব্যাচের কয়েকজন স্টুডেন্ট মিলে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করলো। এরপর সিনিয়ররা গান, নাচ পরিবেশন করলো। এরপর ইন্টার্নি কয়েকজন ভাইয়া ও আপু মিলে গান গাইলো। দুজন মেডিকেল অফিসার আবৃত্তি করলো ও গান গাইলো।

অনুষ্ঠানের প্রায় শেষের দিকে হঠাৎ অভ্র ভাইকে স্টেজে উঠার জন্য আমন্ত্রণ করা হলো। অকস্মাৎ সেখানে অভ্র ভাইয়ের নাম শুনে চমকে উঠলাম। আমার চমকিত এ ভাব আরো বেড়ে গেলো যখন শুনলাম অভ্র ভাই গান গাইবেন।
আমি এদিকে দর্শক সারিতে বসে আছি। প্রোজ্জ্বল ওদিকে ব্যাক স্টেজে কি যেনো এক কাজে ব্যস্ত আছেন৷
কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভেবেছিলাম হয়তো অভ্র ভাই আমায় দর্শক সারিতে দেখবেন না। কিন্তু উনি আমায় অবাক করে দিয়ে স্টেজে উঠার পরপরই আমার দিকে তাকালেন। দূর হতেও দেখলাম উনার চাহনি শান্ত ও স্থির। উনার এ চাহনিই যেনো আমার উদ্দেশ্য কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু আমি উনার এ না বলা কথা পড়তে ব্যর্থ হলাম। অনেকদিন পর অভ্র ভাইকে সরাসরি দেখার পর আজ মনে হলো পূর্বের তুলনায় উনি অনেক শান্ত হয়ে গিয়েছেন। কম কথার মানুষ হয়ে গিয়েছেন।

পিছনে একটা গানের সুর তোলা হলো। অভ্র ভাই গলা পরিষ্কার করে গান ধরলেন,
” অবাক চাঁদের আলোয় দেখো
ভেসে যায় আমাদের পৃথিবী
আড়াল হতে দেখেছি তোমার
নিষ্পাপ মুখখানি
ডুবেছি আমি তোমার চোখের অনন্ত মায়ায়
বুঝিনি কভু সেই মায়াতো আমার তরে নয়
ভুলগুলো জমিয়ে রেখে বুকের মণিকোঠায়
আপন মনের আড়াল থেকে
ভালবাসবো তোমায়
ভালবাসবো তোমায়
তোমার চিরচেনা পথের ঐ সীমা ছাড়িয়ে……”

গান শেষ হতে চারপাশ হতে করতালির আওয়াজ ভেসে এলো আমার কানে। গান চলাকালীন সম্পূর্ণ সময়টুকু আমি অভ্র ভাইয়ের দিকে চেয়ে ছিলাম। উনিও আমার দিকে চেয়ে ছিলেন। গান চলাকালীন সময়ে উনার ঐ এক দৃষ্টির চাহনি আমি আশা করিনি। মনে হচ্ছিলো, গানটা যেনো আমার উদ্দেশ্যেই উনি গেয়েছেন।
অভ্র ভাইয়ের গাওয়া এ গানের প্রতিটি বাক্য, উনার ঐ চাহনি আমায় অন্য কিছু ভাবতে বাধ্য করলো। যেখানে আমি ভেবেছিলাম অভ্র ভাই সত্যিই আমায় আর প্রোজ্জ্বল ভাইকে একত্রে মেনে নিয়েছেন সেখানে এতোদিন পর এ ভাবানুভূতি শুনে আমি ঠিক থাকতে পারলাম না৷ মনে হলো এখনই গিয়ে উনার কাছে এসবের জবাবদিহিতা করে আসি। প্রশ্ন করি, ‘আপনি তো আমাদের মেনে নিয়েছেন, তাহলে এখন এসবের অর্থ কি। নাকি ইচ্ছে করেই অতীত টেনে আনলেন সবার সামনে?’
এসব প্রশ্ন নিজেই নিজেকে করে ভাবলাম, এমন তো নাও হতে পারে। আমার এ ধারণা তো ভুলও হতে পারে। উফ, সব মিলিয়ে আমি চিন্তা শক্তি যেনো পুরোপুরি শূন্য হয়ে আসছে৷

অভ্র উঠে গিয়েছেন অনেকক্ষণ আগেই। এর মধ্যে আরেকটা পারফরম্যান্সও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমি মশগুল ছিলাম আমার ভাবনা নিয়ে। ওদিকে আমি অকস্মাৎ আরেক দফা চমকিত হলাম। কারণ এবার স্টেজে প্রোজ্জ্বল ভাইকে আমন্ত্রণ করা হলো। অদ্ভুত! আজ কি দুই বন্ধু মিলে আমায় চমক দিয়ে দিয়ে বাকশক্তিহীন করে ফেলবে না কি!

যে প্রোজ্জ্বল ভাইকে আমি কখনো সামনাসামনি গান গাইতে শুনিনি, সেই প্রোজ্জ্বল ভাই আজ স্টেজে সবার সামনে গান গাইবে! এর মতো আশ্চর্যের ব্যাপার আজ আর দ্বিতীয়টা নেই।

পিছনে ধীরলয়ে গিটারে সুর তোলা হচ্ছে। আর এদিকে প্রোজ্জ্বল ভাই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গলা পরিষ্কার করলেন। গান শুরু করার পূর্বে বললেন,
” আজ প্রথম স্টেজে গান গাইবো। যদিও এর আগে মেডিকেল লাইফে টুকটাক বন্ধুদের সাথে গান গেয়েছি। কিন্তু এভাবে স্টেজে, সবার সামনে জীবনে প্রথম গান গাইবো। আর এ গানটা স্পেশাল একজনকে ডেডিকেট করে গাইবো আমি। ”

প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের কথা শেষ হওয়া মাত্রই দর্শক সারির স্টুডেন্ট, কম বয়সী টিচার, মেডিকেল অফিসারসহ সকলের মধ্যে হইহই রোল পড়ে গেলো। সবাই করতালি দিয়ে প্রোজ্জ্বল ভাইকে উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর প্রোজ্জ্বল ভাই গান শুরু করলেন,
” তুমি না ডাকলে আসব না
কাছে না এসে ভালোবাসব না
দুরত্ব কি ভালোবাসা বাড়ায়?
না কি চলে যাওয়ার বাহানা বানায়?

দূরের আকাশ নীল থেকে লাল
গল্পটা পুরনো

ডুবে ডুবে ভালোবাসি
তুমি না বাসলেও আমি বাসি
ডুবে ডুবে ভালোবাসি
তুমি না বাসলেও আমি বাসি……..”

গান শেষ হতে পুনরায় করতালি দিয়ে দর্শক সারি মুখরিত হলো। প্রোজ্জ্বল ভাই স্টেজ থেকে যাওয়ার পূর্বে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। আর উনার এ হাসির রেশ ধরেই আমার ক্লাসমেটরা আমাকে খোঁচাতে লাগলো। কিন্তু আমি সেদিকে পাত্তা দিলাম না। কারণ আমার নজর গিয়ে ঠেকলো প্রোজ্জ্বল ভাই ও অভ্র ভাইয়ের উপর। দেখলাম দুজনে স্টেজের এক কোনায় দাঁড়িয়ে কি নিয়ে যেনো কথা বলছেন। আমি আর দেরি না করে সেদিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। পথিমধ্যে প্রোজ্জ্বল ভাই কথা বলতে বলতে এদিকে তাকালেন। আমায় উনাদের দিকে এগুতে দেখে উনি আমায় হাত দিয়ে চলে যেতে ইশারা করলেন। কিন্তু আমি উনার কথা না শুনে এগিয়ে গেলাম। প্রোজ্জ্বল ভাই এবার খানিক রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমায় ইশারায় চলে যেতে বললেন। ওদিকে অভ্র ভাইও আমার দিকে তাকালেন। ফলে আমি আর এগুলাম না। উল্টো পথ ফিরে নিজের জায়গায় চলে এলাম।

অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আমি প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের সাথে হল হতে বেরিয়ে এলাম। বের হওয়া মাত্রই জিজ্ঞেস করলাম,
” তখন আপনি আর অভ্র ভাই কি কথা বলছিলেন?”

প্রোজ্জ্বল ভাই তৎক্ষনাৎ জবাব দিলেন না। আমার প্রশ্ন এড়াতে পকেট হতে ফোন বের করে চালাতে লাগলেন। আমি পুনরায় একই প্রশ্ন করতে উনি বললেন,
” সবকিছু তোর শুনে কাজ নেই। বন্ধুদের মধ্যে কিছু কথা হচ্ছিলো আর কি।”

উনার এ জবাবে আমার ভীষণ সন্দেহ হলো। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম,
” সত্যি বলছেন তো?”

প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের মাথা হয়তো এবার গরম হয়ে এলো। উনি খানিক ধমকের সুরেই বললেন,
” এখানে সত্য মিথ্যার কি আছে! সব কথা তো তোকে শুনতে হবে না।”

উনার এরূপ আচরণে এবার আমার মুহূর্তেই গরম হয়ে এলো। আমি আর একটি কথাও না বাড়িয়ে বড় বড় পা ফেলে প্রোজ্জ্বল ভাইকে পিছনে ফেলেই রাস্তায় চলে এলাম। সাথে সাথে একটা রিকশা পাওয়ায় আমি তৎক্ষনাৎ রিকশায় উঠে পড়লাম। রিকশাওয়ালাকে ঠিকানা বলে দিতেই উনি রিকশা চালানো শুরু করলেন। ওদিকে পিছনে প্রোজ্জ্বল ভাইয়ের ডাক শুনলাম। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে আমায় ডেকে চলছেন।
কিছুদূর যেতেই উনি আমায় ফোন করলেন। কিন্তু আমি উনার কল রিসিভ করলাম না। প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছে উনার ঐ ধমক শুনে। আমি সাধারণভাবেই উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে উনার আর অভ্র ভাইয়ের মাঝে কি কথা হচ্ছিলো। কিন্তু উনি ওমন রাগ দেখালেন কেনো! এতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছে। এখন বাড়ি গিয়েও তো কথা বলবো না উনার সাথে।

রিকশা বাড়ির সামনে থামতেই ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়লাম। এরপর অনেকটা নিঃশব্দেই চাবি দিয়ে বাইরে থেকে ভিতরের গেটের তালা খুলে বাড়ির মধ্যে ঢুকলাম।
রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজে। এতক্ষণে বাড়ি সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছে। তাই পা টিপে টিপেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম। দ্বিতীয় তলায় উঠেই আজ আমার রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলাম। কাঁধের ব্যাগ বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে কোনোমতে বোরকা খুলে গাল ফুলিয়ে বিছানায় বসলাম।

মিনিট পাঁচেকের মাঝে আমার রুমের দরজায় কড়াঘাত পড়লো। সন্দেহ নেই দরজার ওপাশের ব্যক্তিটি প্রোজ্জ্বল ভাই।
আমি দরজায় কড়াঘাতের আওয়াজ শুনেও না শোনার ভান করলাম। এভাবে কয়েকবার কড়াঘাতের পর যখন আমি দরজা খুললাম না তখন প্রোজ্জ্বল ভাই আমার ফোনে কল দিলেন। কিন্তু আমি কল রিসিভ করলাম না।
এভাবে প্রোজ্জ্বল ভাই দরজায় কড়াঘাতও করলেন, পাশাপাশি আমার ফোনে কলও করলেন। এক পর্যায়ে আমি বিরক্ত হয়ে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম,
” আজ আমি দরজা খুলবো না। আপনি নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।”

ওপাশে প্রোজ্জ্বল ভাই ভীষণ রাগী গলায় বললেন,
” দেখ চন্দ্রিমা, আমার মেজাজ এখন চরম খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ ধৈর্য্য ধরে ছিলাম। কিন্তু এখন আর ধৈর্য্য ধরতে পারছি না। দরজা খোল বলছি। ”

” আমি দরজা খুলবো না। মেজাজ শুধু একা আপনারই গরম হয়নি। ”

” চন্দ্রিমা, ভালোভাবে বলছি দরজা খোলা। তা না হলে আমি জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিবো। তখন বাড়ির সবাই ঘুম থেকে উঠে গেলে দোষ হবে তোর। এজন্য বলছি দরজাটা খোল। ”
এই বলে প্রোজ্জ্বল ভাই পূর্বের মতো ধীর শব্দে দরজা ধাক্কালেন। কিন্তু আমি এবারও দরজা খুললাম না।
এরপর আর প্রোজ্জ্বল ভাই ধীরে ধাক্কালেন না। বরং উনার কথামতো জোরে ধাক্কানো শুরু করলেন। ওদিকে দরজায় জোরে কড়াঘাতের শব্দ শুনতেই মামা-মামি ও নানুর কথা শুনে আমি দ্রুত দরজা খুলে দিলাম।
আমার দরজা খোলা মাত্রই প্রোজ্জ্বল ভাই রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলেন। দরজা আটকিয়েই আমার দিকে এগিয়ে আমার দু বাহু চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললেন,
” এতো রাগ আসে কোথা থেকে? অকারণে এমন তেজ দেখালি কেনো আমার উপর?”

প্রচণ্ড জোরে বাহু চেপে ধরায় ভীষণ ব্যাথা হতে লাগলো বাহুতে। এজন্য শক্ত কণ্ঠে উনাকে বললাম,
” হাত ছাড়ুন প্রোজ্জ্বল ভাই। ব্যাথা লাগছে খুব।”

উনি আমার হাত ছাড়লেন না। বরং পূর্বের মতো অটল হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
” কি সমস্যা তোর? কিসের জন্য রাগ করলি আর কোন সাহসে এতো রাতে একা রিকশায় আসলি?”

আমি উনার হাত হতে নিজের বাহু ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে বললাম,
” আপনাকে ভালোভাবেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আপনার আর অভ্র ভাইয়ের মধ্যে তখন কি কথা হচ্ছিলো। একবারের জায়গায় না হয় দুইবার জিজ্ঞেস করেছি। সত্য কি না তাও জিজ্ঞেস করেছি। তাই বলে আপনি ওভাবে ধমক দিয়ে কথা বলবেন! আপনার ধমকে কতজন তাকিয়েছিলো তা কি দেখেছেন আপনি?”

প্রোজ্জ্বল ভাই এবার হেঁচকা মেরে আমার বাহু ছেড়ে দিলেন। পূর্বের ন্যায় বললেন,
” বুঝিস না আমার আর অভ্রর মধ্যে কি কথা হয়? এখন তো আমাদের মধ্যে আর স্বাভাবিক কিছু হয়েও হচ্ছে না। সব এলেমেলো করে দিয়েছিস তুই। এসবের মূল একমাত্র তুই চন্দ্রিমা। ”
‌®সারা মেহেক

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here