ভ্যাম্পায়ার_বর পর্ব ১২+১৩

#ভ্যাম্পায়ার_বর (সিজন ২)
#পার্ট_১২
#M_Sonali

বৃষ্টির পর হালকা রোদ উঠেছে। রোদের আলো প্রতিটা গাছের পাতায় পড়ে পাতাগুলো যেন সবুজে সবুজে নতুন হয়ে উঠেছে। সেই সাথে হালকা রোদের কারনে চিকচিকে সুন্দর্য চলে এসেছে প্রতিটা পাতায়। আর তার সাথে হালকা তাল মিলিয়ে এলোমেলো বাতাস বইছে চারিদিকে। বাতাসে যখন পাতাগুলি নড়ে উঠছে তখন তাদের সৌন্দর্য যেন আরো হাজার গুণ বেড়ে যাচ্ছে। এক নজরে সেদিকেই তাকিয়ে থেকে কফি মগে একটু পর পর চুমুক দিচ্ছে চাঁদনী। জানালার ধারে বসে কফি খাচ্ছে সে। পাশেই বসে আছে শ্রাবনী। শ্রাবনীর হাতেও একটি কফির মগ। কিন্তু সেটাতে কফির জায়গায় লাল টকটকে তরল কোন কিছু রয়েছে। যেটা চাঁদনীর চোখে পড়েনি। সে ভাবছে শ্রাবণীও ওর মত কফি খাচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার পর জানালার দিক থেকে চোখ সরিয়ে শ্রাবণীর দিকে ঘুরে বসলো চাঁদনী। তারপর কফির মগে আরেকটা চুমুক দিয়ে কফি পুরোটা শেষ করে মগটা পাশের টেবিলের উপর রেখে বলে উঠলো,

— আচ্ছা শ্রাবণী আপু তুমি কখনো কাউকে শাস্তি দিয়েছো? বা কেউ তোমাকে কখনো শাস্তি দিয়েছে?

ওর প্রশ্নে কফি মগটা নিজের মুখের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে পাশে সরিয়ে রাখল শ্রাবনী। যাতে চাঁদনীর চোখে সেটা না পড়ে। তারপর ওর দিকে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকিয়ে বলল,

— হ্যাঁ শাস্তি দেবো না কেন! আমি অনেককে শাস্তি দিয়েছি যারা ভুল করেছে। আর আমি ভুল করার কারণে আমিও শাস্তি পেয়েছি না না ভাবে। এটা আবার জিজ্ঞেস করার মত কি হলো চাঁদনী!

প্রশ্নটা করে আবারো কফির মগটা হাতে নিয়ে তাতে চুমুক দিল শ্রাবণী। তখনই ওর কথা শুনে বেশ নড়েচড়ে বসল চাঁদনী। তারপর কৌতুহল নিয়ে ওর দিকে আরেকটু ঝুকে এসে জিজ্ঞেস করল,

— আরে আমি সেই শাস্তির কথা বলছিনা। আমি অন্য একটা ভালো শাস্তির কথা বলছি!

ওর কথায় ভ্রু কুঁচকালো শ্রাবনী। তারপর জিগ্যেসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

— ভালো শাস্তি মানে? আসলে তুমি কেমন শাস্তির কথা বলছ বলতো চাঁদনী?

প্রশ্নটা করে কফি মগটা হাতে নিয়ে আবার সেটায় চুমুক দেওয়ার জন্যে মুখ এগোলো শ্রাবণী। তখনি চাঁদনী উত্তেজিত কণ্ঠে বলে উঠল,

–আরে আমি বলছি ওই শাস্তিটার কথা। যেটাতে মানুষ যখন অসম্ভব রেগে গিয়ে একজন আরেকজনের ঠোঁট নিজের ঠোঁট দিয়ে আঁকড়ে ধরে। আমি সেই শাস্তির কথা বলছি আপু। তুমি কখনো কাউকে এমন শাস্তি দিয়েছো?

কথাটা শোনার সাথে সাথে কফি মগে থাকা তরল সেই ড্রিঙ্ক যেন মাথার তালুতে উঠে গেল শ্রাবণীর। কাশতে কাশতে খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যেতে লাগল তার। ওকে কাশতে দেখে বেশ ঘাবড়ে গেল চাঁদনী। সে মাথায় ফু দিতে দিতে বলল,

— আপু, আপু কি হয়েছে তুমি এমন করছ কেন?

ওর কথার উত্তরে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে, চুপ করে বসে, চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে চাঁদনীকে জিজ্ঞেস করল শ্রাবণী,

— এটা কোনো শাস্তি? তুমি কিসের কথা বলছ? আমি তো তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা!!

— আরে আপু আজকে অফিসে কি হয়েছে জানো? আমি না, বৃষ্টির শব্দ শুনে দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তারপর যখন জেগে ওঠি তখন দেখি স্যার আমার সামনে বসে আছে। আমার ভীষণ ক্ষুধা লেগে ছিল বলে সে আমার জন্যে খাবার নিয়ে আসে। কিন্তু সামনে বসে এমন করে ছোঁচার মত আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো যে,আমি তাকে রাগ করে অনেক বকাঝকা করি। আর পরবর্তীতে তিনি অসম্ভব রেগে যায়। রাগের কারনে এগিয়ে গিয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, তারপর আমার ঠোঁট দুটো আঁকড়ে ধরে নিজের ঠোঁট দিয়ে শাস্তি দেয়। আমি সেই শাস্তির কথা বলছি। কিন্তু বিশ্বাস করো শাস্তিটা না কেমন যেন! আমার কাছে ভালই লেগেছে এমন শাস্তি মাঝে মাঝে খাওয়াই যায়। মনের মাঝে কেমন যেন একটা মিষ্টি অনুভুতির সৃষ্টি হয়েছিল তখন। কিন্তু বুঝলাম না এটা কেমন শাস্তি। তুমি কখনো এমন শাস্তি কাউকে দিয়েছো আপু?

এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামল চাঁদনী।

ওর কথায় এবার যেনো আসমান থেকে পড়লো শ্রাবণী। মাথায় হাত দিয়ে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে রইলো। তারপর বিস্ফোরিত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

— চাঁদনী আপা আপনি এখনো কি এ দুনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন? নাকি মঙ্গল গ্রহে বাস করেন?

— আপু আমি তোমাকে কি বলছি, আর তুমি সেই কখন থেকে আমার সাথে শুধু মজা করেই যাচ্ছ। প্লিজ বলোনা এমন শাস্তি কি তুমি কখনো কাউকে দিয়েছো? শাস্তিটা বেশ মজার তাই না!

ওর কথায় এবার ওর কপালে একটি গাট্টি মেরে শ্রাবণী বেশ রাগি গলায় বলে উঠল,

— এই মেয়ে, তুমি এত বড় ঢিঙ্গি একটা মেয়ে হয়ে গেছো, এখনো কি তোমার মাঝে বুদ্ধি বলতে কোন কিছু নেই? ওটাকে কি শাস্তি বলে নাকি কিস করা বলে হুমম? তুমি তো অনেক পড়াশোনা করেছ, কখনও এ বিষয়ে পড়নি যে, একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে ঠোট আকড়ে ধরে তখন সেটাকে কিস করা বা চুমু দেওয়া বলে। আর কিস করার মানে শাস্তি নয় বরং আদর করা বুঝলে?

ওর কথা শুনে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে রইল চাঁদনী। তারপর গালে হাত দিয়ে বেশ কিছু সময় নিয়ে কিছু একটা ভাবলো। ওর কাজগুলো সুক্ষ্মভাবে পাশে বসে পর্যবেক্ষণ করছে শ্রাবনী। হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে বলে উঠলো,

— আপু এটা তুমি কি বললে? এই কথাটা আমাকে আগে কেন বলনি? আমি তো এটা ভেবেই দেখিনি! আসলে এমন কোনো এক্সপিরিয়েন্স আমার জীবনে হয়নি তো কখনো। তাই আমি ভেবেছিলাম উনি রাগের মাথায় যখন এটা করেছে তাহলে এটা নিশ্চয়ই আমার জন্য একটা শাস্তি। কিন্তু এখন তো সব কিছুই বুঝতে পারছি। আপু এখন আমি কি করব? আমার এখন কি হবে? ওই লোকটা আমার সাথে এমন কেন করলো? আমি ওনার কী ক্ষতি করেছিলাম? আমাকে তো সে শেষ করে ফেলল! এখন আমার বিয়ের পর স্বামী যখন জানতে পারবে সে আমার সাথে এমন করেছে তাহলে আমার স্বামী কি ভাববে বলো? কিস তো শুধু স্বামী আর স্ত্রী’ই করে তাই না?

কথাটা বলেই অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল শ্রাবণীর দিকে। এদিকে শ্রাবনী ওর এতগুলো কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লো। মনে মনে বললো, এ মেয়ে বলে কি এতক্ষণ কিস করা টাকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে গুলিয়ে ফেলছিলো। আর এখন সোজা বিয়ের পর স্বামীতে পৌঁছে গেল। এখন কিভাবে সামাল দেবে শ্রাবণী ওকে? ভাবতে’ই যেন মাথা ঘুরতে শুরু করলো ওর। মনে মনে তখন শ্রাবণ কে গালি দিয়ে বলতে লাগলো,

— তোমার জন্য এই অবস্থা আজ আমার। আমাকে একদম ফাঁসিয়ে দিয়েছে এই মেয়েকে কি করে সামাল দেবো এখন আমি? মানুষেরা কেন যে এত ভেজালের হয় আল্লাই জানে।

কথাগুলো মনে মনে ভেবেই মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল তার। সে চাঁদনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,

— আমার কাছে একটি ভালো আইডিয়া আছে। যেটা তোমার জন্য ভালো হবে। তুমি বলছিলে না বিয়ের পর তোমার স্বামী যখন জানতে পারবে যে শ্রাবণ চৌধুরী তোমার সাথে এমন আচরণ করেছে, তখন সে কি ভাববে! তাহলে একটা কাজ করলে কেমন হয় বলতো? আমি বরং শ্রাবণ চৌধুরীর সাথে কথা বলে তোমাকে তার সাথে বিয়ে দিয়ে দিই। কি বল! বলবো নাকি কথা তার সাথে তোমার আর তার বিয়ের ব্যপারে?

কথাগুলো বলেই ভ্রু নাচাতে লাগল শ্রাবণী। ওরে এমন কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকালো চাঁদনী। তারপর বললো,

— আপু আমাকে কি তোমার পাগল মনে হচ্ছে? নাকি আমি তোমার কাছে বোঝা হয়ে গেছি বলো? তাহলে আমি বাসা থেকে চলে যাব। তুমি জেনে শুনে ওমন একটা রাক্ষসের হাতে আমাকে কিভাবে তুলে দিতে পারো? আপু তোমার কি একটুও মায়া হবেনা আমার উপর?

ওর কথায় কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফিক করে হেসে দিল শ্রাবণী। তারপর হাসতে হাসতে বললো,

— সত্যিই চাঁদনী তুমি পারোও বটে! তোমার সাথে কথা বললে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে। তুমি শেষমেষ শ্রাবণ চৌধুরীকে কিনা রাক্ষস বানিয়ে ফেললে? ভেবেছো একবার এই কথা যদি তার কানে যায় তাহলে তোমার সাথে আর কি কি হতে পারে? আজ তো আদর করেছে, এর পরে কিন্তু সত্যি সত্যি শাস্তি দিয়ে দেবে। আর শাস্তি কতটা ভয়ানক হতে পারে সেটা কিন্তু তোমার ধারণার বাইরে বুঝলে।

ওর কথার উত্তরে মুখ গোমরা করে ফেললো চাঁদনী। তারপর আবারো কিছু একটা বলার জন্য মুখ খুললো। আর তখনই বাইরে থেকে ভীষণ জোরে ঠান্ডা একটা বাতাস এসে ঠাশ করে জানলার পাল্লাটা বারি দিয়ে গেলো। সাথে সাথে ভয়ে কেঁপে উঠল চাঁদনী সহ শ্রাবণীও। দুজনেই পিছন দিকে ঘুরে জানালার দিকে তাকাল। তাকাতেই দেখলো কথায় কথায় কখন যে বাইরে সন্ধ্যা নেমে রাত হয়ে গেছে। একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গেছে ওরা কেউ খেয়াল’ই করেনি। অন্ধকারের মাঝে তাকাতেই সাথে সাথে শ্রাবণীর কিছু একটা মনে পড়ে গেল। আর সে দ্রুত হাওয়ার বেগে উঠে জানালার পাশে চলে গেল। তারপর জানালাটা তাড়াতাড়ি আটকে দিয়ে পর্দা টানিয়ে দিল। আর চাঁদনীকে তাড়াতাড়ি করে সেখান থেকে সরিয়ে হাত ধরে নিয়ে ওর রুমে গেল। তারপর বেশ উত্তেজিত কন্ঠে বলল,

— চাঁদনী তোমার সাথে আবার পরে কথা হবে। তুমি আমাকে যা বলার পরে বলো। কিন্তু দয়া করে আমার একটা কথা রাখো। তুমি ভুল করেও আজকে সারারাত এর মাঝে সকালে সূর্য উঠা পর্যন্ত এ রুম থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বাইরে বের হবে না। তোমার রাতের খাবার আমি রুমে দিয়ে যাব সময় মত। কিন্তু বাইরে বের হবে না। এ ব্যপারে আমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবেনা। বাইরে যা কিছুই হয়ে যাক না কেন তুমি রুম থেকে বের হবে না। প্লিজ তোমার কাছে এতোটুকু আমার অনুরোধ। আমি আশা করি তুমি আমার কথাটা রাখবে!

কথাগুলো বলে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো শ্রাবণী। তখন ওর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো চাঁদনী। তারপর অবাক হয়ে বললো,

— আপু সেটা না হয় বুঝলাম, কিন্তু তোমার গায়ে এসব কিসের দাগ? দেখে মনে হচ্ছে যেন কোন কিছুর রক্ত লেগে গেছে!

ওর কথা শুনেই বেশ অবাক হয়ে গেল শ্রাবণী। তারপর নিজের শরীরের দিকে তাকাতেই দেখলো ছিটেছিটে রক্ত লেগে আছে সারা শরিরে। সাথে চাঁদনীর শরীরেই একি অবস্থা। যেটা এতক্ষণ ওরা কেউ’ই খেয়াল করেনি। তখনই ওর খেয়াল হল বিকেলে ঐ কফি মগের মধ্যে যে তরল পান করছিল ও। এটা সেটার’ই দাগ। যা তখন কাশার সময় ছিটেছিটে লেগেছে। মনে পড়তেই নিজের উপর বেশ রাগ হল শ্রাবনীর। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলে উঠল,

— এগুলো তেমন কিছু নয় চাঁদনী। আর এগুলো রক্ত ও নয়। তুমি এক কাজ করো তোমার জামা কাপড় গুলো চেঞ্জ করে আমার কাছে দিয়ে দাও। কারণ এগুলো তোমার জামাতেও ভরেছে। আসলে আমি অনেক বেশি লিকার দিয়ে চা করেছিলাম। আর তখন সেই চা খেতে গিয়ে কাশার সময় তোমার গায়ে আর আমার গায়ে লেগেছে। দেরি করো না দ্রুত করো চাঁদনী। আমার বেশি সময় নেই এই মুহূর্তে আমাকে এখান থেকে যেতে হবে।

চাঁদনী ঠিক বুঝতে পারছে না শ্রাবণী এসব কি বলছে। হঠাৎ কি হলো ওর। এমন আচরন’ই বা কেন করছে। কিন্তু কেন জানি না ওকে আর কোন প্রশ্ন করার ইচ্ছে হলোনা চাঁদনীর। তাই দ্রুত গিয়ে কাপড় চোপড় গুলো চেঞ্জ করে অন্য একটি ড্রেস পড়ে সেগুলো নিয়ে এসে শ্রাবণীর হাতে তুলে দিল। তখনই শ্রাবণী ওর গালে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

— প্লিজ বোন আজকে দয়া করে রুম থেকে বের হবে না। আর কোনো প্রশ্ন করবেনা। তুমি রুমের মধ্যেই থেকো কেমন?

কথাটা বলে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে চলে গেল শ্রাবণী। ইদানিং কেন জানি না এই মেয়েটার উপর কেমন একটা সন্দেহ কাজ করে চাঁদনীর। ও বুঝতে পারে না আসলে এই মেয়েটার মাঝে কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে ওর আচরণগুলো ভীষণ রহস্যজনক লাগলেও ওকে মন থেকে বিশ্বাস করে চাঁদনী। তাই কখনোই ওর উপর সন্দেহ আসলেও সেটাকে মনের মাঝে প্রশ্রয় পেতে দেয় না। সে জানে এই মেয়েটা ওর জন্য যাই করুক না কেন ওর ভালোর জন্যই করবে। কারন এখনো ওর বেঁচে থাকা কারণটাও শুধুমাত্র এই মেয়েটাই। আল্লাহ হয়তো তার উছিলাতেই ওকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এসব কথা ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানার উপর গিয়ে বসে পড়ে চাঁদনী। আর কিছু ভাবতে পারছেনা সে। ভাবতে গেলেই যেন মাথা ধরে যাচ্ছে। হঠাৎ হাসিখুশি থাকতে থাকতে কি হলো কিছুই যেন মাথায় ঢুকছে না তার।

কিন্তু এভাবে বসে থেকে কি আর সময় কাটে! সময় যেন কোনোভাবেই কাটতে চাইছে না চাঁদনীর। বারবার মনে হচ্ছে কিছু একটা অশুভ হতে যাচ্ছে। হঠাৎ কি মনে করে দরজা না খুলে সোজা গিয়ে ওর রুমের জানালাটা খুলে দিলো। ওর মনটা যেন কেন বলছে এখন একটু বাইরের প্রকৃতিটা দেখা দরকার। কিন্তু ও বুঝতে পারছে না এটার জন্য কতটা ক্ষতি হতে পারে ওর। যাওয়ার আগে বারবার শ্রাবণী বলে গেছে সেটা যেন ওর মাথাতে ঢুকলোনা। জানালা খুলতেই বাইরে একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত চোখে পড়ল ওর। এমন ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখে শরীর টা যেনো শিউরে উঠলো। ওরা যে বাড়িতে থাকে তার আশেপাশে কোন বাড়িঘর নেই। একদম নিরিবিলি একটি এলাকায় নিরিবিলি একটি বাসায় থাকে ওরা। আশেপাশে তেমন বাড়িঘর নেই বললেই চলে। জানালার বাইরে উঁকি ঝুঁকি মেরে বারবার আকাশের চাঁদটা দেখার চেষ্টা করল চাঁদনী। কিন্তু কি ব্যাপার আজকে চাঁদের কোন দেখাই নেই। তখনই ওর মনে হলো আজকে হয়তো অমাবস্যার রাত। কারন অমাবস্যার রাতে তো এমন ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়। মনে পরতেই ওর বাবার একটা কথা মনে পড়ে গেল ওর। ছোটবেলা থেকেই অমাবস্যার রাতে কখনোই চাঁদনীকে ওর নিজের রুম থেকে বের হতে দেয়নি। সব সময় নিজের রুমে আটকে রেখেছে ওকে। আর সবসময় বলত, এ রাতে কোনোভাবেই যেন ও বাইরের অন্ধকার না দেখে। তবে কেনো যেনো ও প্রতিবারই এই রাতটার অন্ধকার দেখার জন্যে ছটফট করতো। মনে পড়তেই চাঁদনীর মনের ভিতর যেন একটা ভয় খেলে গেল। ও বুঝতে পারলো নিশ্চয়ই খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে ওর সাথে। যেটার আহ্বান ও অলরেডি করে ফেলেছে জানালা খুলে।

সময় নষ্ট না করে দ্রুত জানালা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল চাঁদনী। কিন্তু তখনই হঠাৎ করে কোথা থেকে যেন দুটো বিশাল বড় বড় বাদুড় উড়ে এসে তাদের পাখা দিয়ে এক ঝটকায় জানালার পাল্লা টা ভেঙে ফেলল। এতে ভয়ে পিছনদিকে কয়েক পা পিছিয়ে গেল চাঁদনী। ওর সারা শরীর ভয়ে কাঁপতে লাগলো। এত বড় বাদুর ওর জীবনেও দেখেনি। এমন কি কখনো শুনেও নি যে বাদুড় এত বড় হয়। আর বাদুড়ের চোখ দুটো অবিকল সেই রাতের ঐ হিংশ্র লোক দুজনের মত। যে রাতে ওর বাবা মারা গিয়েছিল আর যে দুজন লোক ওকে মারতে এসেছিল তাদের চোখের মত। কথাটা ভাবতেই যেন শিড়দাড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল চাঁদনীর। ও ভয় ভীষন পেতে লাগলো। আর তখনি খেয়াল করলো ঐ বাদুড় দুটো জানা ভেদ করে রুমে ঢোকার জন্য অগ্রসর হচ্ছে।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

এখন গল্পটা আরো বেশি রহস্য ময় হয়ে উঠবে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি সবাই ধৈর্য ধরে পড়বেন। আর আজ থেকে গল্পটা রেগুলার দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। কেমন হচ্ছে জানাবেন সবাই। ধন্যবাদ
ভ্যাম্পায়ার_বর (সিজন ২)
#পার্ট_১৩
#M_Sonali

বাইরে অমাবস্যার এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ঐ বাদুড় দুটোকে যেন পুরো রাক্ষসের মত দেখতে লাগছে। আর সেইসাথে চারপাশের পরিবেশ টাও হঠাৎ কেমন ভারী হয়ে এসেছে। ভয়ে চাঁদনীর সারা শরীর ঘেমে একাকার অবস্থা। ও থর থর করে কাপতে লাগল। কি করবে কিছুই যেন মাথায় আসছে না ওর। ওকে এভাবে ভয় পেতে দেখে বাদুড় দুটোর মাঝে যেন এই পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। যেটা বুঝতে বাকি রইল না চাঁদনীর। ও কি করবে ভেবে না পেয়ে দ্রুত দরজার দিকে ছুটে গেল। দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার জন্য। কিন্তু দরজা খুলতে গিয়ে পড়ল নতুন এক বিপাকে। বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেওয়া। ওর মাথায় যেন বাজ পড়ল এবার। আরো অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে লাগল ওর। কোন উপায় না পেয়ে এবার ঠাস ঠাস করে দরজার উপর বারি দিয়ে শ্রাবণী কে চিৎকার করে ডাকতে শুরু করলো। কিন্তু ওপাশ থেকে কারো কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বাদুর দুটো রুমের মধ্যে ঢুকে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। এই বুঝি ঢুকে পড়ল তারা। ওদের ঢুকতে দেখে এবার চাঁদনী ভয়ে সেখানেই হাটুগেরে জড়োসড়ো হয়ে নিচে বসে পড়ল। চোখ দুটা নিজের হাত দিয়ে ঢেকে চিৎকার করতে লাগল , বাঁচাও বাঁচাও বলে।

তখনই হঠাৎ চাঁদনী খেয়াল করলো পুরো রুম অন্ধকার হয়ে গেছে। হয়তো কারেন্ট চলে গেছে। অন্ধকারের মাঝে খুব জোরে কোন কিছু শব্দ হচ্ছে রুমের মাঝে। মনে হচ্ছে যেন বেশ কয়েকজন মিলে অনেক ধধস্তাধস্তি করছে ওর রুমের মাঝে। চাঁদনী নিজের চোখের সামনে থেকে হাতটা সরিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। তারপর মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো আসলে কি হচ্ছে। তখনি ওর মনে হতে লাগলো যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে ওর রুমে। ভয়ে এবার কাপাকাপি শুরু করে দিল ও। এদিকে অন্ধকারের কারনে বুঝতেও পারছে না কি করবে। তখনই ওর নজরে পড়ল সেই চারটা হিংশ্র ও ভয়ানক লাল জ্বলজ্বলে চোখ। যা একটু আগে বাইরে বাদুড়কে দেখেছিলো ও। একটু পরে খেয়াল করল সেই চারটা চোখের সাথে আরো একজোড়া চোখ আছে এখানে।আর এই দুইটা চোখ হচ্ছে একদম গাঢ় নীল রঙের। চাঁদনীর আর বুঝতে বাকি রইল না এই চোখ দুটো কার। তখনই সেদিন রাতের কথা মনে পড়ে গেল ওর। যেদিন এই চোখ জোড়ার মানুষটা ওকে ঐ ভয়ংকর লোকগুলোর হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। চাঁদনী বুঝতে পারল সেদিনের মত আজকেও হয়তো ওকে রক্ষা করার জন্য এখানে সেই ব্যক্তি চলে এসেছে। কিন্তু ও বুঝতে পারছে না এ লোকটা আসলে কে যে বারে বারে ওকে ঢাল হয়ে সব বিপদ থেকে এভাবে বাঁচাচ্ছে।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ চারিদিক আলোকিত হয়ে গেল। হঠাৎ কারেন্ট চলে আসায় সবকিছু একদম চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল চাঁদনীর। ও দেখতে পেল ওই দুটি বাঁদুরের সাথে আরও একটি বড় সাদা বাদুর লড়াই করে যাচ্ছে। এবার বেশ অবাক হয়ে গেল চাঁদনী। এতক্ষণ বাঁদুরটাকে মানুষ বলে মনে করলেও, চোখের সামনে এখন সেটা একটা বাদুরে পরিণত হওয়ায় ভীষণ অবাক হয়ে গেল সে। চাঁদনী মনে মনে বুঝে গেল যে এরা কেউ’ই মানুষ হতে পারে না। হয়তো এরা ভ্যাম্পায়ার। আগেও অনেকবার মনের মাঝে এই ভ্যাম্পায়ার শব্দটা এসেছে ওর, কিন্তু কখনোই মনকে মানাতে পারেনি যে ভ্যাম্পায়ার আদৌ হতে পারে। তবে আজকে ও শিওর হয়ে গেল যে এরা ভ্যাম্পায়ার ছাড়া কিছুই হতে পারে না।

প্রায় আধা ঘন্টা সময় হয়ে গেল এভাবে রুমের মাঝে ওই কালো বাদুড় দুটির সাথে সাদা বাদুড় টার অসম্ভব লড়াই চলছে। চাঁদনী শুধু চুপচাপ রুমের একপাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছে। ভয়ে ওর শরীর একদম যেন অবশ হয়ে গেছে। যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই থর থর করে কাঁপছে ও। হঠাৎ খেয়াল করলো ঐ কালো বাদুড় দুটোর আক্রমণে সাদা বাদুড়টা বেশ আহত হয়ে গেছে। সে আর কোনভাবেই ওদের সাথে লড়াই করে পেরে উঠছে না। এটা দেখেই বুকের বাম পাশটায় কেন জানিনা একটা তিব্র ব্যথা অনুভব করল চাঁদনী।

চাঁদনীর মনে হতে লাগল যেন এই বাদুড় টা ওর অনেক কাছের কেউ। যাকে ছাড়া ওর জীবনে চলা কষ্টকর। বাদুড়টাকে আহত অবস্থায় দেখে অনেক বেশি কষ্ট পেতে লাগল ও। ওর মন বলছে বুকে সাহস নিয়ে সাদা বাদুড়টার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ঐ কালো বাদুড়ের সাথে যুদ্ধ করতে। কিন্তু চাঁদনী ভালো করেই জানে সেটা ওর পক্ষে কোন মতেই সম্ভব নয়। বরং তাতে হিতের বিপরীত হতে পারে। তাই সে কষ্ট পেলেও সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো আর তাকিয়ে থাকলো সেই দিকে। হঠাৎ জানালা দিয়ে কোথা থেকে যেন আর একটা সাদা বাদুড় উড়ে আসল রুমের মাঝে। তারপর ঐ কালো বাদুড়টার সাথে যুদ্ধ শুরু করল। আর সেই মুহূর্তে সেই আহত সাধা বাদুড়টা এসে ঠাস করে পরল চাঁদনীর পায়ের কাছে। ও আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সেখানে বসে পড়লো। ওর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরে যাচ্ছে। কেন জানি না অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে ওর বাদুড়টাকে আহত দেঝে। এত বড় একটা বাদুড় হলেও একটুও ভয় করছে না।

চাঁদনী বাদুড়টার কাছে বসতেই আচমকাই ওর গলায় থাকা লকেটটা থেকে নীল রঙের আলোকরশ্মি ছড়িয়ে পড়তে লাগলো ঐ সাদাবাদুড়ের গায়ে। এটা দেখে চাঁদনী যেন আকাশ থেকে পড়লো। ওর নিজের লকেটের দিকে একবার আর বাদুড়টার দিকে একবার তাকা তে লাগল। তখনই খেয়াল করলো সেই আলোকরশ্মি ওই বাদুড়ের গায়ে পড়ে ওটা বাদুর থেকে পরিবর্তন হয়ে ধীরে ধীরে একটা মানুষের রূপ নিচ্ছে। এটা দেখতেই আরো বেশি ঘাবড়ে গেল চাঁদনী। ধীরে ধীরে পিছাতে লাগলো। আর তখনই খেয়াল করল সেই লকেটের আলোকরশ্মি পুরোপুরিভাবে ঐ বাদুড় থেকে মানুষ হওয়া লোকটার গায়ে পৌঁছাতেই আবার একাই আলোটা নিভে গেল। আর লোকটাও আশ্চর্য জনক ভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার মুখটা আর দেখতে পারলো না চাঁদনী। কারন সে উপুর হয়ে শুয়ে আছে। লোকটাকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে দেখে কালো বাদুড় দুটোর কি হলো জানেনা তারা দ্রুত জানালা দিয়ে বেরিয়ে কোথায় যেন চলে গেল। তাদেরকে আর দেখা গেল না কোথাও। তখনই লোকটা উঠে দাঁড়ালো তারপর পিছন দিকে একবার ফিরে তাকাল। কিন্তু চাঁদনী তার মুখটা দেখতে পারলো না শুধু চোখটা ছাড়া। কারণ মুখটা হুডিওয়ালা জ্যাকেটের দিয়ে ঢাকা আছে। ওর দিকে এক নজর দেখেই আবারো সে বাদুড়ের রূপ নিয়ে জানালা দিয়ে বেরিয়ে চলে গেল। তার সাথে সাথে আরেকটা সাদা বাদুড়ও চলে গেল। তবে একটা জিনিস চাঁদনী ভালো করে খেয়াল করেছে সেটা হলো লোকটার চোখ দুটো। আর সেটা ওর চিনতে একদমই ভুল হয়নি। এই সেই লোক যে এর আগেও ওকে বাঁচিয়ে ছিল। মনে মনে লোকটার প্রতি এক ভালো লাগা সৃষ্টি হলো চাঁদনীর। যদিও সে জানে এটা কোনো সাধারণ মানুষ নয়। বরং কোনো হিংশ্র ভ্যাম্পায়ার।

তবে চাঁদনী একটা কথা ভাবতেই ভীষণ অবাক হয়ে গেল। আর সেটা হল ওর এই লকেটটির সাথে ওই ভ্যাম্পায়ার টার এমন কি সম্পর্ক আছে! যে সে আহত হওয়ার কারণেই এটা থেকে আলোকরশ্মি বেড়িয়ে তার শরীরে পরতেই সে সুস্থ হয়ে গেল। আর তাছাড়া এটা তো সবসময় একটা সাধারন লকেট বলেই মনে হয়। তাহলে হঠাৎ করে এটা থেকে এমন আলোকরশ্মি বের হল কি করে? যেটা সাহায্যে ঐ লোকটা সুস্থ হয়ে গেল? এসব কথা ভাবতে ভাবতে যেন মাথা ধরে যাচ্ছে চাঁদনীর। তখনি দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করল শ্রাবণী। তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে ওর কাছে এগিয়ে এসে উত্তেজিত স্বরে বলল,

— চাঁদনী তুমি ঠিক আছো তো? তোমার কোন কিছু হয়নি তো? তোমার শরীর ভালো তো? কোথায় লেগেছে বলো আমায়? তোমার কি কোথাও কষ্ট হচ্ছে?

একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করে থামল শ্রাবণী। ওকে এত উত্তেজিত হতে দেখে চাঁদনী ওর হাত ধরে শান্ত গলায় বলল,

— রিল্যাক্স আপু এত উত্তেজিত কেন হচ্ছো তুমি? দেখো আমি একদম ঠিক আছি। কিন্তু তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি তোমাকে কতবার ডেকেছি, তুমি এলেনা কেন? আর তাছাড়া তুমি কি করে জানলে এখানে আমার সাথে কিছু একটা হয়েছে? যে এসেই এভাবে সব কথা জিজ্ঞেস করছো?

কথাটা বলেই ভ্রু কুচকিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো চাঁদনী। ওর প্রশ্ন শুনে এবার বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো শ্রাবণী। কি বলবে কিছুই যেন মাথায় আসছে না তার। নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত করে কিছু একটা ভেবে নিয়ে চাঁদনী কে নিয়ে বিছানায় নিজের পাশে বসিয়ে বলতে লাগলো,

— আমি বাইরে ছিলাম চাঁদনী। কিন্তু কেন জানিনা তোমার দরজাটা খোলার অনেক ট্রাই করলাম কিন্তু খুলতে পারছিলাম না। এই মাত্র খুলতে পারলাম। আর আমি শুনেছি তোমার রুমের মাঝে মনে হয় কিছু একটা হচ্ছিল। আর রুমেের মধ্যে এসেও তো দেখছি কি অবস্থা পুরা রুমের। নিশ্চয়ই এখানে কিছু হয়েছে। তাই এত উত্তেজিত ভাবে তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম। আর তুমি জানালা খুলেছো কেন? তোমাকে আমি যাওয়ার আগে বারবার নিষেধ করে গেছি না, যে কোনোভাবে দরজা-জানালা খুলে তুমি বাইরে বের হবে না! তাহলে আমার কথা কেন শুনলে না তুমি চাঁদনী? এত বড় ভুল কিভাবে করতে পারো তুমি?

বেশ রাগি কন্ঠে কথাগুলো বলল শ্রাবণী। ওর কথার উত্তরে চাঁদনী কি বলবে বুঝতে পারল না। সত্যিই তো ভুল করে ফেলেছে ও। ওর উচিত ছিল না জানালাটা খোলার। নিজের ভুলেই এত বড় বিপদে পড়েছিল ও। তাই অপরাধীর মত মাথাটা নিচু করে ফেলল। আর তখনই খেয়াল করল শ্রাবনীর দুই হাতে বেশ কয়েকটা আচরের চিহ্ন। যেন খুব জোরে জোরে কেউ বা কারা আঁচড় কেটেছে। সেখান থেকে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। চাঁদনী বেশ উত্তেজিত হয়ে বললো,

— আপু তোমার হাতে এখানে কি হয়েছে? এতোখানি কেটে গেল কিভাবে? দেখে মনে হচ্ছে কেউ খুব জোরে আচর কেটেছে হাতে? তোমার হাতের এই অবস্থা কি করে হল আপু’? ইস কিভাবে রক্ত ঝরছে এখান থেকে!

ওর কথা শুনতেই নিজের হাতটাকে ওর হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওড়না দিয়ে লুকিয়ে শ্রাবণী বলল,

— আরে তেমন কিছু হয় নি। এই অল্প একটু কেটে গেছে। তাড়াতাড়ি সেরে যাবে। তুমি এটা নিয়ে ভেবো না। অনেক রাত হয়ে গেছে এখন আসো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। আর এই ঘরে আর নয় এখন থেকে তুমি আমার রুমে থাকবে। আর আমি এখানে থাকবো। যতক্ষণ না এই রুমের জানালা ঠিক করা হয়, সে পর্যন্ত এ রুমে তোমায় থাকতে দেওয়া একদমই রিস্ক।

কথাগুলো বলে চাঁদনীকে আর কিছু বলার সুযোগ দিল না। এক প্রকার টেনে ওকে নিয়ে গিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে দিলো। তারপর খাবার সামনে দিয়ে সে ওখান থেকে সরে পরল। চাঁদনীর এতকিছুর পর আর খাবার খেতে পারল না। কোনমতে দুই এক লোকমা মুখে দিয়ে খাবার ছেড়ে উঠে শ্রাবণীর রুমে চলে গেল। আর শ্রাবণী চাঁদনীর রুমে চলে গেল রুম পরিস্কার করে সেখানে থাকবে বলে।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here