সোনার_সংসার পর্ব ১১

#সোনার সংসার
#লেখিকাঃ সাদিয়া সিদ্দিক মিম
#পর্বঃ১১

এয়ারপোর্টের সামনে দাড়িয়ে আছি,পাশেই বাবা দাঁড়ানো।আমি ভয়েভয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছি,বাবা আমাকে ভিতরে ঢোকার জন্য বললে আমি পা টিপেটিপে ভিতরে যাচ্ছি আর বারবার পিছনে তাকাচ্ছি।দেখছি বাবা গেছে কী না,এভাবে কিছুক্ষণ পর আমি ভিতরে চলে গেলাম।তখন উঁকি মেরে দেখি বাবা এখনও দাঁড়িয়ে আছে।আমি একটা জায়গায় লুকিয়ে পড়ি,এভাবে কিছুক্ষণ পর দেখি বাবা চলে গেছে।বাবা চলে গেছে দেখে আমিও এয়ারপোর্টের ভিতর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসি।আমি বেরিয়ে আসার পরই একটা গাড়িতে ড্রাইভিং সিটের পাশে বসে পড়ি।সেটা দেখে পাশে থেকে সজীব ভাইয়া আর হৃদয় ভাইয়া হেঁসে উঠে,,,

“আপনারা হাসছেন!আমার এদিকে ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা আর আপনারা হাসছেন,,This is not fair☹️.”

“কী করব বলো তুমি যেভাবে দৌড়ে গাড়িতে উঠলে।” (হৃদয় ভাইয়া বলেই হেঁসে উঠল আবার)

“ঠিক বলেছিস তুই আমারও খুব হাসি পাচ্ছে।”

বলেই দুজনে আবার হেঁসে উঠল,আমি গাল ফুলিয়ে বসে আছি।কিন্তু হঠাৎ করে চাচ্চুর কথা মনে পড়ল,ততক্ষণাৎ আমি চাচ্চুকে ফোন দেই।একবার বাজতেই চাচ্চু ফোন রিসিভ করে,চাচ্চু ফোন রিসিভ করেই বলে উঠে,,,

“কী রে তুই ঠিক মত সবটা করতে পেরেছিস ত?ঐদিকে সব ঠিক আছে ত?”

“হে চাচ্চু সব ঠিক আছে,তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না,শুধু বাবা কল দিলে একটু মেনেজ করে নিও।”

“আচ্ছা ঠিক আছে সেটা না হয় দেখব।কিন্তু তুই একদম সাবধানে থাকবি,আর কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবি।”

“ঠিক আছে চাচ্চু এখন রাখি,গাড়িতে আছি আবার পরে কল দিব।”

“আচ্ছা ভালো থাকিস,নিজের খেয়াল রাখিস।”

আমি আচ্চা বলে ফোনটা কেটে দিলে সজীব ভাইয়া বলে উঠল,,,

“অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে,তুমি আবার ফিরে যাচ্ছো আমার ভাইয়ের জীবনটাকে নতুন করে সাজাতে।”

“ধন্যবাদ দেয়ার কিছু নেই ভাইয়া,আমি ত যাচ্ছি আমার সংসারটাকে আবার সোনার সংসারে পরিনত করতে।আমার ভালবাসার মানুষটাকে আবার ফিরে পেতে।আপনি আমাকে সাহায্য করছেন তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।সেদিন আপনার সাথে দেখা না হলে হয়ত ব্যাপারটা এত সহজ হত না।”

“তোমরা এবার ধন্যবাদ দেয়ার চাকরি বন্ধ করে আমাকে বলো ত সজীব ভাইয়া সবটা জানল কীভাবে যে তুমি ফিরে যাবে?আর তোমার চাচ্চুর ব্যাপারটাই বা কী কিছুই বুঝতে পারছি না আমি।”

“তবে শুনুন,,,চারদিন আগে হসপিটালে আপনার সাথে কথা বলে আমি শরীফকে দেখতে যাই আর ফেরার পথে কেউ আমার হাত ধরে পিছন থেকে আটকায়।আমি তখন পিছন ফিরে দেখি সজীব ভাইয়া আমাকে আটকিয়েছে।তখন আমি কিছু বলতে নিলে ভাইয়া বলে উঠল,,,

” তুমি এখানে কী করছো?তোমার না ক্লাস মিস হয়ে যাচ্ছে!তবে তুমি এখন এখানে কী করছো সাদিয়া?”

“আআআসলে আআআমি একটু কাজে এসেছি ভাইয়া।”

“তুমি কেন এভাবে নিজেকে আড়াল করছো সাদিয়া?আমি সবটাই বুঝতে পারছি যে তুমি এখানে শরীফকে দেখতেই এসেছো তবে কেন তুমি আবার ফিরে যাচ্ছো?প্লিজ ফিরে এসেছো আমার ভাইয়ের জীবনে,তুমি ফিরে এলে সবটা ঠিক হয়ে যাবে।”

“আআমাকে একটু সময় দিন ভাইয়া,আমার সময় চাই।আমি এখন আসি।”

“ঠিক আছে যাও,তবে মনে রেখো তোমার প্রতি আমার ভাইয়ের ভালবাসা মিথ্যা নয়।”

আমি তখন আর কিছু না বলে ফিরে আসি।তারপর সেদিন সারাদিন ভাবি কী করব?ফিরে যাব নাকি যাব না,তারপর সেদিন রাতে আমার চাচ্চুর সাথে কথা হয়৷ আমি উনাকে সবটা বুঝিয়ে বললে উনি আমাকে ফিরে যেতে বলে।আর বাড়িতে সবটা জানালে বাবা কখনও মেনে নিবে না।তাই চাচ্চু প্ল্যান করে চাচ্চুর কাছে যাওয়ার নাম করে আমি ঐ বাড়িতে যাব।তাই এয়ারপোর্ট থেকে এভাবে পালাতে হল।আর এসবই সজীব ভাইয়াকে আমি ফোনে জানিয়েছি।কারন সজীব ভাইয়ার সাহায্যে আমি ঐ বাড়িতে খুব সহজেই যেতে পারব।তাই সজীব ভাইয়াকে সবটা জানানোর প্রয়োজন ছিল।আর আপনার ফোন নাম্বার আমার কাছে ছিল না তাই আপনাকে জানাতে পারি নি।তার জন্য সজীব ভাইয়াকে বলেছি উনি যাতে আপনাকে নিয়ে আসে এখানে তারপর আমিই আপনাকে সবটা বুঝিয়ে বলব।আপনি প্লিজ রাগ করবেন না ভাইয়া,আপনাকে এখন সবটা জানালাম বলে।

“আরে না রাগ কেন করব?তুমি একদম ঠিক কাজ করেছো সাদিয়া।আমি তোমার পাশে আছি,যেকোন কাজে লাগলে আমাকে বলবে আমি করব।” (হৃদয়)

“ধন্যবাদ ভাইয়া।”

___________________________

শরীফ রাগে ফুঁসছে,হসপিটাল থেকে আজই ফিরেছে।আর ফিরেই সবার আগে সাদিয়ার খোঁজ নেয়ার জন্য ভার্সিটি আসে,কিন্তু এসে সাদিয়াকে সারা ভার্সিটি খুঁজে ফেলে কিন্তু কোথাও সাদিয়ার দেখা পায় না।তারপর শরীফ কাউকে ফোন দিলে জানতে পারে সাদিয়া অস্ট্রেলিয়া তার চাচ্চুর কাছে চলে গেছে।এটা ভেবেই শরীফ রাগে ফুঁসছে,,,

“দূরে থেকেছো মেনে নিয়েছি,এড়িয়ে চলেছো মেনে নিয়েছি,কষ্ট দিয়েছো মেনে নিয়েছি,ঘৃনা করেছো সেটাও মেনে নিয়েছি,তারপরও তোমাকে চোখের দেখা দেখেছি।কিন্তু তুমি এই শহর থেকে দূরে গিয়ে একদম ঠিক করো নি।আমার চোখের আড়াল হয়ে একদম ঠিক করো নি তুমি।এর ফল তোমাকে পেতে হবে সাদিয়া,আমি আসছি অস্ট্রেলিয়া তোমার কাছে।আমার চোখের আড়াল হওয়ার শাস্তি দিতে।”

কথাগুলো বলে শরীফ রেগেমেগে গাড়ি নিয়ে বাড়িতে চলল,পাগলের মত ড্রাইভ করছে,পারলে উড়েই চলে যায় অস্ট্রেলিয়া সাদিয়ার কাছে।(বেচারা ত জানে না তার বাড়িতে যাচ্ছে সাদিয়া🤭।)

_________________________________

শরীফ বাড়িতে এসে আলমারি থেকে কাপড় গুলো ছুঁড়ে ছুঁড়ে ব্যাগে ফেলছে।ব্যাগে ফেলছে কম মাটিতে পড়ছে বেশি,(বুঝি না বাপু এত রাগের কী হইল আজিব😏)।
তখন শরীফের রুমে তার মা আর চাচি প্রবেশ করে।শরীফকে এভাবে ব্যাগ গুছাতে দেখে শরীফের মা অস্থির হয়ে বলে উঠে,,,

“কাপড় কেন গুছাচ্ছিস?কই যাবি তুই?”

শরীফ কিছু না বলে তার কাজ করেই যাচ্ছে, সেটা দেখে শরীফের চাচি গিয়ে শরীফের হাত ধরে বলল,,,

“কই যাবি তুই,এভাবে কাপড় গুছিয়ে কী করবি?”

শরীফ এবার অর চাচির থেকে হাত সরিয়ে রেগে বলে উঠল,,,

“জাহান্নামে যাচ্ছি,যাবে তোমরা!”

“এসব কেমন কথা শরীফ,এভাবে কেন কথা বলছিস তুই।মা হই আমি তোর আমাকে অন্তত বলে যা কই যাচ্ছিস।”

“মা হয়ে ত মায়ের মত কোন কাজ করো নি।কাজ গুলো ত করেছো একদম রিনা খানের মত(🤣)।তাই তোমাকে বলার প্রয়োজন মনে করছি না কই যাব।”

কথাগুলো বলেই শরীফ ব্যাগ গুছিয়ে,পাসপোর্ট,ভিসা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।আর শরীফের পিছনে অর মা কাঁদতে কাঁদতে আসছে উনার সাথে শরীফের চাচিও আছে।শরীফের মা শরীফকে আটকানোর জন্য অনেক কান্নাকাটি করছে কিন্তু শরীফ সেটা না মেনেই বেরিয়ে যাচ্ছে।তখন কেউ একজন বলে উঠল,,,

“বাড়িতে বউ এসেছে,আমাকে বরন ত করো কেউ।”

কারো এমন কথা শুনে শরীফ,শরীফের মা আর চাচি সেদিকে তাকায়।তখন তারা সামনে যা দেখে তাতে তারা তিনজনই ৪৪০ ভোল্টেজ শক খেলো🥱।

#চলবে,,,

(কালকে ধামাকা আছে,ধামাকার জন্য সবাই তৈরি ত?

আর আজকে বড় করে দিছি,যে বলব ছোট হয়েছে তারে পানি দিয়ে পিডামু😤।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here