স্বামীর অত্যাচার পর্ব ৫

#স্বামীর_অত্যাচার !!
#Part_5

সামনে এগুতেই কেউ একজন পথ আটকে দাঁড়াল……

বেশ বিরক্তি নিয়ে চোখ তুলে তাকাল…সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে…….. ড্রিঙ্ক হাতে হাসি মুখ করে পথ আটকে দাঁড়ায়ি আছে কোনো এক সুর্দশন যুবক……তবে এই মুহূর্তে কিছু না বলাটায় শ্রেয় মনে করল। পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই পিছন থেকে মৃদু কন্ঠে আওয়াজ ভেসে এল….””কেউ যদি আপনার সাথে একটু পরিচিত হতে চাই আপনি কি তাকে রেখে এভাবে চলে যান?
অপিরিচিত মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছে কোনো কালেই ছিল না…..বরং পথ আটকে দাঁড়ানোর জন্য গালে দুই তিনটা বসিয়ে দিলেই যেন ভাল হত….আর সাহস পেত না কথা বলার…..ছেলেটা তাহিনের পথ চলা দেখে আবার সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল…..
;;;;আপনি এমন কেন?এতক্ষণ ধরে একা একা দাঁড়িয়ে আছেন….যেমাত্র ভদ্রতার সহিত আপনার সাথে একটু কথা বলতে আসলাম আর আপনি কিনা চলে যাচ্ছেন…..?
তাহিন বেশ রিরক্ত নিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল ছেলেটার পানে কিছু বলতে যাবে তার আগে রসিকতার ছলে….
;;;রাহুল…আই আম রাহুল
নিশ্চয় আপনি আমার নাম জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছেন,না না…আসলে আমি মানুষের মুখ দেখলে বুঝতে পারি…..
এই মুহূর্তে এমম রসিকতা মোটেও ভাল লাগছে না.. তাহিন দাঁতে দাত চেপে……
;;;হুম জানি আমার নামটা অনেক সুন্দর…আপনাকে কষ্ট করে আর বলতে হবে না…….
রাহুল কিছু বলার সুযোগটায় দিচ্ছেন না তাহিনকে….নিজে বকবক করে যাচ্ছে…..তাহিন এবার রেগে গিয়ে
;;কারো পথ আটকে দাঁড়ানোকে মোটেও ভদ্রতা বলে না……আর এটা আমি একদম পছন্দ ও করি না….একা মেয়ে দেখছেন আর অমনি কথা বলার জন্য ছুটে এসেছেন….একা রাস্তায় কোনো মেয়ে বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করার ছুটে গিয়েছেন কখনো….না তা কেন যাবেন তাকে অপদস্ত করাই তো অপনাদের মত ছেলেদের কাজ…..
জেড়ে দোওয়ার পর ও রাহুল ঠোঁঠের কোনে হাসি রেখে….
;;;না না আপনি যা ভাবচ্ছেন তা না….আসলে আমি ওরকম ছেলে না।
কিন্ত কেন জানি আপনাকে দেখে কথা বলতে মন চাইল……
;;;কেউ যদি বিরক্ত হওয়ার পর ও তার পথ আটকে দাঁড়ান তাহলে সেই ছেলেকে তো ভদ্রতার কাতারে রাখা যায়…যদি ও আপনি দাবি করছে ভদ্র ছেলে… তাহলে সেই ভদ্রতার খাতিরে সরে দাঁড়ান..
রাহুল ভ্রু কুচকে কিছু একটা ভেবে
;;;আচ্চা….কথা না হয় বলতে চাইছেন না বুঝলাম…অত্যন্ত নামটা তো বলে যেতে পারেন……
তাহিন নাক ফুলিয়ে ছেলেটার দিকে রাগি রাগি চোখ নিয়ে তাকাতেই…রাহুল মাথা নিচু করে…..
;;;আপনি এত রাগি কেন?তবে একটা জিনিস কি জানেন নাকের ডগার রাগটা আপনাকে অনেক সুট করে……….
এই কোন মহাপাগলের পাল্লায় পরল বুঝতে পারছেনা……পুরায় একটায় ঝামেলা মনে হল….কথা না বাড়িয়ে গরগর করে এগিয়ে যেতে…..পিছন থেকে আবার ও চিৎকার করে….
ও হে ম্যাডাম ফুলটুসী নামটা তো বলে গেলেন না…..নিশ্চয় আপনি আমার মত ছেলের সাথে আবার দেখা করতে চাচ্ছেন….তবে বেঁচে থাকতে আবার ও দেখা হবে…..
নির্ঘাত এই ছেলে পাগল…এই ছাড়া তো আর কিছু হতে পারে না…….এই ছেলের জন্য নিলয়কে আজ হারিয়ে ফেলবে…ভাবতে এগিয়ে চলল…আর ওর পথ পানে পিছন থেকে অপলক ভাবে চেয়ে রইল রাহুল…..তাহিন এগিয়ে গিয়ে ওয়েটার থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে গড়গড় করে খেতে শুরু করল…….

এদিকে নিলয়ের এক ক্লোজ ফ্রেন্ড…
;;তুকে এত করে বলার পর তুই ভাবীকে ছাড়ায় চলে আসলি….দিস ইস নট ফেয়ার নিলয়…..
নিলয় আমতা করে না মানে…. হকচকিয়ে চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিতেই তাহিন নিলয়ের পাশে এসে দাঁড়াল…..সহসায় পেয়ে গেল নিলয়কে ভাগ্যিস….মেয়েটা ও নেই তবে ওর কয়েকজন বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিল বাগানের এক কোনায়…খুঁজতে খু্ঁজল চোখ পরল….আর এসে টুপ করে দাঁড়িয়ে পরল ওর পাশে… ভদ্রতার সহিত নিলয় তাহিনকে ওদের সামনে হাসি মুখ করে পেশ করল…তাহিন ও হাসিমুখ করে সালাম নিবেদেন করল….মুহূর্ত চোখ জোড়া দিয়ে সবকিছু ঝাপসা ঝাপসা দেখতে লাগল…মাথাটা ও যেন একটু একটু ঘুরছে….হঠাৎ এমন লাগার কারণটা বুঝতেপারছেনা…..
চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে পরে যেতে নিলয়ের হাত ধরে ফেলল….নিলয় রাগি চোখে তাহিনের দিকে তাকাতেই….তাহিন হাসতে হাসতে লুটেপুটি খেয়ে পরছে নিলয়ের গায়ের উপর….কারণ নিলয়কে দু দুবার দেখা যাচ্ছে….তাহিন চোখ জোড়া ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাতালের মত নিলয়কে দেখছে আর হাসছে….নিলয়ের ফ্রেন্ডরা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ওকে কোথায় একটা বসাতে বলল…..ভুল বশত পানির বদলে তখন ড্রিঙ্ক নিয়ে নিয়েছে…এজন্য পানির স্বাদটা একটু অন্যরকম লেগেছিল….বেচারী বুঝতে পারলনা ঢকঢক করে খেয়ে নিল…রাগে সারা শরীল জ্বলছে নিলয়ের….অপমানে বোধে শেষ হয়ে যাচ্ছে….
হেচকা টানে অন্যত্রে নিয়ে গেল…….দাঁতে দাঁতে চেপে……
;;;;সমস্য কি তোমার….?
তাহিন পাগলের মত হাসতে হাসতে….;;
সমস্য কই না তো…সমস্য তো সব সময় আপনিই সৃস্টি করেন……আবার আমাকে বলছেন সমস্য কোথায়….?
;;;স্টপ ইট
আরেকটা উল্টা পাল্টা কথা বলবে…..মেরে এখানে রেখে দিব…..কি উল্টা পাল্টা খেয়েছে হুম……?ওই ছেলেটা খাইয়ে দিয়েছে না এসব…..
তাহিন ভ্রু কুচকে ঠোঁঠের কোনো হাসি রেখে…..আপনি আমাকে লুকিয়ে দেখেছেন হুম হুম…..কিন্তু আমি কেন দেখনি আপনাকে…..
মন খারাপ করে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে নিলয়ের মুখে আঙুল দিয়ে…আপনি আমায় মেরে ফেললে একটু কষ্ট হবে না আপনার…..আপনি এমন কেন?একটু সুন্দর করে কথা বললে কি এমন হয়….
…চোখে মুখে আগুন জ্বলছে…আর কথা না বাড়িয়ে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে বাইরের দিকে তাহিন চিৎকার করছে….আশেপাশের সবাই হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে ওর কান্ড দেখছে মুখ টিপ টিপে হাসছে….
নিলয় ধপ করে গাড়ীর দরজা খুলে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে গাড়ীর ভিতর বসিয়ে দিল তাহিনকে….আবার লাত্তি দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল….
;;;আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন….আপনি পচা আমি আপনার সাথে যাব না…..আমি বাড়ী যাব……
নিলয় ড্রাইভ করছে আর তাহিন পিছন থেকে নিলয়কে কিল ঘুষি মেরে মেরে কথা গুলো বলছে….রাগে নিলয়ের মাথা পেটে যাচ্ছে…হুঙ্কার দিয় চুপ করিয়ে দেই তাহিনকে….তাহিন একটু চুপ থেকে আবার ও পাগলামি করে যাচ্ছে…মাতাল হয়ে যেন বাচ্চা রুপ ধারন করেছে…নিলয় দাঁতে দাঁতে চেপে আপাতত সব সহ্য করে নিচ্ছে……শুধু বাড়ী পর্যন্ত পৌছানোর অপেক্ষা…..দ্রতগতিতে গাড়ী চালিয়ে বাসায় চলে আসল…কিন্তু
তাহিনকে কিছুতেই গাড়ী থেকে নামাতে পারছেনা……তাহিনের একটায় কথা ওর আর নিলয় সাথে যাবে না….নিলয় তো রেগে ফ্যায়ার..সজোরে টান দিয়ে নামিয়ে নিল…টানতে টানতে রুমে নিয়ে গেল…নিলয়ের হিংস্র রুম দেখে চুপ একদম চুপ হয়ে গেল…ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে সোজা শাওয়ারের ঝর্ণার অন ন দাঁড় করিয়ে দিল….ঠান্ডায় থরতর করে কাপছে…হিংস্রের মত রুপ ধারণ একটু দূরে দাড়িয়ে আছে…চোখে দিয়ে যেন রক্তের গড়িয়ে পরছেে….কেউ যেন আজ তাহিনকে ওর হাত থেকে বাঁচাতে পারবেনা…..১ঘন্টার পর ওয়াশরুম থেকে বের করে…সজোরে ওর গালে আঘাত করে….টাল সামলাতে না পেরে বিছানার উপর গিয়ে পরে……ভয়ে একদম গুটিসুটি মেরে গেছে….নিলয়ের মাথায় কিছু কাজ করছে একটা কথায় বার বার মাথা ঘুরছে ওড জন্য আজ সবার সামনে অপমানিত হতে হল…..পরনের বেল্ট খুলে আঘাত করতে থাকে তাহিনকে….একসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়….

ভোরে আলো ফুটতে…..তাহিন চোখ খোলার চেষ্টা করছে….কিন্তু চোখ খুলতে চেয়ে ও যেন খুলতে পারছেনা…..ভিজা শাড়িতে এখনো পরে আছে….সারা গায়ে ব্যাথা অনুভব করছে …মাথাটা ভার ভার হয়ে আছে…..প্রচন্ড জ্বরে গাঁ পুরে যাচ্ছে….কিন্তু এখানে কি করে এল বুঝতেই পারছেনা……কাল রাতে কথা কিছুতেই মনে করতে পারছেনা….একটু ভাবতেই দুচোখ বেয়ে পানি পরছে…..শাওয়ারের পরের ঘটানাটা ওর চোখ সামনে একটু একটু করে ভেসে উঠতে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেদে উঠল…. জ্বরের ঘুরে শুধু তনিমাকেই ডেকে যাচ্ছে…..

নিলয় রাতে প্রচুর ডিক্স করে সোপার উপর ঘুমিয়েে পরছে……এটায় নিলয়ের নিত্যদিনের সঙ্গী….ধপ করে পাশ থেকে কিছু একটা পরতে নিলয়ের ঘুম ভাঙে….চোখ খোলে দেখে তাহিন পানির গ্লাস নেওয়ার চেষ্টা করছে………নিলয় কিছু একটা ভেবে উঠে ওকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিল কিন্তু তাহিন নিল না……আবার নিজে নেওয়ার চেষ্টা করতেছে…ব্যর্থ হয়ে চোখ বন্ধ শুয়ে পরে…..একটু পর মনে হল কেউ ওর মুখে পানি দিয়ে দিচ্ছে…….তাহিন খেতে না চাইলে জোর করে ওকে খাইয়ে দেই…..কথা বলার মত মিনিমাম শক্তিটুকু নেই……তবু ও দুহাত বাড়িয়ে নিলয়ের শার্টের কলার ধরে টান দিতেই নিলয় তাহিনের মুখের কাছে গিয়ে পড়ে…..তাহিন বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে…চোখ বুঝে নিলয়ের কপালের সাথে কপাল লাগিয়ে নেই….নিলয় উঠতে চাইলে তাহিন সর্বশক্তি ওর শার্টের কলার চেপে ধরে করুন কন্ঠে বলতে শুরু করল……
;;;;কেন করছেন এসব….?আঘাত করে কেন আবার দয়া দেখাচ্ছেন…কি অন্যায়টা বা আমি করেছি..?কিসের এত শাস্তি দিচ্ছেন….যদি ভুল বশত কোনো অন্যায় ও করে থাকি তাহলে কারণটা বলেন একবার… আমার দোষ থাকে তাহলে যা শাস্তি দিবেন মাথা পেতে নিবে….কিন্তু একটু একটু করে কেন এইভাবে শেষ করে দিচ্ছেন.এভাবে যে আর সহ্য করতে পারছি না…এত কিছুর পর ও কেন পরে আছি জানিনা….কেনই বা অন্য মেয়ের সাথে আপনাকে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে এত কষ্ট হল……বলতে পারেন?উত্তরটা না ঠিক আমার কাছে ও জানা নেই….শুধু মনে হয় আপনার হাতের চড় নয় একটু ছোঁয়া পেতে…..ফ্লোরে বুকে নই আপনার বুকেই একটুখানি মাথাটা রাখতে… সন্ধ্য বেলায় অপনার জন্য অপেক্ষা করতে…..খাবার টেবিলে দুজনে একসাথে বসে কে আগে কাকে খাইয়ে দিবে সেটা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া করতে….আর শত মান অভিমান ভুলে বেলা শেষে একসাথে পথ চলতে…….
জ্বরের ঘোরে মনের মধ্যে জমা রাখা সব কথায় বলে ফেলল।…নিভু নিভু চোখে দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়ে…..তাহিনের প্রতিটা নিশ্বাস যেন নিলয়ের বুকে আঘাত করার মত…..আদৌ কি নিলয়ের বুকে অাঘাত করছে……তবে নিলয় অপরাধীর মত সব শুনে গেল…..নিলয়ের শার্টের কলার ছেড়ে দিয়ে আলত করে ওর গালের দুপাশে হাতে রেখে ঠোঁঠ ছুইয়ে দিল…….খুব শক্ত করে নিলয়কে ধরে রেখেছে নিজের বাহুডোরে……
খুব শক্ত করে নিলয়কে ধরে রেখেছে নিজের বাহুডোরে…..

স্তব্ধ পরিবেশ….কয়েকমিনিটের জন্য চারিদিকে যেন নিরবতা বিরাজ করছে…..শুধু তাহিনের উষ্ণ নিংশ্বাসের শব্দ নিলয়ের কানে বাজছে….সেই ঘোরেই ক্ষনিকের জন্য এক অজানা আবেশে হারিয়ে গেল তাহিনের মাঝে…..অজান্তে নিজের ঠোঁঠের ছোঁয়া দিল তাহিনের কপালে…একটুখানি ভালবাসার পরশ পেতেই…তাহিনের চোখ বেয়ে এক ফোঁটা জল বেয়ে পরল….হয়ত সেটে একটুখানি খুশিতে….বেশ কিছুক্ষণ চোখ বুঝে সেই ছোঁয়া অনুভব করল…..মনে হচ্ছে এটায় যেন শেষ ছোঁয়া……..

বেশ কিছুক্ষণ তাহিনের মাঝে আবদ্ধ থেকে নিলয়ের ঘোর কাটল….ঘোরের রেশ কাঁটতে না কাঁটতে নিজেকে মুক্ত করে নিল তাহিনের বাহুডোর থেকে….এক ঝটকায় ওর হাত ছাড়িয়ে তড়িগড়ি করে উঠে দাঁড়ায়….চোখ দিয়ে যেন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে….এই চোখে যে তাকাবে সেই যেন জ্বলে পুরে ছারকার হয়ে যাবে…..আর এক মুহূর্ত ও বিলম্ব না করে….দ্রতগতিতে রুম ত্যাগ করল… দেওয়ালের সাথে সজোরে অাঘাত করল নিজেকে….ঝরঝর করে হাত বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পরছে ফ্লোরে……নিজে ও জানে না কেন এই অাঘাতটা করল……
নিভু নিভু চোখে নিলয়ের যাওয়ার পথে চেয়ে দুচোখের পানি ছেড়ে দিল….
একটু আগে মনে হল নিলয়কে যেন একেবারে নিজের করে পেল….কিন্তু সেই চাওয়া যে আর পূর্ণ হবারর নই…যে মায়ায় পরে সব সহ্য করছে এবার সেটা ত্যাগ করার পালা…….

ঘন্টা ক্ষানিক বাদে কেউ একজন তাহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে চোখ খুলে তাকাল….. হালকা পাতলা দৈহিক গঠনের মাঝবয়সী একজন মহিলা বসে আছে ওর মাথার পাশে…..খুব সাদাসিধা পরনে পুরানো একটা সাদাশাড়ী…ঠিক চিনতে পারছে না মহিলাটিকে….তাহিন মহিলটাকে দেখে উঠার চেষ্টা করতেই…..
মহিলাটি বাধা দিল……..
;;;মামুনি আপনাকে কষ্ট করে উঠতে হবে না।আপনি শুইয়া থাকেন……জ্বরে তো আপনার গাঁ পুরে যাচ্ছে এমন জ্বর কি করে বাঁধায়লেন…..
তাহিন কি বলবে বুঝতে পারছে না শুধু মিটমিট চোখে চেয়ে আছে…..তাহিনকে চুপচাপ দেখে মহিলাটি আবার বলল…
;;;আচ্ছা আপনার জামা কাপড় কোথায় রাখেন আমাকে বলেন আমি নিয়ে আসছি….নিলয় বাবা কইছে আপনার জামা কাপড় চেঞ্জ করে দিতে…..
তাহিন এবার বুঝতে পারল মহিলাটি কে….নিলয়ের কাজের লোক…সম্ভবত ইনিই আগে নিলয়ের দেখা শুনা করত……..এখন আবার হয়ত নিয়ে এসেছে…..এত দরদ না দেখালেই পারত…শেষ করে দেওয়ার যখন এতই ইচ্ছা এভাভেই শেষ করে দিত……
রহিমা জামাকাপড় বের করে নিয়ে এসে চেঞ্জ করে দিতে চাইলে তাহিন বাধা দেই..আস্তে আস্তে করে শুয়া থেকে উঠে বসে….
;;;মামুনি আপনি উঠতেছ কেন আমি চেঞ্জ করে দিচ্ছি আপনাকে…..
তাহিন একটু হেসে…..
;;;না না আমি পারব….আপনি শুধু আমাকে ওয়াশরুম পর্যন্ত নিয়ে গেলে হবে….
আর কথা না বাড়িয়ে রহিমা তাহিনকে ওয়াশরুমে পর্যন্ত নিয়ে গেল…..তাহিন যে নিজের কষ্ট নিজের কাছে ঢেকে রাখতে চাই…..তাইতো প্রচন্ড ব্যাথা সহ্য করে গেল নিরবে…..এখন যেন শত আঘাতে ও আর কষ্ট হয় না…মনটা যেন শত আঘাত সহ্য করতে করতে মরে গেছে….
ক্ষানিক বাদে রহিমা ডাক পেয়ে কাপড় ছেড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসতে……বিছানায় শুয়ে দিল…. রহিমা একটু পর স্যুপ বানিয়ে নিয়ে আসল তাহিনের জন্য…..খাবারটা রুচিকর হলে ও এই মুহূর্তে সেটা অরুচিতে ভরপুর মনে হচ্ছে…তাহিন খেতে না চাইলে জোর করে খাইয়ে দিল রহিমা….বেশ কিছুক্ষণ রহিমা চেয়ে রইল তাহিনের মুখমানে…..মায়াবী মুখে যে হাজারো কষ্টে ঘেরা…..এতক্ষণ বেশ কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরেছে….বড় সড় একটা নিংশ্বাস নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল…ঠিক তার কয়েক মুহূর্ত পর পর ডাক্তর এসে চেকআপটা করে লম্বা একটা প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল….ঔষুধে তাহিনের বড় এলার্জি….তনিমা হাজার চেষ্টা করে কিছুতেই খাওয়াতে পারত না এই এলার্জি নামক বরিটা……আর এখন জোর করে খাওয়ে দেওয়ার মত ও যে কেউ নেই……
রাতে তাহিনের জ্বরটা আরো বেড়ে গেল….বেহুশের মত পড়ে আছে….পাশে বসে রহিমা জ্বর পট্টি দিয়ে যাচ্ছে……..জ্বরে ঘোরে নিলয়কে ডাকছে বারবার……একটুখানি যেন ওকে কাছে পেতে চাই…..ও স্পর্শে যেন সব ঠিক হয়ে যাবে….মনটা এত বেহায়া কেন?নিলয় যে আসবেনা…….
রহিমা খালা বাধ্য হয়ে নিলয়ের ডাকতে গেল…..নিলয় অন্য রুমে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে…… ড্রিঙ্ক করে পড়ে আছে বোধয়…..তখনের পর থেকে একবারের জন্য ভুলে ও পা রাখেনি সেই রুমে…….তাহিনের চোখাচোখি হতে যেন ভয় করছে নিলয়ের……..রহিমা অনেকক্ষন ডাকার পর চলে গেল….নিলয়ের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে……

মাঝরাতে কারো স্পর্শ অনুভব করতে চোখ খোলার ব্যর্থ চেষ্টা করছে তাহিন……খুলতে চেয়ে ও যে খুলতে পারছে না….মানুষটিকে দেখার জন্য…শুধু মনে হচ্ছে নিলয় ওর হাত ধরে বসে আছে….মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে হাতে কয়েকটা চুমু দিয়ে দিল… আবার কপালে ভালবাসার পরশ অনুভব করল……তাহিনের চোখে মুখে যেন হাসির ঝিলিক বয়ে যাচ্ছে…চোখ খোলার আর চেষ্টা করছে না….চোখ খুললে যদি নিলয় হারিয়ে যায়…খুব শক্ত করে নিলয়ের হাতটাকে বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছে যেন হারিয়ে না যায়…….নিলয়কে নিজের সাথে আবদ্ধ করতে পেরে তৃপ্তির সাথে ঘুমের দেশে পাড়ি জমাল…..

দুদিন পর,,,,,,,
তাহিন এখন অনেক্ষটা সুস্থ….এই দুদিন সম্পূর্ণ বেডরেষ্টে ছিল…..রহিমা খালা একদম নিজের মেয়ের মত সেবা যত্ন করে সারিয়ে তুলেছে তাহিনকে…এই দুদিনে একটিবারের জন্য ও নিলয়কে চোখের দেখা দেখেনি….তবে জ্বরের ঘোরে প্রতি রাতে নিলয়কে যেন খুব কাছ থেকেই অনুভব করতে পারত…….নেহাত সেটা স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু ছিলনা…চোখ খুললে যে নিলয় হারিয়ে যেত…..আবার চোখ বন্ধ করলে নিলয়ের স্পর্শ অনুভব করতে পারত……

শুয়ে থাকতে থাকতে যেন পিঠ ব্যাথা হয়ে গেছে……..এবার একটু ফ্রেশ হাওয়া দরকার….রুম থেকে বের হয়ে চারিদিকে উকি মেরে কাউকে যেন খুঁজে যাচ্ছে…..অবশ্য নিলয় ছাড়া এটা কে বা হতে পারে……..তখনি রহিমা খালা সামনে এসে……
;;;মামুনি কাউকে খুঁজতেছে….?
তাহিনের ধ্যানে ছেদ পড়ে আমতা আমতা করে……
;;;না মানে….
;;;আচ্ছা বুঝেছি নিলয় বাবারে খুঁজতেছে….সেই তো অনেক্ষন আগেই বের হয়ে গেছে…..
;;;ওহহহ আচ্ছা।
রহিমা খালা একটু হলে বুঝতে পেরেছে তাহিনের কষ্টটা…..
;;আপনি আমার লগে চলেন নাস্তা করতে হইব তো……
তাহিন গম্ভীরভাবে বলল যাবনা……
;;;;কেন মামুনি কি হয়ছে….
;;;বলেন কি হয় নাই…. আরেকবার যদি আপনি আমার সাথে আপনি আপনি করে কথা বলেন তাহলে আপনার সাথে কোথা ও যাব না…….
রহিমা অট্টহাসিতে মেতে…
আচ্ছা আচ্ছা আর বলবনা……
এখন চলেন…..
;;আবার……
আচ্ছা আর বলবনা এবার চল….

তাহিন একটু হেসে রহিমার খালা সাথে গেল……বেশ ভাল লাগছে তাহিনের কথা বলার মত কাউকে খু্ঁজে ফেল………

নাস্তা শেষ করে রুমের দিকে যেতে পিছন থেকে নিলয়ের আওয়াজ শুনে তড়িগড়ি করে ঘুরে তাকাল……

চলবে…..
<ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন>

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here