তেজপাতা পর্ব -০৫ ও শেষ

#তেজপাতা
#পর্বঃ৫(অন্তিম পর্ব)
#Jhorna_Islam

বিয়ে খেয়ে দুই দিন থেকে তারপর ফিরে আসে হাসি খুশিরা তাদের বাড়ি।

এইদিকে যে তাদের বাবা তাদের না জানিয়ে অনেক বড় কাজ করে বসেছে কেউ জানতো ও না।

যেইদিন বাড়িতে এসেছে ঐদিন বিকালেই তাদের বাবা মেহমানদের আসতে বলেছে। ছেলে পক্ষ আসবে দেখতে।হাসি এই কথা শুনে কি মন খারাপ।

খুশি হাসির মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু হাসে।আর হাসিকে নকল করে ভেঙায়। হাসির হাতে এই নিয়ে কয়েক ঘা খেয়েছে ও। তাও মজা নিচেছ। গুণগুণ করে গান গাইছে ,, “আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।”

যা যা হাসুনির মা অনেক বাপের বাড়ির ভাত খেয়েছিস।এইবার বিদায় হ দেখি।জামাইর বাড়িতে গিয়ে খা এবার।

আহা্ এখন আমি একা সব কিছুর উপর রাজত্ব করবো।বিছানায় একা একা ঘুমাবো।তোর সব জিনিস পত্র সব আমার হয়ে যাবে ভাবতেই মনে কি যে আনন্দ লাগছে।ইচ্ছে করছে লুঙ্গি ডান্স দিতে।

হাসি মন খারাপ করে বসে আছে। পাশে সাদ ও নিরব দর্শকের মতো বসে আছে। সে বোনদের কাজ কারবার দেখছে।

তাদের মা রিনা এসে কতক্ষন বকে গেছে এসব নিয়ে। বলেছে সমস্যা কি? বিয়ে করবি না কেন? কোন পছন্দ আছে?থাকলে বল তার কাছেই দিবো।

হাসি তখন কাঁদো কাঁদো দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,,সারা বছর কড়া পাহারায় আর শা’সনে রেখে এখন জিজ্ঞেস করছে কেউ পছন্দের আছে কি না।কোথা থেকে থাকবে?

তাহলে চুপচাপ তৈরি হয়ে নে কথা না বাড়িয়ে। বলেই হনহন করে চলে যায় রিনা।

হাসি এখনো তৈরি না হয়ে বসে আছে। কিছু সময়ের মাঝেই মেহমানরা আসতে থাকে। খুশি জানালা দিয়ে চুপি দিয়ে দেখে ছেলেকে।

একটা ছেলে দেখতে পায় মোবাইলে কথা বলতে বলতে ঢুকছে। সবকিছু ঠিকই আছে তবে গলায় লাল রং এর টা-ই। খুশি দেখে হেসে ফেলে।

তারপর হাসি কে ডাকে এই হাসুনির মা এই দিকে আয়।দেখে যা এইটা তোর হারিয়ে যাওয়া সেই লাল ঝুটি ওয়ালা মোরগ টা না?

হাসি দৌড়ে গিয়ে আবার খুশির পিঠে আরেকটা লাগায়।

রিনা আবার এসে খুশিকেও তৈরি হতে বলে।দুইজন কেই নাকি এক সাথে দেখতে আসবে।ছেলেরা জমজ। এক বাড়ি থেকেই দুই বৌ নিবে।

এই কথা শুনে খুশির মাথায় যেনো বা*জ পরে। কিহ্ বলেই চিললিয়ে উঠে।

রিনা কটমট করে খুশির দিকে তাকায়। তোর যে ষা’ড়ের মতো গলা এটা লোক কে জানাতে হবে?

মা আমি বিয়ে করবো না।

হাসি এবার বলে উঠে,, কেন করবি না? অনেক তো বাপের বাড়ির ভাত খেয়েছিস এবার জামাইর বাড়িতে গিয়ে খাবি।

রিনা এবার দুইজন কে তৈরি হতে বলে যায়।

সাদ এবার বলে,,,আহ্ এবার সব কিছু আমার।সব কিছু তে আমি রাজত্ব করবো। দুইটা এক সাথে বিদায় হবে।

“আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। ”

খুশি তেড়ে যায়,, সাদ পা*দ দাড়া তুই।

সাদকে আর পায় কে? সে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

হাসিও খুশির মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। তারপর জামা কাপড় নিয়ে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।

খুশি মাথায় হাত দিয়ে বিছানায় বসে পরে।

মেহমানদের রিনা খুব ভালো করে আপ্যায়ন করছে।বিশেষ করে ছেলে দুটোকে তার খুব মনে ধরেছে।কি সুন্দর চুপচাপ বসে আছে।হাসি মুখ করে কথা বলে। উনার বা*চাল মেয়েদের জন্য এরকম ছেলেই তিনি চাইছিলেন।

শরবত করেছে কয়েক রকম যে যেইটা খায়। হাসির জন্য যেই ছেলেকে পছন্দ করেছে সেই ছেলেটা হলুদ দেখতে কালার সেই শরবত হাতে উঠিয়ে নেয়।মুখে নিয়ে চুমুক বসাতে বসাতে জানতে চায় এটা কিসের শরবত আন্টি? আমি ভেবেছিলাম যেটা সেরকম না টেস্ট টা অন্যরকম।

সাদ ফাঁক দিয়ে এসে বলে,,এটা দেখতে পাচ্ছেন না হলুদ? এটা গরুর হি’ সু দিয়ে মা বানিয়েছে। খুব টেস্টি খান খান।

ছেলেটার নাকে মুখে শরবত উঠে যায়। কাশতে থাকে অনবরত। রিনা গিয়ে তারাতাড়ি মাথায় হাত বুলাতে থাকে।আহারে আব্বা টা সাবধানে খাবে তো। আহা ঠিক আছো? কষ্ট হচ্ছে?

আমি ঠিক আছি আন্টি।

কিছু মনে করো না বাবা সাদের কথায় ও ছোট মানুষ তো মজা করেছে।

না না কিছু মনে করিনি।একটা মাত্র শা*লা দুলাভাইয়ের সাথেইতো মজা করবে।

সকলেই হাসি খুশির জন্য অপেক্ষা করছে।

রিনা গিয়ে দুই মেয়ে কে নিয়ে আসে। গো’মড়া মুখ করে দুইজন মিলে দাঁড়িয়ে আছে। আড় চোখে আবার তাকিয়ে সবাই কে দেখে নিচেছ।

ওদের বসতে বললে ওরা বসে। এটা ওটা জিজ্ঞেস করে। বড় ছেলের জন্য হাসিকে।আর ছোট ছেলের জন্য খুশিকে পছন্দ করে।

ওরা দুই ভাই ও হাসি খুশির মতো জমজ।কয়েক মিনিটের বড় ছোট।তবে দেখতে এক রকম না।।

সকলেরই পছন্দ হয়। হাসি খুশির আব্বা ও ওরা বিয়ে খেতে যাওয়ার পরই সব খোঁজ খবর নিয়ে ফেলেছে। সবদিক দিয়ে ভালো। মেয়েদের জন্য এর থেকে ভালো সম্মন্ধ হয়তো আর পাবে না।

ছেলে পক্ষ ও আগে থেকে জানিয়ে রেখেছে। যদি তাদের মেয়ে পছন্দ হয় তাহলে দেখতে এসেই আংটি পরিয়ে যাবে।

সকলেই এই নিয়ে আলাপ আলোচনায় বসেছে।হাসি খুশিকে তাদের হবু বরদের পাশে বসিয়েছে। সাদ আবার গিয়ে দুই ভাইয়ের মাঝ খানে বসেছে।

একবার হাসির আর হাসির বরের দিকে তাকাচ্ছে। আবার খুশি আর খুশির বরের দিকে তাকাচ্ছে।

সবগুলোই আড় চোখে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মিটমিটিয়ে হাসছে।

কথা সব ফাইনাল করে।বিয়ের দিন ও ঠিক করে এক মাস পরে।তবে আংটি পড়ানোর আগে ওদের কে আলাদা করে কথা বলার সুযোগ করে দেয়।

হাসি খুশি কে বলে,,ওদের রুমে নিয়ে গিয়ে আলাদা করে কথা বলতে।

দুই বোন মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। শাড়ি পরেছে দুইজন ই। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে রুমের দিকে।

হাসি তার হবু বর কে নিয়ে তাদের রুমে যায়।

আর খুশি যায় সাদের রুমে।

হাসি আড় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে লাজুক হাসে। তার বেশ পছন্দ হয়েছে ছেলেকে। ছেলের নাম আকাশ। আর তার ভাইয়ের নাম মেঘ।

আকাশ গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে।লাজুক হেসে হাসিকেও আরেকটা চেয়ার দেখিয়ে দেয় বসার জন্য। হাসি ছোট ছোট কদমে এগিয়ে যায়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যায় শাড়ির মধ্যে পারা লেগে পরে যেতে নেয়।নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে আকাশের মুখ হাত দিয়ে খা’বলে ধরে।

হাসির হাতের সব নখ গিয়ে বিঁধে আকাশের মুখে। আকাশ আহ্ বলে আওয়াজ করে উঠে।

ঠিক সে সময় ওপর রুম থেকেও চিৎকারের আওয়াজ শুনা যায়।মেঘ চিৎকার দিয়েছে।

খুশি পিছনে ঘুরতে গিয়ে মেঘের পায়ে উঁচু জোতা দিয়ে পাড়া দিয়েছে।

সকলেই ছুটে এসে জানতে চায় কি হয়েছে? তারপর আসল কাহিনী শুনে সকলেই হেসে দেয়।

অন্যদিকে রিনা আকাশ আর মেঘের দিকে তাকায়। ছেলে গুলোর জন্য তার মায়া হচ্ছে। আহারে তার মেয়ে দুটো ছেলেগুলোর জীবন তেজপাতা করে দিবে।

#সমাপ্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here