পরানের দুলাভাই পর্ব -১৪

#পরানের দুলাভাই
#সেলিনা আক্তার শাহারা
#পর্ব–১৪.
————————

নিতুর ঘুম ভেংগে গেলো দরজার নক করার আওয়াজে,
নিতু হাই তুলে মুগ্ধর দিকে চেয়ে দেখে উপুর হয়ে মনের আন্দদে ঘুমাচ্ছে,
নিতু চাদর দিয়ে মুগ্ধকে ঢেকে মাথায় হাত বুলিয়ে বির বির করে বলে,সারা রাত আমায় ঘুমাতে দেয় নি, আর এখন দেখো কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে, সয়তান লোক,

বলেই নিজের শারিটা কোন রকম ঠিক করে দরজা অল্প খুলে দেখলো কে??

মিতু আপু তুমি??
আরে এত বেলা অবদি কেউ ঘুমায় সকালে বেলার রৌদ টা গায়ে মাখবি বাচ্চার জন্য ভালো, মুগ্ধ উঠেনি? (মিতু)

না আপু ( নিতু লজ্জা পাচ্ছে কারন মিতু রুম এ উকি ঝুকি দিচ্ছে আর কথা বলছে)

ওহ আচ্ছা যা ফ্রেস হয়ে আয়, বলেই মিতু চলে গেলো,
নিতু ফ্রেস হয়ে এল একটা হালকা হলুদ রং এর শাড়ি পরেছে এটা কাল মুগ্ধ রাতে দিয়েছিলো নিতুকে।

নিতু মুগ্ধর কাছে এসে চুল সামনে এনে ওর মুখের উপর ধরে,
আহা কি করছো?(মুগ্ধ ঘুম ঘুম চোখে)

এই উঠুন আর ঘুমানো হবে না উঠুন,
নিতুর ডাকে মুগ্ধ চোখ খুলে নিতুর দিকে ঘুরে তার চোখ আটকে গেলো।

নিতু “”( মুগ্ধ)

হুম( নিতু)

তুমি কি আমায় অশান্তিতে রাখতে পছন্দ করো??( নিতু পেট এর দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ,কারন শাড়ির উপর দিয়েই দেখা যাচ্ছে নিতুর মেদ হীন সাদা পেটটা,

নিতু কিছু বুঝলনা তাি আবার বললো মানে??

মানে কি তোমায় তো এখন এত রোমান্টিক অত্যাচার করা জাবেনা, কারন আমার মা কষ্ট পাবে,
আর এমন করে আমার সামনে আসলে আর নিজেকে সামাল দেয়া মুসকিল,তখন তো আমার আর শান্তি লাগবেনা।

নিতু এবার মুগ্ধ কথা বুঝতে পেরে তার চোখ অনুসরন করে দেখে মুগ্ধ নিতুর পেট এর দিকে চেয়ে আছে,
নিতু চট করে উঠে বললো জান ফ্রেস হয়ে আসুন অনেক বেলা হয়েগেছে, আপনার অফিস ও তো আছে,

মুগ্ধ এবার উঠে নিতুকে একটা চুমু দেয় তার কপাল এএ একটা পেটে, আর বলে এটা তুমার এটা আমার মার।
বলেই হেসে ওয়াস রুম এ ঢুকে গেলো।

নিতু পিছন ফিরে দেখে মিতু হাসি দিয়ে রুম এ ঢুকছে হাতে খাবার,
আরে আপু এগুলা এখানে কেন?( নিতু)

আজ আমরা তিন জন এক সাথে বসে খাবো তাই খাবার টা এখানেই আনলাম,
আর ওরা নাস্তা করছে, ( মিতু মিষ্টি হাসি দিয়ে, এই মিষ্টি হাসির পিছনের কারনটা কি নিতু জানে??)
মুগ্ধ ফ্রেস হয়ে এসে দেখে মিতু খাবার নিয়ে বসে আছে,

তুমি মানে আপনি এখানে একটু রাগ নিয়ে মুগ্ধ।
কেন আসতে নেই?( মিতু)
না তা নয়( মুগ্ধ)

হুম তাহলে এসো আজ তিন জন এক সাথে খাই(,মিতু)

না আমরা সবার সাথে বসেই খাবো( মুগ্ধ)
আহা ওরা নাস্তা করছে আমি নিয়ে এসেছি তুমাদেরটা আর ওদের খেয়ে নিতে বলেছি+( মুখটা মলিন করে মিতু)

নিতু এবার বলে উঠলো আরে আসুন না আপু এত করে বলছে!!!
মুগ্ধ আর কথা না বলে সুফায় বসে পরে আর খাবার নিয়ে খাচ্ছে,

আজ তোকে আমি নিজ হাতে খাইয়ে দিবো নে হা কর( মিতু হাসি দিয়ে)

নিতু ও আপন মনে মিতুর হাতে খাবার খেতে থাকে আর মিতুর দিকেই চেয়ে রয়েছে।

★গতকাল হাসপাতালে মিতু নিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে, ওর হাত ধরে ক্ষমা চেয়েছে, বলছিলো বোন আমি ভুল করেছি, মুগ্ধ এখন পুরোপুরি তোর তর মুগ্ধর বা এই বাচ্চার কারো বাধাই আমি হব না, মুগ্ধ তোকেই ভালোবাসে তা আমি বুঝতে পারিনি তাই এমন করেছিলাম তবে আমি ভুল ছিলাম,আমায় ক্ষমা করে দে,
নিতুর মনটা গলে গেলো, যত হক বড় আপু একসাথে কত খেলাদুলা করতো, এত জিনিস নিতুর পছন্দ হলে মিতু তা দিয়েদিতো, হয়তো আপু আমার স্বামিকেও ফিরিয়ে দিয়েছে, নিজের আপন বোনকে কে তো বিশ্বাস করাই যায় সে তো আর ক্ষতি হতে দিবেনা, তাই নিতু মিতুকে ক্ষমা করে তাকে বুকে জরিয়ে নেয়।

নিতু মিতুর কথা বিশ্বাস করলেও মুগ্ধ মিতুর এমন আচরন মেনে নিতে পারছে না, কারন সে মিতুকে হারে হারে চিনে,তাই ক্ষমা করে দিয়েছে বলে মিথ্যা কতা বললো মিতুকে)★*

মুগ্ধ খাচ্ছে আর মিতুর দিকে দেখছে কেন করছে মিতু এসব,
সে তো এত জলদি নিজের জিনিস ছেরে দেয়ার পাএ নয়,

খাওয়া দাওয়া শেষ করে মুগ্ধ অফিস এর জন্য রেডি হয়, মিতু আর তার বাবা মা ও চলে গেছে।
নিতুর পেটে ও গালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে মুগ্ধ বের হল,
কনিকার স্বামি বিলাশ রেডি হয়ে বসে আছে, বাবাও কিন্তু সাগর দুলাভাই কোথায়?? ( মুগ্ধ)
ওহ ওর শরিলটা ভালোনা তাই আজ জাবেনা তরা জা ( অনিকা আমতা আমতা করে)

ওহ তাহলে দেখে আসি ডাক্তার ডাকবো কিনা( মুগ্ধ অনিকার রুম এ এগুতে এগুতে,)

না না তুই জা না ডাক্তার লাগলে আমি ডেকে নিবো ( অনিকা)

হুম ঠিক আছে বলেই চলে গেলো সবাই অফিস এর উদ্দেশ এ,
অনিকা জানে সাগর হয়তো শুয়ে আছে সারা তার ঘুমায় নি কোথায় ছিলো সারা রাত সাগর, আর এসে আমায় একটা ডাকও দিলোনা দরজার হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম ,
তাই অনিকা আবার তার রুম চলে গেলো, গিয়ে দেখে সাগর অফিস এর জন্য রেডি হচ্ছে, ওহ তুমি উঠে গেছো ওরাতো চলে গেছে আম– আর কিছু বলতে পারলোনা অনিকা।
অনিকা কে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলো আমি অফিস এর রাস্তা চিনি আর ছোট বাচ্চা নই আমি জে একা জেতে পারব না।

১৫/ ১০ দিন হয়ে গেলো একটা কথাও বলে নি সাগর অনিকার সাথে,

মুগ্ধ বেসির ভাগ সময় অফিস এর কাজ বাড়িতে করার চেষ্টা করে, আর নিতুকে সময় দেয় বেসি, মুগ্ধর মা দিনে ৫০ বার জিজ্ঞাস করে ওমা তর শরিল ভালোতো কোন কষ্ট হচ্ছে না তো,
না আম্মু আমার কোন সমস্যা হলে তোমায় বলবো,নিতু)

মুগ্ধর মা একটু বেসিই টেনশন করে, কারন অনিকাটার বাচ্চা হয় নি কনিকারও নয়, তাই মুগ্ধর বাচ্চা হচ্ছে তাই একটু সাবধান এ থাকতে হবে কোন উচনিচ যেনো নয় হয়

নিতুর মনে কয় দিন ধরে একটা পশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে,
তাই মুগ্ধকে জিজ্ঞাস করতে তার কাছে গিয়ে শাড়ির আচল পেচাচ্ছে,

হুম কি বলবে বলে ফেলো( মুগ্ধ লেপটপ এর দিকেই চেয়ে)

কিছু বলবো কি করে জানলেন( অবাক করে চোখে চেয়ে নিতু)

মুগ্ধ লেপটপ টা টেবিল এ রেখে নিতুর হাত ধরে টেনে এনে তার কোল এ বসিয়ে বলে কারন আমি জতিষ,
এখন বলো কি বলবে।

না মানে অনিকা আর কনিকা আপুর বিয়ের তো অনেক দিন পার হয়েছে, তাও তাদের বাচ্চা নেই কেন??(নিতু চোখ গুলা সরু করে)

ওহ এই কথা,আসলে অনিকা আপুর বাচ্চা হয় নি অনেক ডাক্তার দেখিয়েছিলো, কোন লাব হয় নি, আর কনিকা আপু অনিকা আপুর আগে বাচ্চা নিতে চায় না, ( মুগ্ধ এক নিশ্বাস নিয়ে)
ওহহ নিতু মাথাটা নিচু করে।

আর কিছু না বলে নিতু মুগ্ধর কোল থেকে উঠে জায়, কারন অনিকএসেছে হাতে দুধ এর গ্লাস,
ওহ হো ডিস্টাব করলাম নাকি?( হালকা হাসি দিয়ে অনিকা)

না আপু এসোনা বলেই অনিকার হাত ধরে রুম এনে বসিয়ে দেয় নিতু,

অনিকা এবার দুধ এর গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললো নাও এক চুমুকে শেষ করে দাও দেখি,।

নিতু কোন কথা না বলে দুধ টুকু খেয়ে নেয়,
মুগ্ধ দেখে হাসি দিয়ে আবার কাজে মন দিলো।

বিকেল এএ মিতু এসেছে মুখে বিশ্ব জয়ি হাসি, কারন আজ সে সব ব্যাবস্থা করেই এসেছে,
এসেই নিতুকে জরিয়ে ধরে আদর করলো (আর মনে মনে বললো আমায় ক্ষমা করিস বোন আর কোন রাস্তা নেই আমার, তুই আমায় এমন টা করতে বাধ্য করেছিস, আমি এমন টা চাই তাম না রে আমার ছোট্ট বোন)

চলবে!!

কি হতে চলেছে নিতুর সাথে, মতামত চাই সকলের।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here