বলব_কবে_ভালোবাসি পর্ব ১০

#বলব_কবে_ভালোবাসি
#পর্ব_১০
#Marufa_Yasmin

” এইসব আমাকে দিয়ে করিয়ে তোর তো কোনো লাভ হলো না। উল্টে তুই যা চেযেছিলি তা হলো না। দেখ আমি আমার কথা রেখেছি।আমি আরু কে ভালোবাসি এটা তুই জানিস আমি আরুর কোনো ক্ষতি হতে দেবো না তাই তোর কথায় রাজি হয়েছি।এখন আর কোনো কাজ করতে পারবো না আমি আরু কে নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই। ”

” ………………………………

” তুই যা করার কর কিন্তু আমার আরুর জেনো কোনো ক্ষতি না হয়।আমি এভাবে আরু কে কোনো দিন বিয়ে করতাম না। শুধু তোর কথায় রাজি হয়ে এইসব করেছি। এখন রাখ আরু রুমে এসে পরবে। ”

দীপ্ত ফোনটা রেখে এক পা এক পা করে নিচে নেমে যায় দেখে আরু বাচ্চাদের মতো পা তুলে সোফায় বসে এখনো কাঁদছে আর আরুর সামনে অনেক চকলেট। দীপ্ত সোফায় গিয়ে বসতে প্রতিমা দেবী কাজের বাহানা দেখিয়ে রান্না ঘরে চলে যায়।দীপ্ত আরুর গালে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বলল

” লেগেছে আরু! সরি ।”

আরু দীপ্তর হাতটা সরিয়ে উল্টো দিকে মুখ করে বসে।দীপ্ত আবার আরুর সামনে গিয়ে কান ধরে উঠবস করছে।এটা দেখে আরু হা হা করে হাসতে লাগে আরুর হাসি দেখে দীপ্ত ও হাসে।আরু হাসি থামিয়ে বলল

” হয়েছে হয়েছে থামেন। ”

দীপ্ত আরুর পাশে বসে
আরু চকলেট গুলো নিতে যায় ওমনি দীপ্ত আরু কে কোলে তুলে বাইরে নিয়ে যায় তারপর গাড়িতে বসায়।আরু দীপ্ত কে জিজ্ঞেস করছে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু দীপ্ত আরুর কোনো কথায় শুনছে না।দীপ্ত ড্রাইভ করেছে আরু চকলেট খাচ্ছে মুখে চকলেট লেগে আছে।দীপ্ত গাড়ি থামিয়ে গালে হাত দিয়ে একভাবে আরুর দিকে তাকিয়ে আছে।আরুর সেই দিকে কোনো খেয়াল নেই।নিজের মতো খেয়ে যাচ্ছে। দীপ্ত আরুর গালে হাত দিয়ে নিজের দিকে ঘুরাই তারপর আরুর গালে লেগে থাকা চকলেট গুলো খাতে লাগে আরু এটা দেখে হা হু করে হেসে বলে

” আপনি চকলেট খাবেন আমাকে বলতে পারতেন।এই নিন চকলেট। ”

দীপ্ত এক আঙুল দিয়ে ঠোঁটটা মুছে আরুর দিকে ঘোর লাগা কন্ঠে বলল

” আমার এই চকলেট চাই না ।”

” তাহলে কোন চকলেট চাই? ”

দীপ্ত আরুর গালে হাত দিয়ে আরুর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।আরু কিছু বোঝে উঠার আগেই।
আরু চোখ বন্ধ করে ফেলে বেশ কিছুক্ষণ পর আরুর ঠোটটা ছেড়ে দেয় দীপ্ত।আরু লজ্জায় অন্য দিকে মুখ করে আছে দীপ্ত বাঁকা হেসে বলল

” বুঝলে কি চকলেট চাই ! ”

আরু কিছু বলে না চুপ করে আছে।দীপ্ত ড্রাইভ করতে শুরু করে।হাওড়া ব্রিজ এর নিচে এসে গাড়ি থামায় ।আরু কে গাড়ি থেকে নামিয়ে দুজনে নদীর তীরে যায়।

একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে দীপ্ত আর আরু হাওড়া ব্রিজ এর দিকে তাকিয়ে।ব্রিজটা আলোয় ঝলমল করছে।আর আলোর ছিটে গঙ্গা নদীতে পড়েছে।অসাধারণ একটা দৃশ্য নদীর পানিতে আলো পড়ে এত সুন্দর একটা দৃশ্য ফুটে উঠেছে তা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।
এই সুন্দর দৃশ্য দেখাতে আরু কে নিয়ে দীপ্ত এখানে এসেছে।আরুর মন ভালো করার জন্য।দীপ্ত আরু কে হঠাত জড়িয়ে ধরে আরু না চেয়েও বাঁধা দিতে পারলো না।

__________________

কেটে গেছে তিন থেকে চার মাস আরুর পরীক্ষা এগিয়ে আসছে দীপ্ত কঠিন ভাবে আরুর পড়াশুনার দিকে খেয়াল রাখতে।কোচিং এ যেতে দেয় না নিজে পড়ায় আরু কে।

সকাল বেলা আরু ঘুমিয়ে আছে। দীপ্ত অনেক ক্ষন থেকেই আরু কে ডাকছে কিন্তু আরু ইচ্ছে করে শুয়ে আছে।

হঠাত আরুর গায়ে পানি পরতে আরু উঠে বসে।চোখ খুলে দেখে দীপ্ত সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার মানে দীপ্ত এক বালতি পানি আরুর গায়ে ঢেলে দিয়েছে আরু রেগে গিয়ে বলল

” আপনার আমার ঘুম সহ্য হয় না বলুন। ”

” দশটা বাজে খেয়াল আছে।বাড়ির বউ তো মনে হয় না তোমাকে কোনোদিন দেখলাম না রান্না করলে।ওটা না হয় বাদই দিলাম নিজের পড়াটা তো করো। ”

” করবো না পড়া। আপনি খুব পচা। ”

” হ্যা সে আমি জানি আমি পচা এবার যাও ফ্রেশ হয়ে এসো। আমি বিছানা গুলো রোদে দিয়ে আসি এসে জেনো দেখি টেবিলে পরতে বসেছ। ”

আরু মুখ ভেংচি দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়।

দীপ্ত বিছানা নিয়ে গিয়ে ছাদে দিয়ে আসে। তারপর রান্না ঘরে গিয়ে খাবার নিয়ে আসে রুমে আরুর জন্য। আরু বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে গোলাপ গাছটার দিকে তাকিয়ে।মন খারাপ তার।দীপ্ত পেছন থেকে গিয়ে বলল

” পরতে বসোনি এখনো! ”

” ভালো লাগছে না । ”

” কেনো কি হলো? ”

” গোলাপ গাছের এতদিন তিনটি করে ফুল থাকত কিন্তু আর ফুল ফুটে না। ”

” আরে এই টুকু ব্যাপার নিয়ে মন খারাপ চশো পরতে বসবে এসো । ”

” হুম ।”

আরু টেবিলে গিয়ে বসে। দীপ্ত খাবারটা এগিয়ে দিয়ে বলল

” খেয়ে নাও। ”

” ভালো লাগছে না পরে খাবো । ”

” খেতে বলছি তো? ”

” আচ্ছা আপনি আমাকে জোর করে বিয়ে কেনো করেছেন? সবাই আমাকে ভুল বুঝেছে।কিন্তু আমি তো জানি এইসব আপনি ইচ্ছা করে করছেন কেনো বলুন না? ”

আরুর প্রশ্নে দীপ্ত থতমত খেয়ে যায়।কি উত্তর দেবে আচ্ছা আরু যখন জানবে তখন দীপ্ত কে ভুল বুঝবে? দীপ্ত কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল

” ভালোবাসি তোমাকে তাই ।”

” ভালোবাসেন! তো একবার আমাকে বলতে পারতেন প্রপোজ করতে পারতেন আমি রাজি হয়ে যেতাম। ”

” তাই? ”

আরুর দীপ্তর গলা জড়িয়ে বলল
” হুম ।”

দীপ্ত আরু কে ছাড়িয়ে বলল
” হয়েছে পড়া করো ।”

____________________

” হৃদ আমি তোকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারবো না ।বাড়ি থেকে জোর করে আমার বিয়ে দিচ্ছে।এইখানে থেকে আমি না আমার লাস বের হবে। আমি এতদিন বৃথা চেষ্টা করেছি তোকে সবটা বোঝানোর। ভালো থাকিস। রাখলাম। ”

কথা গুলো বলে কলটা কেটে দিল মিষ্টি হৃদ কে কিছু বলার সুযোগ দিল না। সেও আরু কে ভুলতে চাই এতদিন সেটার চেষ্টা করছিল কিন্তু হৃদ তো বেকার। হৃদ কে কি মেনে নেমে মিষ্টির পরিবার।
হৃদ এর হাত থেকে ফোনটা পরে যায়।একবার দেরী করে ফেলেছিলেন বলে ভালোবাসা হারিয়েছে কিন্তু আর হারাবে না। হৃদ আরু কে ফোন লাগায়

বাকি

( আমি অনেকবার বলেছি আমার পড়াশুনা দেখতে হয়।আমি যথেষ্ট বড়ো দিই কোনোদিন ছোট হয়ে যায় তবুও আপনারা আমাকে কথা শোনাচ্ছেন 😒😒।একটু এডজাস্ট করে পরে নিন না প্লিজ কেউ বকা দিয়েন না 🥺🥺🥺🥺)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here