বলব_কবে_ভালোবাসি পর্ব ১১

#বলব_কবে_ভালোবাসি
#পর্ব_১১
#Marufa_Yasmin

হৃদ মিষ্টির বাবার সামনে মিষ্টির হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে হৃদ এর পেছনে আরু আর দীপ্ত হৃদ প্রায় দুই ঘন্টা ধরে মিষ্টির বাবা কে বোঝাতে চাইছে , কিন্তু মিষ্টির বাবা কিছুতেই রাজি হচ্ছে না ।কারণ হৃদ বেকার, কাজ করে না এখনো বাবার টাকায় খাই পড়াশুনা করে।মিষ্টির বাবা এবার হুংকার দিয়ে বলল

” মিষ্টি হৃদ এর হাত ছাড়।আর যা তৈরি হয়ে নে। বরযাত্রী চলে আসবে। ”

” কিছুতেই নয় বাবা আমি হৃদ কে ভালোবাসি অন্য কাউকে আমি বিয়ে করতে পারবো না।দরকার হলে আমি সুইসাইড করব। ”

নিমেষে হৃদ এর বুকটা কেঁপে উঠল।হৃদ আরো শক্ত করে মিষ্টির হাতটা ধরে বলল

” চুপ এইসব আর বলবি না। তোকে হারাতে চাই না। ”

মিষ্টির বাবা রেগে বলল
” তাহলে এটাই তোর শেষ সিদ্ধান্ত! বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে আজ থেকে তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ”

মিষ্টি হৃদ এর হাতটা শক্ত করে ধরে বেরিয়ে গেলো হৃদ আটকানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু মিষ্টি কোনো কথায় শুনছে না।
আরু আর দীপ্ত ও বেরিয়ে গেল।

___________
দীপ্ত ড্রাইভ করছে আর আরু দীপ্তর পাশে বসে আছে।হৃদ আর মিষ্টি পেছনের সিটে।দীপ্ত গাড়িটাকে দক্ষিণেরশ্বর কালি মন্দির গিয়ে থামলো। আরু মিষ্টি কে পার্লার থেকে সাজিয়ে একেবারে এখানে নিয়ে এসেছে।দরকারী জিনিস পত্র সব গাড়ি থেকে নিয়ে চারজন মন্দিরে ঢুকল।দীপ্ত ঠাকুর মশাই এর সাথে কথা বলে নিল।
সব নিয়ম কানুন মেনে ওদের বিয়েটা সম্পূর্ণ হল।

বিয়েটা শেষ হতেই দীপ্ত আর আরু হৃদয়ের এর বাড়িতে ওদের জন্য কে পৌছে দেয়।আরু আর দীপ্ত চলে যায় হৃদ থাকতে বললেও থাকল না ।

হৃদ বাড়ির কলিং বেল চাপতেই হৃদ এর মা দরজাটা খুলে দিল।খুব টেনশনে ছিলেন ছেলেকে নিয়ে।অনেকটা রাত ও হয়ে গেছে।দরজা খুলে হৃদ আর মিষ্টির অবস্থা দেখে উনি প্রচন্ড অবাক হয়ে যায়।হা করে তাকিয়ে থেকে বলল

” একি করেছিস তোরা? হৃদ এসব কি ? ”

” মা আগে ভেতরে আসতে দাও বলছি ।”

” না তুই আগে বল। ”

হৃদ বাধ্য হয়ে তার মা কে সবটা বলল হৃদ এর মা সবটা শুনে বলল

” যা হবার হয়ে গেছে।এখন কি করার দাঁড়া তোরা আমি আসছি ।কই গো তুমি বাইরে এসো দেখো।”

হৃদ এর বাবা রুম থেকে ছুটে এসে দেখে হৃদ বিয়ে করে বউ এনেছে।হৃদের বাবা খুশিতে গদগদ করতে করতে বলল

” সাব্বাস এই না হলে আমার ছেলে।”

হৃদ হা করে তাকিয়ে আছে ওর বাবার দিকে।ওর বাবা হৃদ এর দিকে তাকিয়ে বলল

” কি ভাবছিস আমি তোকে সাপোর্ট করছি কেনো? আমি জানতাম মিষ্টি তোকে ভালোবাসে মিষ্টির সাথে কথাও হতো ফোনে ও কান্না করতো।কিন্তু তুই ভালোবাসিস না বলে কিছু বলতে পারতাম না কিন্তু বিয়ের জন্য আমি কিছু জানতাম না ”

” এই সরো সরো আমার ছেলে বউ কে বরণ করতে দাও তো সরো ।”

হৃদ এর মা ভেতর থেকে বরণ ডালা নিয়ে এসে মিষ্টি কে বরণ করে ঘরে তুলল।আজ ওদের কাল
রাত্রি তাই মিষ্টি হৃদ এর মায়ের সাথে থাকবে ।

___________________

অন্য দিকে
আরু আর দীপ্ত বাড়ি ঢুকে।আরু রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরে।দীপ্ত আরু কে বিছানা থেকে তুলে টেনে বলল

” ফ্রেশ হয়ে পরতে বসো। ”

” ঘুম পাচ্ছে আমি পারবো না পরতে। ”

” চুপচাপ যাও। ফ্রেশ হয়ে এসো। ”

” বলছি তো আমার ঘুম আসছে। ”

” পরাটা কে করবে আমি? ”

” হুম করে দিন না । ”

” শয়তান মেয়ে একটা ।”

” জেনেই তো বিয়ে করেছেন! ”

” তোমার ভুত আজ ছাড়াছি দাঁড়াও। ”

দীপ্ত টেবিল থেকে স্কেল নিয়ে আরুর দিকে এগিয়ে এলে আরু রুমের মধ্যে দৌড়াতে লাগে দীপ্ত ও পিছু পিছু দৌড়ুচ্ছে হঠাত দীপ্তর পায়ে লেগে আরুর শাড়ি টা বুক থেকে খুলে যায় আরুর সেই দিকে খেয়াল নেয় সে ছুটে যাচছে।হঠাত দীপ্ত আরু কে ধরে ফেলে।আরু একভাবে দীপ্তর দিকে তাকিয়ে আছে।দীপ্ত বাঁকা হেসে বলল

” এবার কোথায় পালাবে হ্যা ।”

আরু মুখটা ঘুরিয়ে নেয়।চোখটা বন্ধ করে বলল
” হাতে লাগছে ছাড়ুন। ”

আরুর কথায় দীপ্ত ঘোরের মধ্যে ডুবে একভাবে আরু দিকে তাকিয়ে আছে।আরু চোখটা খুলে আস্তে আস্তে বুঝতে পারে তার শাড়ির আঁচল খুলে গেছে।তাড়াতাড়ি করে দীপ্ত কে সরিয়ে আঁচলটা ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে যায়।

তাড়াতাড়ি করে বাথরুমে ফ্রেশ হতে চলে যায়।

দীপ্ত বাথরুমের দরজাটা বাইরে থেকে লাগিয়ে কথায় জেনো বেরিয়ে গেলো।এদিকে আরু চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলো।একঘন্টা পর বাথরুমের দরজা খুলে দিল দীপ্ত আরু বাইরে এসে দীপ্ত কে রাগ দেখাবে বলে যেই না কথা বলতেই যাবে ওমনি ও হা হয়ে যায় পুরো রুম গোলাপে সাজানো।
দীপ্ত এক গুচ্ছ গোলাপ নিয়ে বলল

” ভালোবাসি আরু, তোমার সাথে সারাজীবন থাকতে চাই । তোমার হাতটি ধরতে দেবে আমায়।”

আরু মনে মনে হাসছে আর বলছে
” how romantic আমার বরটা তো পুরো সিনেমার হিরো হে সরস্বতী আমি তোমাকে ভুলে বুঝেছিলাম সরি সরি হ্যা রাগ কোরো না এত রোমান্টিক হিরোর মতো বর দেওয়ার জন্য অনেক অনেক থ্যাংকু সোনা মোনা চাঁদের কোনা মা। আমি স্বপ্ন দেখছি না তো ইশশ আমার ফ্রেন্ডরা শুনলে জ্বলবে। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম এতো ঠিক সেই রকম।দুই তিনটে সেলফি নিয়ে নিই না হলে যদি ওরা বিশ্বাস না করে।”

আরু কে ভাবতে দেখে আর মুচকি মুচকি হাসতে দেখে দীপ্তর মুখটা কালো হয়ে গেলো।আরু টেবিল থেকে ফোনটা নিয়ে কত গুলো ছবি তুলে নিল।দীপ্ত আরুর কান্ডদেখে পুরো অবাক। এটা কি জিনিস যাকে দীপ্ত বিয়ে করে এনেছে।কোনো ইমোশনাল নেয় এর মধ্যে হঠাত রু বলে উঠলো

” আর একবার প্রপোজ করুন। ”’

” অ্যা ?”

” হ্যা করুন ।”

” ভালোবাসি আরু ।”

” এবার আমি বলি হ্যা ভালোবাসি আমি ও ”

দীপ্ত মনে মনে কান্না করে বলল
” ভগবান এই কি জিনিস যা আমার কপালে ফেললে এটাকেই পছন্দ করতে হয়েছিল।এ মেয়ে না অন্য কিছু মঙ্গল গ্রহের প্রাণী। আমি ওকে প্রপোজ করছি কোথায় লজ্জা পাবে তা না ও সেলফি তুলছে আবার ঘুরিয়ে প্রপোজ করতে বলছে মনে হচ্ছে সিনেমা সুটিং করছে। ”

বাকি

( আরু কান্ড দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম 😂। ভাবছি আমি ও এমন করবো 🙈কেমন লাগল জানাবেন )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here