বৈবাহিক চুক্তি পর্ব ৩৫+৩৬

Part 35+36
#রোদে_ভেজা_মেঘ
#লিখাঃ Liza Bhuiyan
#বৈবাহিক_চুক্তি (সিজন ২)
#পর্বঃ৩৫

ইনায়া পিছনে ঘুরে দেখলো তার হবু বর মানে জেইন শেইখ পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখে মুখে পৈশাচিক আনন্দের আভাস।ইনায়া কিছুটা ঘৃণা নিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো, একটা মানুষ কতোটা জঘন্য হলে দুটো মেয়ের জীবন নিয়ে খেলতে পারে!
ইনায়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ওর হাত চেপে ধরে সিঁড়ি দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো কিন্তু ইনায়ার বাবা বাঁধা দিলো,ইনায়ার আরেকহাত ধরে বললো

“মিস্টার শেইখ হ্যাভ সাম রেস্পেক্ট,যা বলার আমাদের সামনে বলুন। ওকে অন্যকোথাও নেয়ার প্রয়োজন নেই”

জেইন ইনায়ার বাবার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো তারপর ঠোঁটের কোনায় কিছুটা হাসির রেখা ফুটিয়ে বললো

“আরে উড বি ফাদার, হোয়াই সো সিরিয়াস?আমি জাস্ট কথা বলার জন্যই নিয়ে যাচ্ছি অন্য কিছু করবো না নিশ্চিন্তে থাকুন। তাছাড়া কাপলদের মধ্যকার কথা আপনাদের শুনা কি ঠিক বলুন?”

ইনায়ার হাত ছেড়ে কিছুটা জোর করে টেনেই ইনায়াকে নিয়ে গেলো সেখান থেকে, ইনান অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। ওর হাতে কিছু করার নেই, পুর্বে ওর পাওয়ার বেশি ছিলো সাথে অনেকের সাথে হাত ছিলো তাই ও অনেক কিছু করতে পারতো কিন্তু এখন তার কিছুই নেই ওর কাছে। সায়ান আর ও নিজেদের মধ্যে ডিসকাস করেই এখানে এসে নতুন করে সব করেছে তাও নতুন পরিচয়ে। এখানকার মানুষ ওদের এখন আর বিজনেস টাইকুন হিসেবে চিনে আর মাফিয়া কিং হিসেবে।ওরা খুব স্বাভাবিক আর দশটা পরিবারের মতো ছিলো এখানে কিন্তু ওর সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে ইনায়াকে লন্ডনে পাঠিয়ে। এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে সামুর কথা শুনা খুব দরকার ছিলো তাহলে হয়তো আজ ওদের এই পরিস্থির সম্মুখীন হতে হতো না! ইনান ধপ করে সোফায় বসে পড়লো, ওর মাথায় কোন কাজ করছেনা। এই মুহুর্তে কি করা উচিৎ ও বুঝতে পারছেনা। সামু ওর কাঁধে হাত রেখে ফিসফিসিয়ে বললো

“আমাদের এই ব্যাপারটা সায়ান ভাইকে জানানো উচিৎ নয়কি?তাছাড়া রুহান হয়তো কিছু করতে পারবে!”

ইনান কিছু না বলে আশেপাশে চোখ বুলালো, তারপর সামুর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর সামু বিষয়টি বুঝতে পেরে চুপ করে রইলো। ওদের প্রত্যকটা গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে এমনকি ওদের ফোনের সমস্ত কিছু ওদের অধীনে, চাইলেও কিছু করা সম্ভব নয়। সেদিন ইনান সায়ানকে হিন্ট দিতে চেয়েছিলো কিন্তু পারেনি, ও জানে ওর কথা শুনে সায়ান কিছুটা সন্দেহ করেছে তাই এখন শুধুমাত্র সায়ানের পদক্ষেপের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই ওর!

এদিকে জেইন ইনায়াকে ওর ঘর নিয়ে এসে দরজা লক করে দিলো, ইনায়া কিছুনা বলে চুপচাপ বিছানায় গিয়ে বসলো, ভয়ে জড়োশড় হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই ওর।

~~বর্তমান ~~

ইনায়াকে জড়োশড় হয়ে বসে থাকতে দেখে জেইন শেইখ বিছানার পাশ ঘেষে দাঁড়ালো,চোখে মুখে তার অসম্ভব ক্ষোভ!ইনায়া মাথা নিচু করে বসে রইলো, ওর বিশ্বাস করতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে যে একসময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি ওকে বাঁচিয়েছিল, নিজ দায়িত্বে ওকে হসপিটালে পৌঁছে দিয়েছিলো এমনকি ওকে ওর পার্টসও ফেরত এনে দিয়েছিলো!
কি অদ্ভুত না যেই মানুষটিকে একজন ভালো মানুষ মনে হয়েছিলো সে আসলে ভালোমানুষির মুখোশ পরে থাকা গিরগিটি। আসলে কেউ ঠিকই বলে “ডোন্ট জাজ দ্যা বুক উইথ ইটস কভার” কারণ বইয়ের ভেতর লুকানো সত্যি কভারে খুজে পাওয়া যায়না!নিরবতা ভেংগে জেইন চোয়াল শক্ত করে বললো,,

“সো হি টাচড ইউ লাস্ট ডে?”

“রুহান আমার হাজবেন্ড তাই এটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয়”

“হাজবেন্ড মাই ফুট! তোমার কি মনে হয় এসব বিয়ে আমি মানি?এসব বিয়ের আমার কাছে কোন ভেল্যু নেই, তোমাকে বিয়েটা করছি শুধুমাত্র তোমার ওই আশিককে বুঝানোর জন্য যে আমি যা চাই তা নিজের নামে করে রাখার ক্ষমতা রাখি। তোমাকে প্রথমদিন দেখে একরাতের জন্য হলেও চেয়েছিলাম বাট রাইট নাও আই হ্যাভ চেঞ্জড মাই প্ল্যান। নাও আই নিড ইউ ফর মাই এভ্রি সিংগেল ডে। তাই ওর কাছে তুমি একদিনের জন্য ছিলে আর আমার কাছে প্রতিদিনের জন্য থাকবে।আর যদি এর হেরফের হয় তবে তো জানোই কি হবে! তোমার ওই কাজিনটা তোমার থেকে কোন অংশে কম না তবে আফসোস আমার তোমাকে চাই নাহয়…”

বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো জেইন আর ইনায়া ঘৃণায় চোখ ফিরিয়ে নিলো, একটা মানুষ এতোটা জঘন্য কি করে হতে পারে!দুটো মেয়ের জীবন নিয়ে একসাথে খেলছে।ওতো জানতোইনা যে সায়রার জীবন ওর জন্য সংকটে পড়ে গিয়েছে যদিনা সায়রার এংগেজমেন্ট এর ছবি ওর ফোনে না আসতো, তাইতো সেদিন না চাইতেও রুহানের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে বাধ্য হয়েছিলো। ও খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যদি জেইন ওকে না পায় তবে তার সম্পুর্ণ রাগ ও সায়রার উপর দিয়ে উঠাবে।আর সায়রার ক্ষতি ও কখনোই হতে দিতে পারেনা তাই…হয়তো এতে সবাই ভালো থাকবে!
ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠলো ও, এই মুহুর্তে মরে যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু তার ফল খুব একটা ভালো হবে না আর মৃত্যু কোন কিছুর সমাধান নয়। পৃথিবীতে অনেক ভালোবাসা পুর্ণতা পায়না তবে কি তারা বেঁচে নেই?কেউ কারো জন্য বেঁচে থাকা ছেড়ে দেয়না,শুধুমাত্র আগের মতো বাচতে পারেনা কিন্তু জীবন্ত লাশ হয়ে হলেও বেঁচে থাকে।

“তুমি,আমি হয়তো আমরা হতে পারলাম না রুহান, কিন্তু আমরা বেঁচে থাকবো অন্যকারো তুমি হয়ে”

____________

রুহান বাসায় ফিরে আসতেই বাবাকে চিন্তিত ভংগিতে সোফায় বসে থাকতে দেখলো,বারবার ঘড়ি দেখছে হয়তো কারো অপেক্ষা করছে। রুহান কিছুনা বলে নিঃশব্দে সিঁড়ির দিকে এগুচ্ছিলো কিন্তু বাবার ভারী কন্ঠে থেমে গেলো

“রুহান! দাঁড়াও, কোথায় ছিলে কাল থেকে আর ফোন কেনো অফ আসছিলো? তোমার মা কতো টেনশন করেছিলো জানো?”

“স্যরি বাবাই, আসলে কাল…”

রুহান কথা শেষ করতে পারেনি তার পুর্বেই ওর বাবা হাত উঠিয়ে ওকে থামিয়ে দিয়েছে। তারপর ক্ষীণ কন্ঠে বললো

“বাহির থেকে এসেছো ফ্রেশ হয়ে নাও, তারপর ব্রেকফাস্ট করে আমার রুমে এসো। কথা আছে তোমার সাথে”

রুহানের বাবা কথা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন আর রুহানকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন। রুহান একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললো তারপর সামনে এগিয়ে যেতেই দেখলো সায়রা খুব দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামছে,রুহান সায়রার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো সায়রার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে, ওকি তাহলে কান্না করেছে!কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা নয়?আজকে তো আরাভ ওর সাথে দেখা করতে এসেছে তাহলে?
হ্যাঁ সায়রা যে রুহানের বোন এটা ও আরো তিনদিন পুর্বে আরাভকে জানিয়েছে এমনকি পুরো সবকিছু খুলে বলেছে। বাবা মায়ের সামনে আরাভের ব্যাপারে কিভাবে বলবে ভেবে পাচ্ছিলো না তাই আরাভকে আগে সায়রার সাথে দেখা করতে বলেছে। আজকে সকালে আরাভ মেসেজ করে জানিয়েছে যে ওর সায়রার সাথে কথা হয়েছে আর ও পরশুদিন বাবা মাকে নিয়ে আসতে চায়। তাই রুহান ভেবেছিলো বাসায় ফিরে বাবাকে এই ব্যাপারে জানাবে, যেহেতু বাবা ডেকেছে তাই এই ব্যাপারেও কথা বলা হয়ে যাবে।কিন্তু সায়রার এই অবস্থা দেখে ওর কেমন জেনো লাগলো, আবার ওদের মধ্যে ঝামেলা হয়নি তো?

“সায়রা তোর এই অবস্থা কেনো? চোখ মুখ এই রকম লাল হয়ে আছে!”

“আর বলিস না ভাইয়া,একটু আশেপাশে হাটতে বেরিয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ এই বৃষ্টি!উফফফ আমার বারোটা বেজে গেলো, ঠান্ডা লেগে কি অবস্থা মনে হচ্ছে ~~হাঁচ্ছি..~~

সায়রার হাঁচি দেখে রুহান নাক ছিটকে কিছুটা সরে গেলো তারপর বললো

“বৃষ্টির মধ্যে কি তোকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলো? কোথাও আশ্রয় নিতে পারিস নি? বৃষ্টিতে ভিজে কি কীন লাভ আছে?”

“এতোবছর পর বৃষ্টির ছোয়া পেলাম আর ভিজবোনা!তুই এমন নিরামিষ কেনো বলতো ভাইয়া? আমি বুঝিনা ইনু কি দেখে তোরে পছন্দ করলো! ভাগ্যিস বেচারি বোকাসোকা মানুষ নাহয় তোর কপালে তো জীবনে বউই জুটতো নারে ভাইয়া। আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ইনু বেবির জন্য কষ্ট হচ্ছে। কি আনরোমান্টিক বর!”

সায়রার আফসোস করা দেখে রুহান ভ্রু কুচকে তাকালো, লাইক সিরিয়াসলি? ইনায়া আর বেচারি!নিজের পেছনে চরকার মতো ঘুরাচ্ছে ওকে আবার বেচারি। দেখা হওয়ার পর থেকে একটা দিন শান্তি দেয়নি আর এখন বেচারি হয়ে গেলো। তাহলে ওকে কি বলা উচিৎ ‘কলুর বলদ’।

“তোমার বেচারি বোন আমাকে রাউন্ড রাউন্ড ঘুরাচ্ছে চরকির মতো সে খেয়াল কি আপনার আছে?”

“তো ছেলেদের আর কাজই কি ~~হাঁচ্ছি~~ মেয়েদের পিছনে ঘুরা ছাড়া?”

“মনে হচ্ছে অনেক ঠান্ডা লেগে গেছে যা গিয়ে মসলা চা খা, ভালো লাগবে আর মনে করে ঔষুধ খেয়ে নিস”

“হুম, তুই যা ফ্রেশ হয়ে নে।বাইরের থেকে এসেছিস আর পেটে নিশ্চই কিছু পড়েনি। আমি এলেক্সকে বলছি তোকে খাবার সার্ভ করতে”

রুহান মাথা নেড়ে চলে গেলে নিজের রুমের দিকে, সায়রার সাথে কথা বলে ওর মনে হয়নি যে ওদের এতোবছর পর দেখা হয়েছে বা পরিচয় মাত্র আটদিনের। এটাই হয়তো ফেমিলি!ওকে কতোটা আপন করে নিয়েছে, ওর মনে হচ্ছে যে এতোকাল ওরা এদের সাথেই ছিলো। এক সাথে এজ আ ফেমিলি! ও চেয়েছিলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবকিছু খুলে বলবে কিন্তু সময় পেলো কই?

🌸🌸🌸

রুহান ব্রেকফাস্ট মাত্রই শেষ করলো, তারপর বাবার রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। ওখানে গিয়ে দেখে বাবা বারান্দায় বসে নিউজপেপার দেখছেন। ও নিজের উপস্থিতির জানান দেয়ার গলা পরিষ্কার করে বললো “বাবাই”

রুহানের বাবা মাথা তুলে তাকালো ওর দিকে তারপর নিউজপেপার পাশে রেখে হাতের ইশারায় সামনে থাকা চেয়ারে বসতে বললো।

“রুহান ইনায়াকে নিয়ে তুমি কতোটা সিরিয়াস?”

বাবার এমন প্রশ্নে রুহান কিছুটা ভড়কে গেলো, তারপর নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে সোজাসুজিভাবে বললো

“যতোটা সিরিয়াস থাকলে কিডন্যাপ করে সরাসরি বিয়ে করে ফেলে ঠিক ততোটা সিরিয়াস”

“তুমি ইনায়াকে বিয়ে করে ফেলেছো?”

রুহানের বাবা হাল্কা কেশে জিজ্ঞেস করলো, সে যেনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা তাই আবারো জিজ্ঞেস করলো যাতে সোজাসাপ্টা ভাবে বললো

“হুম প্রায় দশদিন হয়ে গিয়েছে”

কিন্তু এই সোজাসাপ্টা উত্তর রুহানের বাবার ঠিক হজম হলো না, ছেলে তার থেকেও এককদম এগিয়ে! মানে সরাসরি বিয়ে করে ফেলেছে? এতোটা সাহস তো বোধহয় ওরও ছিলো না। এখন রুশিকে ডেকে এনে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে

“তুমি ভুল বলেছো রুশি, তোমার ছেলে আমার সাহসী মতো হয়েছে।ঠিক আমার মতো নয়,আমার থেকেও কয়েককদম এগিয়ে”

নিজের প্রেয়সীকে কিভাবে নিজের কাছে রাখতে হয় তা খুব ভালোভাবে শিখে গেছে।এইজন্যই হয়তো ইনায়ার বিয়ের দিন ছেলেটির সাহস দেখে ও মুগ্ধ হয়েছিলো।ছেলেটির মাঝে নিজেকে খুজে পাচ্ছিলো কোথাও না কোথাও। আসলে এইরকম সাহস সায়ান জামিল খানের রক্তেরই আছে। আই এম প্রাউড অফ ইউ মাই সান!

#পর্বঃ৩৬

“তুমি যে ইনায়াকে বিয়ে করেছো সেটা আমাদের বলোনি কেনো?”

রুহানের বাবা চেয়ারে বসে নির্লিপ্ত ভংগিতে জিজ্ঞেস করলেন, রুহান দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললো

“আমি বলতে চেয়েছিলাম তবে কিছুদিন পর, মাত্র এক সপ্তাহ হলো আমি আমার পরিবারকে ফিরে পেয়েছি তাই চেয়েছিলাম সবকিছু স্বাভাবিক হোক তারপর বলবো তাছাড়া ফুফা আমার উপর কিছুটা ক্ষেপে আছে তাই তাকে রাজি করানোর একটা ব্যাপার ছিলো তাই…”

“ইনান তোমার উপর কিছুটা নয় অনেকটা ক্ষেপে আছে, হয়তো তার জায়াগায় আমি থাকলেও বাবা হিসেবে রেগে যেতাম কিন্তু একটা হিসাব কিছুতেই মিলাতে পারছিনা ও সেই ছেলের সাথেই আবার বিয়ে দিচ্ছে কেনো?”

“সেই ছেলেটি কে বাবাই?আই ইনায়াকে যে বিয়ে করতে চায়!”

“জেইন শেইখ,আমাদের বিজনেস পার্টনার ছিলো সে কিন্তু লোকটিকে কোন ভাবেই আমার সুবিধের মনে হয়নি। প্রথম থেকেই কেমন একটা অস্বাভাবিকতা বিরাজ করেছিলো তার সব কাজে ইনফেক্ট আমিতো এটাই ভেবে পাচ্ছিলাম না যে এতো বিগ কোম্পানি থাকতে হোয়াই ডিড হি কন্টাক্ট আজ?আমি তার সম্পর্কে খোজ নিয়েছি কিন্তু সন্দেহ করার মতো কোন ইনফরমেশন পায়নি বাট এখন সবকিছু জলের মতো পরিষ্কার লাগছে, তার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একটাই উদ্দেশ্য ছিলো ইনায়াকে হাসিল করা আর তাতে সে অলমোস্ট সফল”

“ফুফা আমার উপর রেগে আছে তা সম্পুর্ণ জায়েজ তবে তার শাস্তি ইনুকে কেনো দিচ্ছে?তার তো বুঝা উচিৎ বিষয়টি!”

“বিষয়টি আমিও ভেবে দেখেছি, কালকে সকালে ইনানের ব্যাবহার কেমন যেনো ছিলো! মনে হচ্ছিলো সবকিছু বুঝেও ও নাছোড়বান্দা ছিলো”

নিজের বাবার কথা শুনে চুপ করে বসে রইলো, বুক চিরে বেরিয়ে যাচ্ছে হাজারো দীর্ঘনিশ্বাস। যদি ভালোবাসায় এতো কষ্ট জানা থাকতো তবে কোনদিন ভালোবাসতো না হয়তো। বেলকনির বাইরের মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ, মেঘগুলো একস্থান থেকে অন্যস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে কোথাও থেমে নেই ঠিক বহমান জীবনের মতো!
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর আলতো স্বরে বলে উঠলো

“মাফিয়ারা কি মানুষ নয় বাবাই?তাদের কি ভালোবাসার অধিকার নেই? ইনুর মতো তোমারও কি মনে হয় আমার এই পথ থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ!”

রুহানের বাবা ছেলের দিকে তাকালেন, ছেলের মনের ভেতর হঠাৎ কালো মেঘ জমা হয়েছে তা বেশ বুঝতে পারছে। আসলে ভালোবাসা জিনিসটাই অদ্ভুত, হঠাৎ করে অনেকগুলো খুশি দেয়ার পর দেয় সীমাহীন দুঃখ।ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা ওর নেই, এটলিস্ট নিজের অতীতের কঠিন বাস্তবতা ফেস করার পর তো নাই!আজ ওর পরিবারের সাথে যা হচ্ছে সব ওর অতীতের কারণে হচ্ছে। সেই সময়ে যদি ও একজন নরমাল মানুষ হিসেবে থাকতো আর রুশিকে বিয়ে করতো তবে হয়তো রুহানকে হারাতে হতোনা আর রুহান আজকে সেই পথ বেছে নিতো না যেটার কারণে ও একুশটা বছর ধুকেধুকে মরেছে। বাট দ্বিতীয়বার সেই একই হিস্টোরি রিপিট হতে ও দিবে না, কিছুতেই না,,

“মাফিয়া লাইফ সবচেয়ে এক্সাইটিং লাইফ, যেখানে লাইফ ইজ ফুল অব একশন আর প্রচুর মজার লাইফ। নিজেকে এই পৃথিবীর কিং মনে যেনো সবকিছু পেয়ে গেছে তবে সেটা দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। যখন রাত নেমে আসে তখন বুঝা যায় যে দিনশেষে তুমি কতো একা আর অসহায়। মাথায় বুলিয়ে দেয়ার মতো কোন হাত থাকে না, তিনদিন না খেয়ে থাকলেও কেউ বলার মতো নেই আর না অসুস্থ হলে সেবা করার কেউ আছে। মোটকথা তোমার হাত ধরে চলার মতো কেউ নেই।আর মজার বিষয় কি জানো? মাফিয়া হতে হলে তোমার উইকনেস জিরো থাকতে হবে,তাই কাউকে ভালোবাসা মাফিয়াদের জন্য জঘন্য অপরাধ। এটা না তোমাকে বাঁচতে দিবে না মরতে। তাই যতক্ষণ তোমার কোন উইকনেস নেই ততোক্ষণ তুমি মাফিয়া হতে পারো তবে যদি কাউকে ভালোবাসার ইচ্ছে থাকে, স্বাভাবিক মানুষ হতে চাও তবে এই পথ তোমার জন্য নয়”

একনিঃশ্বাসে সবগুলো কথা বলে রুহানের বাবা কিছুক্ষনের জন্য থামলো তারপর আবার বলা শুরু করলো

“মাফিয়া হওয়া হয়তো দোষের কিছু নয় যতোক্ষণ তুমি ভালো কাজ করো কিন্তু মাফিয়া হয়ে কাউকে ভালোবাসা দোষের কারণ এটার পরিণাম তাকেও ভুগতে হবে। এটা কোন স্বাভাবিক মানুষের জন্য নয় আর না তোমার জন্য। তাই এটা থেকে বেরিয়ে আসাই তোমার জন্য বেটার তবে সেটা সহজ হবে না। তাই বেরিয়ে আসার পুর্বে তাদের সবাইকে শেষ করে দাও যারা পরে তোমাকে শেষ করে দিবে।এটা ছাড়া আর কোন উপায় নেই আর আমি ঠিক এই ভুলই করেছিলাম। ভেবেছিলাম আমি বেরিয়ে গেলে হয়তো আমায় ছেড়ে দিবে কিন্তু ছাড়েনি। আমি জানি বাবা হিসেবে তোমাকে এটা শিক্ষা দেয়া ঠিক নয় তবে বাঁচতে হলে ঠিক এটাই করতে হবে।আর তোমার সাথে ইনায়ার জীবন জড়িত”

রুহান মাথা নাড়লো, বাবার কথাগুলো সঠিক। ওকে বেঁচে থাকতে হলে ওর শত্রুদের শেষ করতে হবে, হি ডাজ নট হ্যাভ আদার অপশন!
রুহানের বাবা কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন, কিছুটা বোধ হচ্ছে তার আদোও এ ব্যাপারে কথা বলা উচিৎ কিনা!তারপর ভাবলো আজ না বললে দ্বিতীয়বার বলার সুযোগ নাও পেতে পারে তাই বলেই ফেললো

“আমি যে মাফিয়া ছিলাম সেটা জানতে তুমি রুহান!”

“হুম বড় আব্বু বলেছে আর এটাও বলেছে যে মাম্মাকে তুমি…”

“ও তোমার বড় আব্বু নয় রুহান! ওর নাম লরেন লিউস যে আমার মস্ত বড় শত্রু! আমাদের থেকে সেই তোমাকে আলাদা করেছিলো ইনফেক্ট এতোগুলা বছর আমরা এটাও জানতাম না যে তুমি বেঁচে আছো”

রুহান মাথা নিচু করে বসে আছে, এই টপিক নিয়ে কথা বলতে কেনো জানি ওর মন সায় দিচ্ছেনা। ও জানে ওর বাবা যা বলছে সব সত্যি কারণ রুহানের বড় আব্বু বলেছিলো যে ওর বাবা ক্ষমতার জন্য ওর মাকে মেরে ফেলেছে এমনকি ওকেও মেরে ফেলতো যদিনা বড় আব্বু ওকে নিয়ে পালিয়ে লন্ডনে না আসতো। তাইতো এতোগুলা বছর শুধু নিজের জন্মদাতা পিতাকে ঘৃণা করে গেছে! তবে সেদিন নিজের মাকে জীবিত থাকতে দেখেই বুঝে গেছে যে ও যা শুনেছে এবং যা ওকে বুঝানো হয়েছে সব মিথ্যে। সত্যিটা অন্যকিছু ছিলো, ও জানেনা কেনো এমনটা করেছে ওর সাথে তবে ওর মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে যে যাকে এতোটা বিশ্বাস করতো সেই আসলে সবকিছুর মুলে ছিলো। একটা কথা কখনোই অস্বীকার করা সম্ভব নয় যে ওর বড় আব্বু ওরফ লরেন লিউস ওকে অনেক ভালোবেসে বড় করেছে তাই হয়তো বিশ্বাস হচ্ছেনা!

ওর এই মুহুর্তে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না, বুকের ভেতরের চিনচিন ব্যাথা তীব্র আকার ধারণ করছে। এতোবড় সত্য মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে! রুহান উঠে দাঁড়ালো চেয়ার থেকে তারপর ‘বাবাই আসছি’ বলে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে পড়লো। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই মাকে সোফায় বসে থাকতে দেখলো তাই ধীর পায়ে মায়ের কাছে এগিয়ে গেলো। হাটু গেড়ে ফ্লোরে বসে মায়ের কোলে মাথা রাখলো, এই মুহুর্তে একটু শান্তি দরকার ওর আর প্রত্যক সন্তানের শান্তির স্থান হচ্ছে তার মায়ের কোল।

রুহানকে এভাবে শান্ত ভাবে বসতে দেখে রুহানের মা কিছুটা হচকিয়ে উঠলো, ছেলে সচারাচর এমন করেনা তাই চিন্তিত গলায় বললো

“রোহু সব ঠিক আছে?শরীর খারাপ লাগছে? ডাক্তারকে আসতে বলবো?”

“কিছু হয়নি মাম্মা, ব্যাস তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমানো মিস করেছি অনেক। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাওতো! আমি একটু ঘুমাবো”

রুহান একলাফে সোফায় উঠে আবার মায়ের কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। রুহানের মাম্মা তা দেখে মুচকি হাসলেন, আসলে সন্তান যতোই বড় হোকনা কেনো বাবা-মায়ের কাছে চিরকাল বাচ্চাই থাকে। ও রুহানের মাথা হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, এই রুহানকে এতোগুলো বছর বড্ড মিস করেছে। আল্লাহের কাছে হাজার শুকরিয়া তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য!
.
.
.
.
.
🌸🌸🌸

ইনায়া আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখছে, দেখছে বললে ঠিক ভুল হবে আয়নায় তাকিয়ে নিজের ভাবনার জগতে হারিয়ে আছে। সেই কতোক্ষণ পুর্বে যে চিরুনি হাত ফসকে পড়ে আছে নিচে তাতে ওর কোন খেয়ালই নেই। ওতো অতীতের স্মৃতি আওড়াতে বড্ড ব্যাস্ত!

~~অতীত~~

রুহানের সাথের ওর সম্পর্কের বয়স ছিলো তখন সাড়ে নয়মাস যখন বাবা প্রথম জানতে পেরেছিলো ওদের সম্পর্কের কথা। এর আগে বাবার ব্যাবহার খুব উদ্ভট ছিলো ওর প্রতি।তখন ভেকেশন ছিলো তাই ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিলো সাথে রুহানও। একদিন সকালে রুহানের সাথে দেখা করে বাসায় ফিরতেই দেখে বাবা গম্ভীর ভাবে সোফায় বসে আছে, ও কাছাকাছি যেতেই ওর সামনে কতোগুলো ছবি ছুড়ে মারলো। ইনায়া কিছুটা ভয় পেলো তারপর সাহস জুগিয়ে ছবি গুলো হাতে নিয়ে দেখলো রুহান আর ওর ঘুরাঘুরির ছবি তাও সাত আটদিনের। এর মানে ওর বাবা সাত আটদিন ধরেই সব জানতো। ইনায়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতেই খুব জোরে থাপ্পড় মারলো ওর গায়ে তারপর শাশিয়ে সাবধান করে দিলো যাতে এই ছেলের সাথে ফারদার মিশতে না দেখে। ইনায়া বাবার এই কঠিন রুপ দেখে অবাক হয়েছিলো খুব,গালে হাত দিয়ে কান্না করেছিলো ঠিক তখনি রুহান গেট দিয়ে ঢুকে আর ইনায়ার দিকে তাকিয়ে পরিস্থিত বোঝার চেষ্টা করেছিলো। তারপর ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বললো

“তুমি গাড়িতে তোমার পার্স ফেলে রেখে এসেছিলে তাই ফেরত দিতে এলাম। তুমি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেনো”

বলেই গাল থেকে হাত সরিয়ে দেখলো যে গাল লাল হয়ে আছে, তা দেখে রুহানের চোয়াল শক্ত করে বলে

“কে মেরেছে তোমায়?স্পিক আপ ডেমেট!”

ইনায়া নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো, রুহান হঠাৎ করে আসবে ভাবতে পারেনি। এখন কি বলবে ও ভেবে পাচ্ছেনা কারণ বাবা আর রুহান দুজনের রাগ সম্পর্কে ও বেশ অবগত। ইনায়ার বাবা হঠাৎ রুহানকে বলে উঠলো

“আমি মেরেছি!আর আমার আমার মেয়ে আমি কেনো মেরেছি তার কৈফিয়ত আমি তোমাকে দিতে যাবো না”

“আংকেল একটা বড় মেয়েকে এভাবে মারা ঠিক নয়, আপনি ওকে বুঝিয়ে বলতে পারেন”

“আমার মেয়ের সাথে কি করবো না করবো তা আমি বুঝবো। ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু টিচ মি”

“আপনার মেয়েকে আমি পছন্দ করি আংকেল তাই আমার বলার অধিকার আছে। প্লিজ ফারদার ওকে মারার সাহস দেখাবেন না কারণ সেটা আমার সহ্য হবে না”

“আমার বাড়ি থেকে তুমি বেরিয়ে যাও, আমার মেয়ের আশেপাশে যাতে তোমাকে না দেখি তাহলে ফল ভালো হবে না বলে দিলাম”

“আপাদত আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু ওর গায়ে যদি একটা টোকাও পড়ে সেটা আমি সহ্য করবো না”

রুহান হাতে থাকা পার্স সোফায় রেখে ইনায়ার কাছে এসে ওর চোখের পানি মুছে দিলো তারপর ইনায়াকে নিজের খেয়াল রাখতে চলে গেলো। সেদিনের পর ইনায়ার বাইরে যাওয়া সম্পুর্ণ নিষেধ ছিলো, রুহানের সাথে বাবার ঝগড়া আগুনে ঘি ঢালার মতো ছিলো। অনেক বুঝিয়েও বাবাকে রাজি করাতে পারেনি তাই ডিপ্রেশনে পড়ে গিয়েছিলো ইনায়া, ওর বাবা হঠাৎ করে ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলে। না রুহানের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলো আর না অন্য কিছু তাই শেষমেশ সুইসাইড এর মতো পদক্ষেপ নিয়ে নেয় কিন্তু ইনায়ার মাম্মা দেখে ফেলায় বেচে যায়। ইনায়া খাটের উপর বসে ছিলো তখন ওর বাবা হঠাৎ ওর রুমে আসে তারপর ওর মুখের দিকে কতোক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে

“ওই দুদিনের ছেলে তোমার কাছে এতোটা ইম্পর্টেন্ট যে তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চাইছিলে?তোমার মনে হচ্ছে আমি তোমার উপর খুব জুলুম করে ফেলেছি তাইনা?কিন্তু মনে রেখো কোন বাবা মাই তার সন্তানের খারাপ চায়না। তোমার এই সম্পর্কের কথা আমি সেই শুরু থেকে হয়তো জানি। মনে আছে তোমার বার্থডে এর দিন তুমি রাত একটায় বাড়ি ফিরেছিলে? আমি সেদিন সব দেখেছি কিন্তু কিছু বলিনি। অপেক্ষায় ছিলাম কবে তুমি নিজ থেকে বলবে কারণ আমার তোমার উপর বিশ্বাস ছিলো তুমি নিজের গন্ডি পেরিয়ে কিছু করবে না। তবে এখন ব্যাপারটা খুব আলাদা, তুমি যাকে পছন্দ করো সে কোন সাধারণ মানুষ নয়। হি ইজ আ ক্রিমিনাল, আমার কাছে শুধু তোমাদের ছবি না বরং এই ছবিগুলোও এসেছে। ও একটা খুনি আর জেনেশুনে কোন খুনির কাছে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিবোনা। তুমি চাইলেও না, তাই যদি আমার এতোকাল বাবা হওয়ার অধিকার থেকে বলছি ওকে ভুলে যাও। যার সাথে বিয়ে ঠিক করেছি সে খারাপ কেউ নয়, তোমাকে রসাতলে ভাসিয়ে দিচ্ছিনা”

বলেই ওর বাবা রুম থেকে বেরিয়ে গেলো, ও বিশ্বাস করেনা এই ছবিগুলো সত্যি।যে মানুষটি ওর এতো খেয়াল রাখে সে এমনটা হতেই পারেনা।এগুলো সব মিথ্যে, সব।
কিন্তু ইনায়ার কিছু করার ছিলো না, বাবার উপরে গিয়ে রুহানকে সিলেক্ট করার ক্ষমতা ওর ছিলো কখনোই না। রুহানকে ছেড়ে যদি বাবার ভালোবাসার দাম দিতে হয় তবে সন্তান হিসেবে তাই করবে। এরপর ও রুহানকে নিজের বিয়ের কার্ড দিয়ে আসে আর বলে ওকে ভুলে যেতে আর তারপর…

~~বর্তমান~~

ইনায়া দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললো, কতকিছু হয়ে গেলো এই কয়েক দিনে! রুহানের সাথে ওর বিয়েও হলো তবে ঠিক ওর কারণেই সব ভেংগে যাচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে সেদিন বাবার কথা শুনে বিয়েতে রাজি না হলেই পারতো হয়তো আজ তারা এই পরিস্থিতে পড়তো। না এতে ওর বাবার দোষ নেই আর না রুহানের। দোষ ওর ভাগ্যের যা ওর সহায় হচ্ছে না আর ওর দরুন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে কেমন জেনো হেলেন হেলেন মনে হচ্ছে যার জন্য ট্রয়নগরী শেষ হয়ে গিয়েছিলো। ইজ শি লাইক হেলেন?

#চলবে
(আজকে সকল অতীত শেষ হয়ে গিয়েছে, এখন শুধু বর্তমান আর ভবিষ্যৎ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here