সুপ্ত অনুভূতি পর্ব ১৭+১৮

#সুপ্ত_অনুভূতি🍂♥️
#পর্ব_১৭
#Writer_Nusrat_Jahan_Sara

পরের দিন 🍁🍁🍁

নিলাঃশুনলাম তোমরা নাকি মালদ্বীপে হানিমুনে যাবে৷
.
আদিলঃহ্যাঁ যাবো তো৷ নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে হানিমুনে তো যেতেই হবে নাকি৷
.
নিলাঃআমিও যাবো৷ অলরেডি আমি টিকিটও কেটে ফেলসি৷
.
সামান্তাঃতুমি কেনো যাবে৷ হানিমুন তো তোমার নয়৷ আমাদের যাওয়ার কথা তুমি বরং পরে তোমার হাসবেন্ড কে নিয়ে যেয়ো৷
.
নিলাঃবেশি বকবক করিসনা৷ তোরা মালদ্বীপে গিয়ে এঞ্জয় করবি আর আমি বিডিতে বসে বসে চিপস খাবো নাকি৷
.
আদিলঃহ্যাঁ সেটাই খেয়ো৷ তবুও তুমি আমাদের সাথে আসবা না৷
.
নিলাঃআরুহি দেখোনা৷ আমি মানছি আমি তোমার সাথে তখন রাগের বশে মিস বিহেভ করে ফেলেছি তার জন্য আ’ম রিয়েলি স্যরি৷ প্লিজ আদিলকে বলো আমাকেও তোমাদের সাথে নিতে৷(ইনোসেন্ট ফেস করে)
.
আরুহিঃসত্যি তো উনাকে নিলে কী এমন হবে নিলা আপু তুমি যাবে আমাদের সাথে৷
.
আদিলঃআরুহি!!!
.
আরুহিঃহ্যাঁ নিলা আপু যাবে৷
.
নিলা কথাটা শুনে খুশি মনে চলে গেলো৷
আদিলঃআরুহি এটা তুই কী করলি৷কেনো ওকে আমাদের সাথে আসতে বললি৷ দেখ ও যদি সেখানে গিয়ে উল্টা পাল্টা কিচ্ছু করে তাহলে সেটার দায়ভার কিন্তু তোকেই ভোগ করতে হবে৷
.
আরুহিঃসেটা মালদ্বীপে গেলেই দেখা যাবে৷
🍁🍁🍁🍁🍁
পরের দিন🏝️🏝️

আমাদের সকালের ফ্লাইট৷ প্লেনে বসে আছি আমরা কাপল আর নিলা৷ জীবনের প্রথম প্লেনে উঠলাম বুক ধুকপুক ধুকপুক করছে৷ আদিলের তেমন ভয় করছেনা উনি অনেকবার প্লেনে উঠেছেন৷ আরেকটু পরেই প্লেন আকাশে উড়াল দিবে৷ সবাই সিট বেল্ট লাগাচ্ছে৷ আদিল নিজেরটা লাগিয়ে আমারটাও লাগিয়ে দিলো৷

প্লেন চলছে তার আপন গতিতে কত সুন্দর জানালা দিয়ে মেঘ দেখা যাচ্ছে৷ গ্লাস না থাকলে সাথে করে এক টুকরো মেঘ নিয়ে যেতাম৷
আদনান ভাইয়া সামান্তাকে জুস খাওয়াচ্ছে৷ যেনো মনে হচ্ছে দুই বছরের বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে হিহি৷
🍁🍁🍁
আমরা মালদ্বীপের যে রিসোর্টে উঠেছি সেটা বীচের কাছেই৷ রিসোর্টটা আসলেই খুব সুন্দর৷ কী সুন্দর চারিদিকে নীল স্বচ্ছ পানি আর পানি৷ আমাদের রুমের সামনে আবার ছোট্ট সুইমিংপুলও আছে৷ রিসোর্টে বাঙালীদের দেখাই যাচ্ছেনা সবাই ফরেইনার আর কী ড্রেস রে ভাভা৷

আদিলঃ পানি দেখা শেষ হয়ে থাকলে এবার ভিতরে চলুন ম্যাডাম৷ কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে তারপর আমরা সবাই বেরুবো সী বিচ দেখার জন্যে৷ এর এখানের চারিপাশ রাত্রে দেখবো৷
🍁🍁🍁
ওয়াও রুমটাতো দেখছি আরও বেশি সুন্দর৷

ফ্রেশ হয়ে বসে রইলাম৷ বেশ কিছুক্ষন পর আদিল খাবার নিয়ে আসলো৷ সব নাম না জানা খাবার৷ চোখেও কোনদিন দেখিনি৷আস্ত আস্ত মাছ ভাজা৷ শামুক আর নুডুলসে্র মতোও কী জেনো আছে৷

আদিলঃএমা এগুলো কী৷
.
এগুলো মালদ্বীপের বিখ্যাত ফিস৷ অর্ধেক কাঁচা করে ভেঁজেছে কিন্তু খেতে সেই৷ অনেক রকমের মশলা দেয় এটাতে যার কারনে এর স্বাদ আরও দ্বিগুন বাড়ে৷একটু খেয়ে দেখ৷
.
আমি এক চামচ মুখে দিয়ে দেখলাম না সত্যিই খাবারটা অনেক টেস্টি৷
আদিলের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসলাম৷
🍁🍁🍁
সামান্তাঃঔ এসব আমি খাবোনা৷ দূরে সরাও আমার খিদে পেয়েছে আমার জন্য ভাত নিয়ে এসো ভাত৷
.
স্যরি জান এখানে ভাত পাওয়া যায়না৷
.
ওয়াট তাহলে কী এই ফরেইনার গুলো এসব মাছ,শামুক, কেঁচো খায় নাকি৷ ওয়াক
.
দেখ সামু এসব শামুক কেঁচো না এটা খেয়ে দেখ খুব মজা৷
.
মজা মাই ফুট৷ এসব তুমিই খাও আমি খাবোনা আমি ভাত চাই
.
নিলাঃসামু পাগলামো করিস কেনো সত্যিরে খাবারটা আমিও প্রথম খাচ্ছি খুব ইয়াম্মি৷
.
আদনান সামান্তার মুখে টিপে ওর মুখে খাবার ঢুকিয়ে দিলো৷ সামান্তা যতক্ষণ না খাবে ততক্ষণ সে এভাবেই মুখ টিপে ধরে রাখবে৷

সামান্তা খাওয়ার পর আদনান ওর মুখ ছাড়লো৷ সামান্তা আদনানের হাত থেকে প্লেট ছো মেরে নিয়ে গপাগপ খেয়ে যাচ্ছে৷
.
আগে বলবে তো খাবারটা কি যে ইয়াম্মি৷ আল্লাহ মন চাইতেছে মালদ্বীপের সব ফিস একসাথে খেয়ে ফেলি৷
.
আদনান ওর দিকে অসহায় দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে৷

কী হয়েছে এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো৷ আমার পেটে ব্যাথা করবে তো৷
.
তুই তিন প্লেট খাবার একসাথে খেয়ে ফেললি আমাকে একটু দিলিনা৷
.
স্যরি গো আমার না খুব খিদে পেয়েছিলো তোমার কথা একটুও স্মরণ ছিলোনা৷
🍁🍁🍁
আদিল আর আরুহি একজন আরেকজনকে খাইয়ে দিচ্ছিলো৷ আদনান কোথা থেকে এসে প্লেটটা নিয়ে নিজে গাপুসগুপুস করে খেতে লাগলো৷ সব খেয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে একটা বড় ঢেকুর তুললো৷

আরুহিঃএটা কী হলো৷
.
আদনানঃকী আর হবে আমার খুদে পেয়েছে তাই খেয়েছি শুধু কী তোরাই খাবি আমি খাবোনা৷
.
আদিলঃনিজে না তিন প্লেট খাবার নিলে ওসবের কী হলো৷
.
আদনানঃ আমি কী শখ করে তোদের খাবার খাইসি নাকি যে খাবারগুলো নিসিলাম সব তোর রাক্ষস বোন খেয়ে ফেলসে আমাকে একটুও দেয়নাই৷
.
আদিলঃখাবার আবার নিয়ে আসলেই তো হতো৷
.
আদনানঃসব নাকি শেষ
🍁🍁🍁
রুমের সামনের সুইমিংপুলে পা ডুবিয়ে বসে আছি৷ কোথা থেকে একটা ফরেইনার দলা চামড়ার একটা মেয়ে এসে পাশে বসে পড়লো৷

হাই ওয়াটস্ ইওর নেম?
.
আরুহি৷
.
ওয়াও নাইস নেম৷ মাই নেম ইজ জ্যাকি৷ বাট ওয়ার আর ইউ ফ্রম?
.
বাংলাদেশ৷ এন্ড ইউ৷
.
ইংল্যান্ড৷
.
ওরে ব্রিটিশ বান্দরনি৷
.
আর ইউ সেয়িং সামথিং?
.
নট৷
.
বাই নাইস টু মিট ইউ৷
🍁🍁🍁
বিকেলে সবাই বীচে এসেছি৷ বীচটা আসলেই খুব সুন্দর৷ অনেক গুলো নারকেল গাছও আছে৷ নেটের দোলনাও আছে৷ সামান্তা সেখানে একবার বসছে তো আরকে বার নামছে তার নাকি ভয় করে৷
আদিল আর আদনান ভাইয়া গেছে ডাব আনার জন্যে৷

নিলাঃআরুহি চলো পানির মধ্যে খানে যাই৷
.
আরুহিঃনা আমি সাতার জানিনা
.
নিলাঃআরে এটা বেশি ডিপ নয়৷ দেখতে পাচ্ছোনা মাছ দেখা যাচ্ছে মাটিও দেখা যাচ্ছে৷ আমি ওতো সাতার জানিনা চলো একসাথে যাই৷

আমি নিলা আপুর সাথে গেলাম৷ একটা জিনিস লক্ষ করছি সে পানির মধ্যে হাটার সময় এক পা আগে রাখছে আরেক পা পিছে৷ বিষয়টা আমার কাছে খটকা লাগলো৷ আমিতো স্বাভাবিকই হাটছি৷ দেখতে দেখতে অনেক গহীনে এসে গেছি৷ পানির মধ্য খানেও দোলনা আছে৷ এসব যে কে এখানে রাখে আল্লাহ মালুম৷
হঠাৎই নিলা আপু আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে পানিতে ফেলে দিলো৷ আমিও কম না উল্টো তার হাত ধরে তাকেই ঘুরিয়ে ফেলে দিলাম৷তারপর চুলে ধরে কয়েকটা নাকানি চুবানি দিয়ে দূরে টেলে দিলাম৷ বজ্জাত মাইয়া আমাকে ফেলতে চাইছিলো৷ পা দিয়ে জায়গাটা চেক করে দেখলাম এখানে আমার পা মাটির নাগাল পাচ্ছেনা মানে জায়গাটা ডিপ৷ শয়তান মাইয়া এই ছিলো ওর আসল উদ্দেশ্য৷তবুও বেটি সাতার কেটে আবার আগের জায়গায় চলে আসলো৷ সেখানে আর না দাঁড়িয়ে একেবারে পাড়ে চলে গেলো৷

আরুহিকে এতো দূরে দেখে আদিল ডাব পাড়ে ফেলেই দৌড়ে আসলো৷

“আরুহি ঠিক আছিস তুই৷
.
হুম৷
.
আমি সব দেখেছি কীভাবে ও তোকে গভীরে ফেলে দিতে চাইছিলো৷ আমি ফার্স্টই তোকে বলেছিলাম যে ওকে নিয়ে আসিস না৷
.
ওতো আমায় ফেলতে পারেনি উল্টো ওকে আমি ফেলে দিয়েছি৷সাথে নাকানি চুবানিও দিয়েছি৷
.
যাইহোক এই দোলনায় উঠবি৷
.
যদি ছিড়ে যায়৷
.
ধুর পাগলী এটা ছিঁড়বে কেনো৷
.
আদিল দোলনায় উঠে আমাকেও উপরে তুলে তার কোলে বসিয়ে দিলো৷ পানির মধ্যখানে বসে আছি আমরা দুজন৷পায়ের নিচ দিয়ে রং বেরংয়ের মাছ সাতার কাটছে৷ অনেকটায় আবার এসে আমাদের পায়ে কিস করছে৷ কী সুন্দর লাগছে৷ মন চাচ্ছে সবকটাকে কোলে তুলে নেই৷
🍁🍁🍁
সামান্তাঃনিলা আপু তুমি দোলনায় উঠো আমি ধাক্কা দিচ্ছি৷
.
নিলাঃআস্তে দিবি কিন্তু৷
.
ওকে৷ নিলা দোলনায় উঠে বসলো৷ সামান্তা দোলনাটা টেনে জোড়ে ধাক্কা মারলো৷ এমন ভাবে মারলো নিলা মুখ থুবরে বালিতে পরে গেলো৷

ঔ সামান্তা তুই আমাকে এভাবে কেনো ধাক্কা মারলি৷ বলেছিলাম না আস্তে দিবি৷
.
এটা রুহিকে পানিতে ফেলার ফল৷
#সুপ্ত_অনুভূতি🍂♥️
#পর্ব_১৮_বোনাস_পার্ট
#Writer_Nusrat_Jahan_Sara

নিলা বালি থেকে উঠে দৌড়ে পানির মধ্যে ঝাপিয়ে পড়লো৷ সারা শরীর তার বালুতে মাখামাখি হয়ে গেছে৷
আদনান আর সামান্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এক ডাব থেকে দুজনে পাইপ দিয়ে ডাবের জল খাচ্ছে৷ খাওয়ার মধ্যেই আদনানের মুঠোফোন বেজে উঠলো

আদনানঃআমার শাশুড়ী মায়ের কল এসে গেছে৷
.
আদনান হানিমুনে গেলে ছবি তুলে তো পাঠালে না৷
.
ঔ আসলে ছবি তোলা হয়নি দুটো তুলেছি৷ দাঁড়াও এই দুটোই পাঠাচ্ছি৷
দুটো ছবিই নিলার৷ একটার মধ্যে আরুহি ওকে নাকানি চুবানি দিচ্ছে আরেকটাতে মুখ থুবরে পড়ে আছে৷

সামান্তাঃশুধু আমরাই মজা নিবো নাকি সবারই মজা নেওয়ার অধিকার আছে হিহি৷
🍁🍁🍁
আরুহি আর আদিল দোলনায় আরও কিছুক্ষণ বসে পাড়ে চলে আসলো৷ সন্ধ্যাও হয়ে গেছে৷ সবাই রিসোর্টে ফিরে গেলো৷

আদিলঃ আরুহি তুই আগে চেঞ্জ করে নে তারপর আমি৷
.
আচ্ছা৷
আরুহি বাথরুমে চলে গেলো৷

“আআআআআআ
.
আরুহির চিৎকার শুনে আদিল দৌড়ে বাথরুমের কাছে চলে গেলো৷

“আরুহি কী হয়েছে তোর৷ ওপেন দ্যা ডুর৷
.
আরুহি দরজা খুলে বেড়িয়ে আসলো৷ কাপড় যেমন তেমন ওই আছে৷
.
একি তুই ড্রেস চেঞ্জ করিসনি৷
.
কীভাবে করবো৷ সব দেখা যায় গ্লাস দিয়ে আমি এখানে কাপড় চেঞ্জ করবোনা প্লিজ৷
.
ধুর এটা দিয়ে দেখা যায় না৷
.
সত্যি
.
পাক্কা৷
🍁🍁🍁
আরুহি চেঞ্জ করে আসার পর আদিল চলে গেলো চেঞ্জ করার জন্য৷ বেড়িয়ে এসে খাটের দিকে একবার তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে ফেললো৷

এই মেয়েটা কে?আর আমার রুমেই বা কী করছে৷ আরুহি কোথায়৷
.
মেয়েটি আদিলকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো৷
.
তুমি এতো হ্যান্ডসাম কেনো?
.
আরুহির কন্ঠ শুনে ঘুরলো আদিল একি এটাতো আমার আরুহি বাট ও এমন ড্রেস পড়েছে কেনো৷
একটা গেঞ্জি আর জিন্সের প্যান্ট গলায় স্কার্ফ পেছানো৷
.
তুই এসব কী পরেছিস৷
.
কেনো সবাই যা পড়ে৷
.
হুম৷
.
তারাতাড়ি রেডি হয়ে নাও আমরা এখন বীচের রাতের দৃশ্য দাড়িঁয়ে দাড়িয়ে দেখবো৷
🍁🍁🍁
সবাই রিসোর্টের পাশে দাঁড়িয়ে বীচ দেখছে৷ জ্যোৎস্নার আলো পরছে পানিতে৷ ঢেউ বালির কাছে আসতেই বালি নীল রং ধারন করছে৷ যেনো মনে হচ্ছে কেউ হীরে এনে রেখেছে এমন ভাবে চিকচিক করছে৷ এখানে সবাই আছে শুধু নিলা ছাড়া৷

সামান্তাঃএকি নিলা আপু কোথায়৷
.
আরুহিঃআমি দেখছি৷
আরুহি নিলার রুমে চেক করলো কিন্তু না সে কোথাও নেই৷ আরুহি হাঁটতে হাঁটতে রিসোর্টে একেবারে শেষ প্রান্তে চলে গেলো৷ ঠিক তখুনি দুটো হাত ওকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিলো৷

আরুহি নিজেকে পানির উপরে রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু সে পারছেনা ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে৷

এতো সময় হয়ে গেলো অথচ আরুহি এখনও আসছেনা দেখে আদিল এবার বেশ চিন্তায় পড়ে গেলো৷

আদিলঃআদনান আরুহি তো এখন আসেনি৷ কোনো বিপদ হয়নি তো ওর৷
.
আদনানঃহ্যাঁ তাইতো৷চলতো গিয়ে দেখি৷
.
আদনান আর আদিল ওকে রুমে না পেয়ে আরেকটু সামনে চলে এলো৷ তখনি ওদের কানে পানিতে সাতার কাটলে যে শব্দটা করে সেরকম শব্দ পৌঁছালো৷
ওরা দৌড়ে সেখানে চলে গেলো৷
গিয়ে দেখলো নিলা হাত তালি দিয়ে হাসতেছে৷
ওরা আর নিলার দিকে না তাকিয়ে আরেকটু সামনে গেলো৷

নিচে তাকাতেই দেখলো কে যেনো পানিতে একেবারে ঘুর্ণিঝড় তুলে ফেলছে৷ আদিলের আর তাকে চিনতে বেশি সময় লাগলোনা৷
সেও ঝাপিয়ে পড়লো পানিতে৷ আরুহিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো কিন্তু সেও তাল সামলাতে পারছেনা পানি অনেক গভীর৷ আদনান দৌড়ে বড় দড়ি এনে পানিতে ফেললো৷ আদিল এক হাত দিয়ে আরুহিকে ধরলো আরেক হাত দিয়ে দড়ি৷আরুহি কোনো রেসপন্স করছেনা পুরো ভর আদিলের উপর ছেড়ে দিছে৷ আদিল অনেক কষ্টে দড়ি ধরে উপরে উঠলো৷

আদনান আরুহিকে কোলে নিয়ে দৌড়ে রুমে চলে গেলো
আরুহিকে চিৎকার করে ডাকছে সামান্তা আর আদনান কিন্তু আরুহির কোনো রেসপন্স নেই৷

আদনানঃরুহি বোন আমার প্লিজ চোখ খোল প্লিজ৷
.
সামান্তাঃরুহি চোখ খুলছিস না কেনো৷ তুই উঠছিস না কেনো৷ আদনান রুহি উঠছেনা কেনো ওকে আমরা হারিয়ে ফেলবো নাতো৷
.
আদনানঃনা আমার রুহির কিচ্ছু হবেনা ওর কিচ্ছু হতে দিবোনা আমি৷

আদনান পাগলের মতো রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো৷ রিসোর্টের সবাইকে জিজ্ঞেস করছে ডক্টর আছে কী না৷ কিন্তু কোন ডক্টর নেই৷ আদনান সুপারি গাছের সাথে হেলান দিয়ে কাঁদতে থাকলো৷ আরুহিকে খুব ভালোবাসে সে৷ চোখের মনি আরুহি৷ যদি আজ আরুহির কিছু হয়ে যায় তাহলে মা বাবার সামনে কীভাবে দাঁড়াবে সে৷ আদনানের চোখ মুখ একদম লাল হয়ে গেছে কাঁদতে কাঁদতে৷ আদনান আরুহির রুমের দিকে তাকিয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছে৷ সে দেখলো আদিল একটা লোককে নিয়ে রুমে ঢুকছে৷ লোকটাকে দেখে আদনানের মনে আশার আলো জাগলো৷ সে দৌড়ে আরুহির রুমে চলে গেলো৷

আদিল লোকটার কথা অনুযায়ী আরুহির পেটে চাপ দিয়ে যাচ্ছে৷ প্রতিটা চাপে আরুহির মুখ দিয়ে পানি বেরুতে লাগলো৷ আদিল এখনও চাপ দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখন আর পানি আসছেনা৷ লোকটি আদিলের কাঁধে হাত রেখে বললো,,
“আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি আর সেখানকার ডক্টর আমি৷আমার সাথে আমার স্ত্রী আর বাচ্চা কাচ্চা এসেছে কেউই সাতার জানেনা তাই আমি সাথে করে অনেকগুলো ইনজেকশন এনেছি যাতে কেউ পানিতে পড়ে গিয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে এই ইনজেকশনটা দিতে পারি৷ আর এই ইনজেকশন দিলে আপনার স্ত্রীরও জ্ঞান আসবে ইনশাআল্লাহ, এখন যদি আপনি বলেন তো আমি পুশ করতে পারি৷
.
আদিলঃহ্যাঁ ডক্টর নিশ্চয়৷
.
লোকটি ইনজেকশন দিয়ে চলে গেলেন আর বলে গেলেন তিন ঘন্টা পর ওর জ্ঞান ফিরবে৷

আদিল এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরুহির দিকে৷ চোখ থেকে অঝোরে পানি পরছে৷ আদনান আর সামান্তারও সেম অবস্থা৷
🍁🍁🍁
প্রায় চার ঘন্টা পর আরুহির জ্ঞান ফিরলো৷ সে কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা৷ গায়ে অনেক জ্বর৷ উঠতে চাইলে আদিল ওকে আবার শুয়ে দিলো আর ঘুমাতে বললো৷

আরুহি চোখ বুজার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো৷
.
আদিলঃসামান্তা ওকে দেখে রাখিস আমি আর আদনান একজনের সাথে দেখা করে আসছি৷
.
আদিল আর আদনান চলে গেলো নিলার রুমে৷নক করার বেশ কিছুক্ষন পর এসে নিলা দরজা খুলে দিলো৷

“আরে তোমরা এতো রাত্রে এখানে কেনো?
আদিল রুমে ঢুকেই নিলার গালে কয়েকটা চড় বসিয়ে দিলো৷

আদিলঃ”আমি প্রমিস করেছিলাম আমি আর কোনো মেয়ের গায়ে হাত তুলবো না কিন্তু তুই আমায় তুলতে বাধ্য করলি৷ আমার কলিজায় হাত দিয়েছিস তুই তোকে আমি ছাড়বোনা৷
আদিল ওকে একের পর এক চড় দিয়েই যাচ্ছে বেচারির ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝরছে৷ আদিল থেমে গেলে আদনানও নিলার গালে চড় বসিয়ে দিলো৷
.
আদনানঃতুই আমার চোখের মনি আমার নিজের বোন তাকে এভাবে মৃত্যুর মুখে টেলে দিলি৷ সামান্যর জন্য রুহি বেঁচে গেলো৷ যদি আমার বোনের আজ কিছু হতো তাহলে এই মালদ্বীপে তোকেই মেরে বালিতে পুতে দিতাম৷ কথাটা বলে আদনান আরও কয়েকটা চড় বসিয়ে দিলো৷
জানিস কখনো কারও গায়ে হাত তুলিনি কিন্তু আজ তুই যা করলি সেটার জন্য তুলতে বাধ্য হলাম৷ আদিল একবার আমর বোনের গায়ে হাত তুলেছিলো ওকে তো অপমান করেছিলামই সাথে সবাই কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিলাম আর সেই জায়গায় তুই আমার বোনকে মারার চেষ্টা করেছিলি৷আমরা পৌছাঁতে আরেকটু দেড়ি করলেই আমার বোন এতক্ষনে,, আদনান আর কিছু বললো না ফুপিয়ে কেঁদে দিলো৷

আদিল নিলার হাত ধরে টেনে বাইরে ছুরে মেরে দরজা লক করে দিলো৷

নিলাঃএকি দরজা বন্ধ করলে কেনো৷?
.
আদিলঃকারন আজ সারা রাত তুই রিসোর্টের বাইরে থাকবি আর সকালে উঠে যাতে তোকে আর এখানে না দেখি তা না হলে একেবারে খুন করে ফেলবো বলে দিলাম৷
.
আদনান আর আদিল চলে গেলো৷ নিলাও আর কোনো উপায় না পেয়ে সুপারি গাছের নিচে চলে গেলো৷
🍁🍁🍁
আদিল রুমে ঢুকতে না ঢুকতেই আদিবের কল তাও অডিও না ভিডিও৷ আদিবের ফোন দেখে আদিল কিছুটা ঘাবড়ে গেলো৷ তাও সে কল রিসিভ করলো৷

আদিবঃআদিল ভাইয়া আমার বোন কোথায় ও নাকি পানিতে পরে গিয়েছিলো৷আমার বোনকে দেখাও প্লিজ ওকে না দেখলে আজ রাতে ঘুমাতে পারবোনা আমি৷
.
আদিল আদিবকে দেখালো৷ আদিব আরুহিকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো৷
.
আদিবঃআচ্ছা রাখছি আমি৷
.
আদিলঃশুন বাড়ির কাউকে এ বিষয়ে বলবি না৷ আমরা বিডিতে ফিরে সবাইকে বিষয়টা বলবো৷
.
আদিবঃআচ্ছা৷
.
আদিল ফোন রেখে সামান্তার দিকে তাকালো৷
“আদিবকে তুই বলেছিস তাইনা৷ ”
.
সামান্তাঃহ্যাঁ আদিব ভাইয়া ফোন করেছিলো আর বলেছিলো রুহির কাছে ফোন দিতে আদিব ভাইয়া রুহির সাথে কথা বলতে চায়৷তাই আমি বাধ্য হয়ে বলে ফেলেছি৷
.
আদিলঃঠিকাছে তোরা এখন শুয়ে পড় যা৷
.
আদনান আর সামান্তা চলে গেলে আদিল দরজা বন্ধ করে আরুহিকে জড়িয়ে ধরে সেও ঘুমিয়ে পড়লো৷

চলবে♥️

[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন৷ আজ বড় বড় দুই পার্ট দিয়েছি একটু তো গঠনমূলক মন্তব্য করুন😒]
চলবে♥️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here