Marriage_With_Benefits part 35+36

#Marriage_With_Benefits
#Part_35
Writer::Sanjida Nahar Shaanj
.
.
হায়।আপনি কত ইন্টেলিজেন্ট!(ডালিয়া)

বুঝতে হবে।(নিহাল ভাব নিয়ে)

আমি ওদের খেয়াল করলাম।কিন্তু এখন ওদের রেখে অন্যদিকে নজর দেয়া জরুরি।

আমার এতো বছরের খাটনি তোমরা এইভাবে শেষ করে দিতে পারো না।
বলেই প্রফেসর পালাতে চাইলো কিন্তু তার শেষ রক্ষা হলো না পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল আর সাথে ইমরানকে ও।

থ্যাংকস।(আয়ুশ অন্যদিকে মুখ করে)

কি বললি শুনতে পেলাম না।একটু জোড়ে বলবি!(আভি টিটকারি দিয়ে)

বললাম। থ্যাংকস (আয়ুশ চিৎকার করে)

আভি আয়ুশ এর গলা জড়িয়ে ধরে
আরে ভাইকে থ্যাংকস বলা কে তোকে শিখিয়েছে?

আভি আর আয়ুশ একজন আরেক জনকে জড়িয়ে ধরলো।আমি,,আরিফ,,নিহাল,,ডালিয়া দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছি আর হাসছি।আজ অনেক বছর পর দুই ভাই একসাথে হলো।
আরিফ আমার মাথায় হাত দিয়ে
থ্যাংকস। ম্যাম।আপনার কারণে এইসব হয়েছে।

ভুল বলেছেন আরিফ।ওদের ভাই ভাইয়ের ভালোবাসার কারণে এইসব সম্ভব হয়েছে।আর বাকিটা আল্লাহ ইচ্ছা।
আমি,,আভি আর আয়ুশ এর দিকে তাকিয়ে আছি।দুই ভাই কি সুন্দর করে খিলখিল করে হাসছে!আমার যে কি ভালো লাগছে!আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া।

ধন্যবাদ। মি:আভি।আর তোমাকেও সরি আয়ুশ।এখন থেকে আমরা এইসব বিষয়ে ভালোকরে খেয়াল রাখবো।(বাকি প্রফেসররা)

ঠিক আছে।স্যার।তাহলে আমরা এখন আসতে পারি?(আভি)

শিওর। প্লীজ।


আমি,,আভি,,আয়ুশ,,নিহাল,, ডালিয়া আর আরিফ এক গাড়িতে বসে আছি।আরিফ ড্রাইভ করছে।আজ সবাই দুই ভাইয়ের মিল হয়েছে বলে সেলিব্রেট করতে যাবো তাই দুপুরের খাবার আয়ুশ আর আভির তরফ থেকে।

সরি ভাই তোকে তখন অবহেলা করেছি বলে!(আভি)

আরে ওইটা বাদ দাও।এখন থেকে আমরা নতুন করে স্টার্ট করবো সব।আর আমিও সরি তখন তোমার মানুষিক অবস্থাটা আমার বুঝা উচিত ছিল।(আয়ুশ)

ব্যাপার না।ওইটা একটু হয়ই।(আভি)

তোমাকেও সরি আস্থা।এতো দিন জ্বালানোর জন্য।(আয়ুশ)

আমি এতো সহজে মাফ করবো না বলে দিলাম।(আমি ভাব নিয়ে)

ভাই কি বলছে ও? (আয়ুশ)

তোদের দেবর ভাবির ব্যাপার তোরা বুঝ গিয়ে!(আভি)

আচ্ছা।আস্থা মহারানী কি চান আপনি?(আয়ুশ)

আমাকে ভাবী বলে ডাকবে।আর যখন আমার আর তোমার ভাইয়ের ঝগড়া হবে তুমি তখন আমার সাইড নিয়ে কথা বলবে।(আমি)

ওইটা আর বলতে। দেবর তোমার সেবায় হাজির ভাবি।(আয়ুশ)

কি মেয়েরে!এখন আমি আর ভাই মিললাম।আর এখনই উনি ওকে উনার সাইডে নিয়ে যাচ্ছে।একে তো রাজনীতিতে নামানো উচিত। বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে।(আভি আমার গলা জড়িয়ে ধরে গাল টেনে টেনে কথা গুলো বললো)

আহ্।আভি লাগছে।আমার গাল গুলো এমনি গুলোমুলু তুমি টেনে আরও গুলোমুলু করে দিচ্ছ।(আমি)

থাক।তাতে কি এই গাল টানার অধিকার আমার আছে।(আভি গাল টানতে টানতে)

আস্থা তোমার জন্য আমার যেই ফিলিংস আছে।সেই ফিলিংস গুলো না বলাই থাক।তোমাকে যখন কলেজে প্রথম দেখেছিলাম।তখনই তোমার প্রতি ভালো লাগা কাছ করছিলো।কিন্তু কখনও তোমাকে বলার সুযোগ হয়ে উঠে নি।ধীরে ধীরে এই ভালো লাগা যে কখন ভালোবাসায় পরিণীত হয়ে গেছিলো আমি বুঝতেই পারিনি।যখন শুনলাম তুমি আমারই বড়ো ভাইয়ের স্ত্রী তখন যেনো বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো কষ্টে।তোমাকে না পাওয়ার কষ্টে।কিন্তু এখন বুঝতে পারছি যার কপালে যে লেখা থাকে তার কপালে সেই আসে।আমার কপালে তুমি নেই।কিন্তু তবুও আমি তোমার জন্য অনেক খুশি।ভাইয়া তোমাকে অনেক ভালোবাসে আর তুমিও ভাইয়াকে অনেক ভালোবাসো।আমি আর তোমাদের সুখের সংসারে ভাঙনের কারণ হতে চাই না।শুধু দোয়া করবো দূর থেকে যাতে তুমি ভালো থাকো।(আয়ুশ আভি আর আস্থার ঝগড়া দেখতে দেখতে)

আয়ুশ হেল্প মি।তোমার ভাই সেই কখন থেকে আমার গাল টেনে যাচ্ছে।(আমি)

ওইটা কিউট কাপল ফাইট আমি কি করবো?(আয়ুশ জিহ্বায় কামড় দিয়ে)

ওরে মীর জাফর দেবর।(আমি)

এখন তোমাকে কে বাঁচাবে?হা হা।(আভি ডেভিল হাসি দিয়ে)

সবাই আমাদের তিন জনের কান্ড হাসতে হাসতে শেষ।

দেখছো ওরা কি সুন্দর কাপল! আই উইশ আমরাও যদি ওদের মত হতাম।(ডালিয়া)

আমরা আমাদের মত কিউট কাপল।(নিহাল)

আমরা কাপল হলাম কবে?(ডালিয়া সন্দেহর দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

তুমিই তো বললে আমরা কাপল!(নিহাল ভ্রু কুঁচকে)

কবে!তুমি আমাকে প্রপোজ করছো?(ডালিয়া রাগী চোখে)

আম,,আম।প্রপোজ করলেই কি কাপল হয়?(নিহাল কাচুমাচু হয়ে)

তো কি করলে হয় শুনি?এখন বলবি তুই?(ডালিয়া রেগে গিয়ে)

আচ্ছা।আচ্ছা।করবো প্রপোজ খুশি তো।(নিহাল কাদো কাদো হয়ে)

অন্যদিকে আমরা নিহাল আর ডালিয়ার কথা শুনে অবাক।

কি হচ্ছে?এই দিক দিয়ে কবে থেকে জল গড়াতে শুরু করলো?(আমি ভ্রু কুঁচকে)

পরেই নিহাল আর ডালিয়া আমাদের ওদের লাভ স্টোরির কথা বললো।আমি শুনে খুব খুশি হলাম।আভিও।

এখন বুঝবি ভাই।বউ কি জিনিস!(আভি)

কি জিনিস মানে?(আমি সন্দেহর দৃষ্টিতে)

আরে কতো আদরের জিনিস এইটাই বলছিলাম।
বলেই আভি আবার আমার গাল ধরে টানতে শুরু করলো।

দূর ছাড়ো তো।(আমি)

আরিফ।গাড়ি সাইডে রাখো।তুমি আর আমি নেমে যাই।এই কাপল গুলো আমাদের সিঙ্গেল মনকে ক্ষত বিক্ষত করে দিতে চাইছে।(আয়ুশ এক বুক হতাশা নিয়ে)

আমরা আয়ুশ এর কথা শুনে হাসতে লাগলাম।

এইভাবে হাসি ঠাট্টা করতে করতে আমরা রেস্তরাঁয় পৌঁছলাম।


অন্যদিকে
আপা তুমি কবে আসবে?(ঈশানি)

কেনো?কি হয়েছে?

তুমি জানো আভি এখানে কি ভাবে আমাকে অপমান করছে?ওকে কবে তুমি শিক্ষা দিবে বলো তো?(ঈশানি)

এতো জটফট করছো কেনো?সময় হলে সবার প্রাপ্য জিনিস সবাই পেয়ে যাবে!

কখন সময় হলে!আভি চৌধূরী কোম্পানি পুরো ভাবে কাবু করলে?ওর বউ তো এখন বাড়িতে হকুম চালাচ্ছে।(ঈশানি)

চালাচ্ছে যখন চালাতে দেও।কয়েকদিনের এই তো কথা।

আপু।প্লিজ।তোমার এই ঠান্ডা মাথায় করা কাজ আমার মাথায় ঢুকে না ওইদিন আস্থাকে মারার কতো ভালো সুযোগ ছিল।আমি তোমাকে আস্থার হানিমুনে যাওয়ার খবর,,ওরা কথা থাকবে কি করবে সব খবর দিলাম।কিন্তু তুমি আস্থাকে মারলেই না।এই তোমার ঠান্ডা মাথার প্ল্যান?(ঈশানি)

আমার ঠান্ডা মাথার প্ল্যানিং এর কারণেই কিন্তু আজ কলি আর জিসান আজ সন্তান হারা।আর তুমিও কিন্তু আদি(আভির বাবা) আর সুমু(আভির মা) থেকে তোমার উপর করা অন্যায়ের বদলা নিতে পেরেছ।আর ওদের আলাদা করতে পেরেছ!তাই আমার প্লানিং নিয়ে কোনো কথা বলবে না।আগে বলো তুলিকে দিয়ে আভিকে যেই এসএমএস তোমাকে পাঠাতে বলেছিলাম ওইটা হয়েছে?

হুম।তোমার কথা মত আমি তুলিকে দিয়ে ওই এসএমএস পাঠিয়েছি।আর তুলিকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছি।(ঈশানি)

খুব ভালো।

আপা।তুমি কবে আসবে দেশে?(ঈশানি)

খুব শীঘ্রই।


আমাদের খাবার দাবার শেষ করে এখন আমরা যে যার যার মতো যার যার জায়গাতে চলে যাবো।নিহাল ভাইয়া ডালিয়াকে দিয়ে আসবে বলে ওকে নিয়ে গেলো।আরিফ অফিসে চলে গেলো এখন আমি,আভি আর আয়ুশ এক জায়গায় যাচ্ছি।কোথায় যাচ্ছি সেটা শুধু আমি জানি ওরা না।
আস্থা।বলো না কোথায় যাবে?(আভি)

হুম।ভাবি বলো না(আয়ুশ)

চুপচাপ ড্রাইভ করো।ঠিক আছে?আমি যেখানে নিয়ে যাচ্ছি সেখানে গেলেই তো দেখতে পারবে।(আমি)

কিন্তু তোমার পার্ট টাইম জব?(আভি)

ওইটা আমি ছেড়ে দিয়েছি।(আমি)

কিন্তু কেনো?(আভি অবাক হয়ে)

একটু পরেই বুঝতে পারবে।(আমি মুচকি হেসে)

আয়ুশ চুপচাপ ড্রাইভ করছে আর আভি কনফিউজ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমাদের গাড়ি একটা হসপিটালে গিয়ে থামলো।
আভি হসপিটাল দেখেই আরো অবাক হয়ে গেলো।
এইটা?(আভি)

হুম।চলো।(আমি আভিকে টানতে টানতে নিয়ে গেলাম)

ভাই এইটা তো,,,(আয়ুশ আভির কাধে হাত রেখে)

হুম।গিয়ে দেখি ও কি করতে চাইছে।(আভি)


হসপিটালের ভিতরে
মিস:আস্থা।সব ফর্মালিটিস পূরণ হয়ে গেছে।(ডক্টর)

কিসের ফর্মালিটিস?(আভি অবাক হয়ে)

আপনার বাবাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার ফর্মালিটিস।(ডক্টর)

বাবাকে নিয়ে যাবো মানে?(আভি অবাক হয়ে)

ডক্টর আপনি যান।বাকি ফর্মালিটিস পূরণ করুন।আর বাবাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।(আমি)

আচ্ছা
বলেই ডক্টর চলে গেলো।

আসুমনি।কি হচ্ছে এইসব?(আভি)

আমি ডক্টরের সাথে কথা বলেছি।উনি বলেছেন বাবার কন্ডিশন আগের থেকে অনেক ভালো।কিন্তু তবুও উনি কোমা থেকে উঠছে না।তো আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আমি কি উনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারি।তখন উনি বললেন উনাকে বাসায় নিয়ে গেলে আরো ভালো হবে। ঘরোয়া পরিবেশে থাকলে উনার সুস্থ হওয়ার চান্স বেশি হবে।আর উনি সব কিছু বুঝতে পারে,,অনুভব করতে পারে,,শুনতে পারে,,দেখতে পারে,,শুধু বলতে পারে না আর চলতে পারে না।তাই আমি ভাবছি আমি স্পেশাল ভাবে উনার খেয়াল রাখবো।উনাকে বাসায় নিয়ে।(আমি)

এই জন্য তুমি তোমার পার্ট টাইম জব ছেড়ে দিয়েছো।যাতে তুমি বাবার খেয়াল রাখতে পারো?(আভি)

হুম।আর আই অ্যাম সরি।তোমাকে না জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে।তুমি রাগ করনি তো।(আমি)

আভি আমাকে জড়িয়ে ধরে
থ্যাংকস।আসুমনি আমাকে ভালোবাসার জন্য।আমাকে ভালোবেসে কাছে আসার জন্য।আমার লাইফে আসার জন্য।আর তুমি তোমার এতো শখের জব শুধু মাত্র বাবার জন্য ছেড়ে দিলে।সত্যিই মেয়েরা মহান।(আভি)

আমি মহান নই আভি।আমি যা করছি তোমার খুশির জন্য।তোমাকে সেই হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।তোমার আর দাদুর মধ্যে সেই যুদ্ধটা বন্ধ করতে।কেনো জানি মনে হচ্ছে বাবা কোমা থেকে উঠলেই সব রহস্য বেরিয়ে আসবে।উনিই পারবেন তোমাকে আর দাদুকে মিলাতে তোমাদের ভুল বুঝাবুঝি ভাঙ্গতে।সেইদিন যখন তুমি আমার উপর দাদুর জন্য চিৎকার করলে তখন আমি সোজা এখানেই এসেছিলাম আরিফের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে। এসেই ডক্টরের সাথে কথা বলি।(আমি মনে মনে)

আই অ্যাম সরি বিরক্ত করছি বলে।কিন্তু এইটা হসপিটাল রোমান্স করার জায়গা না।সো কন্ট্রোল ইউর্সলফ।(আয়ুশ)

আভি আমাকে ছেড়ে দিলো।আমিও নিজেকে সংযত করলাম।

পরেই আমরা বাবাকে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে আসলাম।


বাসায় আমি,আভি আর আয়ুশ বাবাকে নিয়ে তার রুমে চলে গেলাম।বাবাকে দেখার দায়িত্ব শুধু আমি আর মিস সাবিনা নিলাম।আমি যখন ভার্সিটিতে থাকবো তখন বাবাকে মিস:সাবিনা দেখবে।আর বাকি সময় আমি।

কি হচ্ছে কি এখানে?(ঈশানি)

মা।বড়ো বাবাকে হসপিটাল থেকে নিয়ে এসেছি।(আয়ুশ)

তুই নিয়ে এসেছিস?(ঈশানি রাগী চোখে)

নাহ।শুধু আমি না।ভাইয়া আর ভাবীও সাথে এনেছে।আসলে আইডিয়াটা ভাবীর।(আয়ুশ)

ভাইয়া ভাবী?কবে থেকে ও তোর ভাইয়া আর ওই বেয়াদব মেয়ে তো ভাবী হয়ে গেছে?(ঈশানি)

আগে থেকেই ছিলো।এতো দিন পর অনুভব করলাম।(আয়ুশ)

আয়ুশ
বলেই ঈশানি থাপ্পড় দিতে আসলো আয়ুশকে।

তখনই আভি ধরে ফেললো।

কি হলো হাত ধরেছো কেনো?আমি আমার ছেলেকে শাসন করছি।(ঈশানি)

আমার ভাই কোনো ভুল কিছু বলেনি আপনি অযথা ওকে কেনো মারবেন?(আভি)

আমার ছেলে আমি যা খুশি করতে পারি।(ঈশানি)

যখন শাসন করার দরকার ছিল তখন তো করেন নি এখন যখন মানুষ হয়েছে এসেছেন অমানুষ করতে?(আমি)

ঈশানি হেছকা মেরে আভির থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিলো।
সব হয়েছে তোমার জন্য।যতো নষ্টের মূল তুমি।
বলেই চলে গেলো।

আমি সেখানেই দাড়িয়ে আছি।

ভাবী মমের কথায় কিছু মনে করোনা তো।(আয়ুশ)

তোর ভাবী অনেক স্ট্রং এই কিছুতে মন খারাপ করার মানুষই না ও।তাই না আসুমনি।
বলেই আবার গাল টানতে শুরু করলো।

তুমি আবার আমার গাল টানতে শুরু করলে।আমি কিন্তু এখন বাবাকে বলে দিবো।(আমি কাদো কাদো হয়ে)

বলো।বলো।(আভি)

শুরু হয়ে গেছে এদের।তোমরা কন্টিনিউ করো আমি গেলাম।
বলেই আয়ুশ চলে গেলো।

বাবা দেখুন না।আপনার ছেলে খালি আমাকে বিরক্ত করে।(আমি বাবার হুইলচেয়ারের পাশে বসে)

বাবা। দেখো না ওর গাল গুলো।খালি টানতে মন চায় আমি কি করবো বলো?(আভিও চেয়ারে পাশে বসে)

বাবা আপনি তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যান।আমি আপনার কাছে অনেক নালিশ করবো। আপনার শাসন করতে হবে আপনার ছেলেকে।(আমি)

প্লিজ বাবা।উঠো উঠে আমাকে বকা দাও।কেনো তোমার বৌমাকে বিরক্ত করছি!(আভির গলা ধরে আসছে)

আমি আভির কাধে হাত রাখতেই আভি আমার কোলে মাথা রেখে বললো
আসু বাবা আগের মত হবে তো?

হুম। অবশ্যই হবে।

আমি ফ্লোরে বসে আছি।আভি আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।আর আমাদের সামনেই বাবা হুইলচেয়ারে যেনো উনার দুচোখ আমাদেরই দেখছে।উনার চোখে এক প্রশান্তি অনুভব করছে।হয়তো উনার চোখে সেই খুশির ঝলক দেখতে পারছি আমি।হয়তো উনি আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিয়েছেন।তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন বাবা।আমার আভিটা খুব কষ্টে আছে।
আমি হাত বুলাতে বুলাতে দেখি আভি আমার কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছে।একদম বাচ্চাদের মত লাগছে।আমি বাবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলাম।আর সাথে সাথেই বাবার নিস্তব্ধ চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পরলো।মানুষ নাকি অতি খুশিতে কান্না করে বাবাও হয়তো অনেক খুশি।
।#Marriage_With_Benefits
#Part_36
Writer::Sanjida Nahar Shaanj
.
.
আপা।অনেক বড়ো কান্ড হয়ে গেছে।(ঈশানি)

সব সময় তো তোমার জন্য অনেক বড় কান্ডই হয়।এখন আবার কি হয়েছে?

আভি আর ওই মেয়ে আস্থা মিলে আদিকে বাসায় নিয়ে এসেছে।(ঈশানি)

হুম।তা তো জানি।এই নিয়ে তুমি এত্তো চিন্তা করছো কেনো?

কি তুমি জানো?কিন্তু কি করে?(ঈশানি অবাক হয়ে)

তা তোমার না জানলেও চলবে।

আপা।আরেকটা কান্ড হয়ে গেছে।(ঈশানি)

কি হয়ে গেছে!

আয়ুশ এখন ওদের দলে চলে গেছে।আয়ুশ এখন আস্থা আর আভি ছাড়া কিছুই বুঝে না।(ঈশানি)

ওহহ।এইটা একটু টেনশনের কথা।কিন্তু তুমি চিন্তা কর না।আমি জানি কি করতে হবে।আর শুনো বেশি পাকামো করতে যেও না।

আচ্ছা।তাহলে তুমি আসো।
বলেই ঈশানি কল কেটে দিলো।


স্যারর,,,(আরিফ চিৎকার করে কেবিনে ঢুকতে ঢুকতে)

কি হলো? ষাড় এর মত চেচাচ্ছিস কেনো?(দাদু ভ্রু কুঁচকে)

স্যার।একটা দারুন খবর আছে।আস্থা ম্যাম আদি স্যারকে বাসায় নিয়ে গেছে নিজে সুস্থ করবে বলে।(আরিফ এক্সসাইটেড হয়ে)

হুম।মিস সাবিনা আমাকে একটু আগেই ফোন করে জানালো।(দাদু এক গাল হেসে)

আচ্ছা।তাহলে এখন আভি ম্যাম আর আস্থা স্যারকে কেউ আটকাতে পারবে না এক হাওয়া থেকে।(আরিফ)

দাদু চেয়ার থেকে উঠে জানালা দিয়ে ব্যাস্ত নগরীর দিকে তাকিয়ে বললো
আরিফ এক হওয়া খুব সহজ কিন্তু এক থাকাটা খুব কঠিন।ওরা এক হয়ে গেছে কিন্তু এক কি থাকতে পারবে?

আরিফও চিন্তিত মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।


আমি হুইলচেয়ারে বাবার কোলে মাথা রেখে আর আভি আমার কোলে মাথা রেখে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টের পাইনি।আমাদের ঘুম ভাঙ্গে মিস সাবিনার ডাক শুনে।

আস্থা।আস্থা।উঠো।সন্ধ্যা হয়ে গেছে।এখনও ঘুমিয়ে থাকবে?(মিস সাবিনা)

ওহ।হা।অনেকক্ষন হয়ে গেছে তাই না।আভি কোথায়?(আমি উঠে চোখ মুখ কচলাতে কচলাতে)

আভি তোমার কোলে এখনও ঘুমাচ্ছে।দেখো তাকিয়ে!(মিস সাবিনা মুচকি হেসে)

ও।এই মহাশয় উঠো।অনেক দেরী হয়ে গেছে।এমনি।(আমি আভিকে ধাক্কা দিয়ে)

একটু ঘুমাতে দাও না।আসু।(আভি)

ভুলেও না।উঠো।বাবার জন্য খাবার বানাতে হবে না।(আমি)

হ্যা।চলো চলো।
বলেই এক লাগে আভি উঠে কিচেনে চলে গেলো।

এইদিকে কি হলো কিছুই না বুঝে আমি আর মিস সাবিনা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।

আমি বাবাকে নিয়ে কিচেনের দিকে পা বাড়ালাম।বাবার রুম নিচেই যাতে হুইচেয়ার নিয়ে কোনো সমস্যা না হয়।
আমি,মিস সাবিনা আর বাবা গিয়ে দেখি আভি আর আয়ুশ খাবার রান্না করছে।সব সার্ভেন্ট রান্নাঘরের বাহিরে।

মিস সাবিনা এখন খাওয়া কপালে জুটবে তো?(আমি চিন্তিত হয়ে)

চিন্তা করোনা।আভি খুব ভালো রান্না করতে পারে।(মিস সাবিনা)

তাই নাকি?আমার বর এতো কাজের জানতাম না তো!দেখেছেন বাবা আজ আপনার ছেলে আপনার জন্য খাবার বানাচ্ছে।আপনি আজ খুব খুশি তাই না?(আমি হুইলচেয়ারের পাশে বসে)

কিছুক্ষণ পর আভি আর আয়ুশ রান্না করে খাবার নিয়ে খাবার টেবিলে রাখলো।
ঈশানি চাচী নাকি আভির বানানো খাবার খাবে না।তাই মুখ ফুলিয়ে উপরে চলে গেলো।কিন্তু আয়ুশ অনেক অনুরোধ করে নিচে নিয়ে আসলো।সবাই খুব প্রশংসা করলো খাবারের।আমি তো আভির এই রূপ দেখে পুরাই অবাক।
পরেই আমি আর আভি মিলে বাবাকে খাইয়ে দিলাম।বাবার জন্য ভেজিটেবল স্যুপ আর চিকেন সুপ রান্না করলো।বাবা শুধু তরল খাবারই খেতে পারে।

আজ অনেক পরে সবাই হাসি মুখে আছে।যদিও আরশি আর ঈশানি চাচী একটু বেজার তবে একদিন তারাও ঠিক হয়ে যাবে।


কয়েকদিন পর
আভি একজন নার্সকে রেখেছে বাবার ঔষুধের খেয়াল রাখার জন্য।আমি আর মিস সাবিনা দুইজনই ঔষধের এতো কিছু বুঝি না।যদি বাবার ঔষুধ খাওয়ানোর মধ্যে কোনো কিছু ভুল হয়ে যায় তাহলে কি হবে?তাই আভি খুব চিন্তা ভাবনা করে নার্স এনেছে।কিন্তু বাসায় আসার পরও বাবার কোনো ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে না।এই জিনিসটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।আমি নিয়মিত বাবাকে এক্সারসাইজ করাই।প্রতিদিন সকাল বিকাল বাগানে ঘুরতে নিয়ে যাই।সব কিছুর এতো খেয়াল রাখার পরেও কেনো জানি কিছুই হচ্ছে না।
আজ সকালে
আভি?(আমি)

হুম।আভি রেডি হতে হতে।

মা আর বাবা ফিরে এসেছে।আমি গিয়ে একটু মার সাথে দেখা করে আসি।তুমি কি যাবে?(আমি)

না।তুমি যাও।আমারও একটু জরুরি কাজ আছে।আমি ড্রাইভারকে বলছি উনি তোমাকে পৌঁছে দিবে।(আভি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে)

আচ্ছা।তাহলে তুমি এখন যাও।আমার ভার্সিটি কয়েক দিনের জন্য বন্ধ দিয়েছে।তাই তোমার আর আমাকে দিতে আসতে হবে না।(আমি)

ঠিক আছে।নিজের খেয়াল রেখো।
বলেই আভি বেরিয়ে গেলো।

আমি যাওয়ার আগে বাবার রুমে একটু ঘুরে আসতে গেলাম।

বাবা।শুভ সকাল।ঘুম কেমন হয়েছে বলুন তো।সরি আজ আপনাকে নিয়ে সকালে হাঁটতে যেতে পারলাম না।আসলে আজ সকাল থেকে আমার শরীরও কেমন যেনো খারাপ লাগছে।
বলেই রুমের পর্দা টেনে দিলাম।

তোমরা এখনও পর্দা টানো নি কেনো?আর বাবার খাওয়া কি হয়েছে?নাকি আজ আমি নেই বলে ফাঁকি দিচ্ছ।
আমি সার্ভেন্টদের উদ্দেশ্য করে।

না না। ম্যাম।মিস সাবিনা সকালেই স্যারকে খাইয়ে দিয়েছেন।কিন্তু,,,

কিন্তু কি?(আমি)

আসলে এখনও স্যারের ঔষধ খাওয়া হয় নি।

কিহ! সাড়ে দশটা বাজতে চললো আর এখনও বাবা ঔষুধ খাননি।আর তোমরা এখন বলছো!নার্স কোথায়?উনি এখনো আসে নি কেনো?উনার যদি লেট হয় তাহলে তো উনি আমাকেই বলতে পারতো।(আমি)

আমরা কিছুই জানি না। ম্যাম।

আচ্ছা।আমাকে ঔষুধ গুলো দাও তো।আমি জানি বাবা সকালে কি কি ঔষুধ খায়।(আমি)

পরেই একজন আমাকে বাবার ঔষুধ গুলো দিলো।আমি ঔষুধ গুলো খুললাম।সেখানে ঔষুধের কৌটার নতুন প্যাকেট। খুলে বের করতেই দেখলাম ঔষুধটা পিল।দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের না অন্যদেশ থেকে আনা হয়েছে।

আমি বাবাকে ওষুধ খাওয়াতে যাবো তখন কোথা থেকে যেনো নার্সটা এসে পড়লো।

ম্যাম।আপনি কষ্ট করতে যাবেন কেনো আমি আছি তো?(নার্স)

তা আপনার এতো লেট হলো কেনো?(আমি)

সরি ম্যাম।আমার মা অসুস্থ ছিলো তাই আজ একটু লেট হয়ে গেছে।আর হবে না।

আচ্ছা।নিজের মার খেয়াল রাখবেন।আর পরবর্তীতে লেট হলে প্লিজ আগে জানিয়ে দিবেন।(আমি)

ওকে।ম্যাম।

আমি আর কিছু বললাম না বেরিয়ে গেলাম।আমি ড্রাইভারকে নিয়ে খান মেনশনে গেলাম।আমার এই প্রথমবার এখানে আসা।বাবা আমাকে এখানেই আসতে বলেছে।

আমি ভিতরে ঢুকতেই মা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

আমিও উনাকে জড়িয়ে ধরলাম।
মা। এতো এক্সসাইটেড হওয়া তোমার পক্ষে ঠিক না।

আরে বাদ দে।ডক্টর কি বলছে শুনবি?উনি বলছে আমার আর কোনো থেরাপি নিতে হবে না।আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ।(কলি)

তাই নাকি মা। আলহাদুলিল্লাহ এইটা তো খুব খুশির খবর আচ্ছা মা তবুও নিজের খেয়াল না রেখে ছুটোছুটি করলে চলবেনা।(আমি)

এইটাই আমি এতো ক্ষন ধরে তোর মা বুঝাতে চাইছি কিন্তু উনি বুঝতে চায় না।এখন তুই যখন এসেছিস তুইই বুঝা!(বাবা)

কেমন আছো বাবা?
আমি দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।

এইতো মা অনেক ভালো।শুধু তোকে খুব মিস করছি!(বাবা)

আমিও তোমাকে এতো মিস করছি।(আমি)

হয়েছে অনেক বাবা মেয়ের গল্প।এখন চলো ভিতরে যাই।
বলেই মা আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলো।

মা বাবা।বাসায় কি আর কেউ নেই?(আমি)

নাহ।আমি আর তোর বাবাই থাকি!আর কেউ না।(কলি)

তোর মা অনাথ।উনার পালিত মা আমাদের বাসায় কাজ করতো।আমার বাবার খুব বিশ্বস্ত মানুষ ছিলো।আমি যখন বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে আসি।তখন তোর মার দস্যি পানা দেখে প্রেমে পড়ে যাই।তখন আমার বাবা,,, তোর মা আর আমার বিয়ে মেনে নেন নি।আর সেই থেকে আমরা আলাদা থাকি।(বাবা)

ও।(আমি)
আভির মা বাবার কাহিনী ও এমনই শুধু ওদের দাদু মেনে নেওয়ার পরই বাবা আর মা আলাদা হয়ে গেছে।(আমি মনে মনে)

কি হয়েছে মা কি ভাবছিস?(জিসান)

কিছুনা বাবা।(আমি)

অনেক হয়েছে সেই অতীতের কথা।এখন চল কিছু খেয়ে নেয়া যাক।আমি এই প্রথম আমার মেয়ের জন্য রান্না করছি।এখন দেখার পালা ওর পছন্দ হয় নাকি।(মা অনেক এক্সসাইটেড হয়ে)

আমার মার রান্না সব সময় বেস্ট হবে।(আমি)

তাহলে চলো খাবারের দিকে নজর দেয়া যাক।(জিসান)


দুপুরের খাবারের শেষ করে এখন বিকালে আমরা বাগানে বসে আছি পাটি বিছিয়ে।মা বসে আছে আমি মার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছি বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

আসু মা তুই কি আভির সাথে খুশি আছিস?(কলি)

হুম মা।কেনো?(আমি অবাক হয়ে)

না।এমনি জিজ্ঞেস করলাম এই আর কি?(কলি)

ও আচ্ছা।(আমি)

সন্ধ্যার একটু আগেই আমি মা বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।


আমি আসুকে আভির সাথে থাকতে দিবো না।(কলি)

কেনো?তুমি তো দেখলে আসু আভির সাথে কতো সুখে আছে।ওইদিন আরিফের ভিডিও দেখেও তো দেখতে পারলে আভি কি সুন্দর আস্থার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে।ওকে প্রোটেক্ট করছিলো।(জিসান)

আস্থাকে ওর কারণেই তো কথা শুনতে হলো।এইটা তুমি দেখতে পারছো না।ওদের পুরো পরিবারটা এমন। সুমুকেও তো আদি অনেক ভালোবাসত কিন্তু দেখো কি হয়েছে?সুমু এখন কোথায় আমি তাও জানি না বেচেঁ আছে না মরে গেছে তাও জানি না।আর আরমান আঙ্কেল তো তোমাকে আর আমাকে দেখতেই পারে না।আমি সুমু বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম আর আমার কারণেই সুমু আর আদি এক হয়েছিলো।সেই জন্য এখনও উনি আমাকে দোষারোপ করে।আর তুমি,,তুমি তো,,
কলি আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই জিসান ওকে থামিয়ে বললো
কলি পুরনো কথা বাদ দাও।ওইটা ছিলো অতীত।এখন তার কোনো মানেই হয় না।

আমি জানি ওইটা অতীত।কিন্তু অতীতকে ভুলে থাকা যায় না।এক দিন না এক দিন অতীত হানা দিবেই।তোমার কি মনে হয় যখন তুলি আভির জীবনে ফিরে আসবে তখন আভি কি আসুকে ভালোবাসবে?তুমি আর আমি নিজের চোখে দেখেছি আভি আর তুলির সম্পর্ক।আভি যদি আস্থাকে তুলির জায়গাতে বসাই আমি তা কিছুতেই মানবো না।তখন যদি আস্থার কষ্টও হয় আমি ওকে আভি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পিছ পা হবো না।(কলি)

ঠিক আছে।যদি এমন কোনো পরিস্থিতি আসে যে আস্থা ওই বাড়িতে কষ্টে আছে তাহলে আমিও তোমার সাথেই থাকবো চিন্তা করো না।(জিসান)


বাড়িতে ঢুকেই আমি প্রথমে বাবার ঘরে গেলাম কেনো জানি আজ সকাল থেকে মনটা ভালো লাগছে না।

গিয়ে দেখি বাবার এক্সারসাইজ চলছে।

বাহ!বাবা দেখলেন আমাকে বাদ দিয়ে মিস সাবিনা এক্সারসাইজ শুরু করে দিলো।(আমি)

আরে আস্থা আসো।আমি ভাবলাম তোমার হয়তো দেরি হবে তাই আমি শুরু করে দিলাম(মিস সাবিনা)

আচ্ছা।ব্যাপার না।আমিও সাহায্য করি দিন।(আমি)

পরেই আমি মিস সাবিনা আর কিছু সার্ভেন্ট মিলে বাবার এক্সারসাইজ কমপ্লিট করে উনাকে খাইয়ে দিলাম।নার্স ঔষুধ খাইয়ে দিবে তখনই আমি খেয়াল করলাম যেই পিলটা আমি দেখেছিলাম ওইটা সেখানে নেই কিন্ত এখন ক্যাপসুল আছে।কিন্তু আগে তো কোনো ক্যাপসুল ছিলো না।আমি ঔষুধের কৌটা খুলে দেখি তাতে পিল নেই শুধু ক্যাপসুল।
আচ্ছা আমি কি সকালে ভুল দেখলাম।ওইটাতে তো পিল ছিলো এখন তা ক্যাপসুল।কি করে?আমি কি এখন কিছু বলবো?না থাক আগে নিজে শিওর হয়ে নেই।আর এই নার্সের উপর আমার সন্দেহ হচ্ছে।এখন ওকে বললে ও যদি সতর্ক হয়ে যায়।আগে আমাকে খবর নিতে হবে।তারপর দেখি কি হয়?

যে ভাবা সেই কাজ আমি ঔষুধের একটা খালি কৌটা নিলাম।কালকে এইটা নিয়েই আমি ফার্মেসিতে যাবো।


আমার রুমে যেতেই আভি কোথা থেকে এসেই যেনো আমাকে জড়িয়ে ধরলো
আভি।আমাকে ভয় পাইয়ে দিলে ।কি হয়েছে আজ এমন করে জড়িয়ে ধরলে?(আমি)

আসু আমার ব্যবসার কাজে কিছু দিনের জন্য বাহিরে যেতে হবে?(আভি আমার ঘাড়ে মুখ গুজে)

কবে যাবে?(আমি)

আজ ভোরেই বাহিরে যেতে হবে।(আভি)

ও তাই আজ তাড়াতাড়ি এসেছো?(আমি একটু মনমরা হয়ে)

হুম।তোমার সাথে সময় কাটাতে।আমি তোমাকে অনেক মিস করবো।এই প্রথম তোমাকে ছাড়া এতো দুর যাচ্ছি আমি।(আভি গম্ভীর মুখে)

আমি মুখে শুকনো হাসি দিয়ে বললাম
তুমি এতো চিন্তা করছো কেনো? কাজও তো দরকার তাই না?যাও কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো আমি অপেক্ষা করবো।
বলেই আভির কপালে চুমু দিলাম।

আস্থা
বলেই আভি আমার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।


ভোরে,,
আস্থা ঘুমাচ্ছে।এখন ওকে জাগানো ঠিক হবে না।এমনি সারারাত আমার কারণে ঘুমাতে পারেনি।ভালো থেকে আমার আসুমনি।
বলেই ঘুমন্ত আস্থার কপালে চুমু দিয়ে আভি বেরিয়ে গেলো।

আমার ঘুম ভাঙতেই এই প্রথম আমি আভিকে আমার পাশে পেলাম না।আভির মুখটা দেখতে পেলাম না।আজ দিনটাই খারাপ যাবে।আমার খুব খারাপ লাগছে মনটা কেমন জানি ভার হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে আমি বোধহয় আভিকে হারিয়ে ফেললাম?নিজের চোখ বেয়ে আপনাআপনি জল গড়িয়ে পড়ছে।খুব কাদতে ইচ্ছে করছে চিৎকার করে।কেনো জানি কান্না গুলো অযথাই আজ ঝরতে চাইছে।মনে হচ্ছে আভি কে যদি আরেকটু কাছে পেতাম।কিছুক্ষণ কান্না করে ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হয়ে বাবাকে নিয়ে বাগানে গেলাম।
সেই পুকুর পাড়ে বাবা আর আমি বসে আছি।


চলবে,


চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here