More than love পর্ব -১৩

#More_than_love
#মেঘলা_আহমেদ
পর্বসংখ্যা-[১৩]

চারদিকে পিনপতন নীরবতা। রুহি আর সাইমন পা টিপে টিপে সেই নিষিদ্ধ ঘরটির দিকে আগাচ্ছে। বুক ঢিপ ঢিপ করছে রুহির। সাইমন অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে রিয়ে রুহি কে রাজি করিয়েছে। রুহির ভয় করছে। কারন ওই রুমে তার বাবা নিশ্চয়ই কোন সিকিউরিটি ব্যবস্থা করে রেখেছে। নাহলে সাইমন আর সে ঢুকেছে, এটা কি করে জানলো সে? রুহি দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সাইমনের দিকে ঘুরে বলে-

-” আমরা চলো ল্যাবে যাই। এখানে কি আছে দেখার দরকার নেই।

সাইমন বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে বলে-

-” রুহি প্লিজ কাম ডাউন। হতে পারে এখানেই আছে অনেক বড় রহস্য। তুমি দরজা খোলো‌।

রুহি চোখ বন্ধ করে দরজাটা খোলে। কিন্তু দরজা খুলতেই সে অবাক হয়ে যায়। দুটো বক্স আসলেই দেখা যাচ্ছে। আর তার পাশে সাইমনের কথা মত আলোকরশ্মিও আছে। রুহি শুকনো ঢোক গিলে সাইমন কে বলে-

-” কোন কথা বলবে না‌। আর কিছু তে হাত লাগাবে না খবরদার। এখানে প্রচুর সিকিউরিটি আছে। আমার পিছনে এসো। রুহি যথাসম্ভব দুরত্ব রেখে বক্সদুটোর কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বক্সের মধ্যে মানুষ দুটোকে দেখে সে যেন থমকে গেল! বহু কালে বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই মুখ! কিন্তু পেছন থেকেই কে যেন ঝাঁ/পিয়ে পড়লো বক্সগুলোর উপর।

-” মা মা।

সাইমন আর রুহি ছিটকে দূরে সরে গেলো। এর মধ্যেই আলোটা মিলিয়ে গেলো আর বক্সদুটো ও নেই! কিন্তু কি করে সম্ভব‌। রোজা ঢলে পড়লো মেঝেতে। রুহি চোখ বড় বড় করে সেদিকে তাকিয়ে আছে‌। রোজা কি করে তার ঘরে ঢুকলো? আর এখানেই বা ঢুকলো কি করে? সাইমন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে-

-” রুহি! রোজা এখানে কি করে এলো? ও কি এই ল্যাব এর সম্পর্কে জানে?

রুহি চারদিকে তাকিয়ে বলল-

-” চুপ করো চুপ করো। যত দ্রুত সম্ভব রোজা কে নিয়ে এই ঘর থেকে বের হও। ল্যাবে নিয়ে যাও ওকে। আমি উপরের পরিবেশ দেখে আসছি।

সাইমন মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়। সে রোজার কাছে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয়। রুহি দ্রুত উপরে উঠতে থাকে। সিক্রেট দরজা খোলা। সে যখন মাথাটা বের করে তখনি রোদ্দুর এসে পড়ে ঘরের মধ্যে। রোদ্দুর অবাক হয়ে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে-

-” হেই রুহি তুমি ওখানে কি করছো? ওখানে কি আছে? রোজা কোথায়।

রুহি কি করবে বুঝতে পারছে না। সে এতবড় ভূল কি করে করলো। এত বছরের পরিশ্রম সব কি শেষ হয়ে যাবে‌‌? রুহি দ্রুত উপরে উঠে নিজের ঘরের দরজা লক করে। রোদ্দুর একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।

-” রুহি তুমি কোথা থেকে আসলে? রোজা তো তোমার রুমেই আসলো জুয়েলারি নিতে। ও কোথায়?

রুহি রোদ্দুর কে আঙুলের ইশারায় চুপ করতে বলে বলল-

-” হুশ। ভাইয়া কথা বলবেন না প্লিজ! রোজা নিচে আছে।

রোদ্দুরের বুক কাঁ/পছে অজানা আশঙ্কায়। রোজার কোন বিপদ হলো না তো? সে দ্রুত রুহির পাশ কাটিয়ে নিচে নেমে যায়। রুহি বাঁধা দিয়েও আটকাতে পারে‌ না। নিজেকে খুব হেল্পলেস লাগছে। মা কে কত বছর পর দেখলো সে। কোথায় মিলিয়ে গেলো তার মা আবার। সে দ্রুত সেই আংটি টা আর পুরোনো ডায়েরি টা হাতে নেয়। নিচে নেমে পড়ে তাড়াতাড়ি। কিন্তু সেখানে গিয়ে রুহির চক্ষু চড়/কগাছ। রোদ্দুর সাইমনের কলার ধরে। আছে দুজনের মধ্যে যু/দ্ধ লাগবে লাগবে ভাব। রুহি দ্রুত গিয়ে সাইমন কে টেনে নেয়‌। রোদ্দুর রেগে বলে –

-” রুহি সরে যাও। ওই সাইমন কে সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে না আসলে জানতেই পারতাম না। আমি না আসলে আজ রোজার কত বড় ক্ষ/তি হয়ে যেত। ওকে আমি মে/রেই ফেলবো।

রুহি রোদ্দুর কে হাতজোড় করে বলে-

-” প্লিজ ভাইয়া প্লিজ আপনি সাইমন কে কিছু করবেন না‌। ওর কিছু হলে আমার কি হবে। আপনারা আমার কথা শুনুন প্লিজ। সাইমন রোজার ক্ষ/তি করতে চায়নি কখনো। প্লিজ আগে কথা শুনুন।

রোদ্দুর ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ে। রোজার পাশে গিয়ে বসে সে। রুহির দিকে করুন চোখে তাকিয়ে বলে-

-” বোন প্লিজ আমার রোজার কি হয়েছে বলো। ও উঠছে না কেন?

রুহি পানি নিয়ে রোজার পাশে বসে। রোজার চোখে পানির ছিটা দিতেই চোখ পিটপিট করে তাকায় সে। রোজা উঠেই চিৎকার করে বলে-

-” মা মা। আমার মা।

সাইমন রুহির পাশে এসে বসে। তার কাঁধে হাত রেখে ভরসা দেয়। রোদ্দুর জড়িয়ে ধরে রোজা কে। রোজার ছ/টফ/টা/নি তবুও কমেনা‌ সে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে-

-” রুহি রুহি মা কোথায়? তুই দেখেছিস না মা কে? এই তুই জানিস আমার মা কোথায় আছে তাই না? তাড়াতাড়ি মা কে নিয়ে আয়‌।

রুহি রোজার হাত ধরে বলে-

-“‌ শান্ত হও প্লিজ। তোমার মা আছে, আমার মাও আছে। খুঁজতে হবে তাদের।

রোদ্দুর অবাক হয়ে তাকায় রুহির দিকে। রুহির কাধ ঝাঁকিয়ে প্রশ্ন করে-

-” তোমার মা আর রোজার মা মানে? তোমরা তো যমজ বোন। তাহলে তোমার মা আলাদা কি করে হয়?

রুহি উঠে দাঁড়ায়। সবার প্রশ্নাত্মক দৃষ্টি তার দিকে। সে চারটা চেয়ার এনে বলে-

-” বসো সবাই। সব বলছি। কিন্তু আমার কথা তোমাদের বিশ্বাস হবে কি না জানা নেই।

সাইমন বসে বলে –

-” রুহি! তুমি যা করছো ভেবে করছো তো?

রুহি আশ্বাস দিয়ে বলে-

-” চিন্তা করো না। ওরা আমাদের সাহায্য করবে। আমার একার পক্ষে আর সম্ভব না।

সবাই চেয়ারে বসে। রুহি রোজার দিকে তাকিয়ে বলে-

-” বলো কি জানতে চাও?

রোজা উদগ্রীব হয়ে বলে-

-” আমার মা কোথায়?

রুহি নিচের দিকে তাকিয়ে বলে-

-” তোমার মা আর আমার মা ভ্যানিস হয়ে গেছে। একে অপরের মুখোমুখি হওয়াতে‌।

রোদ্দুর অবাক ‘হয়ে জিজ্ঞেস করে-

-” কি হয়েছে ইয়াসমিন আন্টির সাথে আমি জানতে চাই। তুমি পুরোটা বলো।

রুহি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আংটি আর ডায়েরি টা বের করে। আংটি টা সবাইকে দেখিয়ে বলে-

-” এই আংটির জন্য সব হয়েছে। রোজার মা এটা কোথায় পেয়েছিল জানিনা। আর এই ডায়েরি এটাতে অনেক তথ্য আছে। টাইম ট্রাভেল, টাইম মেশিন তৈরি, ব্ল্যাক হোলের রহস্য। আরো অনেক কিছু। এই আংটিটা সুপার পাওয়ার সম্পন্ন। রোজার মা টাইম মেশিন আবিষ্কার করে ভবিষ্যত সময়ে পরিভ্রমণ করছিল। কিন্তু তিনি ভুলে এই আংটিটা হাত থেকে খোলে নি। তার জন্য তিনি ব্ল্যাকহোল থেকে অন্য প্যারালাল ইউনিভার্স এ চলে যায়। সেখানে আলফা গ্রহতে আমি থাকতাম। তোমরা তো জানোই প্যারালাল ইউনিভার্স গুলো তে সবকিছুর পারফেক্ট কপি থাকে। সেখানে গিয়ে আমার মা মানে আলফা গ্রহের ইয়াসমিনের সাথে রোজার মা ইয়াসমিনের মুখোমুখি দেখা হয়। এতে তারা ফ্ল্যাশ হয়ে গায়েব হয়ে যায়। আমার বাবা সাইনটিস্ট আয়মান আমাকে পাঠিয়েছে পৃথিবীতে যাতে আমি এই ইউনিভার্স ভ্রমনের সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারি। এবং আমার মা আর রোজার মা কে খুঁজতে পারি। তারপরেই রোজার নবম জন্মদিনে আমি এখানে এসেছি। আমার সাথে সাইমন ও এসেছে। ও আমার ফিয়ন্সে ছিল। তাই নিয়ে এসেছি সাথে করে।

রোদ্দুর সব শুনে বলে-

-” এই জন্যই আমি তোমাকে দেখিনি। তার মানে তুমি অন্য গ্রহের। আর সাইমন ও! কিন্তু রোজা আর তুমি তো মুখোমুখি হয়েছো। কিন্তু তোমরা ভ্যানিশ হওনি কেন?

রুহি মৃদু হেসে বলে-

-” বিশ্বাস করে নিলেন আমার কথা? আমিতো বানিয়ে গল্প ও বলতে পারতাম!

রোদ্দুর শীতল চোখে তাকিয়ে বলে-

-” আমি এইসব নিয়ে অনেক রিসার্চ করেছি। কিন্তু কিছুই বের করতে পারিনি। আর তুমি যে ভেলকি দেখালে তাতে বিশ্বাস না করে যাই কোথায়? তারপর বলো।

রুহি রোজার দিকে তাকিয়ে বলে-

-” আমি হলাম রোজার যমজ বোনের রিপ্লেসমেন্ট। রোজার যমজ বোন ছিল। কিন্তু জন্মের সময়েই সে মা/রা গিয়েছে। তাই রোজা জানেনা। কেউই জানেনা। রোজার বাবা/ মা কাউকে জানতে দেয়নি এটা‌। সবাই জানে ইয়াসমিন আর আয়মানের একটাই মেয়ে। কিন্তু আলফা গ্রহে আমি মা/রা যাইনি আমার বোন রোজার ও কিছু হয়নি। রোজার রিপ্লেসমেন্ট যেহেতু পৃথিবীতে আছে তাই বাবা আমাকে পাঠিয়েছে। আমার রিপ্লেসমেন্ট তো মা/রা গিয়েছে। তাই আমি ভ্যানিশ হইনি।

রোজা সব শুনলো। জলে টুইটুম্বুর চোখজোড়া তুলে বলল-

-” আমার মা আর তোমার মা যদি আগেই ভ্যানিশ হয়ে থাকে, তাহলে তোমাকে নিয়ে যে এসেছিল সে কে?

রুহি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে-

-” ওটা একটা রোবট ছিল! আমার বাবার তৈরি। ওটাকে বাবা কিছু কমান্ড দিয়েই পাঠিয়েছিল। কি কমান্ড দিয়েছিল তা আমি জানিনা। আর রাতে আমি ওই রোবটের সাথেই ছাদে ছিলাম। তারপর ঘুমিয়ে পড়ি। আর পরের ঘটনা তো জানোই। রোবট টা আমার কাছেই আছে। যত্ন করে রেখে দিয়েছি। তবে আমার বাবা এবিষয়ে জানে না। ওটাকে আমি নতুন ভাবে প্রোগ্রামিং করেছি।

রোজা সব শুনে ভেঙে পড়েছে। সে এতদিন মা কে নিয়ে কিসবই না ভাবতো। তার মার তো কোন হদিসই নেই। সে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে-

-” তাহলে আমার মা যে বাবার সাথে বিদেশে যাওয়া নিয়ে ঝগড়া করেছিল তা সব মিথ্যা? ওসব তোমার বাবার একটা ফাঁদ ছিলো শুধু। যাতে আমরা তার হঠাৎ উধাও হওয়া কে স্বাভাবিক ভাবেই নেই। সবাই তো জানে মা ইচ্ছা করে চলে গিয়েছে! আচ্ছা তাহলে আমি একটু আগে যে বক্সদুটো তে দেখলাম আমার মায়ের মত দুজন কে। তারা কারা তাহলে? ওই বক্সগুলো তে কেন তারা? ওগুলো কি?

রুহি রোজার দিকে তাকিয়ে বলে-

-” এগুলো ডে/ল্টা স্লিপিং পট!

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here