হিয়ার মাঝে পর্ব ৩

#হিয়ার_মাঝে
৩.
#WriterঃMousumi_Akter

শখ করে আপুর নূপুর পরাতে আপু আর মা নিরবের সামনে আমাকে মারলো সেই সাথে চোর উপাধি দিয়ে দিলো।আমি নাকি চোর।আপুর নূপুর চুরি করেছি।নিরবের সামনে আমার মাথা হেট হয়ে যাচ্ছিলো।নিরব কি আমাকে চোর ভাবছে সেটা ভেবে অনেক কষ্ট লাগছিলো আমার।একটা বাইরের মানুষ যে কিনা আমাদের অতিথি সে আমাকে চোর ভাবছে এটা ভেবে আমার মরে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিলো।আপুর চড়ে আমার ফর্সা মুখে হাতের আঙুলের দাগ গুলো বসে গেছিলো।আমার পা থেকে আপু নূপুর টা এক টানে খুলে নিলো।আপু বাজ খাই গলায় বলে দিলো মা এ বাড়িতে কি এখন থেকে সব খানে তালা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।আর যায় হোক চোর নিয়ে তো বসবাস করা যায় না।প্রায় আমার টাকা হারিয়ে যায় আমার বিভিন্ন জিনিস হারিয়ে যায় সে গুলা তো হাওয়ায় উড়ে যায় না।আপুর বলা মিথ্যা গুলো শুনে আমার আরো কষ্ট হচ্ছিলো।

আমার নূপুর পরতে খুব ভাল লাগতো কখনো সাহস করে বলতে পারি নি কাউকে।বললে তার ফলাফল স্বরুপ আমার মৃত মাকে গালি গালাজ করা হবে।আপুর অনেক গুলা নূপুর ড্রেসিন টেবিলে পড়ে ছিলো তাই শখ করে পরেছিলাম।

নিরব প্যান্টের পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে পুরা বিষয় টা দেখছিলো।

নিরব আপুকে বলে ছোট বোন একটা নূপুর পরেছে তার জন্য ওর গায়ে হাত তুললে।

আপু চেচিয়ে বললো ওটা আমার সব থেকে প্রিয় জিনিস।আমার প্রিয় জিনিসের ভাগ আমি কাউকে দিতে পছন্দ করি না।আমার প্রিয় জিনসে শুধু আমার ই অধিকার।কেউ হাত দিলে তাকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছা করে।মিথু কোন সাহসে আমার প্রিয় জিনিসে হাত দিয়েছে।

নিরব বললো ছোট বোন ও তো মানুষের প্রিয় হয়।বোনের থেকে প্রিয় কি নূপুর।।।

আপু বলে নিরব ভাই ও আমার সব থেকে প্রিয় আমার বাবার জীবনে ভাগ বসিয়েছে।আমার জীবনে সব থেকে প্রিয় জিনিসে ও অধিকার দেখাই।সেই ছোট বেলা থেকে এভাবে আমার সব জিনিস এ অধিকার দেখাই যেটা আমার একদম পছন্দ নয়।

নিরব আপু কে বলে সামান্য প্রিয় জিনিস নিয়ে যাকে এত বকছো একদিন অধিক প্রিয় জিনিস টা ওর না হয়ে যায়।সেদিন ওর কোনো দোষ থাকবে না। আল্লাহর ইচ্ছায় ওর হয়ে যাবে।

আপু বলে সেদিন ই ওর জীবনের শেষ দিন হবে।

নিরব বলে নবু ও কিন্তু সারাজীবন একা থাকবে না।দেখবে একদিন একটা হিরো ওর জীবনে আসবে যে খুব মৃথিলা পাগল থাকবে সেই মানুষ টা কিন্তু তোমাকে ছেড়ে দিবে না তাই সাবধান।

মা বলে ওঠে যার মায়ের চরিত্র এমন জেনে শুনে কোন ছেলে বিয়ে করবে ওই মেয়েকে।রিক্সাওয়ালার ছেলে ও বিয়ে করবে না।।

নিরব বলে আন্টি নবনিতার যে রেজাল্ট আমার চিন্তা হচ্ছে কোনো রিক্সাওয়ালার ছেলে কি ওকে বিয়ে করবে।

আপু নিরব ভাই কে বলে আপনি এখন ফান করছেন নিরব ভাই। আপনি বুঝতে পারছেন এই মেয়েটা কত বড় সমস্যার।

হুম সমস্যাটাকে এখান থেকে তাড়াতে হবে।।।আমি অশ্রুভেজা নয়নে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

সেদিন সন্ধ্যায় ছাদে দাঁড়িয়ে আছি হঠাত পাশে এসে কেউ কবিতা আবৃতি শুরু করে।

ღ_ღ_ তুমি আছো বলেই আমি যেন স্বপ্নপাখি
সবকিছুতেই উদ্দোম গতি যেন
বেঁচে উঠি প্রতিনিয়ত
তোমার স্পর্শতায়।
তুমি আছো বলেই ভাবনায় কাটে কত রাত
বর্নিল কামনায় চেপে থাকে শরীর
অনুভবে তোমায়।
তুমি আছো বলেই আমি যেন পাহাড়ী নদী
অবিরাম বেয়ে যাই সাগর সঙ্গমে
তোমার উষ্ণতায়।
তুমি আছো বলেই আমার কোন কষ্ট নেই
আমার আছে ভালবাসার অনন্ত আকাশ
ভালবেসে তোমায়।

পাশে তাকিয়ে দেখি নিরব।আমি সন্দিহান ভাবে প্রশ্ন করলাম,,

-জ্বী কাকে বলছেন নিরভ ভাইয়া।

-আমি তোমাকে বলছি।

-আমাকে কেনো?

-কারণ একদিন আমাদের বিয়ে হবে তাই।

-কিহ!আমাদের বিয়ে হবে।

-অবাক হওয়ার কি আছে।

-অবাক হবো না

-নাহ!কেনো হবে একদিন তোমার ও বিয়ে হবে আমার ও বিয়ে হবে। চিরদিন কি দুজন এমন চিরকুমার আর চিরকুমারী থাকবো নাকি।তোমার ও কারো না কারো সাথে বিয়ে হবে আমার ও হবে।তাই বললাম একদিন আমাদের বিয়ে হবে।

-না যেভাবে কবিতা শোনালেন আমি অবাক হয়ে গেছিলাম।

-আমার সবাই কে এমনে অবাক করতে ভাল লাগে কারণ আমি নিজেই অবাক করা মানুষ।

-আচ্ছা আপনার কি বাংলাদেশ ভাল লাগে।

-আগে লাগতো না কিন্তু কিছুদিন আগে থেকে লাগে।

-হঠাত ভাল লাগার কারণ।

-কারণ তো আছেই একটা ইমপরটেন্ট কারণ।

-কি কারণ জানতে পারি।

-যেদিন থেকে শুনেছি আম্মুর বৌমা এ দেশে আছে সেদিন থেকে বাংলাদেশ ভাল লাগে।এ শহরে এসেছি আমার হবু প্রেমিকার টানে।যে শহরে আমার প্রেমিকার বসবাস সে শহর আর দেশ তো ভাল লাগবেই।এক অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করে।

-আপনার তাহলে হবু বউ আছে।

-হুম আছে তো।

-কোথায় আছে?..

-হারিয়ে গিয়েছে খুজছি।আম্মু আমাকে বলে দিয়েছে তার বৌমা এ শহরেই আছে।তার ঠিকানা বর্ননা সব ই দিয়েছে।

-আমাকে দেখাবেন।

-সিওর তোমাকে সবার আগে দেখাবো।এনি ওয়ে তোমার বাটপার বাপ কবে দেশে ফিরছেন।

-আচ্ছা বাবাকে আবার বাটপার বলছেন কেনো?

-বাটপার না হলে কেউ দুইটা বিয়ে করে।ভাল মানুষ কে দেখেছো দুইটা বিয়ে করতে।

-হুম আমার মায়ের চরিত্র হয়তো খারাপ ছিলো তাই।আর তার ই তকমা লেগে গিয়েছে আমার শরীরে চরিত্রহীনার মেয়ে চরিত্রহীনা।

-তুমি তোমার মা সম্পর্কে কত টুকু জানো যে নিজের মাকে চরিত্রহীনা বলছো।

-আমি ছোট বেলা থেকে এটা শুনেই অভ্যস্ত তাই বললাম।

-তোমার মায়ের দোষ থাকলে তো বলতাম তোমার মা বাটপার,বাটপারি টা তোমার বাবা করেছে।যার ভুক্তভোগী তুমি।তোমার নিশপাপ জীবনে এক অভিশাপ আর কলঙ্কের তকমা লাগিয়ে দিয়েছে।এ বাড়িতে এসে যা বোঝার তা বুঝেছি আমি।কি লাইফ লিড করছো তুমি।মা মানে মা।কখনো অন্যর কথাতে নিজের মাকে খারাপ কিছু বলো না।মায়ের আত্মা কষ্ট পাবে।

-আপনার মতো কেউ কোনদিন আমার মায়ের ব্যাপারে এভাবে ভাবে নি।সবাই আমার মাকে খারাপ বলেছে।আজ প্রথম কেউ আমার মায়ের হয়ে কথা বললো।

-একদিন সবার সব ভুল ভেঙে যাবে।তোমাকে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে তাহলে দেখবে কারো অপমানে কিছু যাবে আসবে না।মনে রেখো Success is the best revenge.

জীবনে প্রথম বার আমাকে কেউ এভাবে সাপোর্ট করলো।আমার মনের মাঝে বেশ অনেক খানি হালকা হলো।পৃথিবীতে হয়তো সবাই খারাপ হয় না।কিছু ভাল মানুষ আছেই।

হঠাত নিরব আমাকে চোখ বন্ধ করতে বলে।আমি অবাক হয়ে বললাম কেনো?নিরব ওর এক হাত দিয়ে আমার দু’চোখ বন্ধ করে দিয়ে বলে কেনো কথাটা পছন্দ নয় আমার।আমি যা বলবো সাথে সাথে তাই করবা।বলেই কিছু একটা হাতে দিলো আমার। আমি চোখ বন্ধ করেই আছি।নিরব বলে খোলো চোখ।আমি বললাম আপনি না চোখ অফ রাখতে বলেছেন।হুম বলেছিলাম এখন খোলো।

চোখ খুলে নূপুর টা দেখেই অবাক হয়ে গেলাম।নূপুর টা আমার পছন্দ হলেও অন্যর জিনিস নেওয়া টা ঠিক না।কখনো কিছু পরি নি তবুও কারো টা নেই নি।আমি নিরব কে বললাম রাগ করবেন না প্লিজ আমি এটা নিতে পারবো না।আমার বাবার সব থাকতেও আমি কখনো তেমন কোনো বিলাসিতা পাই নি তাই বলে অন্যর জিনিস নেওয়া টাও শিখি নি।

নিরব বলে উফফফ বুঝলাম আমি তাহলে এ বাসা ছেড়ে চলে যায় আমি যেহেতু তোমাদের কেউ না।

না দেখুন আমি এটা নিলে আপু আর মা আমাকে অনেক বাজে কথা শুনাবে।এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হবে সেটা আমি চাই না।

নিরব আমার কথা থামতেই নবনিতা আপুকে ডাকলো।

নবনিতা আপু এসে বলে কি হয়েছে নিরব ভাইয়া।নিরব বলে ডায়মন্ড এর রিং আর রূপার নূপুর এনেছি।তোমার কোনটা চাই।নবনিতা আপু লাফিয়ে বলে ওঠে ডায়মন্ড রিং চাই আমার।নিরব মুচকি হেসে বলে আমি জানতাম তোমার ডায়মন্ড রিং পছন্দ হবে তাইতো তোমার জন্য ঘুরে ঘুরে কত গুল দোকান থেকে বাছাই করে এটা কিনেছি।নবনিতা আপু ভীষণ খুশি ডায়মন্ড পেয়ে।নিরব এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলে তাহলে এটা তুমি নাও।যদি নূপুর না নাও তাহলে তোমাকেও ডায়মন্ড কিনে দেই কি বলো নবনিতা।

নবনিতা আপু আমার হাতে নূপুর টা দিয়ে বলে শিঘ্রই এটা পরে নে।নিরব কে বলে ভাইয়া মিথুর জন্য রূপা ই ঠিক আছে ও এগুলা ডায়মন্ড এর যোগ্য না।

নিরব কত বুদ্ধি করে নবনিতা আপুকে দিয়ে আমাকে নূপুর টা দিয়ে দিলো।

আচ্ছা উনি এমন করলেন ই বা কেনো?আমাকে নূপুর পরিয়ে উনার কি লাভ।

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here