হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি পর্ব ৫

🌸#হৃদয়ের_প্রতিশ্রুতি🌸

#আদিলা
#পর্বঃ৫

জাবির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হটাৎ ইয়ামিনার নামে এসব কথা শুনে রাগে তার মাথা গরম হয়ে যায়। ইয়ামিনাকে সে নিজের বোনের মত ভালবাসে। তার ব্যাপারে এসব সে কখনও শুনতে পারবে না।।। জাবির সামনে এসে লোক দুটোকে মারতে নিলে তার আগে লোক দুটোকে কেউ থাপ্পড় মেরে বসে। ইয়ামিনা পাশে তাকাতে অবাক হয়ে বলে… ইভান ভাইয়া।।

চোখ জোরা লাল করে ইভান লোক দুটোর কলার ধরে বলে…কি পেয়েছিস কি তোরা তোদের টাকা বাড়ি গাড়ি নাম সুনাম আছে বলে কি আমাদের সম্মান নেই। সাহস কিভাবে হলো আমার বোনের নামে বাজে কথা বলা। তোকে তো আজ আমি…. বলে ইভান মারতে নিলে জাবির এসে থামিয়ে লোক গুলোকে বেদারাম পিটায়।। কারন লোক গুলো বড় মাপের হওয়া ইভান ওদের সাথে পেরে উঠবে না কেসে ফাসিয়ে দিতে পারে তাই জাবির এসে লোক গুলাকে মারে।।
জাবির লোক গুলোর কলার ধরে তারপর বলে….আর কোনো দিনও যেন কোনো মেয়েকে ইভটিচিং না করতে দেখি তাহলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। গার্ডসগুলোকে ইশারা করতে তারা ওই লোকগুলোকে টেনে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।।।

…………..🌸🌸

অনুষ্ঠান শেষ। সব গেস্টরা চলে গেছে।। পুরো বাড়িতে পিন পিন নিরবতা।।। ইভান দাতমুখ চোয়াল শক্ত করে দাড়িয়ে আছে।।একটু আগে কি হয়েছে না হয়েছে সেখানে আমিরের কোনো ভাবান্তরই নেই।। আমির সেখান থেকে চলে যেতে নিলে…. ইভান চিৎকার দিয়ে জাবিরের দিকে তাকিয়ে বলে…আমরা মধ্যবিত্ত বলে কি আমাদের মান সম্মান কি কিছুই নেই। আমির হুইল চেয়ার থেকে হাত সরিয়ে ইভানের দিকে তাকায়।
কি হয়েছে বলুন মি.জাবির আবরার খুব তো বলেছিলেন ইয়ামিনাকে কোনো কষ্ট পেতে দিবেন না বোন হিসেবে নিয়ে যাচ্ছেন সব দায়িত্ব আপনাদের।। ইভান ইয়ামিনার হাত উচু করে ধরে বলে দেখুন আমার বোন তো অনেক সুখে আছে।। যে দোষ আমার বোন কখনো করেই নি তার শাস্তি কেন আমার বোন পাচ্ছে। কেন আমরা মিডেলক্লাস বলে..কেন আমরা কি মানুষ না।। মি জাবির..আপনি ভাল করেই জানের সব দোষ ওই আমির আবরারের। আরে যার নিজেরেই কোনো ঠিক নেই মদ খেয়ে গাড়ি চালায় সে আমার বোনের সম্মান রক্ষা করবে।।। আরে আমার বোন তো সেদিন কোনো দোষ না করেই অপরাধী হয়ে গিয়েছিল। আর এই যে মি. জাবির আজ যে এখানে সুস্থ ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন সেটা আমার বোনের জন্যে নিজের জীবনের চিন্তা না করে আপনাকে বাচিয়ে ছিল।। জাফরা ভাবি এতক্ষন চুপ থাকলে এখন মুখ খুলে। অবাক হয়ে বলে…. মানে

ইয়ামিনা ইভানের হাত ধরে শান্ত করে বলে..থাক না ভাই যা হওয়ার হয়ে গেছে এসব নিয়ে কথা না বললে কি নয়।।ভাই তু….
জাবির ইয়ামিনাকে থামিয়ে দিয়ে জাফরার দিকে তাকিয়ে বলে…হ্যা জাফ আজ হয়তো আমি এখানে তোমার সামনে দাড়িয়ে তার কারন এই মিয়ামিনা।। সেদিন আল্লাহ অশেষ রহমতে আমি মৃত্যুর হাত থেকে বেচে ফিরে ছিলাম উছিলা হিসেবে বলে ইয়ামিনা আমাকে বাচিয়ে ছিল।।

জাফরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে…তার মুখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে সে সবটুকু জানতে চায়।।
জাবির লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলে…সেদিন আমি অফিস থেকে খুব তারাহুড়া করে বের হয়ে পরেছিলাম একটা ডিল নিয়ে খুব ব্যাস্ত ছিলাম তাই আশে পাশে খেয়াল না করে গাড়ির উদ্দেশ্য সামনে হাটা দেই। গাড়ির সামনে আসতে না আসতে একটা গাড়ি বেসামাল ভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসতেই কোথা থেকে কেউ একজন এসে তার সর্বোচ্চ দিয়ে আমাকে ধাক্কা দেয়।। যার কারনে আমার কিছু না হলে ইয়ামিনা গুরুতর একসিডেন্ট করে। আমি কোনো মতে ইয়ামিনা কে ধরে হসপিটালে নিয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়… সেখানে থেকে ইয়ামিনাকে আমি আমার বোনের মর্যাদা দেই। কথাটা বলে জাবির হাফ ছাড়ে..
জাফরার চোখের কোনো পানি।। যে মেয়ে নিজের জীবনের চিন্তা করে একজনকে বাচাতে পারে সে কিছুতেই অন্য কারো জীবন নষ্ট করতে পারেনা।জাফরার আর আরুশির চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পরছে….
আমিরের চোখ এতক্ষন নিচে থাকলে চোখ তুলে ইয়ামিনার দিকে তাকায়।।

জাবির হাত দিয়ে চুল গুলো পিছনে নিয়ে একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে ঘৃনার দৃষ্টিতে আমিরের দিকে তাকিয়ে বলে….ওই মেয়েটার কোনো দোষ ছিল না । আরে তুই তো সেদিন মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলি।। কোনো কিছু সত্যতা না যেনেই ইয়ামিনাকে এত বড় শাস্তি দিয়ে দিলে।।। আরে নিজের ভাল তো কাকও বুঝে তোর চোখে থেকে তুই অন্ধ ছিলি।। তোর রিপোর্টে স্টেট লিখা ছিল তুই সেদিন ড্রাংকড ছিলি।। আর ওই ইশিতা কিভাবে পারে এত টা ইরিস্পনসিবল হতে তুই ড্রাংক জানা স্বত্তে তোকে গাড়ি ড্রাইভ করতে দিয়েছে। তোকে একবারের জন্য না করে নি।।

অতীত….

সেদিন দিনটাই ছিল অন্য রকম ইয়ামিনার খুশির শেষ নেই জেন। আজ দিহানজির সাথে তার বিয়ের তারিক ঠিক হয়েছে।।। আর দুই সপ্তাহের পর তাদের বিয়ে।ভাবতেই অনিশা সারা শরীর যেন নেচে উঠছে।। ইয়ামিনার খুশির আরেকটা বড় কারন হচ্ছে তার ইভান ভাই আজ প্রথম গাড়ি কিনেছে।। ইয়ামিনার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল পুরো ফ্যামিলি মিলে গাড়ি করে লং ড্রাইভ যাবে।।। খুশিতে ইভানকে জড়িয়ে ধরে ইয়ামিনা চোখেমুখে খুশির ঝিলিক।
এই ললিপপ গাড়িটা কিন্তু তোর জন্য কিনেছি কেমন হয়েছে বল…
ইয়ামিনা খুশিতে গদগদ হয়ে বলে…মাশাল্লাহ আমার স্বপ্নের মত হয়েছে ভাই। আমি অনেক খুশি আজকে৷৷

তাহলে চল একটা লং ড্রাইভ দিয়ে আসি… কি বলিস..

বাহ বাহ।। অনিশা নাচতে নাচতে বলে।। একদম!!!! চলো ভাইয়া।।।
ইভান গাড়ি ড্রাইভ করছে আর অনিশার বার বার সিটে উন্ডতে সব জায়গায় হাত দিয়ে বার বার দেখছে ।। একটা সময় কত স্বপ্ন দেখতে নিজের গাড়িতে বসে ঘুরবে।।

ইভান ইয়ামিনার কান্ড দেখে মুখ টিপে হাসছে। কিরে ললিপপ কেমন লাগছে।।
অসাম ভাই আমার কি যে খুশি লাগছে কিভাবে বুঝাবো তোকে।।।
ইভান হেসে কিছু একটা চিন্তা করে বলে…তুই ড্রাইভ করবি…
ইয়ামিনা চোখ বড় বড় করে তাকায়..
আরে ভয় পাচ্ছিস কেন তোর ভাই আছে কি করতে… আজকে তোর এই ইচ্ছাটাও পুরুন করে দিব…
ইয়ামিনা আরও অবাক হয়ে বলে… তুমি কিভাবে জানলে ভাই আমার এই ইচ্ছার কথা।।।
আমি সবই জানি ললিপপ।। ইয়ামিনার গাল টেনে বলে…ইভান গাড়ি থামিয়ে ইয়ামিনাকে ড্রাইভিং সিটে বসিয়ে দিয়ে নিজে ইয়ামিনার পাশে বসে পরে….

ভাই আমার না খুব ভয় হচ্ছে পরে কিছু অঘটন ঘটে গেলে… তোর এত সাধেত গাড়ি।।

আরে আমার ললিপপের থেকে বড় কিছুই না। তোর জন্যই তো গাড়িটা কিনেছি।।ওইখানে দেখ নিচে বলে ইভান ইয়ামিনা কে ভাল ভাবে বুঝিয়ে দেয়….

ইয়ামিনা ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছিল আর ইভান নানা ভাবে ইন্সট্রাকসন দিয়ে যাচ্ছে… হটাৎ এমন একটা ঘটনার জন্য ইয়ামিনা প্রস্তুত ছিল না ওদের গাড়ি সামনে দিয়ে একটা বিড়াল দৌড়ে যায়। হটাৎ এমন হওয়াতে ইয়ামিনা দ্রুত ব্র্যাক কষতে যেয়ে গাড়ির স্প্রীড আরও বারিয়ে দেয়…হটাৎ এমন হবে ইভান বুঝতে পারে নি। আর তখনি সামনে দিয়ে একটা গাড়ি তেরে আসতে থাকে বেশ বেসামাল ভাবে গাড়িটা সামনের দিকে এগোচ্ছে… গাড়িতে ব্যাক্তি দুজন কেউ না ইশিতা আর আমির ছিল…গাড়িটি বেসামাল করে চলার কারনে গাড়িটা আগে থেকে ব্রেক ফেল করে যার কারনে আমির চাওয়া স্বত্তে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না।। ঘটনার দ্রুততাই ইভানে বুঝে উঠতে পারছিল না। ইয়ামিনা ভয়ে গাড়ির স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে ফেলে। ইভান কোনো মতে ইয়ামিনার পায়ের দিকে ঝুকে গাড়ির আ্যাকসিলারেটর পা দিয়ে ব্রেক কষে।।। কিন্তু তার আগে আমিরের গাড়ি সাথে ইভানের গাড়ি সাইডে লেগে আমিরের গাড়ি পথ বেকে গাছের সাথে এত জোরে ধাক্কা খায় যার ফলে গাড়ির অর্ধেক অংক ভেঙে নাজেহাল অবস্থা হয়ে পরে…
ইয়ামিনা আর ইভানও গুরুতর আহত হয়।।।

বর্তমান….🌸

জাবির তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে…তোর গাড়ি ব্রেক ফেল হয়ে গেছিলি তোর অসাবধানতায়। আরে ইয়ামিনার গাড়ির সাথে ধাক্কা না গাললে তুই অন্য কোনো গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে উপরে চলে যেতে কিন্তু আল্লাহ রহমতে বেচে গেছিস।।।। আর অপরাধ না থাকার স্বত্তে একটা নিষ্পাপ মেয়েত জীবন নষ্ট করে দিয়েছিস..

আমির স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। চোখে আবারও ওই দৃশটা ভেসে উঠেছে।খুব কষ্ট হচ্ছে তার। নিজেকে অপরাধী লাগছে। চোখ যেন লাল হয়ে আছে। চোখের কোনে অবাধ্য কিছু জল।।।এক দৃষ্টিতে ইয়ামিনার দিকে তাকিয়ে আছে।। নিজের প্রতিশোধে অন্ধ হয়ে একটা মেয়ের জীবনের নষ্ট করে দিয়েছে।।অনেক্ষন এইভাবে তাকিয়ে থেকে আমির কিছু না বলেই হুইল চেয়ারে হাত রেখে সোজা রুমের দিকে চলে যায়…

………….🌸

জাফরা ভাবি ইয়ামিনার কাধে হাত রেখে বলে… চোখে তার টলটলে পানি।।। ধরা গলায় বলে…
আমাকে পারলে মাফ করে দিও তোমার ব্যাপারে না জেনে তোমাকে অনেক ভুল বুঝেছি।।

ইয়ামিনা হেসে বলে…তুমি আমার বড় ভাবী তোমাকে মাফ চেতে হবে না।। আর যা হয়েছে হয়ে গেছে। বাধ দাও ভাবী।
জাফরা ইয়ামিনাকে জড়িয়ে ধরে কেদে দেয় আরুশিও ইয়ামিনাকে জড়িয়ে ধরে।। ইয়ামিনার চোখে পানি।এটা যে খুশির পানি। এক অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করছে।।
জাবির ইভানের কাধে হাত দিয়ে বলে….তুমি চিন্তা করো না ইয়ামিনার এই ভাই বেচে থাকতে ওর গায়ে কোনো আচ আসতে দিব না।।
ইভান সামনে এসে ইয়ামিনাকে জড়িয়ে ধরে…. ললিপপ কি করেছিস কান্না করতে করতে ইভান কান্না মুছে দিয়ে বলে… মুখ তো একেবারে টমেটো করে রেখেছিস।। আমি কিন্তু আসবো মাঝে মাঝে তোকে দেখতে তুই একদম মন খারাপ করবি না কেমন।।। আজ আসি তাহলে ললিপপ…

পাশ থেকে জাফরা ভাবী বলে…সেকি এসেই চলে যাবে আজকে থেকে যাও।।

না ভাবী আজ না আরেক দিন আসব।। আসি ললিপ্প বলে ইভান চলে যায়….
………………………

ইয়ামিনা রুমে ঢুকে চারপাশ চোখ বুলায় আমির দেখতে না পেয়ে বারান্দায় পা বাড়ায়…..🌸🌸
.
.
.
চলবে……..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here